বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

পৃথিবীতে আয়তনে বড় ১০ টি দেশের নাম কি কি ?.


আলজেরিয়া -১০
উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত এই রাষ্ট্রএর আয়তন হচ্ছে  ২,৩৮১,৭৪১ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ১.৬% । এটি আফ্রিকার বৃহত্তম এবং বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রাষ্ট্র । দেশটির নয়-দশমাংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি অবস্থিত । ভূমধ্যসাগরের তীরে উপকূলীয় সমভূমি রয়েছে । আলজেরিয়ার প্রায় সব মানুষ দেশটির উত্তরাঞ্চলে উপকূলের কাছে বাস করে । আলজেরিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ । যা আয়তনের দিক থেকে দশম । আলজেরিয়ার বেশির ভাগ লোক আরব, বার্বার কিংবা এই দুইয়ের মিশ্রণ । ১৯৯০ সালে আরবি ভাষাকে সরকারীভাবে আলজেরিয়ার জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।

 কাজাকিস্তান-৯
এশিয়ার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র । এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র । কাজাখ একটি তুর্কি শব্দ, এর অর্থ বিস্ময় । কাজাকিস্তানের অর্থ হল বিস্ময়ের ভূমি । আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ কাজাকিস্তান । এটি ইউরোপের পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্র । যার আয়তন হচ্ছে ২,৭২,৪৯০০ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ১.৮% । কাজাখ ভাষা কাজাকিস্তানের সরকারি ভাষা । কাজাখ নামের তুর্কীয় জাতি এখানকার প্রধান জনগোষ্ঠী । ১৯৯১ সালে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বিদ্যমান । ৭০ ভাগ মুসলিম হওয়ায় এখানে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে দেখা যায় ।

আর্জেন্টিনা -৮
 ব্রাজিল এর পর ফুটবলের দেশ আর্জেন্টিনা । দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত । যার আয়তন প্রায় ২,৭৮,০৪০০ বর্গকিলোমিটার । যা কিনা পৃথিবীর আয়তনের ২% । আর্জেন্টিনায় ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু বিচিত্র । উত্তরের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণের মেরু-উপদেশীয় অঞ্চল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিস্তার । দেশটির রাজধানী বুয়েনোস আইরেস । বুয়েনোস আইরেস দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক শহরগুলির একটি । বৃহত্তর বুয়েনোস আইরেস এলাকাতে আর্জেন্টিনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগণ বাস করে ।

ভারত -৭
ভারত এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল দেশ । ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র । আয়তনে এটি প্রায়  ৩,২৮৭,২৬৩ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ২.৩% । অতিমাত্রায় দারিদ্র্য , নিরক্ষরতা ও অপুষ্টি এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা । আর্থিক বৃদ্ধি হারের বিচারে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে দ্বিতীয় । ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসনজাল থেকে মুক্তিলাভ করে । ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় । ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি । তিনি পরোক্ষভাবে একটি নির্বাচক মণ্ডলী কর্তৃক পাঁচ বছরের সময়কালের ব্যবধানে নির্বাচিত হন । অন্যদিকে ভারতের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী । ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আন্তরিক । সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত একটি বহু ধর্মীয়, বহু ভাষিক, ও বহুজাতিক রাষ্ট্র । ভারতের আইনবিভাগ হল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ । এটি গঠিত হয়েছে রাজ্যসভা নামক একটি উচ্চ কক্ষ ও লোকসভা । ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্র । ২০১৮ সালে দেশটির আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ১৩৫ কোটি । দাবা খেলার উদ্ভবও হয়েছিল ভারতে । এছাড়াও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খেলা হল কাবাডি, খো খো, ও গুলি ডান্ডা ইত্যাদি ।

