নদী কাকে বলে, নদীর বিভিন্ন কাজ ও মানুষের জীবনে নদীর গুরুত্ব কি কি ?.
আমরা প্রতিদিন কোন না কোন নদী দেখি,
কারণ ভারত বা বাংলাদেশে প্রচুর নদী অবস্থিত । নদী হল স্বাভাবিক প্রবহমান জলধারা,
যা পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে ভূমির
ঢাল অনুসারে উঁচু থেকে নিচু বা উৎস থেকে মোহনার দিকে বয়ে যায় । তখন তাকে নদী বলে ।
সাধারণ ভাবে নদী কোন পাহাড়, পর্বত, মালভূমির উঁচু অংশ থেকে সৃষ্টি হয় । নদী গুলি
প্রথমে পাহাড়, পর্বতের বরফ গলা জল বা বৃষ্টির ছোট ছোট জলধারা থেকে শুরু হয়ে অনেক
জলধারা মিশে একটা বড় জলধারা বা নদী গঠন করে ।
এই সমস্ত নদী যে অঞ্চলের উপর দিয়ে
প্রবাহিত হয় তাকে ধারণ অববাহিকা বলে । উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদী যে খাতের মধ্য
দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে নদীর উপত্যকা বলে । নদী যেখানে সৃষ্টি হয় তাকে নদীর উৎস,
আবার নদী কোন সাগর, উপসাগর, জলাশয় বা হ্রদে গিয়ে শেষ হলে তাকে নদীর মোহনা বলে । যখন
অনেক গুলো ছোট ছোট নদী অন্য কোন নদীতে এসে মিশে তখন তাকে উপনদী বলে । যেসব নদী কোন
নদী থেকে বেরিয়ে অন্য কোন জলাশয়ে বা নদীতে মিশে তাদের শাখানদী বলে ।
নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত, উপনদী,
শাখানদী যে স্থানের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় ষে বিস্তীর্ণ স্থানকে নদীর অববাহিকা বলে
। যে নদী কোন দেশের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশের কোন সাগর, হ্রদ, জলাশয়ে মিশে তাকে অন্তর
বাহিনী নদী বলে । যে নদী বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক
নদী বলে ।
দুটি নদী যখন পাশাপাশি প্রবাহিত হয়
তাদের মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব বলা হয় । পার্বত্য অঞ্চল বা উঁচু কোন অঞ্চলে তৈরি
হওয়া নদীর জলের উৎস হয় বরফ গলা জল । এই সমস্ত নদীতে সারা বছর জল থাকে, তাই এদের
নিত্যবহ নদী বলে । মালভূমি বা কম উঁচু অংশে তৈরি হওয়া নদীর জলের উৎস শুধুমাত্র
বর্ষাকালের বৃষ্টির জল । এই সমস্ত নদীতে সারা বছর জল থাকে না, তাই এদের অনিত্যবহ
নদী বলে ।
নদী প্রধানত তিনটি কাজ করে – ক্ষয়,
বহন ও সঞ্চয় । ক্ষয়জাত পদার্থ বহন করে, বাহিত পদার্থ সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের
পরিবর্তন ঘটানো । নদীর তিনটি প্রবাহ দেখা যায় । উৎস থেকে সমভূমির আগে পর্যন্ত নদীর
উচ্চ প্রবাহ দেখা যায় । এই প্রবাহে ভূমির ঢাল বেশি থাকার জন্য নদীর শক্তি বেশি হয়
। এরফলে বড় বড় পাথর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় । নদী নরম পদার্থকে বেশি ক্ষয় করে ।
ফলে শক্ত ও নরম পাথরের মাঝে ধাপ সৃষ্টি হয় । এভাবে নদী শক্ত পাথর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে
পড়ে জল প্রপাত সৃষ্টি করে ।
উৎসের পর মালভূমি বা সমভূমি এলাকা হল
নদীর মধ্য প্রবাহ । এই প্রবাহে নদী প্রধানত বহন ও সঞ্চয় কাজ করে । ভূমির ঢাল কমে
যাওয়া ও জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে নদী বেশি আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয় । আবার
কখনও নদী দ্বীপ তৈরি করে । এই প্রবাহে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায় ।
নদীর নিম্ন প্রবাহে নদীর গতি ও শক্তি
অনেক কমে যায় । ফলে নদী আর ক্ষয় কাজ করতে পারেনা । সামান্য বহনের কাজ করলেও তখন
মূল কাজ হল সঞ্চয় করা । নদীর মধ্যে পলি, বালি, কাঁকর ইত্যাদি জমে নদী অগভীর হয়ে
যায় । এরফলে বর্ষার সময় বন্যা সৃষ্টি হয় । বেশির ভাগ নদীর এই সময় গতি ও শক্তি অনেক
কমে যাওয়ার জন্য মোহনায় ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে । এই সময় নদী শাখানদী তৈরি করে ।
আমাদের ভারত বা বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ
। এখানে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সাথে নদী বিভিন্ন ভাবে জড়িয়ে রয়েছে । মানুষের
প্রাচীনতম সভ্যতা গুলি গড়ে উঠেছিল নদীর ধারে । বর্তমানে গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র
ও পৃথিবীর অন্যান্য বহু নদীর উপত্যকায় অন্যতম জনবহুল বিভিন্ন শহর গুলি গড়ে উঠেছে ।
নদীর জল উদ্ভিদ, প্রাণীর বিকাশ, মাটির নীচে জলের ভারসাম্য রক্ষা করে । বন্যা
নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি বিভিন্ন কৃত্রিম বাঁধ বিভিন্ন কাজে লাগানো হচ্ছে । নদী
আমাদের বিভিন্ন কৃষিজ ফসল চাষের জন্য জলের জোগান দেয় । জল বিদ্যুৎ উৎপাদন, নদী পথে
পরিবহণ ইত্যাদি নদীর মাধ্যমে হয় । বর্তমানে মানুষের বিভিন্ন কাজের ফলে নদী নষ্ট
হচ্ছে, সেই অপকর্ম কাজ না করার জন্য আমাদের দায়িত্ববান ও সচেতন হতে হবে ।
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন
প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে
অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল লেখাটির উপর
ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
ধন্যবাদ
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