বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

বিনা ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও দেখবেন কিভাবে ?.


বিনা ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও দেখবেন কিভাবে ?.

 বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি এক দুর্দান্ত উপায়, যায় সাহায্যে আমি বিনা ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন। আপনার কথাটা শুনে প্রথমে অসম্ভব মনে হতে পারে, কিন্তু না, এটা সম্ভব। কিন্তু কিভাবে এটা করবেন তা জানতে হলে পুরো লেখাটা পড়তে থাকুন।

  আগে বলে রাখি যে প্রথমে আপনাদের একটু ইন্টারনেট খরচ করতে হবে । তারপর আপনি বিনা ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও আপনি আপনার ফোনে দেখতে পারবেন, যখন খুশি যেখানে খুশি । প্রক্রিয়াটা ভালো করে দেখুন।

 প্রথমে আপনি আপনার ইউটিউব অ্যাপটি খুলুন। তারপর আপনি আপনার পছন্দ মতন ভিডিও বা সিনেমা টি ওপেন করুন । তারপর নিচের দিকে দেখবেন ডাউনলোড বলে একটা অপশন আছে । যে ভিডিও আপনি দেখতে চান নিজের ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর ভিডিও টি ডাউনলোড হয়ে যাবে।

  ডাউনলোড হয়ে যাওয়ার পরে ভিডিও টি কোথায় খুঁজে পাবেন। তার জন্য আপনাকে নিচের ডান দিকে কোনে লাইব্রেরিতে অপশনে ক্লিক করতে হবে। এখানে ক্লিক করার পর আপনি দেখতে পাবেন বিভিন্ন অপশন। সেই বিভিন্ন অপশন গুলির মধ্যে আপনাকে বেছে নিতে হবে ডাউনলোড অপশন। সেখানে ক্লিক করুন, ক্লিক করে আপনি দেখতে পাবেন যতগুলো ভিডিও ডাউনলোড করেছেন সব ভিডিও সাজানো আছে ।

  এবার আপনি যে ভিডিওটা চালাতে চাইছেন সেটি চালাতে পারেন । তার আগে আপনি এবার ডাটা বন্ধ করে দিন । দেখবেন এবার বিনা ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও চলছে।

 তাহলে দেখলেন তো কিভাবে বিনা ইন্টারনেটে ইউটিউবে ভিডিও চালানো যায়। এর ফলে আপনি আপনার অনেক মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা বাঁচাতে পারবেন। একটা সিনেমা বা গান আপনি যতবার দেখবেন ততবার আপনার ডাটা খরচ হতো, কিন্তু আপনি ভিডিও ডাউনলোড করে দেখার পর আপনার একবারে ডাটা খরচ হবে । বারবারা ডাটা খরচ হবে না। তবে একটা কথা বলে রাখি সব ভিডিও ডাউনলোড অপশন আসবে না । কিছুই ভিডিও প্রিমিয়াম ভিডিও যেগুলো টাকা দিয়ে ডাউনলোড করতে হয়। আপনি চাইলে টাকা দিয়ে করতে পারেন, না হলে ওগুলো প্লে করে দেখতে পারেন।

 এরকম ব্যবস্থা শুধু ইউটিউব না আরো বিভিন্ন অ্যাপ এ পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে Hotstar, zee5, Voot, Sony LIV, Gaana.com, MX Player ইত্যাদি অ্যাপ। যেখানে আপনাকে ভিডিও ডাউনলোড করার জন্য আগে রিচার্জ করতে হয় । তারপর আপনি সেখানে ভিডিও ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন এবং যখন খুশি দেখতে তে পারবেন। 

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টে পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। বিজ্ঞান ও ইন্টারনেট বিষয়ে আরো পোষ্ট পড়তে নীচে বিজ্ঞান ইন্টারনেট লেখার উপর ক্লিক করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২০

করোনা ভাইরাস কি, এর প্রতিরোধের উপায় কি ?.


