রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০

আমাদের পৃথিবীর মত কি আরও পৃথিবী আছে ?.


 আকাশের বুক হাজারো লক্ষ কোটি গ্রহ, নীহারিকা আর গ্রহাণুপুঞ্জ নিয়ে তৈরি । সুপ্রাচীন কাল থেকই আমরা জেনে এসেছি যে, আমাদের পৃথিবী ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র স্থান যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিন্তু, এই যে আমাদের এত পরিচিত বিশাল মহাবিশ্ব, এর বাইরেও এমনি ধরনের অসংখ্য মহাবিশ্ব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রাচীন দার্শনিক  জিওর্দানো ব্রুনো  বলেছিলেন -  পৃথিবী সৌরজগতের কেন্দ্র নয়, এমনকি এই মহাবিশ্বের সংখ্যাও একটি নয়, বরং এর সংখ্যা হতে পারে অনন্ত অসীম । এই মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব । সেরকম প্রাণ ওয়ালা একাধিক গ্রহ থাকতে পারে অন্য মহাবিশ্বেও । মাল্টিভার্স তত্ত্বের মধ্যে এই স্বতন্ত্র মহাবিশ্বকে সমান্তরাল মহাবিশ্ব বা প্যারালাল ইউনিভার্স বলা হয়  তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই  মাল্টিভার্স বা অনন্ত মহাবিশ্বের ধারণাটি আসলে কি ?  

 অসংখ্য মহাবিশ্বের ভিড়ে আমাদের মহাবিশ্বও একটি । বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মনে করেন অনন্ত অসীম এই ব্রহ্মাণ্ডে এমন অনেক গ্রহ থাকতে পারে যেখানে জীবন আছে । আর এই একমাত্র কারণে আমাদের পৃথিবীর মত গ্রহ খোঁজার প্রচেষ্টা দিন দিন বেড়েই চলেছে আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ডে শুধু পৃথিবীর মতো নয় হুবহু পৃথিবীর প্রতিরূপ আছে । যেখানে এরকমই শহর, এরকমই সমুদ্র, এরকম সব পশু পাখি, এমনকি আপনারও প্রতিরূপও আছে আমাদের শুধুমাত্র একটি ব্রহ্মাণ্ড নয় এরকম অনেক সমান্তরাল মহাবিশ্ব আছেযেমন আপনি বর্তমানে বই পড়ছেন সমান্তরালভাবে আপনি হয়তো বইটি পড়ে নিয়েছেন । আবার অন্য কোনও সমান্তরাল মহাবিশ্ব আপনি হয়তো এই বইটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না অথবা কোনও সমান্তর মহাবিশ্বে এমনটাও তো হতে পারে আপনি এখনও জন্মই হয় নি এ ধরনের অসংখ্য মহাবিশ্বের একটিতেই হয়ত আমরা অবস্থান করছি অন্য গুলোর অস্তিত্ব সম্বন্ধে একেবারেই জ্ঞাত না হয়ে

