ভূগোল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভূগোল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১

এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর কি কি ?.


এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন প্রশ্ন এবং উত্তর।
১) আমাদের মহাদেশের নাম কি - এশিয়া।
২) এশিয়া মহাদেশের আয়তন কত - ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ, ৭৯ হাজার বর্গ মাইল।
৩) এশিয়া মহাদেশে কত মানুষ বাস করে - পৃথিবীর ৬০ শতাংশ বা ৪৩০ কোটি।
৪) এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মাঝে কোন সাগর আছে - লোহিত সাগর।
৫) এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ কোন নদী ও পর্বত দিয়ে আলাদা - উরাল নদী ও উরাল পর্বত ।

৬) এশিয়া মহাদেশের আয়তন আফ্রিকা থেকে কত গুন বেশি - দেড় গুন।
৭) এশিয়া মহাদেশের পূর্ব প্রান্ত কোন সাগর আছে - প্রশান্ত মহাসাগর।
৮) এশিয়া মহাদেশ ও ইউরোপ কে এক সাথে কি বলা হয় - ইউরেশিয়া।
৯) এশিয়া মহাদেশের লবণাক্ত হ্রদের নাম কি - মরু সাগর।
১০) এশিয়া মহাদেশের মধ্য দিয়ে কোন রেখা অতিক্রম করে - ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ।
১১) এশিয়া মহাদেশে পৃথিবীর আয়তনের কত শতাংশ - প্রায় এক তৃতীয়াংশ ।
১২) এশিয়া মহাদেশের বড় মালভূমির নাম কি - তিব্বত মালভূমি। 

১৩) এশিয়া মহাদেশের উষ্ণতম স্থানের নাম কি - জেকোবাবাদ।
১৪) এশিয়ার চির গোধূলি কাকে বলে - নিরক্ষীয় চিরহরিৎ বনভূমিকে।
১৫) পৃথিবীর ছাদ কোন মালভূমিকে বলে – পামীর মালভূমিকে ।
১৬) এশিয়ার শীতল অরণ্য অঞ্চলের নাম কি - তৈগা ।
১৭) সরলবর্গীয় বনভূমির পাতা কেমন হয় – ছুঁচালো হয় ।
১৮) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি কেমন ভাবে পতিত হয় – লম্বভাবে ।
১৯) পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমির নাম কি – গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ সমভূমি ।
২০) এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম পূর্ব বাহিনী নদীর নাম কি – ইয়াং-সি নদী ।
২১) পৃথিবীর ফলের ঝুড়ি কোন জলবায়ু অঞ্চলকে বলা হয় – ভূমধ্য সাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে ।
২২) এশিয়া মহাদেশে হিমালয় ও কুয়েনুল পর্বতের মাঝে কোন মালভূমি অবস্থিত - তিব্বত মালভূমি ।
২৩) টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহের নাম কি – সাত-এল-আরব ।
২৪) এশিয়া মহাদেশ প্রায় সম্পূর্ণ কোন গোলার্ধে অবস্থিত – উত্তর গোলার্ধে ।
২৫) এশিয়া মহাদেশের ওব নদী কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে – আলতাই পর্বত থেকে ।
২৬) এশিয়ার সর্ব পশ্চিম বিন্দু কোনটি - বেবা অন্তরীপ ।
২৭) জাপানের প্রধান দ্বীপের সংখ্যা কটি – ৪ টি ।
২৮) সুমেরীয় সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল - টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল ।
২৯) কোন বনভূমির গাছ শঙ্কু আকৃতির হয় – সরলবর্গীয় বনভূমির ।
৩০) চিনের বৃহত্তম শিল্প কেন্দ্র কথায় অবস্থিত – সাংহাইতে অবস্থিত । 
৩১) তিব্বত মালভূমিতে অবস্থিত একটি হ্রদের নাম কি – মানস সরবর ।
৩২) এশিয়ার দক্ষিণ বাহিনী নদীগুলির মধ্যে দীর্ঘতম নদীর নাম কি – মেকং নদী ।
৩৩) এশিয়ার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত - ২৫০ সেন্টিমিটার ।
৩৪) চিনের দীর্ঘতম নদীর নাম কি – ইয়াং সি নদী ।
৩৫) এশিয়া মহাদেশের কোন জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার সবথেকে কম – তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে ।
৩৬) আরব উপদ্বীপের বৃহত্তম দেশের নাম কি – সৌদি আরব ।
৩৭) ভারত ও পাকিস্তানে যে মরুভূমি আছে তার নাম কি – থর মরুভূমি ।
৩৮) বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্রের নাম কি – ঘাওয়ার ।
৩৯) বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক তৈল খনির নাম কি – সাফানিয়া ।
৪০) সৌদি আরবের রাজধানীর নাম কি – রিয়াধ ।