অস্ট্রেলিয়া -৬
অস্ট্রেলিয়া একটি দ্বীপ-মহাদেশ । এটি এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত । অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ হলেও ভিন্ন ভাবে এটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত । নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি এর অন্তর্ভুক্তি । আর দেশ অনুসারে অস্ট্রেলিয়ার আয়তন ৭৬,১৭,৯৩০ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ৫.২% । অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা । সিডনী বৃহত্তম শহর । দুইটি শহরই দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত । অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত - নিউ সাউথ ওয়েল্স, কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, ভিক্টোরিয়া, ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া । প্রতি ৩ বছর সাধারণ নির্বচন অনুষ্ঠিত হয় । দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে ।

ব্রাজিল -৫
পাঁচ নম্বরে আছে ফুটবলের দেশ ব্রাজিল । এর আয়তন ৮,৫১৪,৮৭৭ বর্গকিলোমিটার । দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশ । যা পৃথিবীর আয়তনের ৫.৭% । এই দেশটিতে বসবাস কৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি । মোট জনসংখ্যার ৮৩.৭৫% ভাগ শহরাঞ্চলে বসবাস করে । ১৮২২ সালে ব্রাজিল, পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । ১৮২৪ সালে ব্রাজিলের প্রথম সংবিধান পাশ হওয়ার পর থেকে দেশটিতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সরকার ব্যবস্থা চলে আসছে, যা বর্তমানে কংগ্রেস নামে পরিচিত । ব্রাজিল জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত হয় । ব্রাজিলে বিভিন্ন প্রকারের প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র ও অভয়ারণ্য বিদ্যমান আছে । পর্তুগিজ এখানকার প্রধান ভাষা এবং রোমান ক্যাথলিক প্রধান ধর্ম । ব্রাজিলে বেশকিছু ক্রীড়ার উদ্ভব ঘটেছে, সেগুলি হল  - বীচ ভলিবল, ফুটসাল এবং ফুটভলি অন্যতম । কার্নিভাল ও সাম্বা নৃত্য বহির্বিশ্বের কাছে ব্রাজিলের সংস্কৃতির সবচেয়ে পরিচিত অংশগুলোর একটি ।

চীন -৪
জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের এক নম্বরে চীন হলেও,আয়তনে চীনের অবস্থান চতুর্থ । এটি প্রায় ৯,৫৯৮,০৯৪ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে আছে । যা পৃথিবীর আয়তনের ৬.৪% । এশিয়া মহাদেশের একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তি । প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪,৫০০ কিলোমিটার । চীনারা তাদের দেশকে চুংকুও নামে ডাকে, যার অর্থ "মধ্যদেশ" বা "মধ্যবর্তী রাজ্য"। চীন একটি পর্বতময় দেশ । এর মোট আয়তনের দুই-তৃতীয়াংশ পর্বত, ছোট পাহাড় এবং মালভূমি নিয়ে গঠিত । চীনে বিশ্বের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বাস । এদের ৯০%-এর বেশি হল চৈনিক হান জাতির লোক । চীনের দুইটি বৃহত্তম নদী হোয়াংহো ও ইয়াংসি । গণ প্রজাতান্ত্রিক চিনের রাজনীতি একটি একদলীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোয় সংঘটিত হয় । গণচীনের বর্তমান সংবিধানটি ১৯৫৪ সালে প্রথম গৃহীত হয় এবং এতে দেশের শাসনব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।

যুক্তরাষ্ট্র -৩
 যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা United States, এই দেশটি যুক্ত রাষ্ট্র নামেও পরিচিত । বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র । যার আয়তন হচ্ছে ৯,৬২৯,০৯১ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ৬.৫% । দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লক্ষ । উত্তর-পশ্চিমে আটলান্টিকের কোল ঘেঁষে অবস্থিত বৃহৎ হ্রদ এলাকায়ই দেশটির অধিকাংশ মানুষের বসতি । বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশ খরচ করে এই দেশ । বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিধর রাষ্ট্র । মার্কিন নাগরিকেরা বাংলা ভাষায় "মার্কিনী" নামে পরিচিত । মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন, এবং এগুলিকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান । আইনসভা দ্বিপাক্ষিক । নিম্ন কক্ষের নাম হাউজ অভ রেপ্রেজেন্টেটিভ্‌স এবং  উচ্চ কক্ষের নাম সেনেট ।

