শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২০

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাংলা জীবনী .


 বর্তমানে বাংলাদেশের যশোহর জেলায় সাগরদাঁড়ি গ্রামে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে ২৫ জানুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতার নাম জাহ্নবী দেবী । ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি নাট্যকার এবং প্রহসন রচনাকার মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার সদর দেওয়ানি আদালতের এক খ্যাতনামা উকিল গ্রামের তিন দিক ঘিয়ে আছে কপোতাক্ষ নদ । অনেক অর্থ উপার্জন করতেন কিন্তু, তাঁর কোন অর্থের মোহ ছিলনা । তাই তিনি দরাজ ও উদার হাতে দান করতেন, নিজের বিলাসিতাতে ব্যয় করার জন্য কার্পণ্য করতেন না । জাহ্নবী দেবী আগে তাঁর দুই পুত্র ও এক কন্যাকে হারান । তারফলে তিনি মধুসূদনকে নয়নের মনি করে রেখেছিলেন ।


ছোটবেলা থেকে মধুসূদনের পড়াশোনার গভীর আগ্রহ ছিল । মায়ের তত্ত্বাবধানে তার শৈশবে শিক্ষা আরম্ভ হয় । তেরো বছর বয়সে মধুসূদন কলকাতায় আসেন কলকাতায় এসে প্রথমে খিদিরপুর স্কুলে ও ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন । এই কলেজের এক অধ্যাপক ছিলেন উগ্র বিদেশী ভাবাপন্ন । তাঁর মতে – আমাদের দেশের সবকিছু ঘৃণ্য ও নগণ্য তিনি ছাত্রদের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করে তুলেন । সেই অধ্যাপকের প্রভাবে স্বদেশী সমস্ত কিছুর উপর মধুসূদনের অশ্রদ্ধা দেখা দিল । তিনি আচার-আচরণে পুরোপুরি সাহেবদের মত হয়ে উঠলেন । তিনি ছিলেন খুব মেধাবী । অনেক বৃত্তি ও পুরষ্কার লাভ করেন । এই সময় বিভিন্ন পত্রিকা যেমন- ক্যালকাটা লিটারালি গেজেট, বেঙ্গল স্পেকটেটর ইত্যাদিতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় । তাছাড়াও নারী শিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করে স্বর্ণপদক লাভ করেন ।

 ছোটবেলা থেকে মধুসূদনের বিশ্বাস ছিল যে – বিলেত গেলেই একমাত্র বড় কবি হওয়া যায় । আঠারো বছর বয়সেই মহাকবি হওয়ার বিলাতে যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার মনে বদ্ধমূল হয়ে যায় পাশ্চাত্য সাহিত্যের দুর্নিবার আকর্ষণ-বশত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন বড় কবি হতে গেলে তাঁকে কলকাতায় পড়ে থাকলে চলবে না, সাগর পাড়ি দিয়ে বিলেত যেতে হবে এবং তা যে কোনও মূল্যে । এর জন্য তিনি বিলেত যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেনএদিকে তাঁর পিতা তাকে বিবাহ দিয়ে সংসারী করার চেষ্টা করছিলেন । মধুসূদনের সঙ্গে এক জমিদার বাড়ির নাবালিকা মেয়ের বিয়ে ঠিক করলেন । সেই বিয়ে আটকাতে মরিয়া হয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেন । খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁর নামের আগে মাইকেল শব্দটি যুক্ত হয় । তার এই ধর্মান্তর সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল রাজনারায়ণ দত্ত তার বিধর্মী পুত্রকে ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা করেন খ্রিস্টান হয়ে হিন্দু কলেজে পড়ার অধিকার হারালেন মাইকেল । তিনি হিন্দু কলেজ ত্যাগ করেন, তারপর তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হয়ে গ্রীক, ল্যাটিন, সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশুনা করেন । মধুসূদন খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁর পিতা তাকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেন । তাঁর ঘোর দুর্দিন শুরু হয় । তিনি বিশপস কলেজ ত্যাগ করে মাদ্রাজে যান, সেখানে একটি স্কুলে চাকরি শুরু করেন ।

