মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০

মেয়েদের মন জয় করার বিভিন্ন উপায় কি কি ?.


 মানুষকে আপন করে নেওয়ার কলা কৌশল পৃথিবীর খুব কম মানুষই জানে ।  আমরা অনেক সময় এমন মানুষ দেখি যে – তিনি কোন একটি মেয়েকে পছন্দ করেন কিন্তু, কিভাবে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব করবেন বা তাঁর মন জয় করবেন, সে সম্পর্কে বিশেষ কোন ধারণা তাঁর থাকেনা । দেখা যায় সে নতুন কোন মানুষের সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে, অথবা লজ্জা পাচ্ছে । তখন তিনি কোন বন্ধু বা কাছের মানুষের কাছ থেকে কিছু উপদেশ নেন । পরবর্তীতে দেখা যায় সেগুলি ফেল করে । জীবনে যে কোন কাজ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয় । এখন আমি আপনাদের বলবো – কিভাবে মেয়েদের মন আপনি সহজে জয় করতে পারবেন । সেই উপায় গুলি জানতে আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন । 
 

 ১) আপনি যে মেয়ের মন জয় করতে চাইছেন প্রথমে আপনাকে আগে থেকে তাঁর সম্পর্কে ভাল করে সবকিছু জেনে নিতে হবে । পরে আপনার কোন সমস্যা না হয় তাঁর জন্য । তাঁর স্বভাব, চরিত্র কেমন । তাঁর কি কি পছন্দ, তাঁর কি ভাল লাগে, কাদের সাথে সে সময় কাটায় ইত্যাদি । যদি ভাল মেয়ে নির্বাচন করেন তাহলে আপনার জীবন সুন্দর হবে । যদি দেখেন তাঁর স্বভাব, চরিত্র ভাল না তাহলে সেদিকে না যাওয়ায় ভাল । কারণ – বিয়ের পর আপনার সারা জীবন তাঁর সাথে কাটাতে হবে । 

২) এবার আপনি যে মেয়ের মন জয় করতে চাইছেন তাঁর জন্য আপনাকে কিছু সময় খরচ করতে হবে । আপনাকে তাঁর সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখতে হবে । সে যদি আপনার বাড়ির কাছে থাকে তাহলে তাঁর বাড়ির সামনে ঘুরতে জেতে পারেন । সে যেন তখন আপনাকে দেখতে পায় । সে বাড়ির বাইরে কোথায় গেলে আপনি তাঁর সাথে যাওয়ার চেষ্টা করুন । প্রথম কয়েক দিন এমন করবেন, তারপর দেখুন সে দিক থেকে কিছু খবর আসে কিনা ।
৩) প্রতিটি মানুষ চায় যে তাঁর ভালবাসার মানুষটি দেখতে সুন্দর হবে । আপনি যখন তাঁর সামনে যাবেন তখন সুন্দর একটি পোশাক পরবেন । সাধারণ সাজবেন, বেশি সাজার কোন দরকার নেই । যে পোশাকে আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে সেই পোশাকটি পরবেন ।
৪) মেয়েদের মন জয় করার জন্য ঝগড়া, মারামারি এধরনের কাজ করবেন না । কারণ মেয়েরা এমন ছেলে পছন্দ করে না । আবার কোন একটি সম্পর্কে থাকা অবস্থায় নতুন কোন সম্পর্ক তৈরি করবেন না ।  এমন করলে মেয়েরা সে ছেলে সহ্য করতে পারেনা । কোনো মেয়ে যদি কোনো ছেলেকে পছন্দ করে থাকেন তবে তিনি তার কথায় এবং কাজে তার পছন্দ প্রকাশ করেন
৫) কথা বলার সময় তাঁর প্রশংসা করবেন । তবে মিথ্যা কথা বলে আবার প্রশংসা করবেন না । মেয়েরা মিথ্যা কথা বলা ছেলেদের কে পছন্দ করেনা । কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন । এতে আপনি যে তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনছেন, সেটা সে পছন্দ করবে যত বেশি সময় পাবেন তাঁর সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন । মানুষকে আপন করে নেয়ার আরেকটি কৌশল হচ্ছে কথা কম বলুন আর শুনুন বেশি । দুজনে এক সাথে থাকার সময় আপনাদের পছন্দের রোমান্টিক গান শুনতে পারেন । যদি তাঁর মন খারাপ থাকে তাহলে আপনি তাঁর মন ভাল করার জন্য কিছু হাসি, মজার কথা বলতে পারেন । মুড অফ, রাগ, দুঃখ, অভিমান যে ধরণের অনুভূতিই আপনার প্রেমিকা মধ্যে কাজ করুক না কেন একটু মিষ্টি সুরে আদুরে গলায় কথা বলুন এবং তাকে হাসানোর চেষ্টা করুন আপনি যদি আপনার প্রেমিকা কাছে কোনও ব্যাপারে পরামর্শ চান তবে তিনি অনেক বেশি খুশি থাকবেন