৪১) এশিয়া মহাদেশের কোন নদীকে স্বর্ণ রেণুর নদী বলে - ইয়াং সি নদীকে ।
৪২) ব্রহ্মপুত্র নদ কোন দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে - চীনের তিব্বত, ভারত ও বাংলাদেশ ।
৪৩) এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গের নাম কি - গডউইন অস্টিন
৪৪) এশিয়া মহাদেশের কোন জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার সবথেকে বেশি – নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে ।
৪৫) দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ কোনটি - ভারত ।
৪৬) এশিয়া মহাদেশের গভীরতম হ্রদের নাম কি – বৈকাল হ্রদ ।
৪৭) এশিয়া পৃথিবীর মোট আয়তনের কত - প্রায় এক তৃতীয়াংশ ।
৪৮) পীত নদী কাকে বলে – হোয়াং-হো নদীকে ।
৪৯) এশিয়ার সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কোনটি - সালউইন ।
৫০) ব্রহ্মপুত্র নদী তিব্বতে কি নামে পরিচিত - সানপো ।
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ    

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

পৃথিবী কি গোল ও পৃথিবীর সময় গণনার পদ্ধতি কি ?.


 পৃথিবী কি গোল এই প্রশ্নটা আমাদের সবার মনে একবার করে উকি দিয়ে যায় । যদি পৃথিবী সত্যি গোল হয় তার প্রমাণ কি ? আমরা যখন কোন উঁচু জায়গায় দাড়িয়ে দেখি তখন মনে হয় যে – পৃথিবী যেন বিশাল বড় গোল রুটি, আর ওপরের আকাশ গম্বুজের মত যেখানে আকাশ এসে মিশেছে সেই দিগন্তে এসে মিসে গেছে । পৃথিবী যে গোল তার প্রমাণ কি ? এখন আমি আপনাদের সেই প্রমাণ গুলি জানাবো । জানতে হলে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন ।


 প্রাচীন কালে মানুষ বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবী চ্যাপ্টা রুটির মত সমতল সে সময় তেমন কোন যানবাহন ছিল না । তবুও, পৃথিবীর শেষ কথায় তা দেখার জন্য মানুষ বড় বড় নৌকায় চেপে, উঠের পিঠে চেপে তাঁরা অভিযান শুরু করেন । বিখ্যাত ভূ-পর্যটক ম্যাগেলন ১৫২২ সালে ৫টি বড় বড় জাহাজ নিয়ে পৃথিবী অভিযান শুরু করেছিলেন । তিনি ক্রমাগত পশ্চিম দিকে যাত্রা করতে করতে শেষ পর্যন্ত একই বন্দরে ফিরে এলেনযদি পৃথিবী গোল না হত তাহলে এরকম ঘটনা হতনা


 গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল চন্দ্র গ্রহণের সময় দেখেন যে – চাঁদের ওপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া পড়েছে । গোলাকার বস্তুর ছায়া গোলাকার হয় । গ্রীক ভূগোলবিদ এরাটোসথেনিস, ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট এই ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন । এর থেকে বোঝা যায় যে পৃথিবী গোলাকার । আবার পৃথিবীর সব স্থানে একই সময় সূর্য ওঠেনা বা অস্ত যায়না । পৃথিবী যদি চ্যাপটা হত তাহলে পৃথিবীর সব স্থানে একই সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হত ।
 
   সমুদ্রে আর একটা বিষয় দেখা যায় । কোন জাহাজ যখন সমুদ্রের দিকে যায় তখন তীর থেকে দেখলে প্রথমে গোটা জাহাজ, তারপর শুধু জাহাজের পাল । এরপর জাহাজের মাস্তুলের মাথাটুকু শুধু দেখা যায় । তখন মনে হয় যে – জাহাজটি যেন কোন ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে । পৃথিবী যদি গোল না হত তাহলে এরকম ঘটনা হতনা

