জানা অজানা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জানা অজানা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২

ভারতের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি কে ছিলেন ?.


ভারতের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি কে ছিলেন ?.

  টাটা, বিড়লা, আম্বানি, আদনি এদের নাম আপনি নিশ্চয় শুনেছেন। ভাবেন এরা হয়তো ভারতের সবথেকে সেরা ধনী মানুষ । কিন্তু না, আপনার ধারণা ভুল। টাটা, বিড়লা, আম্বানি, আদনি এরা ভারতের সর্ব কালের সেরা ধনী মানুষ নয়। তাহলে ভারতের সর্ব কালের সেরা ধনী মানুষ কে, তিনি হলেন -

 নিজাম স্যার মীর উসমান আলি খান সিদ্দিকি সপ্তম আসাফ জাহ, জন্মনাম মীর উসমান আলি খান বাহাদুর ( ৬ এপ্রিল ১৮৮৬ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭) ছিলেন হায়দ্রাবাদ ও বেরার রাজ্যের শেষ নিজাম। তিনি ১৯১১ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত হায়দ্রাবাদ শাসন করেছেন। এরপর অপারেশন পোলোর ফলে হায়দ্রাবাদ ভারতের অংশ হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তাকে হায়দ্রাবাদ রাজ্যের রাজপ্রমুখ করা হয়। ১৯৫৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। এসময় রাজ্যকে ভাষার ভিত্তিতে ভাগ করে অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের অংশ করা হয়।

শাসনকাল –

  উসমান আলি খান তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯১১ সালে নিজাম হন। ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে হায়দ্রাবাদ রাজ্য ছিল দেশীয় রাজ্যসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এর আয়তন ছিল ৮৬,০০০ বর্গ মাইল (২,২৩,০০০ বর্গ কিমি) যা বর্তমান যুক্তরাজ্যের প্রায় সমান। হায়দ্রাবাদের শাসককে ভারতে সবচেয়ে উচু মর্যাদা সম্পন্ন রাজন্য হিসেবে গণ্য করা হত। যে পাঁচজন দেশীয় রাজা ২১টি গান স্যালুট পেতেন হায়দ্রাবাদের শাসক ছিলেন তাদের অন্যতম। তার নিজাম উপাধি ছিল অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক ভাবে সহায়তা করায় তাকে ব্রিটিশ সিংহাসনের বিশ্বস্ত মিত্র বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ধন সম্পত্তি – 

  নিজাম থাকাকালীন সময় তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হত। ১৯৪০ এর দশকের শুরুর দিকে তার ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ ছিল বলে জানা যায়। সে সময় নবগঠিত ভারতীয় ইউনিয়ন সরকারের কোষাগারের রিপোর্ট মোতাবেক বার্ষিক রাজস্ব ছিল এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৩৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি টাইম ম্যাগাজিনে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি বর্ণনা করে প্রচ্ছদে তার ছবি ছাপা হয়। সে সময় তার সম্পদ এক বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে কারণ এটি বেশিরভাগই ভারত সরকার দ্বারা সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। এটি গোলকোন্ডা খনি যা নিজামের বিশাল সম্পদ রাজস্বের মূল উৎস ছিল। হাইদ্রাবাদ এবং বেরার এই রাজত্ব ছিল 19ম শতাব্দীতে। বিশ্বের বাজারে হীরাগুলির একমাত্র সরবরাহকারী ছিলেন।

সোনার অনুদান ভারত সরকারকে –

  সালটা ছিল ১৯৬২। সময়টা ছিল ভারত-চিন যুদ্ধের, চিন হঠাৎ করেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর হামলা করে । ভারত সরকার কিছু বুঝতে পারার আগেই চিন হামলার গতি বাড়িয়ে দেয়। যুদ্ধের সময় ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের থেকেও বেশি খারাপ হয়ে যায়। ঠিক তার ৩ বছর পর  মানে- ১৯৬৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাাস্ত্রী হায়দ্রাবাদের নিজাম মীর উসমান আলির কাছে অর্থনৈতিক সাহায্য চায়।

 তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে ভারতের পরিস্থিতি খারাপ দেখে হায়দ্রাবাদের নিজাম মীর উসমান আলি তৎকালীন সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চাঁদা ভারত সরকারকে দান করেন- ১৯৬৫ সালে! সেই চাঁদার পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন, তৎকালীন সময়ে সেই চাঁদার পরিমাণ ছিল নগদ "৫০০০ (পাঁচ হাজার) কেজি স্বর্ণ ও ৭৫ লক্ষ টাকা।

প্রধান উন্নয়ন এবং সমাজে অবদান –

  রাজা সউদের সাথে হায়দ্রাবাদের নিজামউ সমান আলি খান রাজ্যের সার্বভৌম শাসক ছিলেন। তাকে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও উন্নয়নের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখা হয়। তার ৩৭ বছরের শাসনাকালে বিদ্যুত, রেলপথ, সড়ক ও বিমান ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। রাজ্যের নিজামসাগর হ্রদ খনন করা হয় এবং তুঙ্গাভদ্রা নদীতে কিছু সেচ প্রকল্প চালু করা হয়।

  হায়দ্রাবাদ শহরের প্রায় সকল সরকারি ভবন যেমন উসমানিয়া জেনারেল হাসপাতাল, হায়দ্রাবাদ উচ্চ আদালত, আসাফিয়া লাইব্রেরী (বর্তমানে স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরী), টাউন হল (বর্তমানে এসেম্বলি হল), জুবিলি হল, হায়দ্রাবাদ জাদুঘর (বর্তমানে স্টেট মিউজিয়াম), নিজামিয়া অবজারভেটরি এবং অন্যান্য অনেক স্মৃতিস্থাপনা তার শাসনামলে নির্মিত হয়।

  বাজেটের ১১% শিক্ষায় ব্যয় হত। এসময় উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্কুল, কলেজ ও একটি অনুবাদ বিভাগ চালু করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় এবং দরিদ্রদের জন্য তা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। তিনি দিল্লিতে হায়দ্রাবাদ হাউস প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে এটি ভারত সরকারের কূটনৈতিক বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হয়। তিনি অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর জন্যও অর্থ প্রদান করেছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার –

  ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট কলেজের উদ্বোধনকালে নিজাম মারাঠওয়াডা অঞ্চলে কৃষি গবেষণা তিনি চালু করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতার পর ভারত সরকার তার চালু করা এসব সুযোগ সুবিধাকে আরো উন্নত করে।

 উসমান আলি খান ভারতে ও ভারতের বাইরে অনেক প্রতিষ্ঠানে অর্থ দান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জামিয়া নিজামিয়া, দারুল উলুম দেওবন্দ, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়।

উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়    –

 উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তিনি তার শাসনামলে শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার সাধন করেন। তিনি উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।

স্টেট ব্যাংক অফ হায়দ্রাবাদ প্রতিষ্ঠা -

1941 সালে তিনি রাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে নিজের ব্যাংক, "হায়দ্রাবাদ স্টেট ব্যাংক" (পরে 2017 সালে ভারতের স্টেট ব্যাংকের সাথে মিলিত) তৈরি করেন। এটি হায়দ্রাবাদ স্টেট ব্যাংক অ্যাক্টের অধীনে 8 আগস্ট, 1941 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যাংকটি ওসমানিয়া মুদ্রায় হায়দ্রাবাদের মুদ্রা পরিচালিত করে। এটি ভারতের একমাত্র রাজ্য ছিল যার সাথে মুদ্রা ছিল - হায়দ্রাবাদ রুপি। 

  অপারেশন পোলো ও ক্ষমতাত্যাগ –

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের সময় দেশীয় রাজ্যসমূহ ভারত বা পাকিস্তানের যেকোনো একটিতে যোগ দেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়। এসময় নিজামের শাসনাধীনে প্রায় ১৬ মিলিয়ন জনগণ এবং ৮২,৬৯৮ বর্গ মাইলের অঞ্চল ছিল। নিজাম ভারত বা পাকিস্তান কোনো রাষ্ট্রেই যোগ দেয়ার পক্ষে ছিলেন না। তিনি ব্রিটিশ কমনওয়েলথের মধ্যে হায়দ্রাবাদকে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন।