 চীন জুড়ে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে । চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে গত ডিসেম্বরে ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয়এরপর তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে । করোনা ভাইরাস হল এমন একটি শ্রেণীভুক্ত ভাইরাস যারা  স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদের আক্রান্ত করে করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন করোনা থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ মুকুট এর অঙ্গসংস্থান ভাইরাল স্পাইক পেপলোমারে দ্বারা তৈরি হয়েছে যেগুলো মূলত ভাইরাসের পৃষ্ঠে অবস্থিত প্রোটিন । ধারনা করা হয়, প্রাণীর দেহ থেকে এই ভাইরাস প্রথম মানবদেহে প্রবেশ করে এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয় । 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক লক্ষণ –
 জ্বর, অবসাদ, শুষ্ক কাশি, বমি হওয়া, শ্বাস কষ্ট, গলা ব্যথা, অঙ্গ বিকল হওয়া, মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যা, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপরোক্ত সকল উপসর্গ দেখা গেলেও জ্বর থাকেনা শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় সাধারণত রোগের উপসর্গ গুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয় বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কোনও ধরণের অসুস্থতা রয়েছে তাদের মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে । এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়

 করোনা ভাইরাস কতটা প্রাণঘাতী বা মারাত্মকতা আসলে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি । হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে সৃষ্ট জল কণার ফলে আক্রান্তর সংস্পর্শে অপর ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনে নোভেল করোনাভাইরাসএর দেখা পাওয়া যায় করোনা ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে তো বটেইহাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে ।

 করোনা ভাইরাস ভাইরাসের একটি পরিবারের সদস্যযা শ্বাসযন্ত্রের প্রক্রিয়ায় সংক্রমণ ঘটায় । বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাস ক্ষতির সম্ভাবনার দিক থেকে করোনাভাইরাস বেশ বৈচিত্র্যময় । এই রোগে নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা সামান্য বেশি । আজ ২৩/০৩/২০২০ পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রায় আক্রান্ত ৩ লক্ষ ও মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার জন । ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বৈশ্বিক বাজারে ভ্রমণ ও বাণিজ্যিকভাবে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ।


 করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয় সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায় মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ইএবং মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩নামে নামকরণ করা হয় এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ ভাইরাস প্রজাতিটি এসএআরএস-সিওভিপ্রজাতির সাথে ৭০% জিনগত মিল পাওয়া যায় করোনা ভাইরাসে  মাত্র 2 থেকে 3 শতাংশ মানুষের প্রাণহানির তথ্য রয়েছে এমনটা নয় যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই সেই রোগীর মৃত্যু হবে ।

 ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয় অনেক সময়ই কোন একটি প্রাণী থেকে এসে নতুন নতুন ভাইরাস মানব শরীরে বাসা বাধতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা সাম্প্রতিক ভাইরাসটির উৎস কোনও প্রাণী । অনেকেই অনুমান করছেন নতুন এ প্রজাতিটি সাপ থেকে এসেছে যদিও অনেক গবেষক এ মতের বিরোধিতা করেন গবেষকরা বলছেন, চীনের হর্সশু নামের একপ্রকার বাদুরের সঙ্গে এই ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে ।


 করোনা নিয়ে রাজ্যের এবং দেশের বহু মানুষ আজও আতঙ্কিত । রাজ্য ও  কেন্দ্রের তরফে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বারবার বলা হলেও করোনা আতঙ্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না  করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই । এমনটা নয় যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই সেই রোগীর মৃত্যু হবে । এখন পর্যন্ত ২০১৯-এনসিওভি ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি । বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করছেন কীভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে এবং কীভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায় । ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ভাইরাসটির বিস্তার সীমাবদ্ধ করতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে । অসুস্থ মানুষদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন ।

 সংক্রমণ ঠেকাতে কলকাতা বিমানবন্দর সহ গোটা দেশের বিমানবন্দরগুলিতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই হেলথ স্ক্রিনিং ক্যাম্প চালু করা হয়েছে এই রোগ থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষার একমাত্র উপায় হল অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেয়া সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন বিদেশ ফেরত যাত্রীরা হোম কোয়ারেন্টিন, সেল্ফ কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের নিয়মকানুন মেনে চলেন । রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোন লক্ষণ ছাড়া ব্যক্তিরাও ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারেন এর ফলে ভাইরাসটি সংক্রমণ ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে


 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও খবর বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও সময় লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ    

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

এরোপ্লেনের ব্ল্যাক বক্স কি, এর কাজ কি ?.