 মহাকাশে মহাকাশচারীরা পৃথিবীকে মহাশূন্য থেকে উজ্জ্বল নীল গোলকের মত দেখেছেন । মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে সমস্ত ছবি তোলা হয়েছে তাতে পৃথিবীকে গোলাকার দেখা গেছে । ইউরি গ্যাগরিন, নীল আর্মস্ট্রং, এডুইন অলড্রিন এরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল গোলাকার দেখেছেন । বর্তমানে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর যে ছবি তোলা হয়েছে তাতে পৃথিবী গোলাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে । পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৪০০ কিলোমিটার । একটা এত বড় বৃত্তের উপর দাঁড়িয়ে আমরা খুব সামান্য দেখতে পাই । তাই পৃথিবীকে চ্যাপ্টা বা সমতল বলে মনে হয় ।

 আমাদের পৃথিবীর আকৃতি উপর-নিচ কিছুটা চ্যাপটা । পৃথিবীর মেরু ব্যাস ১২৭১৪ কিলোমিটার আর নিরক্ষীয় ব্যাস ১২৭৫৬ কিলোমিটার । পৃথিবী মাঝ বরাবর ৪২ কিলোমিটার স্ফীত বা মোটা পৃথিবীর আকৃতি অনেকটা কমলালেবু বা নাসপাতির মত । তবে আমরা শেষে একথা বলতে পারি যে পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মত, ইংরেজিতে একে ‘জিওড’ বলে ।

এবার আপনার মনে এই প্রশ্ন আসছে যে – আমরা পৃথিবী থেকে পড়ে যায় না কেন ? পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর ঘোরে আবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে । পৃথিবী তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা সমস্ত বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে । এরফলে সমস্ত বস্তু পৃথিবীতে আটকে থাকে । তাই, পৃথিবী গোল হলেও আমরা পড়ে যাই না । পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ও তার ঘনত্বের একটা পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে । নিউটনের সূত্র অনুসারে – দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব কমে যায় । পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল মেরু অঞ্চলের থেকে দূরবর্তী তাই, পৃথিবীর আকর্ষণ মেরু অঞ্চলে বেশি দেখা যায় ।

 পৃথিবীর সময় গণনার পদ্ধতি কি –

 পৃথিবীর সময় গণনা করার জন্য পৃথিবীর উপর অনেক গুলি কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে । দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীর মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিম যে কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে তাকে নিরক্ষীয় বা বিষুবরেখা বলা হয় । আবার পৃথিবীর মাঝ বরাবর উত্তর-দক্ষিণে যে কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে তাকে মূলমধ্য রেখা বলে । পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণে যে অর্ধ-গোলাকার কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে তাকে দ্রাঘিমা রেখা ও  পূর্ব-পশ্চিম যে গোলাকার কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে তাকে অক্ষ রেখা বলে । মূলমধ্য রেখার বিপরীত দিকে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখা অনুসরণ করে একটি কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে । সেই রেখাটির নাম হল ‘আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা’ । এখান থেকে পৃথিবীর নতুন তারিখ শুরু হয় । কোথাও কোথাও এই রেখাকে বাকিয়ে দেওয়া হয়েছে । এই রেখা পেরিয়ে পশ্চিম দিকে গেলে একদিন কমিয়ে নিতে হয় । আর পূর্ব দিকে গেলে একদিন যোগ করতে হয় ।

 যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধার জন্য কোন দেশের মাঝখানে দ্রাঘিমা রেখাকে স্থানীয় সময় ধরা হয় । একে সেই দেশের ‘প্রমাণ সময়’ বা ‘স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ বলে । যখন কোন দ্রাঘিমা রেখার উপর সূর্য আসে তখন সেই দ্রাঘিমা রেখার উপর অবস্থিত প্রতিটি স্থানের সময় ১২ টা বলে ধরা হয় । দুপুর ১২ টার আগের সময় কে am, রাত ১২ টার আগের সময় কে pm বলে বেশির ভাগ রেল স্টেশন, বিমান বন্দরে 24 ঘণ্টার ঘড়ি ব্যবহার করা হয় । সেখানে সকাল 5 টায় 5:00, বিকেল 5 টায় 17:00 এই ভাবে দেখা যায় ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা ও ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা ও ভূগোল লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


নদী কাকে বলে, নদীর বিভিন্ন কাজ ও মানুষের জীবনে নদীর গুরুত্ব কি কি ?.