  শেষপর্যন্ত ১৯৪৮ সালে ভারত সরকার হায়দ্রাবাদ দখলের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযানের নাম দেয়া হয় অপারেশন পোলো। মেজর জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরীর অধীনে এক ডিভিশন ভারতীয় সেনা ও একটি ট্যাঙ্ক ব্রিগেড হায়দ্রাবাদে আক্রমণ চালায়। আগ্রাসী ভারতীয় বাহিনী যুদ্ধে নিজামের বাহিনী ও নিজামের সরকারী বাহিনীর সহায়তাকারী গণ মুক্তিফৌজকে পরাজিত করে।

রানী এলিজাবেথ উপহার    –

 ১৯৪৭ সালে নিজাম প্রিন্সেস এলিজাবেথকে তার  বিয়ে উপলক্ষে হীরা, টায়রা খচিত একটি হার উপহার দেন। এটি হায়দ্রাবাদের নিজামের হার নামে পরিচিত।

ব্যক্তিগত জীবন    –

তিনি তার ১৩ বছর বয়স থেকে শুরু করে বাকি জীবন কিং কোঠি প্রাসাদে কাটিয়েছেন। সিংহাসনে আরোহণের পরও তিনি চৌমহল্লা প্রাসাদে যাননি।

পারিবারিক জীবন -

  ১৯২০ সালের ১৪ এপ্রিল উসমান আলি খানের সাথে তার প্রথম স্ত্রী আজমাতুন্নিসা বেগমের বিয়ে হয়।  আজম জাহ ও মুয়াজ্জাম জাহ তাদের পুত্র। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন ইকবাল বেগম। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আজম জাহর সাথে শেষ উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদের কন্যা দুররু শেহভারের বিয়ে হয়। মুয়াজ্জাম শাহ উসমানীয় রাজকুমারি নিলুফারকে বিয়ে করেন।

পরবর্তী জীবন –

 উসমান আলি খান ১৯৬৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার জানাজা ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জানাজা সমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল। আনুমানিক 10 লাখ মানুষ নিজাম বন্দুক-কার্ট মিছিলের অংশ হয়ে উঠেছে। নিযামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অ-ধর্মীয়, অ-রাজনৈতিক সমাবেশ

সম্মাননা –

  তার সম্মাননার মধ্যে রয়েছে, দিল্লি দরবার স্বর্ণ পদক, ১৯১১।

 জিসিএসআই: নাইট গ্র্যান্ড কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ইন্ডিয়া, ১৯১১।

জিসিএসটিজে: বেইলিফ গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ সেইন্ট জন, ১৯১১।

জিবিই: নাইট গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার, ১৯১৭।

উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। 


সূত্র-- বাংলা উইকিপিডিয়া।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপণের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিস কিনুন তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের নামের তালিকা .


 ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নামের তালিকা –

১) জহরলাল নেহরু – ১৯৪৭ – ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ ।
২) গুলজারিলাল নন্দ – ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৩) লালবাহাদুর শাস্ত্রী – ১৯৬৪ - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ ।
৪) গুলজারিলাল নন্দ - ১৯৬৬ - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৫) ইন্দিরা গান্ধি – ১৯৬৬ – ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৬) মোরারজি দেশাই – ১৯৭৭ – ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ ।
৭) চরণ সিং – ১৯৭৯ – ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ ।
৮) ইন্দিরা গান্ধি – ১৯৮০ – ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ ।
৯) রাজীব গান্ধি – ১৯৮৪ – ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ ।
১০) বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং – ১৯৮৯ – ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ ।


১১) চন্দ্র শেখর – ১৯৯০ – ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
১২) পি.ভি নরসিমা রাও – ১৯৯১ – ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ ।
১৩) অটল বিহারি বাজপেয়ী - ১৯৯৬ (অস্থায়ী) ।
১৪) এইচ.ডি দেবেগৌড়া -  ১৯৯৬ – ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ ।
১৫) ইন্দ্রকুমার গুজরাল – ১৯৯৭ – ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ ।


১৬) অটল বিহারি বাজপেয়ী – ১৯৯৮ – ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ ।
১৭) ডঃ মনমোহন সিং – ২০০৪ – ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ ।
১৮) নরেন্দ্র দামোদর মোদী – ২০১৪ – বর্তমান ।