 যদি তুলনা করা হয় যে কোন যানে যাতায়াত করা সবথেকে বেশি সুবিধা ও আরামদায়ক, সবাই এক কথায় উত্তর দেবেন এরোপ্লেন । আবার এখানে যাতায়াতের একটা ঝুঁকি থেকে যায় । এরোপ্লেনের সাথে ব্ল্যাক বক্সের একটা যোগ রয়েছে । এটি বিমানে ব্যবহৃত একটি ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং ডিভাইস, যার সাহায্যে বিমানের সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যেটি কোনো বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে ব্যবহৃত হয় । অনেকে এই ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে জানেন না, অনেকে আবার সামান্য কিছু জানেন । এখন আমরা জানব যে - ব্ল্যাক বক্স কি, এর কাজ কি, কে আবিষ্কার করেন ইত্যাদি । ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের লেখাটি অবশ্যই শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়বেন । 


 ফ্লাইট রেকর্ডার, যা সাধারণত ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত । অস্ট্রেলীয় সরকারের অ্যারোনটিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে গবেষণা বিজ্ঞানী ডেভিড ওয়ারেন এটি প্রথম আবিষ্কার করেন । ১৯৬২ সালের ২৩শে মার্চ প্রথম অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমানে পরীক্ষামূলক ভাবে এটি ব্যবহার করা হয় । এবার আমাদের মনে এই প্রশ্নটা আসে যে - ব্ল্যাক বক্স আসলে দেখতে কেমন হয় । এর নাম যখন ব্ল্যাক বক্স অবশ্যই এটা দেখতে কালো হবে । এমনটা কি আপনি এখন ভাবছেন । আসলে মোটে সে রকম নয় । 
  ব্ল্যাক বক্স এর রং হল কমলা । কমলা রঙের বানানো হয় এর কারণ রয়েছে । কারণটি হল – মাটিতে বা অন্য কোন জায়গায় একে কমলা রঙের জন্য সহজে খুঁজে পাওয়া যায় । বিমান যখন আকাশে উড়ে তখন এই ব্ল্যাক বক্স এরোপ্লেনের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে রাখে । এরোপ্লেনের ব্ল্যাক বক্স দুভাবে কাজ করে – ১) ককপিটের ভয়েস রেকর্ড করা, ককপিটের ভেতর পাইলটদের নিজেদের মধ্যের কথাবার্তা, পাইলটদের সাথে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিট এর সাথে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সাথে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড করা হয় । ২) বিমানের সমস্ত ডাটা রেকর্ড করা । এটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে । এটিকে বিমানের এমন এক জায়গায় রাখা হয় যাতে এর কোন ক্ষতি না হয় । বিমানের ৮৮ রকম ডাটা এই ব্ল্যাক বক্স জমা করে রাখা হয় ।
 ব্ল্যাক বক্স টাইটানিয়াম, স্টিল ইত্যাদি ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়, যার দ্বারা এটি অনেক ক্ষমতাশালী হয় । টিকে থাকার অনেকগুলো পরীক্ষায় পাস করার পরেই এগুলোকে বিমানে সংযোজন করা হয় । যদি বিমান দুর্ঘটনা হয় তাহলে বিমানের ক্ষতি হলেও ব্ল্যাক বক্সের তেমন কিছু ক্ষতি হয় না । যদিও বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে এই ব্ল্যাক বক্সের মাধ্যমে জানা যায় যে কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে । কারণ, এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয় । ব্ল্যাক বক্সের ডাটা পুনরুদ্ধার করে সহজে বোঝা যায় যে – বিমানের কোন অংশ বা যন্ত্র খারাপ হয়ে যাওয়া, বা চালকের ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে ।
 ব্ল্যাক বক্সের মধ্যে এমন ব্যবস্থা করা থাকে যার ফলে এটি জলের মধ্যে পড়লেও এর কোন ক্ষতি হয় না । জলের মধ্যে ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি ৩০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে । জলের মধ্যে থেকেও এটি সংকেত পাঠাতে পারে । ৬ হাজার মিটার গভীরে জলের নিচে একটি ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে । তবে ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি যতদিন কাজ করবে ততদিনই এটি এই সিগন্যাল পাঠাতে পারে । প্রায় ১৫-২০ হাজার ফুট দূর থেকে ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়া যায় । ব্ল্যাক বক্সকে সাধারণত বিমানের পিছন দিকে রাখা হয় । এরফলে বিমান ক্ষতি হলেও এর কোন ক্ষতি হয় না । ব্ল্যাক বক্সের কাঠামোটি দেখতে একটি সিলিন্ডারের মত, যেটি একটি প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত থাকে । সিলিন্ডারের পাশে বক্স আকারের কাঠামোর মধ্যে এর ব্যাটারি থাকে, আর সিলিন্ডারে থাকে মেমোরি ইউনিট । ২৫০ থেকে ১০০০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ১০-১২ ঘণ্টা থাকতে পারে । ঠাণ্ডাতে -৫৫ থেকে -৭৫ ডিগ্রী পর্যন্ত তাপমাত্রায় এটি কাজ করতে সক্ষম ।