 সমমান্তরাল মহাবিশ্বের কথা শুনতে হয়ত অনেকের কাছে আজগুবি মনে হতে পারে । মাল্টিভার্সের ধারণা বিজ্ঞানীরা হাজির করার পর থেকেই একে বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাহলে এটা কি শুধুমাত্র বিজ্ঞানীদের একটি পরিকল্পনা বা ধারণা । নাকি তার মধ্যে বৈজ্ঞানিক কোনও যুক্তি প্রমাণ আছে বিজ্ঞানীরা গাণিতিক সম্ভাবনার সাহায্যে হিসেব কষে দেখেছেন যে - এই অসীম মহাবিশ্বে আমাদের সৌরজগতের প্রতিরূপ খুঁজে পাবার সম্ভাবনা বেশ প্রবল । আমাদের সৌর জগতের বাইরেও একাধিক সৌর জগত রয়েছে । এভাবে একাধিক সৌরজগতের সমন্বয়ে সৃষ্টি গ্যালাক্সি  
  সমস্ত মহাবিশ্ব এরকম আরও অনেক গ্যালাক্সি রয়েছে, যাদের অস্তিত্ব আমরা এখনো জানিনা মনে করা হয় এই সমান্তরাল ব্রহ্মাণ্ড আমাদের দুনিয়াতেই মজুত আছে আমদের জগতের পাশাপাশি সমান্তরাল জগতগুলি অবস্থিত । কিন্তু আমরা এটাকে দেখতে পাই না এই মহাবিশ্ব ঠিক আমাদের মহাবিশ্বের মতো 'বিগ ব্যাং' থেকে সৃষ্টি হয়েছে । এক একটি বিগ-ব্যাং পরিশেষে জন্ম দিয়েছে এক একটি মহাবিশ্বের মহাবিশ্ব গুলোর প্রকৃতি কীরকম হবে তা নির্ভর কর তাঁর অন্তঃ স্থানের বক্রতার প্রকৃতির উপর পদার্থবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক তত্ত্বগুলোর কোনটাই অসংখ্য মহাবিশ্বের অস্তিত্বকে বাতিল করে দেয় না
  মহাবিশ্ব স্থানটি এত বড় যে কোনও না কোনও স্থানে ঠিক পৃথিবীর মতোই অন্য গ্রহ আছে । তাদের মধ্যে যা ঘটবে সেগুলি আমাদের পৃথিবীর মতোই হবে বা পৃথিবীতেও তার অনুরূপ ঘটনা ঘটবে । বিজ্ঞানীদের দ্বারা করা ক্যাল্কুলেশন এটাই বলে যে - এটা আমাদের থেকে অনেকটা দূরে হয়তো ওইখান থেকে আলো আমাদের কাছে কোনদিন এসে পৌঁছবে না সমান্তরাল মহাবিশ্ব এতদূরে যে কোনও বার্তা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাছে বা আমাদের কাছ থেকে তাদের কাছে আসতে পারে না । যেখানে আমাদের গ্যালাক্সি, আমাদের সূর্য, আমাদের পৃথিবী এমনকি আমাদের নিজেদেরও প্রতিরূপ হতে পারে এর থেকে বোঝা যায় যদি এমনটা হয় তবে একের অধিক ব্রহ্মাণ্ড অবশ্যই হবে সমান্তরাল মহাবিশ্ব অন্যদের থেকে আলাদা, কারণ তারা আমাদের নিজস্ব মহাবিশ্বের মতো একই স্থান এবং সময়ে অবস্থান করে তবু  আপনার কাছে এখনও সেখানে পৌঁছানো বা প্রবেশের কোন উপায় নেই
 সমান্তরাল মহাবিশ্ব হল সবচে অদ্ভুত  স্থান ,কারণ এটি আমাদের মহাবিশ্বের তুলনায় প্রকৃতির ভিন্ন গাণিতিক আইন অনুসরণ করে । প্রতিটি ব্রহ্মাণ্ড আলাদা আলাদা, তাই তাদের ব্রহ্মাণ্ডের ভেতরের ভৌতিকের নিয়মও আলাদা আলাদা হবে এ রকম আলাদা আলাদা নিয়মের মহাবিশ্বগুলোর সবকিছুই আলাদা । আর এসব মিলে একটি বিশাল নদীতে ভাসছে যেটাকে বলা হয় হাইপার স্পেস । ব্রহ্মাণ্ডের এই স্থানটি অন্যস্থানের থেকে বেশ ঠাণ্ডা বিজ্ঞানীদের মতে যদি দুটি ব্রহ্মাণ্ড ছুঁয়ে যায় তাহলে একটি বিশাল শক্তি উৎপন্ন হবে এরকম সংঘর্ষ কিন্তু কোন নির্দিষ্ট একটি স্থানে হয় না, বরং আমাদের মহাবিশ্বের বাইরের শূন্যটায় এরকম সংঘর্ষ হয়েই চলেছে, ফলে সৃষ্টি হয়ে চলেছে অসংখ্য মহাবিশ্ব ।

