স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৭ জুন, ২০২০

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ বা উপসর্গ কি, স্তন ক্যান্সার কেন হয় ?.


  স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে স্তন ক্যান্সারে যতজন আক্রান্ত হন তাদের ৮০ ভাগের বয়স হচ্ছে ৫০-এর ওপর স্তন ক্যান্সারে শুধু নারীরা নন, পুরুষেরা আক্রান্ত হতে পারেন তবে নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪১ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সেই তুলনায় মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন যাদের পরিবারে কারোর স্তন ক্যান্সার রয়েছে তাদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু জিনগত পরিব্যক্তি অনেক সময় দায়ী হয়ে থাকে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পরলে স্তন ক্যান্সার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রচুর সম্ভাবনা থাকে প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার ১০০ ভাগ নিরাময় করা সম্ভব

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ বা উপসর্গ –  
 সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার এতো ছোট থাকে যে বাইরে থেকে সেটা বোঝা সম্ভব হয় না অধিকাংশ সময় স্তনে একটি চাকা দেখা যায় অনেকের স্তনের বোঁটায় ঘা বা ক্ষত বা বোঁটার চারপাশে কালো অংশে চুলকানির লক্ষণ দেখা যায় স্তনের চামড়ার রং বা চেহারায় পরিবর্তন হয়স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা তরল পদার্থ বের হওয়াকারো স্তনের বোঁটা দিয়ে দুধের মত সাদা রস নিঃসৃত হতে থাকে স্তন লাল রং হয়ে যায় । স্তনের বোঁটার বিশেষ ধরনের পরিবর্তন, যেমন ভেতরে ঢুকে যায়, অসমান বা বাঁকা হয়ে যায় । স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, স্তনের ভেতরে গোটা ওঠা বা শক্ত হয়ে যায় ইত্যাদি
স্তন ক্যানসার কেন হয় –
 স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেলে, ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয় সেগুলি রক্তনালীর লসিকা ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা হল ক্যান্সার কারো যদি বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারা ঝুঁকিতে থাকে সেই সঙ্গে তেজস্ক্রিয় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে কারো পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে তাঁদের স্তন ক্যানসার হতে পারে দেরিতে সন্তান গ্রহণ, আবার যাদের সন্তান নেই, অতিরিক্ত ওজন যাদের তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে আমাদের জীবনাচরণে এবং খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে, সেটি একটি কারণ হতে পারে
 যেসব মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না, খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চাইতে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকে, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে যারা দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল বা হরমোনের ইনজেকশন নিচ্ছেন, তারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন একই সঙ্গে বয়স বাড়ার সাথে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বাড়ে ৫০ বছর বয়সের পর এই ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়   যেসব মহিলাদের মায়ের ৫০ বছরের আগেই স্তন ক্যান্সার ধরা পরেছে তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ১.৭ শতাংশযাদের মায়ের স্তন ক্যান্সার ৫০ বছর বা তারপরে গিয়ে ধরা পরেছে সেখানে এই সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ১.৪ শতাংশ । বয়স ৩০-৩৫ বছর হওয়ার পর সব নারীর নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখা উচিত আপনি নিজে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী আপনার স্তন পরীক্ষা করবেন
 বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন ভারত বা বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে সেই সঙ্গে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হার  সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে ভারত বা বাংলাদেশের নারীরা প্রকাশ্যে স্তন শব্দটি উচ্চারণ পর্যন্ত করতে চান নাবেশিরভাগ রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন একেবারে শেষ পর্যায়ে ম্যামোগ্রাম বা বিশেষ ধরনের এক্স রে, যার সাহায্যে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নারীদের প্রতি তিন বছর পর পর ব্রেস্ট স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাম করানো উচিত ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে খুব ছোট থাকা অবস্থাতে বা প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা যায় অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল অস্ত্রোপাচাররেডিওথেরাপিকেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ইত্যাদি ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

ডিম কখন খাবেন, ডিম কেন খাবেন ?


  ডিম একটি আর্দশ খাদ্য সবার জন্য । পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ডিম নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসে মিলবে অনেক উপকার । ডিম একটি অতি পরিচিত পুষ্টিকর খাবার, ডিম খাওয়ার উপকারিতা অনেক নিয়ম মেনে ডিম খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় ডিম থেকে শারীরিক উপকার পেতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে

 ডিম কখন খাবেন- নিয়ম মেনে ডিম খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খালি পেটে একটি সিদ্ধ ডিম খেতে হবে সকালে খালি পেটে একটি সিদ্ধ ডিম এক গ্লাস জল পান করলে সারা দিন কর্মঠ থাকা যায় ডিমের সবচেয়ে বড়ো গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে  ডিম শরীরে ব্যাড ফ্যাট জমতে দেয় না মাসে প্রায় পাউন্ড ওজন কমে যায় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ডিম বেশি সিদ্ধ না হয় বেশিরভাগ পুষ্টিবিদ ডিম ভাজা করে না খাবার পরামর্শ দেন কারণ - ডিম যে তেলে বা মাখনজাতীয় চর্বিতে ভাজা হয়, তার মধ্যেকার স্যাচুরেটেড ফ্যাট কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে ভাজা ডিম শরীরে ফ্যাট উৎপাদন করে তাই যারা ফ্যাট থেকে দূরে থাকতে চান তারা ভাজা ডিম পরিহার করুন