  ফ্লাইট রেকর্ডার, যা সাধারণত ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত । অস্ট্রেলীয় সরকারের অ্যারোনটিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে গবেষণা বিজ্ঞানী ডেভিড ওয়ারেন এটি প্রথম আবিষ্কার করেন । ১৯৬২ সালের ২৩শে মার্চ প্রথম অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমানে পরীক্ষামূলক ভাবে এটি ব্যবহার করা হয় । এবার আমাদের মনে এই প্রশ্নটা আসে যে - ব্ল্যাক বক্স আসলে দেখতে কেমন হয় । এর নাম যখন ব্ল্যাক বক্স অবশ্যই এটা দেখতে কালো হবে । এমনটা কি আপনি এখন ভাবছেন । আসলে মোটে সে রকম নয় । ব্ল্যাক বক্স এর রং হল কমলা । কমলা রঙের বানানো হয় এর কারণ রয়েছে । কারণটি হল – মাটিতে বা অন্য কোন জায়গায় একে কমলা রঙের জন্য সহজে খুঁজে পাওয়া যায় । বিমান যখন আকাশে উড়ে তখন এই ব্ল্যাক বক্স এরোপ্লেনের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে রাখে । এরোপ্লেনের ব্ল্যাক বক্স দুভাবে কাজ করে – ১) ককপিটের ভয়েস রেকর্ড করা, ককপিটের ভেতর পাইলটদের নিজেদের মধ্যের কথাবার্তা, পাইলটদের সাথে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিট এর সাথে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সাথে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড করা হয় । ২) বিমানের সমস্ত ডাটা রেকর্ড করা । এটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে । এটিকে বিমানের এমন এক জায়গায় রাখা হয় যাতে এর কোন ক্ষতি না হয় । বিমানের ৮৮ রকম ডাটা এই ব্ল্যাক বক্স জমা করে রাখা হয় ।