৬) কথা বলার সময় সব সময় হাসি মুখে কথা বলবেন । নরম সুরে ও সুন্দর ভাবে কথা বলবেন । নেতিবাচক বা খারাপ কোন কথা বলবেন না । মেয়েদের সামনে অন্য কোন মেয়ের কথা বলবেন না । আপনি যদি আপনার পুরনো প্রেমিকাকে ভুলতে না পারেন তবে কোনও মেয়েরই আপনাকে পছন্দ করবেন না । কখনোই এবং কোনও মতেই নিজের প্রেমিকা অন্য একজন নারীর সাথে তুলনা করবেন না আপনি তাঁকে কিছু উপহার দিতে পারেন বা বাইরে কথায়ও ঘুরতে নিয়ে জেতে পারেন । মেয়েরা সারপ্রাইজ এবং উপহার পেতে খুব বেশি পছন্দ করেন  
৭) যদি কোন মেয়ে আপনার সমান ক্লাসে পড়ে ও আপনি তাঁর মন জয় করতে চান তাহলে – আপনি তাঁকে তাঁর পড়ার জন্য সাহায্য করতে পারেন । পড়ার জন্য নোট দিয়ে, বই দিয়ে, কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে বুঝিয়ে সাহায্য করুন । মেয়েরা রোমান্টিক কবিতা খুব পছন্দ করে । আপনি পারলে প্রতিদিন তাঁর মোবাইলে একটি করে রোমান্টিক কবিতা পাঠাতে পারেন ।

৮) মেয়েদের মন জয় করার জন্য আপনি মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করুন । আপনি যদি কোন মানুষকে সাহায্য করেন তাহলে, সে আপনার কথা অনেক দিন মনে রাখবে । তাঁর পরিবারকে সাহায্য করলে আপনি তাঁর মন সহজে জয় করতে পারবেন । মেয়েরা সেই সমস্ত ছেলেদের পছন্দ করে - যারা কোন মানুষকে সাহায্যের জন্য সহজে হাত বাড়িয়ে দেয় । যারা দু হাত ভরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়,  মানুষ তাদের ভালোবাসে ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । 
আমাদের আরও পোস্ট -
 
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০

দয়ার সাগর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা জীবনী .


  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বর্তমান মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ২৬ শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতার নাম ভগবতী দেবী । ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আসল নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্যাসাগর হল তাঁর উপাধি ঊন বিংশ শতকের এক বিরাট পণ্ডিত মহান সমাজ-সংস্কারক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  শৈশব কাল থেকে তিনি ছিলেন খুব মেধাবী । পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয় মাত্র নয় বছর বয়সে পথের ধারে মাইল স্টোনে ইংরেজি সংখ্যা দেখে তিনি চিনে নিতে শিখেছিলেন । এই ঘটনা তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও প্রতিভার পরিচয় প্রদান করে ।

 বিদ্যাসাগর মশাই অল্প বয়সে বাবার সাথে কলকাতায় চলে আসেন অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে তিনি কলকাতায় লেখাপড়া শিখেছিলেন । ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়  কলকাতার সংস্কৃত কলেজে তিনি পড়াশুনা করেনতিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন তেলের অভাবে রাতে রাস্তার আলোর নিচে তিনি পড়াশোনা করতেন । দিনের বেলা বিভিন্ন কাজ যেমন – বাজার করা, রান্না করা, বাসন মাজা ইত্যাদি করতে হত । এতো কিছু কাজ করার পরে তিনি কলেজে পড়তে যেতেন । এতো কষ্টের পরে তিনি পরীক্ষায় ভাল ফল করতেন । শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য স্কলারশিপ অর্জন করেছিলেন ১৮৪১ সালে তিনি সংস্কৃত নিয়ে পাস করেন মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন ।

 ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পণ্ডিতের পদ লাভ করেন ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন তিনি কলেজে পড়ার জন্যে নামেমাত্র বেতন চালু করেন এবং প্রতিপদ ও অষ্টমীর বদলে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি চালু করেন ইংরেজি ভাষা শেখাকে তিনি বাধ্যতামূলক করেন এবং ইংরেজি বিভাগকে উন্নত করেন বাংলা শিক্ষার ওপরও তিনি জোরসংস্কৃত-শিক্ষার প্রসারের জন্য তিনি সংস্কৃত কলেজে -ব্রাহ্মণ শ্রেণির ছাত্রদের ভর্তির ব্যবস্থা করেন
 বিদ্যাসাগর ছিলেন সাহসী, ধার্মিক ও সত্যবাদী । সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ তাঁকে সম্মান করতেন ।  ভারতের বড়লাট ও ছোটলাট তাঁকে রাজার মত সম্মান করতেন । তিনি এতো বড় পণ্ডিত হলেও তাঁর পোশাক ছিল নিতান্ত সাধারণ । একটি চাদর, পায়ে বিদ্যাসাগরী চটি, এই ছিল তাঁর পোশাক শিক্ষা সংস্কার, আধুনিক শিক্ষার প্রচলন, নারী শিশুশিক্ষার বিস্তার ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন । স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তিনি রাম গোপাল ঘোষ, রাধাকান্ত দেব প্রমুখ ব্যক্তিদের সাহায্য সহযোগিতা পানতিনি বুঝেছিলেন, নারী জাতি অনগ্রসর কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে থাকলে সমাজ পিছিয়ে থাকবে   তাঁর উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল ১৮৪৯ সালে বেথুন সাহেবের সহযোগিতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় ’ (বর্তমান বেথুন স্কুল) স্থাপন করা
 বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন শিক্ষাব্রতী সমাজসংস্কারক ব্যক্তি বাংলার সংস্কার আন্দোলন, বিশেষত নারী কল্যাণের ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের অবদান চির স্বীকার্য  বহুবিবাহ, বাল্য-বিবাহ প্রভৃতি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল জনমত গড়ে তোলেন বিধবাবিবাহ প্রচলন এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ছিল তার বিশেষ কীর্তি সেই সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হত । এইসব মেয়েদের মধ্যে অনেকের উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগে স্বামীর মৃত্যু হত । এরফলে তারা অল্প বয়সে বিধবা হয়ে যেত । এইসব অল্প বয়সী মেয়েদের জন্য বিদ্যাসাগর মশাইয়ের প্রাণ কাঁদত । প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার গোঁড়ামির অপসারণ করে তিনি সমাজ জীবনকে কলুষমুক্ত করতে চেয়ে ছিলেন সারাজীবন ধরে তিনি সমাজ-সংস্কারে ব্রতী থাকেন

 তিনি বিভিন্ন বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়ে শাস্ত্রমতে প্রমাণ করলেন যে – হিন্দু শাস্ত্রে বিধবা বিবাহে কোন বাধা নেই ।  হিন্দুশাস্ত্র উদ্ধৃত করে বিদ্যাসাগর বিধবা-বিবাহের স্বপক্ষে জোর বক্তব্য রাখেন  সমাজের ধনী, প্রতিপত্তিশালী, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও হিন্দু বিধবা বিবাহ চালু করেন । তাঁর প্রচেষ্টায় গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে এক আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহকে আইন সিদ্ধ বলে ঘোষণা করেন১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন চালু করে সাফল্যে লাভ করেছিলেন বরাবর মানুষের দুর্দশায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিদ্যাসাগরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে সরকারি আইন প্রণয়ন করে কন্যার বিবাহের বয়স সর্বনিম্ন দশ বছর নির্ধারিত করা হয়

 বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের শব্দ-সাযুজ্য আবিষ্কার, বাক্য-কাঠামো সংস্কার, কর্তা ও ক্রিয়াপদ এবং ক্রিয়া ও কর্মের মধ্যে যথাযথ অন্বয় স্থাপন করে বাংলা গদ্যকে মাধুর্য দান করেন  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই প্রথম বাংলা গদ্যকে সরস মধুর করে সাধারণের হৃদয় বেদ্য করে তুলেছিলেন এজন্য তিনি 'বাংলা গদ্যের জনক' নামে খ্যাত অবশ্য তিনি একই গদ্যরীতিতে তাঁর সব রচনা লেখেননি, তিনি পাঠ্যপুস্তক যে-রীতিতে লিখেছেন, সাহিত্য রচনা করেছেন তা থেকে ভিন্ন ভঙ্গিতে তিনি কেবল পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে নয়, বরং তাঁর অন্যান্য রচনা দিয়েও বাংলা গদ্যের সংস্কার এবং তার মান উন্নত করতে সমর্থ হয়েছিলেন