কানাডা -২
কানাডা উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত একটি দেশ । বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ রাষ্ট্র । আবার কানাডা হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতলতম দেশ । এই দেশে বছরে ৮ মাস বরফাচ্ছন্ন থাকে । আয়তনে বেশি হলেও কানাডা সামরিক শক্তিতে তেমন উন্নত নয় । যার আয়তন ৯,৯৮৪,৬৭০ বর্গকিলোমিটার । যা পৃথিবীর আয়তনের ৬.৭% । কানাডা দ্বিভাষিক- ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা দুটোই সরকারি ভাষা এবং বহু কৃষ্টির দেশ । এছাড়াও অনেক বিচ্ছিন্ন ভাষাও রয়েছে । কানাডার সরকার দুই ভাগে বিভক্ত । কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকার । কানাডার বর্তমান সংবিধান ১৯৮২ সালে রচিত হয় । কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি । 

রাশিয়া -১ 
পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হল রাশিয়া । এই দেশটি অর্ধ প্রেসিডেন্সিয়াল ফেডারেল প্রজাতন্ত্র যার সংবিধান ৮৩ টি ফেডারেল বিষয় দ্বারা গঠিত । আয়তনে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ দেশ । যার পূর্ব নাম ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন । রাশিয়ার আয়তন প্রায় ১৭,০৯৮,২৪২ কিমি । যা পৃথিবীর ১১% জায়গা দখল করে আছে । রাশিয়া বিশ্বের নবম জনবহুল দেশ যেখানে ২০১২ হিসাব অনুযায়ী ১৪৩ মিলিয়ন লোক বসবাস করে । রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম দেশ যার রয়েছে পৃথিবীর মোট আবাসযোগ্য জমির এক অষ্টমাংশ । রাশিয়া ১১টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত । রাশিয়া একটি আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত দেশ যেখানে প্রেসিডেন্ট সর্বক্ষমতার মালিক । তিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে থাকেন । রুশ ভাষা রাশিয়া বা রুশ প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা । এটিতে রাশিয়ার প্রায় ৮০% লোক কথা বলে । এছাড়াও রাশিয়াতে আরও প্রায় ৮০ টির বেশি ভাষা প্রচলিত ।  
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন । 
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

কখন সহবাস করবেন, কখন করবেন না এবং অধিক সহবাসে কি ক্ষতি হয় ?.


দাম্পত্যে জীবনে সহবাস বা যৌন মিলনের গুরুত্ব অপরিসীম বিয়ের পর সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তুলতে এ ব্যাপারে দুজনের বোঝাপড়াটা ঠিকঠাক হওয়া খুব দরকার সহবাসের (সেক্স) মূল উদ্দেশ্য বংশবৃদ্ধি নারী ও পুরুষের মধ্যকার নিয়মতান্ত্রিক শারীরিক মিলন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত নারী ও পুরুষ কেবল রীতিসিদ্ধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে সহবাসের অধিকার অর্জন করে ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক মিলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । যে সকল নর-নারী বিবাহপূর্ব শারীরিক মিলন করেছেন তারা বিবাহ পরবর্তী যৌন জীবনে অসুখী যে সকল নর-নারী বিবাহপূর্ব শারীরিক মিলনে লিপ্ত হননি - তারা বিবাহ পরবর্তী সুখী জীবন যাপন করেন
সহবাসের আগে কি খাবেন, কি খাবেন না –
আপনি যৌন মিলনের মুডে আছেন কিনা তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে আপনার খাদ্য শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি পূরণে আমরা প্রতিদিন অনেক ধরনের খাবার খেয়ে থাকি এমন কয়েকটি দৈনন্দিন খাদ্য আছে যা আপনার শরীরে সেক্স পাওয়ার বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি নয়, গ্রিন  স্যালাড, শসা, মাশরুম বা টমাটো খান ডিমের সাদা অংশ চলতে পারে পিজ্জা নয়, পাস্তা খান মাংস খেলে একেবারে হালকা করে খান সহবাসের  আগে পপকর্ন খাওয়া ভাল ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নয়,  আলু খেতে হলে সিদ্ধ খাওয়া ভাল কফি ভুলে খাবেন না, লিকার চা কে আপনার  সঙ্গী করুন আইসক্রিম খেতে পারেন, তবে তা লো ফ্যাটের হতে হবে শরীরে সেক্স হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ বাড়াতে চান, তাহলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট জাতীয় খাবারের দরকার