আমরা প্রতিদিন কোন না কোন নদী দেখি, কারণ ভারত বা বাংলাদেশে প্রচুর নদী অবস্থিত । নদী হল স্বাভাবিক প্রবহমান জলধারা, যা পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে ভূমির ঢাল অনুসারে উঁচু থেকে নিচু বা উৎস থেকে মোহনার দিকে বয়ে যায় । তখন তাকে নদী বলে । সাধারণ ভাবে নদী কোন পাহাড়, পর্বত, মালভূমির উঁচু অংশ থেকে সৃষ্টি হয় । নদী গুলি প্রথমে পাহাড়, পর্বতের বরফ গলা জল বা বৃষ্টির ছোট ছোট জলধারা থেকে শুরু হয়ে অনেক জলধারা মিশে একটা বড় জলধারা বা নদী গঠন করে ।

 এই সমস্ত নদী যে অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে ধারণ অববাহিকা বলে । উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদী যে খাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে নদীর উপত্যকা বলে । নদী যেখানে সৃষ্টি হয় তাকে নদীর উৎস, আবার নদী কোন সাগর, উপসাগর, জলাশয় বা হ্রদে গিয়ে শেষ হলে তাকে নদীর মোহনা বলে । যখন অনেক গুলো ছোট ছোট নদী অন্য কোন নদীতে এসে মিশে তখন তাকে উপনদী বলে । যেসব নদী কোন নদী থেকে বেরিয়ে অন্য কোন জলাশয়ে বা নদীতে মিশে তাদের শাখানদী বলে ।


 নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত, উপনদী, শাখানদী যে স্থানের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় ষে বিস্তীর্ণ স্থানকে নদীর অববাহিকা বলে । যে নদী কোন দেশের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশের কোন সাগর, হ্রদ, জলাশয়ে মিশে তাকে অন্তর বাহিনী নদী বলে । যে নদী বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক নদী বলে ।

 দুটি নদী যখন পাশাপাশি প্রবাহিত হয় তাদের মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব বলা হয় । পার্বত্য অঞ্চল বা উঁচু কোন অঞ্চলে তৈরি হওয়া নদীর জলের উৎস হয় বরফ গলা জল । এই সমস্ত নদীতে সারা বছর জল থাকে, তাই এদের নিত্যবহ নদী বলে । মালভূমি বা কম উঁচু অংশে তৈরি হওয়া নদীর জলের উৎস শুধুমাত্র বর্ষাকালের বৃষ্টির জল । এই সমস্ত নদীতে সারা বছর জল থাকে না, তাই এদের অনিত্যবহ নদী বলে ।

 নদী প্রধানত তিনটি কাজ করে – ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় । ক্ষয়জাত পদার্থ বহন করে, বাহিত পদার্থ সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটানো । নদীর তিনটি প্রবাহ দেখা যায় । উৎস থেকে সমভূমির আগে পর্যন্ত নদীর উচ্চ প্রবাহ দেখা যায় । এই প্রবাহে ভূমির ঢাল বেশি থাকার জন্য নদীর শক্তি বেশি হয় । এরফলে বড় বড় পাথর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় । নদী নরম পদার্থকে বেশি ক্ষয় করে । ফলে শক্ত ও নরম পাথরের মাঝে ধাপ সৃষ্টি হয় । এভাবে নদী শক্ত পাথর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জল প্রপাত সৃষ্টি করে ।

 
 উৎসের পর মালভূমি বা সমভূমি এলাকা হল নদীর মধ্য প্রবাহ । এই প্রবাহে নদী প্রধানত বহন ও সঞ্চয় কাজ করে । ভূমির ঢাল কমে যাওয়া ও জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে নদী বেশি আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয় । আবার কখনও নদী দ্বীপ তৈরি করে । এই প্রবাহে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায় ।

 নদীর নিম্ন প্রবাহে নদীর গতি ও শক্তি অনেক কমে যায় । ফলে নদী আর ক্ষয় কাজ করতে পারেনা । সামান্য বহনের কাজ করলেও তখন মূল কাজ হল সঞ্চয় করা । নদীর মধ্যে পলি, বালি, কাঁকর ইত্যাদি জমে নদী অগভীর হয়ে যায় । এরফলে বর্ষার সময় বন্যা সৃষ্টি হয় । বেশির ভাগ নদীর এই সময় গতি ও শক্তি অনেক কমে যাওয়ার জন্য মোহনায় ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে । এই সময় নদী শাখানদী তৈরি করে ।

