তুলসী পাতার বিভিন্ন উপকারিতা কি কি ?
তুলসী একটি আমাদের খুব পরিচিত গাছ
। আমাদের বাড়ির আশে পাশে সব জায়গায় আমরা তুলসী গাছ দেখতে পাই । এই তুলসী গাছের
উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা । তুলসী পাতা খাওয়ার কোন নিয়ম নেই, আপনার যখন ইচ্ছা হবে খেতে পারেন ।
আয়ুর্বেদিক মতে তুলসী পাতা অনেক রোগ, ব্যাধি প্রতিরোধে সাহায্য করে ।
এখন আমরা জানবো যে - আপনি ঘরোয়া ভাবে তুলসী পাতার সাহায্যে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ
কিভাবে করবেন ? সব কিছু
জানতে হলে পুরো লেখাটি শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ুন ।
১) কোষ্ঠ
কাঠিন্য – পেট পরিষ্কার বা পায়খানা যদি আপনার ঠিক মত না হয়, অনিদ্রা, পরিশ্রম না করা, তবে আপনার কোষ্ঠ কাঠিন্য হয়ে থাকে
। খাওয়ার খাওয়ার ফলে আপনার সমস্যা দেখা যায়, মাথা ভার হয়, অম্ল ইত্যাদি রোগ দেখা যায় । ২০
গ্রাম তুলসী পাতার রসের সাথে ৫০ গ্রাম গোলাপি ফিটকিরি গুঁড়ো করে ট্যাবলেট তৈরি
করবেন । ট্যাবলেট গুলি রোদে শুকিয়ে নেবেন । সেই ট্যাবলেট গুলি সকালে ও সন্ধ্যায়
একটি করে খাবেন । লঘু ও পুষ্টিকর খাবার খাবেন, গুরুপাক খাবার বেশি খাবেন না ।
২) চোখ
ওঠা - চোখ ওঠা একটি সংক্রামক রোগ । ঠাণ্ডা, গরমে
ঘোরা, ধোঁয়া লাগা, চোখে ধুলো বালি পড়া নানা কারনে এই সমস্যা হয় । তুলসী পাতার রসে
সামান্য মধু মিশিয়ে চোখে ফোটা ফোটা করে দেওয়া যায় । তুলসী পাতার রস চোখে যদি আপনি
কাজলের মত করে লাগান চোখ ওঠা ও চোখে জল পড়া ভাল হয় ।
৩) চুল
পড়া ও টাক – আপনার চুল ওঠতে থাকলে তুলসী গাছের ২১ টি
পাতার নেবেন, আর নেবেন আমলকী ১০ গ্রাম । ১৫-২০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন । তারপর সেই
জল চুলের গোঁড়া থেকে সারা চুলে ভাল করে লাগান । মাথা যখন নিজে থেকে শুকনো হয়ে যাবে
তখন মাথা ধুয়ে নারকেল তেল লাগান । আপনার টাক পড়লে পিপুল গাছের কলি ও তুলসী পাতা
একসাথে বেটে মাথায় লাগান ।
৪) দাঁতের
সমস্যা – আপনার দাঁতে যদি যন্ত্রণা হয় তবে কাল মরিচ ও তুলসী
পাতা বেটে ট্যাবলেট তৈরি করে যেখানে যন্ত্রণা করছে সেখানে চেপে ধরে রাখুন । দাঁতে
দুর্গন্ধ হলে খাওয়ার পর ১-২ টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খাবেন । দাঁতে পোকা হলে তুলসী পাতার
রসের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে তুল দিয়ে দাঁতের গোঁড়ায় লাগান।
৫) জন্ডিস –
সারা দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায়, দেহে
রক্ত কমে গেলে এই রোগ হয় । ১০ গ্রাম তুলসী পাতার রসের সাথে ৫০ গ্রাম মুলোর রস নিন, এরপর
কিছুটা গুড় মিশিয়ে খাবেন । প্রতিদিন তিনবার করে এক মাস খাবেন ।
৬) রাতকানা –
তুলসী পাতার রস এক ফোটা করে চোখে নিতে পারেন । একমাস
তুলসী পাতার রস খেতে হবে । মরিচ ভিজে কাপড়ে রেখে যখন দেখবেন দানা ফুলে উঠবে মরিচের
ছাল তুলে নিন । দানা গুলি বেটে তুলসীর রস দিয়ে ট্যাবলেট তৈরি করে চোখে সকাল
সন্ধ্যায় ঘসতে হবে । সাবধানে করবেন, চোখে
জ্বালা করতে পারে ।
৭) কুষ্ঠ
রোগ – কুষ্ঠ হলে তুলসীর রস অনেকদিন পর্যন্ত খান ।
আপনার যদি শ্বেত কুষ্ঠ হয় তাহলে, পাঁচটি তুলসীর পাতা
নিয়ে প্রতিদিন সকাল, দুপুর, সন্ধ্যার আগে বেশ অনেকদিন খান । তুলসির রস ও মধু মিশিয়ে চেটে চেটে
খেতে পারেন ।
৮) স্তনদুগ্ধ
বৃদ্ধি – শিশুদের জন্য মায়েদের বুকে অনেক দুধের দরকা
হয় । অনেক মায়েদের বুকে দুধ আসেনা বা কম আসে । এমন অবস্থায় তুলসী পাতার রস ও মকাই
১০ মিলিমিটার, অশ্বগন্ধার রস এবং শাঁস ৫ মিলিমিটার নিতে হবে । মধু মিশিয়ে এক সপ্তাহ
খেতে হবে । স্তনে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ।
৯) শীঘ্র
পতন ও স্বপ্নদোষ – অনেক সময় দেখা যায় যে রতি মিলন কালে অনেকের
তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয়ে যায় । এরকম দেখা গেলে তুলসী গাছের মূল সুপারির বদলে পানে
দিয়ে খেতে পারেন । স্বপ্নদোষের কারনে আবার অনেকের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হয়ে যায় । তুলসী
পাতার মূল বেটে খেলে উপকার পাবেন ।
১০) অন্যান্য –
তুলসী পাতা স্নান করার আগে জলে দিয়ে রাখুন, আপনার
তাহলে চর্মরোগ হবেনা । খাওয়ার জলের সাথে তুলসী পাতার রস খেলে পেটের সমস্যা হবেনা ।
আপনি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে আপনার দাঁতের আয়ু বাড়বে, দাঁত
মজবুত ও উজ্জ্বল হবে, পোকা হবেনা । তুলসী পাতার রস মালিশ করলে হাড় শক্ত হয় ।
আমাদের লেখা
আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার
বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট
পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক
ধন্যবাদ ।
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