   কখন সহবাস করবেন ও করবেন না –
প্রাপ্ত বয়স্ক একজন পুরুষ ও নারী যে কোন দিন, দিন বা রাত যে কোন মুহূর্তে সহবাস করতে পারেন । পুরুষরা সাধারণত রাতের বেলায় সেক্স এড়িয়ে চলতে চায় এ ক্ষেত্রে সকালের দিকটাকেই তারা বেছে নেয় নারীরা রাতের বেলায় সেক্স করতে আগ্রহী সহবাস করার জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনকে সমান আগ্রহী হতে হবে দেখা যায় যে স্বামীর সহবাসের চাহিদা আছে কিন্তু, স্ত্রীর নেই, সে সময় সহবাস করবেন না । মহিলাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব অবস্থায় কখনোই স্ত্রী সহবাস করা উচিত না ঋতুস্রাব পবিত্র হয়ে স্নান করার আগে পর্যন্ত মহিলাদের সাথে সহবাস করবেন না  
  রক্তস্রাবের সময় মহিলাদের সর্বক্ষণ রক্ত নির্গত হওয়ার কারণে কারো কারো যৌনাঙ্গটি এক প্রকার ফোলা ও উষ্ণ থাকে কাজের ব্যস্ততা বেশি থাকলে সে সময় সহবাস করা উচিত না মাতাল অবস্থায় সহবাস না করা ভাল চিন্তা-ভাবনা ও বিচলিত থাকলে সহবাস করা উচিত না একেবারে খালি পেটে অথবা ভরপেটেও সহবাস না করা এ অবস্থায় সহবাসে পেটের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে এরফলে আপনার  টিবি, ভীতিপ্রদ রোগ, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে চোখের দৃষ্টির রোগ , শারীরিক দুর্বলতা, কলিজা, পাকস্থলী দুর্বল তাদের জন্যও সহবাস করা ক্ষতিকর

 কতদিন পর পর সহবাস করা ভালো-
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী যখন শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে ফুরফুরে অবস্থায় থাকেন তখনই তাঁদের মধ্যে শারীরিক মিলন হতে পারে । মাত্রাতিরিক্ত সহবাস যেমন ক্ষতিকর আবার কম সহবাসও শরীর ও মনের পক্ষে ততটাই ক্ষতিকারক ।  প্রতিদিন সহবাস করা যাবে কিনা, করলে কি আমাদের শারীরিক কোন ক্ষতি হয় ? নতুন যারা বিয়ে করেছেন তাঁরা সুযোগ পেলেই মিলিত হতে চান । গবেষণায় উঠে এসেছে - সদ্য বিবাহিত দম্পতিরা সাধারণত মাসে ৩ থেকে ৪ বার মিলিত হন কিন্তু, যদি অন্তত পক্ষে ১১ বার মিলিত হওয়া যায় এক মাসে, তবে সদ্য বিয়ে করা দম্পতি মানসিক ভাবে অনেক বেশি সুস্থ থাকেন যে সব দম্পতি সপ্তাহে অন্তত দুবার সহবাস করেছেন তাঁদের হৃদপিণ্ড অনেক ভালো থাকে যাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর, তাঁরা সপ্তাহে ৩ বার সহবাস করতে পারেন । যাঁদের বয়স ৩০-৪০ বছর তাঁরা সপ্তাহে ২ বার সহবাস করতে পারেন । পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনের হার বয়সের উপর নির্ভর করে । বয়স যত বাড়ে যৌনমিলনের হার তত কমে যায় ।