 আমাদের ভারত বা বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ । এখানে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সাথে নদী বিভিন্ন ভাবে জড়িয়ে রয়েছে । মানুষের প্রাচীনতম সভ্যতা গুলি গড়ে উঠেছিল নদীর ধারে । বর্তমানে গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও পৃথিবীর অন্যান্য বহু নদীর উপত্যকায় অন্যতম জনবহুল বিভিন্ন শহর গুলি গড়ে উঠেছে । নদীর জল উদ্ভিদ, প্রাণীর বিকাশ, মাটির নীচে জলের ভারসাম্য রক্ষা করে । বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি বিভিন্ন কৃত্রিম বাঁধ বিভিন্ন কাজে লাগানো হচ্ছে । নদী আমাদের বিভিন্ন কৃষিজ ফসল চাষের জন্য জলের জোগান দেয় । জল বিদ্যুৎ উৎপাদন, নদী পথে পরিবহণ ইত্যাদি নদীর মাধ্যমে হয় । বর্তমানে মানুষের বিভিন্ন কাজের ফলে নদী নষ্ট হচ্ছে, সেই অপকর্ম কাজ না করার জন্য আমাদের দায়িত্ববান ও সচেতন হতে হবে ।


 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

পৃথিবীতে আয়তনে বড় ১০ টি দেশের নাম কি কি ?.


আলজেরিয়া -১০
উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত এই রাষ্ট্রএর আয়তন হচ্ছে  ২,৩৮১,৭৪১ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ১.৬% । এটি আফ্রিকার বৃহত্তম এবং বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রাষ্ট্র । দেশটির নয়-দশমাংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি অবস্থিত । ভূমধ্যসাগরের তীরে উপকূলীয় সমভূমি রয়েছে । আলজেরিয়ার প্রায় সব মানুষ দেশটির উত্তরাঞ্চলে উপকূলের কাছে বাস করে । আলজেরিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ । যা আয়তনের দিক থেকে দশম । আলজেরিয়ার বেশির ভাগ লোক আরব, বার্বার কিংবা এই দুইয়ের মিশ্রণ । ১৯৯০ সালে আরবি ভাষাকে সরকারীভাবে আলজেরিয়ার জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।

 কাজাকিস্তান-৯
এশিয়ার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র । এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র । কাজাখ একটি তুর্কি শব্দ, এর অর্থ বিস্ময় । কাজাকিস্তানের অর্থ হল বিস্ময়ের ভূমি । আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ কাজাকিস্তান । এটি ইউরোপের পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্র । যার আয়তন হচ্ছে ২,৭২,৪৯০০ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ১.৮% । কাজাখ ভাষা কাজাকিস্তানের সরকারি ভাষা । কাজাখ নামের তুর্কীয় জাতি এখানকার প্রধান জনগোষ্ঠী । ১৯৯১ সালে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বিদ্যমান । ৭০ ভাগ মুসলিম হওয়ায় এখানে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে দেখা যায় ।

আর্জেন্টিনা -৮
 ব্রাজিল এর পর ফুটবলের দেশ আর্জেন্টিনা । দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত । যার আয়তন প্রায় ২,৭৮,০৪০০ বর্গকিলোমিটার । যা কিনা পৃথিবীর আয়তনের ২% । আর্জেন্টিনায় ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু বিচিত্র । উত্তরের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণের মেরু-উপদেশীয় অঞ্চল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিস্তার । দেশটির রাজধানী বুয়েনোস আইরেস । বুয়েনোস আইরেস দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক শহরগুলির একটি । বৃহত্তর বুয়েনোস আইরেস এলাকাতে আর্জেন্টিনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগণ বাস করে ।

ভারত -৭
ভারত এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল দেশ । ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র । আয়তনে এটি প্রায়  ৩,২৮৭,২৬৩ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ২.৩% । অতিমাত্রায় দারিদ্র্য , নিরক্ষরতা ও অপুষ্টি এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা । আর্থিক বৃদ্ধি হারের বিচারে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে দ্বিতীয় । ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসনজাল থেকে মুক্তিলাভ করে । ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় । ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি । তিনি পরোক্ষভাবে একটি নির্বাচক মণ্ডলী কর্তৃক পাঁচ বছরের সময়কালের ব্যবধানে নির্বাচিত হন । অন্যদিকে ভারতের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী । ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আন্তরিক । সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত একটি বহু ধর্মীয়, বহু ভাষিক, ও বহুজাতিক রাষ্ট্র । ভারতের আইনবিভাগ হল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ । এটি গঠিত হয়েছে রাজ্যসভা নামক একটি উচ্চ কক্ষ ও লোকসভা । ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্র । ২০১৮ সালে দেশটির আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ১৩৫ কোটি । দাবা খেলার উদ্ভবও হয়েছিল ভারতে । এছাড়াও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খেলা হল কাবাডি, খো খো, ও গুলি ডান্ডা ইত্যাদি ।