 ব্ল্যাক বক্স টাইটানিয়াম, স্টিল ইত্যাদি ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়, যার দ্বারা এটি অনেক ক্ষমতাশালী হয় । টিকে থাকার অনেকগুলো পরীক্ষায় পাস করার পরেই এগুলোকে বিমানে সংযোজন করা হয় । যদি বিমান দুর্ঘটনা হয় তাহলে বিমানের ক্ষতি হলেও ব্ল্যাক বক্সের তেমন কিছু ক্ষতি হয় না । যদিও বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে এই ব্ল্যাক বক্সের মাধ্যমে জানা যায় যে কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে । কারণ, এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয় । ব্ল্যাক বক্সের ডাটা পুনরুদ্ধার করে সহজে বোঝা যায় যে – বিমানের কোন অংশ বা যন্ত্র খারাপ হয়ে যাওয়া, বা চালকের ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে ।

 ব্ল্যাক বক্সের মধ্যে এমন ব্যবস্থা করা থাকে যার ফলে এটি জলের মধ্যে পড়লেও এর কোন ক্ষতি হয় না । জলের মধ্যে ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি ৩০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে । জলের মধ্যে থেকেও এটি সংকেত পাঠাতে পারে । ৬ হাজার মিটার গভীরে জলের নিচে একটি ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে । তবে ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি যতদিন কাজ করবে ততদিনই এটি এই সিগন্যাল পাঠাতে পারে । প্রায় ১৫-২০ হাজার ফুট দূর থেকে ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়া যায় । ব্ল্যাক বক্সকে সাধারণত বিমানের পিছন দিকে রাখা হয় । এরফলে বিমান ক্ষতি হলেও এর কোন ক্ষতি হয় না । ব্ল্যাক বক্সের কাঠামোটি দেখতে একটি সিলিন্ডারের মত, যেটি একটি প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত থাকে । সিলিন্ডারের পাশে বক্স আকারের কাঠামোর মধ্যে এর ব্যাটারি থাকে, আর সিলিন্ডারে থাকে মেমোরি ইউনিট । ২৫০ থেকে ১০০০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ১০-১২ ঘণ্টা থাকতে পারে । ঠাণ্ডাতে -৫৫ থেকে -৭৫ ডিগ্রী পর্যন্ত তাপমাত্রায় এটি কাজ করতে সক্ষম ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । বিজ্ঞান বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে বিজ্ঞান লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন -


অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে প্লিজ ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

Google সম্পর্কে বিভিন্ন জানা অজানা কথা গুলি কি কি ?.


 আপনি কি এমন কোন মানুষ খুঁজে বের করতে পরবেন  যে ইন্টারনেট ব্যবহার  করে কিন্তু Google এর নাম শোনেনি বা Google ব্যবহার করেনি এমন মানুষ বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়া যাবেনা । ইন্টারনেট থেকে যেকোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য সহজে বের করে নেয়ার জন্য এই গুগল আজ বিশ্বে সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়  কিন্তু, সবার মনে Google সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন চলে আসে, সেটি হল Google কি, Google কে বানিয়েছে, Google কি কাজ করে, কবে থেকে Google আমরা ব্যবহার শুরু করি ইত্যাদি । আজ আমি আপনাদের Google সম্পর্কে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই লেখাটির মধ্যে দেবো । Google সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনি এই লেখাটি  অবশ্যই শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়বেন ।


 Google এর জনক হলেন - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ছাত্র ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিন যখন তারা, California Stanford University তে Ph.D. করছিলেন, তখন একটি  Research Project হিসেবে গুগলের ওপরে কাজ শুরু করেছিলেন ১৯৯ এ গুগল কেবল একটি research project হিসেবে চালু করা হয়েছিল, এই Research Project টির নাম ছিল BackRub ১৯৯৮ সালে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল প্রতিষ্ঠা হয় ।  তাদের সফলতার ফল স্বরূপ আজকে আমরা এই Google কে পেয়েছি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন হল- একটি Web Search Engine যার উদ্দেশ্য ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন লক্ষ লক্ষ তথ্য আমাদের প্রয়োজন হিসেবে সহজে এবং সঠিক ভাবে প্রদান করাঅফিসিয়ালি গুগল শব্দটির কোনও ফুল ফর্ম বা সম্পূর্ণ নাম নেই সাধারণভাবে , গুগলের পুরো নাম বা ফুল ফর্ম- Global Organization of Oriented Group Language of Earth বলে মনে করা হয় ।