ভারতের রাষ্ট্রপতির নামের তালিকা –

১) ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ – ১৯৫০ – ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ ।
২) ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন – ১৯৬২ – ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৩) ডঃ জাকির হোসেন – ১৯৬৭ – ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ ।
৪) মহম্মদ হিদায়তুল্লা – ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৫) বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরি - ১৯৬৯ – ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ ।
৬) ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ - ১৯৭৪ – ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৭) বি.ডি জাত্তি - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৮) নীলম সঞ্জীব রেড্ডি – ১৯৭৭ – ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ ।
৯) জৈল সিংহ – ১৯৮২ – ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ ।
১০) আর. ভেঙ্কটরমন – ১৯৮৭ – ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ ।

১১) ডঃ শঙ্করদয়াল শর্মা – ১৯৯২ – ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ ।
১২) কে.আর নারায়ণ – ১৯৯৭ – ২০০২ খ্রিস্টাব্দ ।
১৩) এ.পি.জে আব্দুল কালাম – ২০০২ – ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ ।
১৪) প্রতিভা দেবী সিং পাটিল – ২০০৭ – ২০১২ খ্রিস্টাব্দ ।
১৫) প্রণব মুখোপাধ্যায় – ২০১২ – ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ ।
১৬) রামনাথ কোবিন্দ – ২০১৭ - বর্তমান ।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নামের তালিকা –

১) ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ – ১৯৪৭ – ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ ।
২) ডঃ বিধানচন্দ্র রায় – ১৯৪৮ – ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ । 
৩) প্রফুল্লচন্দ্র সেন – ১৯৬২ – ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৪) অজয় কুমার মুখার্জি – ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৫) ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ – ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ ।
৬) অজয় কুমার মুখার্জি – ১৯৬৯ – ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ ।
৭) ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ – ১৯৭০ -১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ ।
৮) সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় – ১৯৭২ – ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৯) জ্যোতি বসু – ১৯৭৭ – ২০০০  খ্রিস্টাব্দ ।
১০) বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য – ২০০০ – ২০১১ খ্রিস্টাব্দ ।
১১) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – ২০১১ – বর্তমান । 


পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের নামের তালিকা –

১) চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারি – ১৯৪৭ – ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ ।
২) বি.এল মিত্র – ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৩) কৈলাসনাথ কাটুজ – ১৯৪৮ – ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ ।
৪) হরেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায় – ১৯৫১ – ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ ।
৫) সুরজিত লাহিড়ী – ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৬) পদ্মজা নাইডু – ১৯৫৬ – ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ ।
৭) ধর্মবীর – ১৯৬৭ – ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ ।
৮) দীপনারায়ণ সিং – ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ, (অস্থায়ী) ।
৯) শান্তিস্বরুপ ধাওয়ান – ১৯৬৯ – ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ ।
১০) এ.এল ডায়াস – ১৯৭১ – ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ ।
১১) ত্রিভুবন নারায়ণ সিংহ – ১৯৭৭ – ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ ।
১২) ভৈরব দত্ত পাণ্ডে – ১৯৮১ – ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ ।
১৩) এ.পি শর্মা – ১৯৮৩ – ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ ।
১৪) উমাশঙ্কর দীক্ষিত – ১৯৮৪ – ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ ।
১৫) সৈয়দ নুরুল হাসান – ১৯৮৬ – ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ ।
১৬) থঙ্গ ভেল্লু রাজেশ্বর – ১৯৮৯ – ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ ।
১৭) সৈয়দ নুরুল হাসান – ১৯৯০ – ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ ।
১৯) কে.ভি রঘুনাথ রেড্ডি – ১৯৯৩ – ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ ।
২০) এ.আর কিদওয়াই – ১৯৯৮ – ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ ।


২১) শ্যামল কুমার সেন – ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ,(অস্থায়ী) ।
২২) বীরেন জে. শাহ – ১৯৯৯ – ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ ।
২৩) গোপালকৃষ্ণ গান্ধি – ২০০৪ – ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ ।
২৪) এম.কে নারায়ণ – ২০০৯ – ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ ।
২৫) কেশরিনাথ ত্রিপাঠি – ২০১৪ – ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ ।
২৬) জগদীশ ধনকড় – ২০১৯ – বর্তমান ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা  বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ  
 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

শতবর্ষ পর পর পৃথিবীতে ফিরে এসেছে কোন কোন মহামারী ?.