 এখানে আসার পর তাঁর প্রকৃত কবি সত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটে । ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজিতে ‘ক্যাপটিভ লেডি’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন । কবি দক্ষ ইংরেজি লেখক হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে তিনি উপলব্ধি করলেন যে – তাঁর কবিত্ব প্রকাশের মাধ্যম ইংরেজি ভাষা নয়, বাংলা ভাষা । জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মধুসূদন আকৃষ্ট হন নিজের মাতৃভাষার প্রতি বাংলা ভাষা না চর্চার কারণে তিনি প্রায় বাংলা ভাষা ভুলে গিয়েছিলেন । নিজের ভুল বুজতে পেরে তিনি পুনরায় বাংলা ভাষা চর্চা শুরু করেন । এই সময়েই তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন কাব্যরচনা করতে শুরু করেন


 মাদ্রাজে থাকার সময় তাঁর দুবার বিবাহ হয় । অরফান আস্যাইলাম স্কুলে পড়াতে শুরু করার পর পরিচয় হয় তার ভাবী স্ত্রী রেবেকার সাথে তিনি রেবেকা ম্যাকটাভিশ নামক এই ইংরেজ যুবতীকে বিয়ে করেন তাদের বিয়ে সম্পাদন হয় ৩১ জুলাই ১৮৪৮ সালে কিন্তু তাদের এই দাম্পত্য জীবন বেশি দিন স্থায়ী ছিল না সংসারের নানা ঝঞ্ঝাট, গোলমাল দেখা দিল ফলে তিনি কয়েক বছরের মধ্যেই রেবেকার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন এরপর তিনি মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজের এক শিক্ষকের কন্যা হেনিরিয়েটা সোফিয়া নামে এক ফরাসি তরুণীকে বিবাহ করেন তাদের নেপোলিয়ন নামক এক ছেলে এবং শর্মিষ্ঠা নাম এক মেয়ে ছিল

১৮৫৬ সালে তাঁর পিতার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন । রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত 'রত্নাবলী' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্য সাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব বোধ করেন সেই সময় বাংলা ভাষায় নাটকের অভাব দেখা যায় । এই সময় লেখা নাটকগুলির গুণগত মান খুব ভালো ছিল না  তাই তিনি শর্মিষ্ঠা নামে একটি নাটক লিখলেন । তারপর লিখলেন পদ্মাবতী, এই নাটকে তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন । কিন্তু, মধুসূদনের সবথেকে উল্লেখযোগ্য রচনা হল ‘মেঘনাথবধ কাব্য’ । এই কাব্যের মাধ্যমে তিনি এক নতুন যুগের সূচনা করেন । অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী হল দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), পদ্মাবতী (নাটক), বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলি ইত্যাদি । তিনি ফারসি ইতালীয় ভাষায় কবিতাও লিখতে পারতেন মাতৃভাষা ছাড়া তিনি আরও বারোটি ভাষা জানতেন

 তিনি ১৮৬২ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেত যান ও ১৮৬৫ সালে ব্যারিস্টার হন ও ১৮৬৭ সালে ভারতে ফিরে হাইকোর্টে ব্যারিস্টারি করতে শুরু করেন । বেহিসাবি খরচের কারণে তিনি দেনায় পড়েন ও ব্যারিস্টারি ছেড়ে বিভিন্ন চাকরি করেন ।
  মধুসূদনের শেষ জীবন চরম দুঃখ দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় ঋণের দায়, অর্থাভাব, অসুস্থতা, চিকিৎসা হীনতা ইত্যাদি কারণে তাঁর জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ মাত্র ৪৯ বছর ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে অর্থাভাব অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন মদ্যপানে লিভারে সিরোসিস হয়েছিল, সঙ্গে ড্রপসি, গলার অসুখ, হার্টেরও । তার কয়েক দিন আগেই মারা গিয়েছেন তাঁর হেনরিয়েটা ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জীবনী বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী  লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর বাংলা জীবনী .


 নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের গৌরব । ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা সুভাষচন্দ্র বসু, ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম নেতা, তিনি নেতাজি নামে বিশেষভাবে অভিহিত । তিনি ১৮৯৭ সালে ২৩ শে জানুয়ারি ওড়িশায় কটক শহরে জন্ম গ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম জানকীনাথ বসু, জানকীনাথ বসু ছিলেন আইনজীবী । মাতার নাম প্রভাবতী দেবী । তিনি ছিলেন পিতামাতার চোদ্দ সন্তানের মধ্যে নবম । শিশুকাল থেকে তাঁর মনে স্বদেশ-প্রীতি জাগরিত ছিল । ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি তার দেশপ্রেমিক সত্তার জন্য পরিচিত ছিলেন


 সুভাষচন্দ্র ছিলেন মেধাবী ছাত্র । ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি কটকের  একটি ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করেন । এরপর তিনি ভর্তি হন রাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে । ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেন । ১৯১৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন । কিন্তু সেই কলেজের ইংরেজি অধ্যাপক ওডেন সাহেব বাঙালিদের সম্পর্কে অশ্রদ্ধার কথা বলায় তেজস্বী সুভাসচন্দ্র তাঁর প্রতিবাদ করেন । কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েকজন ছাত্রসহ সুভাষ বসুকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে । এরফলে কলেজ থেকে তিনি বিতাড়িত হন । শেষে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন । সেখান থেকে দর্শনে সাম্মানিকসহ বি.এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এরপর তিনি আই.সি.এস পরীক্ষার জন্য বিলেত যান । ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এই পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন এবং মরাল সায়েন্স কেম্ব্রিজ ট্রাইপস অধিকার করেন । সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেয়ে তিনি প্রায় নিয়োগপত্র পেয়ে যান ।

 আ ই.সি.এস পরীক্ষায় পাশ করে দেশে ফিরে এসে তিনি সরকারি চাকরি গ্রহণ করেননি । ভারতে ফিরে সুভাষচন্দ্র 'স্বরাজ' নামক সংবাদপত্রে লেখালেখি শুরু করেন এবং বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রচারের দায়িত্বে নিযুক্ত হন । জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড ঘটনার পর, সুভাষ তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী হয়ে উঠেন । তিনি ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতবর্ষকে মুক্ত করতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন । ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে অন্যান্য জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে তাঁকেও বন্দী করা হয় এবং মান্দালয়ে   নির্বাসিত করা হয় । ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান । ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে জানুয়ারি তাঁর মাসের জেল হয় । এই বৎসরেই ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন ।

 তিনি বহুবার ব্রিটিশের কারাবরণ করেন । বিশ বছরের মধ্যে সুভাষ চন্দ্র মোট ১১ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন । তাকে ভারত ও রেঙ্গুনের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছিল । তিনি নিখিল ভারত কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন । ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন । ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে হরিপুরা কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । গান্ধীর বিরোধিতার মুখে পড়েও ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দ্বিতীয় বারের জন্য ত্রিপুরা অধিবেশনে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন । এই জয়লাভের পর, ইংল্যান্ডের ডরচেস্টারের প্রবাসী ভারতীয় এবং ইংরেজ রাজনীতিবিদরা তাঁকে সম্বর্ধনা দেন । এরপর থেকে কংগ্রেসের সাথে ক্রমান্বয়ে তাঁর বিরোধ হতে থাকে । গান্ধীজীর সাথে মত পার্থক্য কারণে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের মে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ দল গঠন করেন ।

 ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে বর্মার মান্দালয়ের জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় সুভাষচন্দ্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন । ব্রিটিশ সরকার তাকে এক শর্তে মুক্তি দিতে রাজি হন  সুভাষচন্দ্র ইউরোপে যাওয়া মনস্থ করেন ভিয়েনা পৌঁছান । ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ভিয়েনাতে থাকার সময় তিনি একজন ইংরেজি জানা সেক্রেটারি খুঁজছিলেন । এই সময় তাঁর সাথে অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত এমিলি (Emilie Schenkl) - এর সাথে দেখা হয় । এই এমিলি শেংকেলের সঙ্গেই পরবর্তীকালে তার প্রণয় পরিণয় ঘটে । ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে নেতাজি তাঁর প্রেমিকা এমিলি-কে বিবাহ করেন এবং ইউরোপে তাঁর স্ত্রীর সাথে কাটান । ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রয়াত হন । তাদের এক কন্যাসন্তান অনিতা বসু পাফ । অনিতা বসু পাফ তার পিতার দেশ ভারতে বহুবার এসেছেন । অনিতা বর্তমানে জার্মানির অগসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপিকা । তার স্বামী মার্টিন পাফ জার্মান পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য ।

  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি গৃহবন্দি ছিলেন ।  ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখলেও তাদের চোখে ধুলে দিয়ে তিনি বিদেশে চলে যান । ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত টা ২৫ মিনিটে পশ্চিমী মুসলমানি পোশাকে তিনি তাঁর এই গোপন যাত্রা শুরু করেন । প্রথমে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সেখান থেকে সুভাষ বসু মস্কো গমন করেন । মস্কো থেকে রোম হয়ে তিনি জার্মানি পৌঁছান । ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে হিটলারের উদাসীনতা তার মনোবল ভেঙে দেয় । ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে সুভাষ বসু জার্মান ত্যাগ করেন । সেখান থেকে তিনি জাপান পৌঁছান । তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই সিঙ্গাপুরে পৌঁছান । ভারতীয় অপর একজন নেতা রাসবিহারী বসু, প্রবাসে একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলে । সেখানে গিয়ে তিনি ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ এর দায়িত্ব নেন । ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে রাসবিহারী বসু এই সেনাবাহিনীর দায়িত্ব সুভাষ চন্দ্র বসুকে হস্তান্তর করেন ।

 তিনি বলতেন – ‘ তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ । বার্মাতে এক র‌্যালিতে তিনি এই উক্তি করেন । ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ ‘দিল্লি চল’ মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে ভারতের পথে অগ্রসর হয় । ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ মার্চ ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাজিত করে 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' ইম্ফল কোহিমার পথে অগ্রসর হয় । ২১ মার্চ 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' ভারতভূমির মনিপুরে প্রবেশ করে । শেষ পর্যন্ত নানা কারণে এই বাহিনী আত্ম সমর্পণ করতে বাধ্য হন । এই সময় জাপান থেকে অর্থের সরবরাহ কমে যায় । যুদ্ধের শেষ দিকে জাপান আত্মসমর্পণ করলে, পরে তিনি এই বাহিনী ভেঙে দেন । আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলেও, সুভাষ চন্দ্রের শৌর্য আপোষহীন রণনীতি তাকে ভারতব্যাপী জনপ্রিয়তা দান করে ।
শোনা যায় যে – ১৯৪৫ সালে ১৮ আগস্ট  জাপানে এক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় । কিন্তু এ ব্যাপারটি আজও স্পষ্ট নয় ।  এই তথাকথিত দুর্ঘটনা মৃত্যুর বিরুদ্ধ প্রমাণও বিদ্যমান রয়েছে ভারতীয় সরকার কখনো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জনসমক্ষে আনেন নি । বর্তমানে রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির চিতাভষ্ম পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে -ওই চিতাভষ্ম নেতাজির নয় । অনেকের মতে ফৈজাবাদের ভগবান জি ওরফে গুমনামি বাবা ছিলেন নেতাজি । আরেকটি মতে নেতাজি নাকি আজও জীবিত আছেন ।

আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জীবনী ও ইতিহাস বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী  ও ইতিহাস লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।