সহবাসে কি উপকার –
মানসিক উৎকণ্ঠা বা স্ট্রেস থেকে আসে উচ্চ রক্তচাপ, যা হৃদপিণ্ডের পক্ষে চরম ক্ষতিকর ৷ যারা নিয়মিত সহবাস করেন, তাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে । হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকটা কম থাকে ৷ নিয়মিত সহবাস করলে শরীরকে ফিট করে তোলে, ত্বক উজ্জ্বল করে, ওজন কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, বার্ধক্য পিছিয়ে দেয় । সেক্স করা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে, মিলিত হওয়ার বাসনা কমে যায় শরীরে উত্তেজনা লোপ পেতে শুরু করে একটা সময়ের পর আর কাম ইচ্ছা জাগে না নিয়মিত সেক্স করা শুরু করে, সেটা যদি হঠাৎ বন্ধ হয় যায়, তবে বুদ্ধি লোপ পেতে পারে সবকিছু ভুলে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে থাকে মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে মন খারাপ, কিছু ভালো না লাগা, অকারণে অতিরিক্ত রাগ জন্মাতে শুরু হতে পারে সেক্স করলে হৃদয় ভালো থাকে হরমোনের নিঃসরণ যথাযথ পরিমাণে হতে থাকে সেক্স করলে শরীরে রোগ-জীবাণু সহজে  প্রবেশ করতে পারেনা । শরীরে রোগপ্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে রাতের প্রথমাংশে সহবাসের দ্বারা সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে সে সন্তান অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করে । রাতের শেষ প্রহরে সহবাস করার দ্বারা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সন্তান সুস্থ সবল ও  ধর্মভীরু হয়ে থাকে ।
 অধিক সহবাসে কি ক্ষতি হয়  -
মাত্রাতিরিক্ত কোনও জিনিসই ভালো না সুস্বাদু ও মজাদার বস্তু খাওয়ার মাঝে কখনোই অতিরিক্ত করা ঠিক নয় অধিক সহবাসে পুরুষ ও মহিলা যুবক-যুবতীরা তাদের যৌবন কালে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে সহবাসের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনও উপায়ে অমূল্য সম্পদ নষ্ট করে ফেলে । অধিক সহবাস করলে যৌন মিলনের ক্ষমতা কমে যায় । অধিক সহবাসের কারণে গর্ভধারণের শক্তিও হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে । মাত্রাতিরিক্ত সহবাস জীবন নষ্ট করে দেয় এক সময় তাদের অবস্থা এমন হয় যে, মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে হয় শেষে কোনোভাবে সহবাসের জন্য বিভিন্ন ডাক্তারদের শরণাপন্ন হয়ে ওষুধের মাধ্যমে সহবাস করতে হয় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সহবাস করা উচিত, না হলে পরবর্তী জীবনে আপনি আরও বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন । 

অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে প্লিজ ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

ভারতের একটি নিষিদ্ধ দ্বীপ কোন টি ও কেন ?.


ভ্রমণপিপাসু ও দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষরা সব সময়েই নতুন, অজানা, রহস্যময় বা নিষিদ্ধ কোন স্থানের নাম শুনলেই সেই রহস্য তাদেরকে আকৃষ্ট করে এবং তারা অজানাকে জানতে ও রহস্যকে ভেদ করতে চান । সেরকম একটি রহস্যময়য় স্থান রয়েছে আমাদের ভারতের মধ্যে । সেটি হল একটি নিষিদ্ধ দ্বীপ - নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ । নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপটি আপনার কাছ থেকে খুব বেশি দূরে নয় । কারণ আমাদের প্রিয় বঙ্গোপসাগরের বুকে এই দ্বীপটি অবস্থিত । আমরা অনেকেই এর অস্তিত্বের কথা সঠিক ভাবে জানিনা । কারন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম এই দ্বীপ এবং এর অধিবাসীদের সম্পর্কে তেমন কোনো ইতিহাস কারো জানা নেই । পৃথিবীর অধিবাসী হয়েও তারা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বুকের ছোট্ট এক নির্জন দ্বীপে ।