 প্রতি শত বছর পর পরই মহামারিতে আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্ববাসী ইতিহাসের এ যেন এক অলিখিত নিয়ম কোনো সংক্রামক রোগ যখন বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মাঝে খুব দ্রুত সংক্রমিত হয়ে পড়ে তখন বলা হয় রোগটিকে মহামারীএসব মহামারীতে মৃত্যু হয়েছে কোটি কোটি মানুষের এখন গোটা বিশ্ব করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার ধারণ করেছে গোটা বিশ্বের মানুষ গৃহ বন্দী, প্রতি ১০০ বছর অন্তর অন্তর বিস্ময়কর ভাবে ফিরে আসছে নানা নামের মহামারী নানা কারণে একটি ছোট অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব ঘটা রোগ যখন ছড়িয়ে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, তখন  মহামারী রূপ নেয়, তাকে বলা হয় প্যান্ডেমিক বা বিশ্বমারী সেরকম কিছু মহামারির কথা এখন আমি আপনাদের বলবো


 ১৭২০ সালে শুর হয়েছিল প্লেগ অফ মার্সেই ১৩৪৭ সালে প্রথম বড় বুবোনিক প্লেগ সংক্রমণ ঘটে যেটিকে ব্ল্যাক ডেথ বলে আখ্যায়িত করা হয় বুবোনিক প্লেগ ইউরোপে কয়েক শতাব্দীকাল ধরে টিকে ছিল কিন্তু, ১৭২০ সালে সর্বশেষ যে বুবোনিক প্লেগের সংক্রমণ ঘটে সেটি বৃহৎ আকারের মহামারী ছিলপৃথিবী জুড়ে একলক্ষ মানুষের এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর শুধু মার্সেইতেই মৃত্যু হয়েছিল ৫০ হাজারের বেশি মানুষের এই রোগের উৎস ছিল ফ্রান্সের মার্সেই শহর এই রোগটিকে আরও একটি নাম দেওয়া হয়েছিল ব্ল্যাক ডেথ ফ্রান্সে ৪৫ বছরের জন্য নাকি কমে গিয়েছিল জন্মহার


 
১৮১৭ সালে শুরু হয় কলেরা
থাইল্যান্ডে কলেরা মহামারী প্রথম ধরা পড়েছিল ১৮২০ সালে, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন সহ এশিয়ার দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল ১৮২০ সালে সেই কলেরা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করে এশিয়াটিক কলেরা সবার আগে শুরু হয় ব্রিটিশ সেনার মধ্যে তারপর এই রোগ পৃথিবীর অর্ধেক অংশে ছড়িয়ে পড়ে কলেরা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মিছিল চলে, মৃত্যুর মিছিল চলে চীন, রাশিয়া এবং ভারতে গোটা বিশ্বে প্রায় কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শুধু ব্যাঙ্ককেই নাকি মারা গিয়েছিলেন ৩০ হাজার মানুষ

১৯২০ সালে স্প্যানিশ ফ্লু হল আরেক বড় রকমের মহামারি স্পেনে শুরু হওয়া এই রোগ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে ১৯১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ১৯২০ অবধি এটি ৫০ কোটি মানুষের মাঝে ছড়িয়েছিল — যা সেই সময়ে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ এটিকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক মহামারী হিসাবে উল্লেখ করা হয় মহামারীর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং যার কারণে রোগটির উৎস ভূমি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে তবে ফ্রান্সের এটেপলসে যুক্তরাজ্যের প্রধান সেনা মঞ্চায়ন ও হাসপাতালের শিবিরটি গবেষকরা তাত্ত্বিকভাবে মনে করেন স্প্যানিশ ফ্লুর কেন্দ্রস্থল ক্রমাগত স্প্যানিশ ফ্লু জিনগত ভাবে পরিবর্তন হতো যার ফলে ভাইরাসটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছিল অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র বিশ্বের মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে এই ইনফ্লুয়েঞ্জায়, মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকে কত জন মারা গিয়েছিল সেটির আনুমানিক হিসাবে পরিমাণের ভিন্নতা রয়েছে স্প্যানিশ ফ্লু দুই বছর ধরে এই ফ্লু তে মৃত্যু হয় আনুমানিক ১.৭ থেকে ৫ কোটি বা কোন কোন হিসাবে ১০ কোটির মত  এই রোগে বিশ্বের অনেক জায়গায় মানুষ মারা গিয়েছে প্রায় ১.২-১.৭ কোটি মানুষ শুধু ভারতে মারা গিয়েছিল এ মৃত্যু মিছিলটি দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিকনামে পরিচিত স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীতে মৃত্যুর হার তরুণ-যুবকদের মধ্যেই বেশি ছিল ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষেরা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ।