 অন্যান্য খাবারের থেকে ডিম শরীরে প্রচুর ক্যালোরির জোগান দেয় প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একটি করে সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের পেশি গঠনে ভূমিকা পালন করে ডিমে কাঁচা লবণ ছিটিয়ে খাবেন না কাঁচা ডিম বা হালকা করে রান্না ডিম বেশি পুষ্টি যুক্ত ডিম রান্না করার আগে ভাল আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নেবেন কখনও এমন ডিম কিনবেন না যা ভাঙা বা ফাটা - কারণ সামান্য ফাটা থাকলেও সেখানে ধুলোবালি বা জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে
ডিম কেন খাবেন
 ১) এখন বেশিরভাগ ডাক্তার স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা বলছেন,  প্রতিটা শিশু নারীর শরীরে প্রতিদিন প্রায় ৫০ গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন হয়   একটি ডিম থেকে প্রায় ৬০-৭০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায় তাই শিশুর মেধা বিকাশে ডিম পরিপূরক হিসাবে কাজ করে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রিম্যাচিওর বেবি হওয়ার সম্ভাবনা কমায় প্রতিদিন একটা করে ডিম খেলে  হৃদযন্ত্র বা শরীরের রক্ত সঞ্চালনে কোন ঝুঁকি তৈরি হয়নাপ্রতিদিন একটা করে ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ডিমে আছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে ডিমের মধ্যে আছে ভিটামিন এ, যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে
২) ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন , ডি, বি এবং বি-টুয়েলভ  ডিমের ক্যারোটিনয়েড, লু্যটেন জিয়েক্সেনথিন থাকে, যা আমাদের বয়সকালের চোখের অসুখ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায় যারা রাতকানা রোগে ভুগে থাকেন এবং চোখে পরিষ্কার দেখতে সমস্যা হয় তারা প্রতিদিন সকালে একটি সিদ্ধ ডিম খেয়ে মধু পান করতে পারেন ডিমে ভিটামিন বি কমপেস্নক্স পাওয়া যায়- যা আমাদের দাঁত, চুল, ত্বক চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী অনেকের চুল ত্বকে রুক্ষতাসহ বৃদ্ধের ছাপ দেখা দেয় ডিমের মধ্যে থাকা সালফার ম্যাজিকের মতো নখ আর চুলের মান উন্নত করে । তাই নিয়মিত ডিম খাওয়া বাঞ্ছনীয় ছাড়া ডিমের সাদা অংশ চুল ত্বকে লাগালে চুলের রুক্ষতাসহ ত্বক পরিষ্কার করতেও বেশ কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে সপ্তাহে ৬টি করে ডিম নিয়মিত খেলে প্রায় ৪৪% ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব ৷ একটি ডিম স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমিয়ে দেয় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়
৩) প্রোটিন আমাদের শরীর গঠন করে আমাদের অন্যান্য খাবার থেকে আমরা প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন পাই - যা অনেক সময়ই শরীরের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেতাই ডিম  প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ একটা উৎসডিম ঝটপট শরীরে প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে বেশিরভাগ পুষ্টিকর উপাদান প্রাকৃতিক ভাবে যেসব খাবারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হল ডিম বেশি ডিম খাওয়ায় ভয়ের কোন কারণ নেই দিনে একটা - এমনকি দুটো ডিমও স্বাস্থ্যের জন্য ভাল
৪) নতুন এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না ডিমের মাত্র এক চতুর্থাংশ হল স্যাচুরেটেড, যেটা শরীরে জমাট বাঁধতে পারে এই স্যাচুরেটেড চর্বির অংশ শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় কোলেস্টেরলের সমস্যার কথা যদি ভাবেন, তাহলে ডিম সেখানে কোন ক্ষতির কারণ নয় কারণ - ব্রিটেনের চিকিৎসকরা বলছেন - ডিমে যদিও কিছু কোলেস্টেরল আছে, কিন্তু আমরা অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় যেসব পদার্থ এর সঙ্গে খাই সেগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের যতটা ক্ষতি করে, ডিমের কোলেস্টেরল সে ক্ষতি করে না ডিম রক্তে লোহিত কণিকা তৈরি করে ডিম হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কম করে ।
৫) হার্টের রোগীদের জন্য ডিম অনেক উপকারী নিয়মিত ডিম খেলে হার্টের রক্ত চলাচল সঠিক মাত্রায় থাকে ছাড়া হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন আশঙ্কা দূর করে অনেকের নখ মরে যায় এবং নখ ভেঙে যায় ডিমের সাদা অংশ মরা বা ভাঙা নখের ওপর প্রলেপ দিলে নখ সুস্থ হয়ে যায় নখের মাঝে কালো দাগসহ আঙুলের চামড়া ওঠা দূর করে থাকে ডিম অনেক মেয়েদের মাসিকের সময় পেটে অতিরিক্ত ব্যথা এবং রক্তপাত হয়ে থাকে সেই সঙ্গে অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে তাদের জন্য ডিম বেশ ভালো ফলাফল দেয়

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । সাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।