 সে যুগে বাঙালি ছাত্রদের উপযোগী কোনও পাঠ্যপুস্তক ছিল না শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল পাঠ্যপুস্তক রচনা ও প্রকাশ করা শিক্ষাবিস্তারের জন্য তিনি বর্ণপরিচয়, কথামালা, ঋজু পাঠ, আখ্যান মঞ্জরী, বোধোদয় প্রভৃতি পুস্তক লেখেন তাঁর বর্ণপরিচয়ের মান এতো উন্নত ছিল যে, প্রকাশের পর থেকে অর্ধ শতাব্দী পর্যন্ত এই গ্রন্থ বঙ্গদেশের সবার জন্যে পাঠ্য ছিল দেড়শ বছর পরেও এখনও এ গ্রন্থ মুদ্রিত হয় তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, তিনি কেবল লেখাপড়া শেখানোর কৌশল হিসেবে এগুলি লেখেননি, বরং ছাত্রদের নীতি বোধ উন্নত করা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানও তাঁর লক্ষ্য ছিল অন্যান্য সাহিত্য গ্রন্থের মধ্যে 'বেতাল পঞ্চ বিংশতি', 'শকুন্তলা',  'সীতার বনবাস', 'ভ্রান্তিবিলাস', প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য  
 বিদ্যাসাগর মশাই সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হয়েছিলেন । বঙ্গদেশে কয়েকটি জেলার স্কুল পরিদর্শনের ভার ছিল তাঁর উপর । ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর গ্রাম বীরসিংহে একটি অবৈতনিক 'ইঙ্গ সংস্কৃত বিদ্যালয়' স্থাপন করেন  বিদ্যালয় পরিদর্শকের পদে থাকার সুযোগে তিনি ৩৫ টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন তিনি বহু গরীব মানুষের অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থা করে দিতেন । বহু গরীব ছাত্রদের নিয়মিত পড়ার খরচ দিতেন । দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন করার জন্য তিনি তার বেশিরভাগ বেতন ব্যয় করেন দেশের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করার জন্য স্কুল, গরীব লোকদের চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয়, গরীব ছেলে মেয়েদের  থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন । শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চেষ্টার ত্রুটি ছিল নাতিনি স্কুল স্থাপনের জন্যে ধনী জমিদারদের উৎসাহ প্রদান করেন তিনি তাঁর সমগ্র জীবনব্যাপী দৃঢ় ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে কাজ করে গিয়েছেন ।
 প্রাতঃস্মরণীয় এই মনীষী ১৮৯১ সালের ২৯ শে জুলাই দেহ ত্যাগ করেন । তার মহাপ্রয়াণ ঘটেছে ঠিকই কিন্তু মানুষের মনে আজও তিনি অমর হয়ে আছেন
  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জীবনী বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী  লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।
 

ত্বকের যত্ন নেওয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপায় কি কি ?.


  আমরা সবাই চাই আমার ত্বকটা একটু ফর্সা আর উজ্জ্বল হোক । মনে মনে সবারই এই ইচ্ছাটা থাকে । তবে অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে আমাদের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় হয়ে উঠে না । তরুণ বয়সে প্রত্যেক নারী ও পুরুষ কোমল এবং উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী হন । কিন্তু, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক খুব নিস্তেজ এবং কালো হতে থাকে । 
  ত্বক উজ্জ্বল, মোলায়েম এবং কোমল রাখতে ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে । এই উপায়ে আপনি বিভিন্ন উপাদান নিয়ে খুব সহজেই আপনার ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন । আপনি চাইলে বাড়িতেই অল্প সময়েই সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি হয়ে উঠবেন আরও ফর্সা । আসুন জেনে নেই কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে আপনি পাবেন ফর্সা ত্বক ।

১) ধুলো, ময়লা, দূষণ এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক জিনিসের থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য দিনে দুবার সকালে এবং রাত্রে ভালো করে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি । মুখ ধোবার পর তোয়ালে দিয়ে রগড়ে রগড়ে না মুছে একটা নরম তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে আসতে আসতে চেপে চেপে মুখের জলটা মুছে নিন । মেকআপ তোলার জন্য অলিভ অয়েল কিম্বা খুব মাইল্ড কোন মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করুন । যতটা সম্ভব ক্লোরিন যুক্ত জলের থেকে দূরে থাকুন, সুইমিং পুল কিম্বা ওয়াটার পার্কের জলে কিন্তু ক্লোরিন মেশানো থাকে যা আপনার ত্বকের পক্ষে খুব খারাপ ।