 এরপর 2020 সালে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড ১৯ যার উৎস চীনের উহান থেকে চীন থেকে হওয়া এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসটি ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে । দুনিয়া জুড়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা, মারণ করোনা ভাইরাস, যার জেরে এখনও পর্যন্ত (২৭/০৪/২০২০) ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এর ভয়াল থাবা দেখতে শুরু করেছে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে দেশজুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার । বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ । স্থগিত করা হয়েছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান । খেলাধুলার অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে জনসমাগম স্থল এখন পুরো ফাঁকা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ওপরের সারিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে হল - ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করা যায়

 হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১০০ বছর অন্তর এমন মহামারী ছড়িয়ে পড়ে দুনিয়ায় দেখে মনে হয় ইতিহাস যেন প্রতি ১০০ বছর পরে নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছেপ্রতি ১০০ বছরে এমন মহামারী কেন হয় তার বৈজ্ঞানিক কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না । এ যেন এক অলিখিত নিয়ম


 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা ও সময় বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা ও সময় লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।  

আমাদের আরও পোস্ট -


আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

ভিনগ্রহী প্রাণী বা এলিয়েন বলে কিছু কি আছে ? .


 আমাদের মহাবিশ্বে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি বা তারামণ্ডল আমাদের গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র যার মধ্যে আমাদের সূর্য একটি মিল্কিওয়ে ছাড়াও মহাকাশে আবিষ্কৃত হয়েছে শতকোটি তারামণ্ডল । বহু দিন আগে থেকেই পৃথিবীর মানুষের বিশ্বাস যে, পৃথিবীর বাইরেও মহাকাশের অন্যত্র প্রাণ রয়েছে  মহাকাশে আবিষ্কৃত হয়েছে শতকোটি তারামণ্ডল ও সেখানে যে পৃথিবী সদৃশ নিষ্ক্রিয় বস্তু আছে, তা শুধু ধারণা নয়, অঙ্ক কষে বলে দেয়া যায় তাই বিজ্ঞানীরা যৌক্তিকভাবেই ভাবছেন যে, পৃথিবীর বাইরের অন্যান্য যেকোনো স্থানেই পৃথিবীর মতো প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে মনে মনে একটা প্রশ্ন সকলেরই জাগে তা হচ্ছে সত্যিই কি এলিয়েনের অস্তিত্ব রয়েছে ?

 ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) বলতে পৃথিবী ভিন্ন মহাকাশের অন্য কোনো স্থানের প্রাণকে বোঝানো হয় অনেকে ‘ভিনগ্রহের প্রাণী’ বলতে মানুষের আকৃতির প্রাণী বুঝে থাকলেও বস্তুত যেকোনো ধরনের প্রাণী এই তালিকায় ধরা হতে পারেএ ধারণায় পৃথিবী-ভিন্ন অন্য জগতের একটা সূক্ষ্ম ব্যাকটেরিয়াকে ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন বলা হয়   বাংলায় পৃথিবী-ভিন্ন অন্য গ্রহের প্রাণকে একত্রে ভিনগ্রহের প্রাণী বলা হয়েছে । তবে গ্রহ ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রাণ এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় ।
 এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্যের মত রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র তাদের কোনটিতে আমাদের সৌর ব্যবস্থার মত ব্যবস্থা থাকতেই পারে যেখানে থাকতে পারে কোন প্রাণী আমাদের গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র  আছে । অনেকেই দাবি করেন ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে প্রায় নিয়মিত যাওয়া-আসা করে এবং তাদের দেখাও পাওয়া গেছেঐতিহাসিকরা উৎসে খোঁজ করছেন ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব আর বিজ্ঞানীরা খোঁজ করছেন পৃথিবীর বাইরের গ্রহ কিংবা উপগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব
 আমাদের সৌরজগতের মঙ্গল গ্রহের অবস্থান, সূর্যের দিক থেকে পৃথিবীর ঠিক পরেই । একারণে এই গ্রহে প্রাণের বিকাশ ঘটার মতো উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের দৃঢ় বিশ্বাস । এখনও মানুষ বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধান পেয়েছে বলে জানা যায়নি, আবার এরকম দাবি যে একেবারেই নেই এমনটাও সঠিক নয় । তবে দেখা যাক আর নাই যাক আধুনিক বিজ্ঞানের সূত্রমতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের বিবর্তন সম্পর্কে একটা ধারণা ঠিকই  করা যায় । বিজ্ঞানীরা ভিনগ্রহের প্রাণীদের বুদ্ধিমান প্রাণী ধরে নিয়ে বলেন যে, এরকম প্রাণীরা যদি খুব ছোট হয়, তবে কখনোই বুদ্ধিমান হতে পারবে না। কারণ বুদ্ধিমান হবার জন্য যতটুকু মস্তিষ্ক দরকার তা ধারণ করার মতো দেহ তাদের নেই ।
 জীবনযাত্রায় অন্যতম একটি উপাদান পোশাক বিজ্ঞানের কাছে ভিনগ্রহের প্রাণীদের পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই যারা, ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেছেন বলে দাবি করেন, তাদের বক্তব্য হল ভিনগ্রহের এসব বুদ্ধিমান প্রাণীরা পোশাক হিসেবে কিছুই পরে না যেহেতু তারা অতি বুদ্ধিমান, তাই পোশাক-পরিচ্ছদের বাহুল্য ত্যাগ করতে শিখে নিয়েছে তবে তারা মাথায় হুড পরিধান করে থাকে বলে অনেকের দাবি কারো দাবি, তারা লম্বা লম্বা জোব্বা পরে থাকে ভিন গ্রহীদের অস্তিত্বই যেখানে অনিশ্চয়তায় ভরা, নিঃসন্দেহাতীত ভাবে এ অবধি প্রমাণিত নয়, অনুমান নির্ভর কিছু তত্ত্বকথা
 'সুপার আর্থ' তেমনই আর একটি গ্রহ। নাসা নয়, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর দৌলতে ২০১৭-য় এই গ্রহটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানতে পারি । নাম কেন সুপার আর্থ ? বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি পৃথিবীরই উন্নত সংস্করণ। যার পোশাকি নাম অবশ্য K2-18b আমাদের সৌরজগতের বাইরে, পৃথিবী থেকে ১১১ আলোকবর্ষ দূরে, অজানা এক বামন নক্ষত্রকে ঘিরে নিজস্ব কক্ষপথে পাক খাচ্ছে সুপার আর্থ । বিজ্ঞানীদের দাবি, এখানেও প্রাণ আছে । বিজ্ঞানীদের আশান্বিত করে তোলে জল সদৃশ তরলের উপস্থিতি । টরেন্টোর বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটা জলই। আর জল মানেই সৃষ্টির সম্ভাবনা, প্রাণের উল্লাস ।
 এদিকে, পৃথিবীর নিকটবর্তী মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে বহুদিন ধরে বৈজ্ঞানিক মহলে নানা জল্পনা রয়েছে ৷ বিজ্ঞানীদের একাংশ বিশ্বাস করেন লালগ্রহএকসময় পৃথিবীর মতোই সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা ছিল ৷ মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার কিউরিওসিটি রোভারের তোলা ছবি বিজ্ঞানীদের সেই বিশ্বাসকে আরও উস্কে দেয় । ছবি বিশ্লেষণ করে কেউ কেউ দাবি করেন, ওই ছবিতেই মঙ্গলে গাছ ও মাথার খুলির সন্ধান মিলেছে ।
 নাসার প্রকাশিত এক ভিডিয়োয় ছবিটি প্রকাশ করে লেখা রয়েছে, বস্তুটি একটি মঙ্গোলীয় গাছের প্রস্তরীভূত অংশ হতে পারে ৷ নাসার দাবি অনুযায়ী ছবিটি তোলা ২০১৭-র মার্চে ৷ এই আলোকচিত্রটি নিয়েপ্যারানরমাল ক্রুসিবলতাদের ইউটিউব চ্যানেলে একটু বেড়েই খেলেছে। তারা জানায়, গাছের মতো দেখতে বস্তুটি লম্বায় ৩ ফুট । মঙ্গলে একসময় যে প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব ছিল, তা মেনে নেওয়ার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে বলে তারা সওয়াল করতে থাকে ৷