অস্ট্রেলিয়া -৬
অস্ট্রেলিয়া একটি দ্বীপ-মহাদেশ । এটি এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত । অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ হলেও ভিন্ন ভাবে এটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত । নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি এর অন্তর্ভুক্তি । আর দেশ অনুসারে অস্ট্রেলিয়ার আয়তন ৭৬,১৭,৯৩০ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ৫.২% । অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা । সিডনী বৃহত্তম শহর । দুইটি শহরই দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত । অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত - নিউ সাউথ ওয়েল্স, কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, ভিক্টোরিয়া, ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া । প্রতি ৩ বছর সাধারণ নির্বচন অনুষ্ঠিত হয় । দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে ।

ব্রাজিল -৫
পাঁচ নম্বরে আছে ফুটবলের দেশ ব্রাজিল । এর আয়তন ৮,৫১৪,৮৭৭ বর্গকিলোমিটার । দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশ । যা পৃথিবীর আয়তনের ৫.৭% । এই দেশটিতে বসবাস কৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি । মোট জনসংখ্যার ৮৩.৭৫% ভাগ শহরাঞ্চলে বসবাস করে । ১৮২২ সালে ব্রাজিল, পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । ১৮২৪ সালে ব্রাজিলের প্রথম সংবিধান পাশ হওয়ার পর থেকে দেশটিতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সরকার ব্যবস্থা চলে আসছে, যা বর্তমানে কংগ্রেস নামে পরিচিত । ব্রাজিল জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত হয় । ব্রাজিলে বিভিন্ন প্রকারের প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র ও অভয়ারণ্য বিদ্যমান আছে । পর্তুগিজ এখানকার প্রধান ভাষা এবং রোমান ক্যাথলিক প্রধান ধর্ম । ব্রাজিলে বেশকিছু ক্রীড়ার উদ্ভব ঘটেছে, সেগুলি হল  - বীচ ভলিবল, ফুটসাল এবং ফুটভলি অন্যতম । কার্নিভাল ও সাম্বা নৃত্য বহির্বিশ্বের কাছে ব্রাজিলের সংস্কৃতির সবচেয়ে পরিচিত অংশগুলোর একটি ।

চীন -৪
জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের এক নম্বরে চীন হলেও,আয়তনে চীনের অবস্থান চতুর্থ । এটি প্রায় ৯,৫৯৮,০৯৪ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে আছে । যা পৃথিবীর আয়তনের ৬.৪% । এশিয়া মহাদেশের একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তি । প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪,৫০০ কিলোমিটার । চীনারা তাদের দেশকে চুংকুও নামে ডাকে, যার অর্থ "মধ্যদেশ" বা "মধ্যবর্তী রাজ্য"। চীন একটি পর্বতময় দেশ । এর মোট আয়তনের দুই-তৃতীয়াংশ পর্বত, ছোট পাহাড় এবং মালভূমি নিয়ে গঠিত । চীনে বিশ্বের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বাস । এদের ৯০%-এর বেশি হল চৈনিক হান জাতির লোক । চীনের দুইটি বৃহত্তম নদী হোয়াংহো ও ইয়াংসি । গণ প্রজাতান্ত্রিক চিনের রাজনীতি একটি একদলীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোয় সংঘটিত হয় । গণচীনের বর্তমান সংবিধানটি ১৯৫৪ সালে প্রথম গৃহীত হয় এবং এতে দেশের শাসনব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।

যুক্তরাষ্ট্র -৩
 যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা United States, এই দেশটি যুক্ত রাষ্ট্র নামেও পরিচিত । বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র । যার আয়তন হচ্ছে ৯,৬২৯,০৯১ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ৬.৫% । দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লক্ষ । উত্তর-পশ্চিমে আটলান্টিকের কোল ঘেঁষে অবস্থিত বৃহৎ হ্রদ এলাকায়ই দেশটির অধিকাংশ মানুষের বসতি । বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশ খরচ করে এই দেশ । বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিধর রাষ্ট্র । মার্কিন নাগরিকেরা বাংলা ভাষায় "মার্কিনী" নামে পরিচিত । মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন, এবং এগুলিকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান । আইনসভা দ্বিপাক্ষিক । নিম্ন কক্ষের নাম হাউজ অভ রেপ্রেজেন্টেটিভ্‌স এবং  উচ্চ কক্ষের নাম সেনেট ।