 গুগল তার জন্মদিন প্রত্যেক বছর ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে উদযাপন করে থাকে । গুগলের আসলে ৬টি জন্মদিন আছে বর্তমানে গুগল কেবল একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়, সে হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি ‘মাল্টি-ন্যাশনাল’ কোম্পানি । সার্চ ইঞ্জিনের বাইরে এর আরও অনেক ধরণের পণ্য বা প্রোডাক্ট মার্কেটে অনেক প্রচলিত রয়েছে গুগলের প্রধান কাজ হল - সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা সঠিক তথ্য সহজ ভাবে প্রদান করা, তাছাড়াও গুগলের আরও অনেক উদ্দেশ্য রয়েছে গুগলের উদ্দেশ্য হল, সাধারণ মানুষের জীবনধারা বিভিন্ন  ডিজিটাল প্রোডাকস, সার্ভিস, অ্যাপ, সফটওয়ার দ্বারা আরও অনেক সহজ, সরল এবং উন্নত মানের করে তোলা এখানে কোনও কিছু সার্চ করলে ফলাফল বের করতে গুগলের সময় লাগে ১ সেকেন্ডের কম জনপ্রিয়তার দিক থেকে বর্তমানে গুগলের আশেপাশেও  অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিন নেই গোটা বিশ্বে সব থেকে বেশি ভিজিট করা গুগল ওয়েবসাইট
 গুগল হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি এবং তাদের গুগল সার্চ ইঞ্জিনের এবং অনলাইন বিজ্ঞাপন সেবার জন্য সারা পৃথিবী বিখ্যাত গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম নাম দিয়েছিলেন ব্যাকরাব ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট গুগল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় Google এর প্রধান কার্যালয় ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেইন ভিউ শহরে অবস্থিত গুগলের হেডকোয়ার্টার 'গুগলপ্লেক্স' নামে পরিচিত গুগলের এক দিনের ইনকাম প্রায় ৬ কোটি টাকা আর সেই হিসাবে, প্রত্যেক সেকেন্ডে প্রায় ৪2,০০০ টাকা আয় করছে গুগল
গুগল হচ্ছে প্রথম বড় প্রযুক্তি কোম্পানি যারা তাদের কর্মচারীদের বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করে থাকে  তাছাড়াও কর্মচারীদেরকে তাদের পোষা কুকুর অফিসে নিয়ে আসতে দেয়া হয়  গুগলের সদর দপ্তরের ঘাস কাটার জন্য মেশিন ব্যবহার না করে ছাগল ব্যবহার করা হয় । ২০০১ সালে চালু করা হয় গুগল ইমেজ সার্চ । গুগল সার্চ ছারাও আর যে সমস্ত পরিষেবা প্রদান করে সেগুলি হল – গুগল ড্রাইভ, গুগল ম্যাপ, গুগল প্লে স্টোর, গুগল ট্রান্সলেট, ইউ টিউব, গুগল এডসেন্স, গি-মেল, Android অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি ।
মাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইন্টারনেট ও বিজ্ঞান বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইন্টারনেট ও বিজ্ঞান লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

বাঘ ও হাতি সম্পর্কে বিভিন্ন জানা অজানা কথা গুলি কি কি ?.