 প্যারানরমাল ক্রুসিবলের এই ধারণা সমর্থনে এগিয়ে আসেন আর এক বিশ্বখ্যাত মঙ্গলগ্রহ গবেষক স্কট সি ওয়ার্নিং । তাঁরও দাবি, একসময় পৃথিবীর মতোই প্রাণের অস্তিত্ব ছিল মঙ্গলে৷ কোনও এক সৌর বিস্ফোরণে ওই গ্রহে পরবর্তী সময়ে প্রাণের অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে । ওই গবেষক আরও জানান, 'ছবিতে শুধু গাছ নয়, একটি ভিনগ্রহী প্রাণীর মাথার খুলিও দেখা গিয়েছে ৷ মানুষের মাথার খুলির মতোই যার গড়ন ৷ তাঁর কথায়, ওই খুলিটি প্রমাণ করে একসময় মঙ্গলে বুদ্ধিমান প্রাণী বসবাস করত ৷ তবে নাসার মনে হয়েছে, এসব বাজে বকওয়াস । তাই খারিজ হয়ে গিয়েছে এসব তত্ত্ব। নাসার মতে, বস্তুগুলি পাথার ছাড়া আর কিছু নয়  
 বহুদিন আগে থেকেই পৃথিবীর মানুষের বিশ্বাস যে, পৃথিবীর বাইরেও মহাকাশের অন্যত্র প্রাণ রয়েছে । মহাবিশ্ব অনেক বড় হবার কারণেই স্টিফেন হকিং এবং কার্ল সেগান এর মতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা বেশি । সত্যি যদি মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকতো তাহলে এতদিনে তাদের দেখা পাওয়ার কথা । যদি এলিয়েন থাকে তাহলে আমরা তাদের দেখতে পাই না কেন? ওরা পৃথিবীতে আসে না কেন? তবে আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী এলিয়েনের অস্তিত্বের পাকা-পোক্ত কোনো প্রমাণ পায় নি ভিনগ্রহের প্রাণী সম্পর্কে এখনও বিজ্ঞান কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও অনেকেই পৃথিবীতে তাদেরকে দেখার দাবি করেছেন এবং পৃথিবীর একটা বৃহত্তর অংশের মানুষ বিশ্বাস করে যে, ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে । অনেকেই দাবি করেন ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে প্রায় নিয়মিত যাওয়া-আসা করে এবং তাদের দেখাও পাওয়া গেছে, তাই এটা অসম্ভব নয় যে, পৃথিবীর বাসিন্দারা ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেছেন । জরিপে দেখা গেছে এই বিশ্বাস পুরুষের (২২%) তুলনায় নারীর কিছুটা কম (১৭%) । ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই বিশ্বাস বেশি ।
 অনেকে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যাওয়া UFO(=Un-identified Flying Object=অচেনা উড়ন্ত বস্তু) ’র কথা বলেন । তবে বেশিরভাগ UFO কেই পৃথিবী সৃষ্ট আকাশযান অথবা কোন মহাজাগতিক বস্তু বা দেখার ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় । পৃথিবীতে যদি তাদের দেখা না পাওয়া যায় তাহলে বুঝে নিতে হয় মহাকাশযান তৈরি করে পৃথিবীতে আসার ব্যাপারে তাদের গরজ নেই । আবার হয়তো ঐ বুদ্ধিমান প্রাণীর সভ্যতা খুব ক্ষণস্থায়ী; তাদের জন্ম হয় এবং কিছু বোঝার আগেই তারা নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করে ফেলে ।
 এখনও পর্যন্ত মানুষ বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধান পেয়েছে বলে জানা যায়নি, আবার এরকম দাবি যে একেবারেই নেই এমনটাও সঠিক নয় ।  ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানে পৃথিবীতে এবং পৃথিবী থেকে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন অভিযান । সৌরজগতের শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানে দীর্ঘদিন থেকে প্রাণের সন্ধান পাবার আশায় সন্ধান চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা । নাসার বিজ্ঞানীরা ক্যাসিনির পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে জানান যে, শনির অনেকগুলো উপগ্রহের মধ্যে একমাত্র টাইটানেই প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ  

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।
আরো পড়ুন -