  প্যারালাল ইউনিভার্সের তত্ত্ব বলছে যে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লক্ষ কোটি মহাবিশ্বের মধ্যে কোনটি আকার, আয়তন আর বৈশিষ্ট্যে একদম ঠিক আমাদের মহাবিশ্বের মতই হবে না, এমন তো কোন গ্যারান্টি নেই নে করা , আমাদের চারপাশে  ১০৫০০ টির মতো মহাবিশ্বের অস্তিত্ব রয়েছে, এবং প্রতিটির উপর কাজ করতে পারে ভিন্ন ভিন্ন  প্রাকৃতিক সূত্র বিজ্ঞানীরা এটা সত্য কিনা জানার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানের অগ্রগতি দেখে এটাই মনে হচ্ছে যে সমান্তরাল মহাবিশ্বের রহস্য আমরা খুব দ্রুত উন্মোচন করতে পারবো বর্তমান প্রযুক্তির ধরা ছোঁয়ার বাইরে হলেও, ভবিষ্যতে কোন দিন হয়ত আমরা এমন মহাবিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হব ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০

কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কি কি করা উচিত ?.


  মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে কিডনি মানুষের শরীরে দুটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের জলের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে । শরীরের ভিতরের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কিডনির এবং লিভারের কিডনি অনাবশ্যক ক্ষতিকারক পদার্থসমূহ শরীর থেকে দূর করার গুরুত্বপূর্ণ কার্য করে কিডনি কাজ না করলে শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেবে । ভারত ও বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে । পৃথিবীতে মানবজাতি যেসব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে তার মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম


 কিডনি ভালো রাখাতে হলে খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে । এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে কিছু করণীয় রয়েছে আর পূর্ব থেকেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব । আসুন এখন আমরা জেনে নেই যে - কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আমাদের কি কি করা উচিত ?

১) জলই জীবন, কিডনি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খান । সঠিক মাত্রায় জল খেলে কিডনি ভালো থাকে । জল আপনার শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখবে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে । অতিমাত্রায় জল খেলেও বিপদ আছে ।  প্রত্যেক মানুষের শারীরিক অবস্থা আলাদা আলাদা, তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে জল খান । গরমকালে যাতে শরীরে জলের অভাব দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । কিডনির সমস্যা দেখা দিতে শুরু করলে জল খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন ।

২) কিডনি ভালো রাখতে ব্লাড প্রেশার ও ব্লাড সুগার যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে সবার আগে খেয়াল রাখা প্রয়োজন । উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে । অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে রক্তে বেড়ে যাওয়া সুগার কিডনির জন্য ক্ষতিকর

৩) খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে কিডনি ভালো রাখাতে হলে খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে । ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে, ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায় । কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর । নিয়ম না জেনে নিজে ওষুধ খাবেন না । বহুদিন ধরে ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলে কিডনির ক্ষতি হয় কিডনি সারা শরীরের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে । আপনি যত ওষুধ খাবেন, তার রেসিডিউ এসে জমা হবে কিডনিতে  ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পেন কিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি শাক-সবজি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে

৪) অনেকেই বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্ক খেয়ে থাকেন । এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর । খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে । প্রাণীজ প্রোটিন বাদ দিয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন । চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর । অতিরিক্ত লবণ ও স্নেহ বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে হবে । অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ কিডনির ক্ষতি করে ৷ দিনে এক চাচামচের বেশি লবণ খাবেন না ৷

৫) নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১.৩০ ঘণ্টা টুকিটাকি ওয়ার্ক আউট করা উচিত খেলাধুলা, হাঁটাচলা, এক্সারসাইজ হল ব্লাড প্রেসার কমিয়ে রাখার এবং ডায়াবেটিস রোখার শ্রেষ্ঠ পন্থা কিডনিকে ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে

৬) গ্রিন টি পান করলে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো থাকে সিট্রাস ফল বা নানা ধরনের লেবু খাদ্যতালিকায় থাকলে কিডনিতে চট করে স্টোন হয় না ফুলকপিতে থাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, ফাইবার ৷ ফুলকপি খান কিডনি সুস্থ রাখতে ৷ ডিমের সাদা অংশে থাকে ফসফরাস, যা কিডনি ভাল রাখতে খুবই প্রয়োজনীয় ৷ পেঁয়াজে থাকা ম্যাঙ্গানিজ কিডনির জন্য জরুরি উপাদান ৷ অতিমাত্রায় খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায় বেশি মোটা হওয়ার সঙ্গে রক্তের উচ্চচাপ এবং ডায়াবেটিস, উভয়েরই যোগ আছে কিডনির যত্ন নিতে প্রতি তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । বিশেষ করে যারা বেশি ঝুঁকিতে আছে, যাঁদের বয়স ষাটের বেশি যাঁদের ডায়াবেটিস কিংবা হাই ব্লাড প্রেসার আছেডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই নিয়মিত চেকআপ করুন এবং সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন ৷

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

 
 

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০

মেয়েদের মন জয় করার বিভিন্ন উপায় কি কি ?.


 মানুষকে আপন করে নেওয়ার কলা কৌশল পৃথিবীর খুব কম মানুষই জানে ।  আমরা অনেক সময় এমন মানুষ দেখি যে – তিনি কোন একটি মেয়েকে পছন্দ করেন কিন্তু, কিভাবে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব করবেন বা তাঁর মন জয় করবেন, সে সম্পর্কে বিশেষ কোন ধারণা তাঁর থাকেনা । দেখা যায় সে নতুন কোন মানুষের সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে, অথবা লজ্জা পাচ্ছে । তখন তিনি কোন বন্ধু বা কাছের মানুষের কাছ থেকে কিছু উপদেশ নেন । পরবর্তীতে দেখা যায় সেগুলি ফেল করে । জীবনে যে কোন কাজ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয় । এখন আমি আপনাদের বলবো – কিভাবে মেয়েদের মন আপনি সহজে জয় করতে পারবেন । সেই উপায় গুলি জানতে আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন । 
 

 ১) আপনি যে মেয়ের মন জয় করতে চাইছেন প্রথমে আপনাকে আগে থেকে তাঁর সম্পর্কে ভাল করে সবকিছু জেনে নিতে হবে । পরে আপনার কোন সমস্যা না হয় তাঁর জন্য । তাঁর স্বভাব, চরিত্র কেমন । তাঁর কি কি পছন্দ, তাঁর কি ভাল লাগে, কাদের সাথে সে সময় কাটায় ইত্যাদি । যদি ভাল মেয়ে নির্বাচন করেন তাহলে আপনার জীবন সুন্দর হবে । যদি দেখেন তাঁর স্বভাব, চরিত্র ভাল না তাহলে সেদিকে না যাওয়ায় ভাল । কারণ – বিয়ের পর আপনার সারা জীবন তাঁর সাথে কাটাতে হবে । 