২) শসা কয়েক টুকরো করে তা মুখে ১৫ মিনিট ধরে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন । শসাতে বিদ্যমান অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল রাখে এবং ভিটামিন ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে । এক মাস নিয়মিত রূপচর্চায় শসার ব্যবহার নিস্তেজ ত্বকে এনে দেবে প্রখর উজ্জ্বলতা ।

৩) লেবুর রসের মত আলুর খোসায় ব্লিচিং উপাদান পাওয়া যায় । আলুর খোসার পেস্ট নিয়মিত আপনার ত্বকে লাগাতে হবে । আপনি যদি নিয়মিত এই পেস্ট ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও ফ্রেশ হবে । একটি পাত্রে ১ চা চামচ গুঁড়া দুধ, ২ চা চামচ লেবুর রস আর ১/২ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে নি। এবার পুরো মুখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন । ত্বক পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে আগের তুলনায় আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে
৪) প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল ত্বক পাবার জন্য অনেকেই মধু ব্যবহার করেন । দই আর মধু তো আমাদের সবার বাড়িতেই থাকে। দই আর মধুর সাথে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল (এসেনশিয়াল অয়েল নেবেন,) মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন । দশ মিনিট পরে ভালো করে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন । এতে আপনার স্কিনের শুষ্ক ভাব দূর হবে । একটা কাঁচের বা চিনামাটির বাটিতে দুই টেবিল চামচ মধু আর দুই চা চামচ দারচিনি পাউডার ভালো করে মিশিয়ে মুখে আর গলায় লাগিয়ে নিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন । পরে শুধু জল দিয়ে ধুয়ে নিন । এই মিশ্রণ সেনসিটিভ ত্বককে নরম এবং কমনীয় রাখতে সাহায্য করে ।

৫) হলুদ অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে খুব ব্যবহৃত হয় । ব্রণ ফুসকুড়ি এবং ত্বকের অন্যান্য ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে । খুব সহজেই আপনি এই প্যাকটি বানাতে পারবেন । উজ্জ্বল ত্বক পেতে এক চিমটি হলুদ, ১ চা চামচ টমেটো বা লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে মুখের ত্বকে লাগান নিয়মিত । অবশ্যই আপনার ত্বক ফর্সা হবে টমেটোর ব্লিচিং উপাদান আর হলুদের ভেষজ উপাদান ত্বক ফর্সা করতে একসাথে কাজ করে
৬) কলা খাওয়া যে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো, সেটা তো আমরা সবাই জানি একটি পাত্রে পরিমাণ মতো কলা, ১ চা চামচ মধু আর ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে নিয়মিত ত্বকে লাগান ৭ থেকে ১০ মিনিট এই প্যাক রেখে ধুয়ে ফেলুন । এই প্যাকটি সান ট্যাং দূর করে ত্বক ফর্সা করে তুলবে
৭) কেমিক্যাল যুক্ত যে কোন প্রোডাক্ট থেকে দূরে থাকাটাই শ্রেয়, বিশেষ করে যে সব প্রডাক্টে অ্যালকোহল, অ্যালফা হাইড্রক্সি, ইউরিয়া কিম্বা রেটিনালের মতো রাসায়নিক রয়েছে । এতে রাসায়নিক পদার্থ বেশি পরিমাণে থাকে যা আপনার ত্বককে র‍্যাশ, চুলকানি কিম্বা ব্রণর মতো নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে । এখন নানারকম হারবাল বিউটি প্রোডাক্ট আর মেকআপ পাওয়া যায়, দরকার হলে সেগুলো ব্যবহার করুন ।
৮) গোলাপ জলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আপনার ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার করে । এরফলে আপনার স্কিন সুন্দর এবং তুলতুলে হয়ে ওঠে । এক্ষেত্রে সমপরিমাণে গোলাপ জল এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন ।  তারপর সেই মিশ্রণ রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখে লাগিয়ে নিন । সারা রাত রেখে সকালে মুখটা ধুয়ে নিন । এমনটা মাত্র দু দিন করলেই ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠেছে ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।