বাঘ - বাঘ হল বড়ো বিড়াল জাতের অন্তর্ভুক্ত একটি স্তন্যপায়ী, ফেলিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে বড় প্রাণী । পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক এলাকায় একে দেখা যায় । আমরা এখন বাঘ ও হাতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আপনাকে জানাবো । বাঘের পা খুব নমনীয় হয় তাই, বাঘেরা চলাফেরা করার সময় সামান্য শব্দ করেনা । অন্য কোনও জন্তু বা মানুষের চলাফেরা এরা সহজে বুঝতে পারে । এদের ধারালো নখ শিকার করার আগে ভেতরে থাকে । বাঘের জোরালো চোয়াল আর ধারালো শ্বদন্ত দাঁত থাকে । এদের ক্যানাইন দাঁত ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় । বাঘ খুব বুদ্ধিমান প্রানী । এদের সার্কাস এর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় । এরা খুব সহজেই বুঝতেও পারে ।

 বাঘদের দর্শন শক্তি ও শ্রবণ শক্তি প্রখর হয় । চোখের রেটিনার মধ্যে ট্যাপেটাম লুসিডাম কোষের জন্য রাতের অল্প আলোতে ভাল দেখতে পায় । বাঘ রাতেই বেশি শিকার করে । বাঘ যতটা সম্ভব শিকারের কাছে কাছে থাকে । তারপর সুযোগ বুঝে তাড়া করে বা পিছন দিক থেক শিকারের কাঁধে বা গলায় কামড়ে ধরে । শিকার দমবন্ধ হয়ে না মরা পর্যন্ত বাঘ গলা আঁকড়ে ধরেই থাকে । এরা নিজেদের থেকে বড়ো প্রাণী শিকার করতে পারে । এদের খাবার থাকলেও শিকার হাতছাড়া করেনা । খাবার বেশি হলে সেগুলি জমিয়ে রাখে, পাহারা দেয় । শিকারের প্রয়োজনে এরা জলে সাঁতার কাটতে বা গাছে চড়তে পারে । হরিণ ও শুয়োরের মাংস বাঘদের প্রিয় খাদ্য । আবার বাচ্চা ও বয়স্ক বাঘদের সব সময় শিকার জোটেনা ।

 বাঘেরা তাদের নিজের এলাকায় থাকতে বেশি পছন্দ করে । যদি অন্য কোনও বাঘ তাঁর এলাকায় ঢুকে পড়ে তখন দুজনের লড়াই হয় । বাঘেরা মূত্রনালি থেকে বেরনো তরল দিয়ে মাটিতে ও গাছে ছিটিয়ে তাঁর এলাকা চিহ্নিত করে রাখে । আবার অনেক সময় গাছে আঁচড় কেটে বা দাগ দিয়ে থাকে । গন্ধ শুকে বাঘ ও বাঘিনী একে অপরকে খুঁজে নেয় । বড়ো বাঘেরা সাধারণত একা একা থাকে । জননের সময় বাঘিনীর সাথে মিলিত হয় । বাঘের মিলন বছরের যেকোন সময় হতে পারে । তবে নভেম্বর-এপ্রিলের মধ্যেই সর্বাধিক মিলন ঘটে ।
 বাচ্চা পালনের সময় বাঘেরা সবথেকে বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে । বাচ্চা জন্মানোর আগে একটি পরিষ্কার জায়গা নির্বাচন করে । এরপর সারাদিন ধরে বাচ্চাদের পাহারা দেয় । নিজেদের খাওয়ার সময় তখন এরা ঠিক মত সময় পায়না । বাচ্চারা একটু বড়ো হলে মা বাঘ তাদের শিকার করা শেখায় । প্রথমে কোন শিকার করা প্রাণীর এনে তার মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে দেয় । পরে আধমরা প্রাণী এনে তার মাংস ছিঁড়ে খেতে শেখায় । দাঁতের সাহায্যে মাংস কিভাবে ছিঁড়ে খেতে হয় তাও শেখায় । বাঘেরা তাদের বাচ্চাদের নদীতে সাঁতার শেখাতে নিয়ে যায় । বাচ্চারা ২ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের সাথে থাকে । বাঘের বাসা বদলের সময় অনেক মানুষ বাঘের আক্রমণের জন্য মারা যায় । কারণ তারা বাচ্চাদের কাছে সহজে কাউকে আসতে দেয়না । সুন্দরবন এলাকায় বাঘ মাঝে মাঝেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে । এদের ধরে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয় । সুন্দরবন অঞ্চলে বাঘ সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে ।