২) এবার আপনি যে মেয়ের মন জয় করতে চাইছেন তাঁর জন্য আপনাকে কিছু সময় খরচ করতে হবে । আপনাকে তাঁর সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখতে হবে । সে যদি আপনার বাড়ির কাছে থাকে তাহলে তাঁর বাড়ির সামনে ঘুরতে জেতে পারেন । সে যেন তখন আপনাকে দেখতে পায় । সে বাড়ির বাইরে কোথায় গেলে আপনি তাঁর সাথে যাওয়ার চেষ্টা করুন । প্রথম কয়েক দিন এমন করবেন, তারপর দেখুন সে দিক থেকে কিছু খবর আসে কিনা ।
৩) প্রতিটি মানুষ চায় যে তাঁর ভালবাসার মানুষটি দেখতে সুন্দর হবে । আপনি যখন তাঁর সামনে যাবেন তখন সুন্দর একটি পোশাক পরবেন । সাধারণ সাজবেন, বেশি সাজার কোন দরকার নেই । যে পোশাকে আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে সেই পোশাকটি পরবেন ।
৪) মেয়েদের মন জয় করার জন্য ঝগড়া, মারামারি এধরনের কাজ করবেন না । কারণ মেয়েরা এমন ছেলে পছন্দ করে না । আবার কোন একটি সম্পর্কে থাকা অবস্থায় নতুন কোন সম্পর্ক তৈরি করবেন না ।  এমন করলে মেয়েরা সে ছেলে সহ্য করতে পারেনা । কোনো মেয়ে যদি কোনো ছেলেকে পছন্দ করে থাকেন তবে তিনি তার কথায় এবং কাজে তার পছন্দ প্রকাশ করেন
৫) কথা বলার সময় তাঁর প্রশংসা করবেন । তবে মিথ্যা কথা বলে আবার প্রশংসা করবেন না । মেয়েরা মিথ্যা কথা বলা ছেলেদের কে পছন্দ করেনা । কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন । এতে আপনি যে তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনছেন, সেটা সে পছন্দ করবে যত বেশি সময় পাবেন তাঁর সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন । মানুষকে আপন করে নেয়ার আরেকটি কৌশল হচ্ছে কথা কম বলুন আর শুনুন বেশি । দুজনে এক সাথে থাকার সময় আপনাদের পছন্দের রোমান্টিক গান শুনতে পারেন । যদি তাঁর মন খারাপ থাকে তাহলে আপনি তাঁর মন ভাল করার জন্য কিছু হাসি, মজার কথা বলতে পারেন । মুড অফ, রাগ, দুঃখ, অভিমান যে ধরণের অনুভূতিই আপনার প্রেমিকা মধ্যে কাজ করুক না কেন একটু মিষ্টি সুরে আদুরে গলায় কথা বলুন এবং তাকে হাসানোর চেষ্টা করুন আপনি যদি আপনার প্রেমিকা কাছে কোনও ব্যাপারে পরামর্শ চান তবে তিনি অনেক বেশি খুশি থাকবেন

৬) কথা বলার সময় সব সময় হাসি মুখে কথা বলবেন । নরম সুরে ও সুন্দর ভাবে কথা বলবেন । নেতিবাচক বা খারাপ কোন কথা বলবেন না । মেয়েদের সামনে অন্য কোন মেয়ের কথা বলবেন না । আপনি যদি আপনার পুরনো প্রেমিকাকে ভুলতে না পারেন তবে কোনও মেয়েরই আপনাকে পছন্দ করবেন না । কখনোই এবং কোনও মতেই নিজের প্রেমিকা অন্য একজন নারীর সাথে তুলনা করবেন না আপনি তাঁকে কিছু উপহার দিতে পারেন বা বাইরে কথায়ও ঘুরতে নিয়ে জেতে পারেন । মেয়েরা সারপ্রাইজ এবং উপহার পেতে খুব বেশি পছন্দ করেন  
৭) যদি কোন মেয়ে আপনার সমান ক্লাসে পড়ে ও আপনি তাঁর মন জয় করতে চান তাহলে – আপনি তাঁকে তাঁর পড়ার জন্য সাহায্য করতে পারেন । পড়ার জন্য নোট দিয়ে, বই দিয়ে, কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে বুঝিয়ে সাহায্য করুন । মেয়েরা রোমান্টিক কবিতা খুব পছন্দ করে । আপনি পারলে প্রতিদিন তাঁর মোবাইলে একটি করে রোমান্টিক কবিতা পাঠাতে পারেন ।

৮) মেয়েদের মন জয় করার জন্য আপনি মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করুন । আপনি যদি কোন মানুষকে সাহায্য করেন তাহলে, সে আপনার কথা অনেক দিন মনে রাখবে । তাঁর পরিবারকে সাহায্য করলে আপনি তাঁর মন সহজে জয় করতে পারবেন । মেয়েরা সেই সমস্ত ছেলেদের পছন্দ করে - যারা কোন মানুষকে সাহায্যের জন্য সহজে হাত বাড়িয়ে দেয় । যারা দু হাত ভরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়,  মানুষ তাদের ভালোবাসে ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । 
আমাদের আরও পোস্ট -
 
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।