 চতুর্ভুজ আকারের দ্বীপটির আয়তন ৫৯.৬৭ বর্গ কিলোমিটার । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় ১২২ মিটার । দ্বীপে রয়েছে ঘন সবুজ বনভূমি । দ্বীপটি প্রবাল প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত । দ্বীপের চারপাশের প্রবাল প্রাচীরগুলো ৪০০ থেকে ১২৯০ মিটার পর্যন্ত প্রসারিত । পোর্ট ব্লেয়ার থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । স্মিথ আইল্যান্ডের ২০ মাইল পশ্চিমে এই দ্বীপটির অবস্থান । ১৯৭০ সালে ভারত সরকার এই দ্বীপটিকে নিজেদের বলে ঘোষণা করে । সেন্টিনেলদের বাসস্থল এই দ্বীপটি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একটি অংশ । ভৌগোলিক অবস্থান হিসেবে এবং কাগজে কলমে দ্বীপটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত । কিন্তু দ্বীপের ওপর ভারতের আদৌ কোনো কর্তৃত্ব নেই । বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে সমুদ্রের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত অনেক কিছুই মানুষের জানা হয়ে গেলেও এই দ্বীপটি এখনো মানুষের অজানা থেকে গেছে । বিশ্ববাসীর কাছে জানার কোনো সুযোগ নেই যে - দ্বীপটির লোকজন কেমন ও তারা কিভাবে জীবন-যাপন করে । কারণ, তারা কখনই বহির্বিশ্বের মানুষের সঙ্গে মিশতে চায়না । 

 নৃবিজ্ঞানীদের মতে সেন্টিনেলিসরা এই দ্বীপটিতে সেই প্রাচীন প্রস্তর যুগ থেকে বসবাস করে আসছে । নৃবিজ্ঞানীদের মতে এই দ্বীপটি ৬০ হাজার বছরের বেশি প্রাচীন । ৬০ হাজার বছর ধরে দ্বীপটির বাসিন্দারা নিজেদের মতো করেই এখানে টিকে আছে । তাদের ধারণা, সেন্টিনেলিসদের আদিপুরুষরা আফ্রিকা মহাদেশ থেকে নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপটিতে এসেছিল ।  বিশেষজ্ঞদের মতে - সেন্টিনেলিসরাই হল বিশ্বের একমাত্র নৃগোষ্ঠী যারা আধুনিক বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ রূপে দূরে রয়েছে । যাদের কাছে এখন পৌঁছাতে পারেনি আধুনিক সভ্যতা । এখানে কেউ ভুল করে বা  দুর্ঘটনার কারণে, বা পথ হারিয়ে কেউ  প্রবেশ করলে তাদেরকে হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে । এমনকি হেলিকপ্টারও সেখানে ল্যান্ড করতে সাহস পায় না । বাইরের থেকে আশা মানুষকে তারা তাদের রাজ্যে প্রবেশের কোনা অনুমতি দেয় না । প্রতিবার অনুপ্রবেশকারীরা তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে ও মৃত্যু হয়েছে । এ কারণে কেউ সফলভাবে এই দ্বীপে যেতে পারে না । অনেকবার চেষ্টা করেও দ্বীপটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারেনি ভারত সরকার । তাই এই দ্বীপটি এখনো বলতে গেলে অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে ।