 হাতি – হাতিকে দুভাগে ভাগ করা হয়, আফ্রিকান হাতি ও এশিয়ান হাতি । হাতির কথা শুনলে আমাদের মনে আগে আসে তাঁর বিশাল দেহ ও শুঁড়ের কথা । পৃথিবীর মাটিতে যত রকম প্রাণী আছে তাদের মধ্যে সবথেকে বড়ো হল হাতি । আফ্রিকান হাতিরা সবথেকে ভারী ও উঁচু হয় । ভারতের এক একটি হাতির ওজন হয় প্রায় দু-হাজার কিলোগ্রাম, উঁচু হয় প্রায় ১১ ফুট পর্যন্ত । হাতির প্রধান কাজের অঙ্গ হল তাঁর শুঁড় । নাক আর ঠোঁট জোড়া লেগে হাতির শুঁড় তৈরি হয়েছে ।

 হাতি তাঁর শুঁড়ের সাহায্যে গাছের ডাল ভাঙা, জল শুষে মুখে ঢালা, মাটি থেকে জিনিস তোলা, ঘাস ছিঁড়ে খাওয়া ইত্যাদি কাজ করে । হাতির শুঁড়ের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি পেশী থাকে । হাতির আর একটি অঙ্গ হল দাঁত । এক একটি দাঁত প্রায় ৫-৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় । ভারতের মেয়ে হাতির দাঁত বেশি লম্বা হয়না । অনেক চোরা শিকারি হাতির দাঁতের জন্য এদের হত্যা করে । বাঘ ও হাতি সম্পর্কে বিভিন্ন জানা অজানা কথা গুলি কি কি ?.

 হাতিরা সবসময় একসাথে দলে থাকে । দলটি হল হাতির পরিবার । হাতিরা তাদের সন্তানদের সবসময় চোখে চোখে রাখে । হাতিরা শান্ত হলেও বাচ্চার কষ্ট একদম সহ্য করতে পারেনা । বিপথ হতে পারে এমন জায়গায় হাতিরা যায়না । যদি হাতি কোনও বিপদে পড়ে তখন তাঁরা শুঁড় তুলে ডাকতে থাকে । দলের সবাই তখন একসাথে বিপদের মোকাবিলা করে । হাতি পরিবারের প্রধান হল দিদিমা বা মা । অন্যরা হল তার মেয়ে, নাতি, নাতনি । হাতি প্রতি দু থেকে চার বছরের মধ্যে একটি বাচ্চা প্রসব করে । ছেলে হাতিরা বড়ো হলে দল ছেড়ে একা একা ঘুরে বেড়ায় । হাতিরা বিভিন্ন ধরনের শব্দ করতে পারে, ৬ মাইল পর্যন্ত একে অপরের উচ্চ শব্দ শুনতে পায় ।

 হাতি সমাজের নিয়ম খুব কড়া । যদি কোন দলছুট বাচ্চা হাতি কোন মানুষের কাছে আশ্রয় নেয় তাহলে  হাতিরা তাকে পরিবারে আর ফিরিয়ে নেয়না । আমরা দেখি যে রেলের ধাক্কায় যদি কোন হাতি আহত হয়, বাকি হাতিরা তখন তাকে ঘিরে পাহারা দেয় ।  হাতির শরীর বিশাল বড়ো তাই, খাবার লাগে অনেক । একটি হাতি প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০ কেজি ঘাস পাতা খায় । কোনও কারণে জঙ্গলে খাবার অভাব দেখা দিলে এরা তখন জঙ্গল ছেড়ে খাবারের খোঁজে গ্রামের ফসলের ক্ষেতে চলে আসে । এরফলে গ্রামের ফসলের অনেক ক্ষতি হয় । তাড়াতে গেলে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ফেলে, মানুষকে আঘাত করে । অবৈধ শিকার ও জঙ্গলের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে হাতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । বিজ্ঞান বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে বিজ্ঞান লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে প্লিজ ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।