কানাডা -২
কানাডা উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত একটি দেশ । বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ রাষ্ট্র । আবার কানাডা হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতলতম দেশ । এই দেশে বছরে ৮ মাস বরফাচ্ছন্ন থাকে । আয়তনে বেশি হলেও কানাডা সামরিক শক্তিতে তেমন উন্নত নয় । যার আয়তন ৯,৯৮৪,৬৭০ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ৬.৭% । কানাডা দ্বিভাষিক- ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা দুটোই সরকারি ভাষা এবং বহু কৃষ্টির দেশ । এছাড়াও অনেক বিচ্ছিন্ন ভাষাও রয়েছে । কানাডার সরকার দুই ভাগে বিভক্ত । কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকার । কানাডার বর্তমান সংবিধান ১৯৮২ সালে রচিত হয় । কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি । 

রাশিয়া -১ 
পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হল রাশিয়া । এই দেশটি অর্ধ প্রেসিডেন্সিয়াল ফেডারেল প্রজাতন্ত্র যার সংবিধান ৮৩ টি ফেডারেল বিষয় দ্বারা গঠিত । আয়তনে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ দেশ । যার পূর্ব নাম ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন । রাশিয়ার আয়তন প্রায় ১৭,০৯৮,২৪২ কিমি । যা পৃথিবীর ১১% জায়গা দখল করে আছে । রাশিয়া বিশ্বের নবম জনবহুল দেশ যেখানে ২০১২ হিসাব অনুযায়ী ১৪৩ মিলিয়ন লোক বসবাস করে । রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম দেশ যার রয়েছে পৃথিবীর মোট আবাসযোগ্য জমির এক অষ্টমাংশ । রাশিয়া ১১টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত । রাশিয়া একটি আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত দেশ যেখানে প্রেসিডেন্ট সর্বক্ষমতার মালিক । তিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে থাকেন । রুশ ভাষা রাশিয়া বা রুশ প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা । এটিতে রাশিয়ার প্রায় ৮০% লোক কথা বলে । এছাড়াও রাশিয়াতে আরও প্রায় ৮০ টির বেশি ভাষা প্রচলিত ।  
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন । 
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

সুন্দরবনের নাম সুন্দরবন কিভাবে হল, এখানে কি আছে ?.


  সুন্দরবন হল সমুদ্র উপকূলবর্তী পৃথিবীর সবচেয়ে বড়  ম্যানগ্রোভ  বনভূমি বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম গঙ্গা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন অবস্থিত । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্রে ভরপুর ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে  ইউনেস্কো ‘বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী  স্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে আমাদের সুন্দরবন
 সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততা সহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে  এবং বাকি অংশ রয়েছে ভারতের মধ্যে সুন্দরবন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত । ভারতের সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও উত্তর ২৪ পরগণা নিয়ে গঠিত । সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশে

 সুন্দরি গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, যা সেখানে প্রচুর জন্মায় অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এরকম হতে পারে যে, এর নামকরণ হয়তো হয়েছে "সমুদ্র বন" বা "চন্দ্র-বান্ধে (বাঁধে)" (প্রাচীন আদিবাসী) থেকে তবে সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে সুন্দরী  গাছ থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি  এছাড়াও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেও এর নামকরণ এমন হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে । 
 পুরো পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ তিনটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের একটি হিসেবে গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত সুন্দরবন । সুন্দরবনের নদীগুলো নোনা পানি ও মিঠা পানি মিলন স্থান সুতরাং গঙ্গা থেকে আসা নদীর মিঠা পানির, বঙ্গোপসাগরের নোনা পানি হয়ে ওঠার মধ্যবর্তী স্থান হল এ এলাকাটি সমুদ্রসমতল থেকে সুন্দরবনের উচ্চতা স্থানভেদে ০.৯ মিটার থেকে ২.১১ মিটার প্রত্যেক মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঋতুতে বঙ্গীয় ব-দ্বীপের পুরোটিই পানিতে ডুবে যায়, যার অধিকাংশই ডুবে থাকে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় জুড়ে সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্ঝার বিরুদ্ধে ম্যানগ্রোভের যে-অরণ্য সুন্দরবন-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রাকৃতিক প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাকে বাঁচানোর যথেষ্ট উদ্যোগ না-থাকায় জাতীয় পরিবেশ আদালতও উদ্বিগ্ন
 সুন্দরবনের প্রধান বনজ বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সুন্দরী, গেওয়া, ঝামটি গরান এবং কেওড়া সুন্দরবনে নানা ধরনের প্রাণীর বাস ১৯০৩ সালে প্রকাশিত প্রেইন এর হিসেব মতে সর্বমোট ২৪৫ টি প্রাণী এবং ৩৩৪ টি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে এছাড়াও রয়েছে আড়াই শতাধিক প্রজাতির পাখি, দুই শতাধিক প্রজাতির মাছ, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্যপ্রাণীসহ ৩২ প্রজাতির চিংড়ি, বানর, হরিণ, বনমোরগ, কুমির, ডলফিন, অজগর আর বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী লবণাক্ত প্রবণ এলাকাটির প্রধান বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে গেওয়া অধিকাংশ ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ চিরসবুজ, খাটো, গুল্মজাতীয় অথবা লম্বা বৃক্ষজাতীয় হয়
সুন্দরী ও গেওয়া এর প্রাধান্যের পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে ধুন্দল এবং কেওড়া ঘাস ও গুল্মের মধ্যে শন, নল খাগড়া, গোলপাতা রয়েছে সুন্দরবনের নাম শুনলেই সবার প্রথমে যেই জিনিসটা মাথায় আসে সেটা হচ্ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘ বিশ্ব বিখ্যাত ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসেব মতে সুন্দরবনে প্রায় ৫০০ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল যা পৃথিবীতে বাঘের একক বৃহত্তম অংশ ২০১১ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে সুন্দরবনে মোট বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩০০ টি
 সুন্দরবন, ঘূর্ণিঝড় প্রবণ ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জনসংখ্যা ও তাদের সম্পদের প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বলয় হিসেবে ভূমিকা রাখে সৌন্দর্য, বনজ সম্পদ, কর্মসংস্থান, প্রাণী ও উদ্ভিদ বিচিত্রতা, মৎস্য সম্পদ, বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল জোগান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, বিভিন্ন প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম । সুন্দরবনের বনসম্পদকে কেন্দ্র করে এখানে কয়েকটি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে
 এখানকার মানুষজন সুন্দরবন থেকে আহরিত কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন অ-কাঠজাত সম্পদ এবং বনায়ন কমপক্ষে আধা মিলিয়ন উপকূলবর্তী জনসংখ্যার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই সুন্দরবন এখানকার স্থানীয়দের অধিকাংশই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে সুন্দরবনে বর্তমানে ১৩ ধরনের পদ্ধতিতে মাছ ধরা হয় সমগ্র এলাকাতেই মাছ আহরণ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত হয় বনবিভাগ কর্তৃক এই বনের মৌমাছিদের তৈরি মৌচাক থেকে প্রচুর মধু সংগ্রহ করা হয়সুন্দরবনের বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ১৬৪০-২০০০ মিমিবনের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক ভাবে বেশি সুন্দরবনের তাপমাত্রা মোটামুটি থাকে ৩১° সে থেকে ২১° সে-এর মধ্যে
 আমোদ-প্রমোদ, ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান হল  সুন্দরবন ব্যস্ততম জীবনের ক্লান্তি দূর করতে প্রায় সারাবছরই ভ্রমণ পিপাসুরা ঘুরতে যায় সুন্দরবনে । অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় । এ সময়ই সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে আসেন ভয়ংকর সুন্দর এই বনে । সুন্দরবনে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে । দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ । সুন্দরবনের ভেতরে যেতে হলে নৌপথই একমাত্র উপায় । শীতকাল সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় । পাখি বিষয়ক পর্যবেক্ষণ, পাঠ ও গবেষণার ক্ষেত্রে পাখি বিজ্ঞানীদের জন্য সুন্দরবন এক স্বর্গ
 আমরা যারা সুন্দরবনে ঘুরতে যাই তাদের সতর্ক থাকা উচিত যে আমরা যেন মজার ছলে বা হেলা-ফেলা করে এর বনজ সম্পদ ও বন্য প্রাণীর জীবনের কোনো ক্ষতি না করি আমাদের ও আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য এ দেশের মানুষের উচিত সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বন্য-প্রাণীদের সংরক্ষণের প্রতি আরও মনোযোগ দেয়া কিছু কিছু প্রজাতি সুন্দরবনে বিরল হয়ে উঠেছে একুশ শতকের শুরু থেকে
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা ও ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা ও ভূগোল লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।