 এই দ্বীপটির কথা আমরা প্রথম জানতে পারি বিখ্যাত ইতালিয় পর্যটক ও ব্যবসায়ী মার্কো পলোর বর্ণনা থেকে ।  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি জাহাজ দ্বীপটির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ১৭৭১ সালে সেখানে সৈকতে আলো দেখতে পায় । ১৯৬৭ সালে থেকেই ভারত সরকার সেন্টিনেলিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছিল । আদিম এই উপজাতির সঙ্গে সভ্য মানুষের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৮৮০ সালে । ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এম ভি পোর্টম্যানের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন । ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ত্রিলোক নাথ পণ্ডিতই প্রথমবারের মতো ১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি দ্বীপটিতে নিজে গিয়ে সেন্টিনেলদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করেন । কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি । ১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে মধুমালা চট্টোপাধ্যায় সেই দ্বীপটিতে গিয়েছিলেন সেন্টিনেলিসদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে । প্রথমে একটু বাধার সম্মুখীন হলেও আস্তে আস্তে তারা তাকে গ্রহণ করে নেয় । কিন্তু পরবর্তী কালে দ্বীপটিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর তিনি আর সেখানে যেতে পারেননি ।  ১৯৫৬ সালের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী উপজাতি সুরক্ষা আইনের বলে[ এই দ্বীপে ভ্রমণ এবং পাঁচ নটিক্যাল মাইলের (৯.২৬ কিমি) থেকে কাছাকাছি যে-কোন যোগাযোগের চেষ্টা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।

 ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন চিত্রগ্রাহক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিলেন সেন্টিনেল দ্বীপে । উপজাতিদের বিষ মাখানো তীরের আঘাতে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হন । ২০০৬ সালে সেন্টিনেল তীরন্দাজরা তাঁদের দ্বীপে অনুপ্রবেশকারী দুজন জেলেকে তীর মেরে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে দেয় । ২০১৮ সালের খ্রিস্টধর্ম প্রচারের অভিলাষে সাতাশ বছর বয়সের এক মার্কিন ধর্মযাজক ওই নিষিদ্ধ দ্বীপে গিয়েছিলেন । তাঁকে তীর ছুড়ে হত্যা করেছিল সেন্টিনেলিজরা । যে সব মৎস্যজীবীর সহায়তায় এই তরুণ মার্কিন ধর্ম যাজক সেখানে পৌঁছেছিলেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে । ২০১৭ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিয়ে কোনোরকম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপলোড করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল ।
 
 বিশ্বের অন্য যেসব উপজাতি আছে, তাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই উপজাতি । ধারণা করা হয় প্রস্তর যুগ থেকে এই দ্বীপে তাদের বসবাস চলে আসছে । তারা দেখতে কেমন, কি ধরনের জীবন-যাপনে অভ্যস্ত, বহির্বিশ্ব সম্পর্কে তারা কী ভাবে সে সম্পর্কেও কিছুই জানার সুযোগ নেই । তবে যেটুকু জানা যায়জাতিতে এরা সেন্টিনেলি । সেন্টিনেলিরা বঙ্গোপসাগরের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত আদিবাসী আন্দামানি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত । এখানের বাসিন্দাদের ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর আছে । এই কুড়েঘর গুলোর কোনো দেয়াল নেই, শুধু মাথার ওপর ছাউনিটি মাটি পর্যন্ত প্রসারিত করা । এখন পর্যন্ত এখানে কৃষিকাজ করার কোনা প্রমাণ পাওয়া যায় না । তাই এরা মূলত একটি শিকার-নির্ভর জাতি । শিকার করা ও বন্য লতাপাতা, সামুদ্রিক মাছ, প্রাণী ও দ্বীপের উদ্ভিদ হল সম্ভবত তাদের প্রধান খাদ্য । সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো আজও এরা হয়তো আগুন জ্বালাতে শেখেনি ।

 এদের ভাষার নাম দেওয়া হয়েছে সেন্টিনেলি ভাষা । ধারণা করা হয়, এটি আন্দামানি ভাষাগুলোর একটি । আন্দামানের আদিবাসী ওঙ্গেদের সঙ্গে এদের ভাষার কিছুটা মিল পাওয়া যায় । সেন্টিনেলিদের ধর্ম সম্পর্কে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোনো ধারণাই পাওয়া যায় না । তাদের সংশ্লিষ্ট কোনো জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কেও তেমন জানা যায় না । এরা ধাতব সামগ্রী দিয়ে অল্প কিছু জিনিস বানাতে পারলেও ধাতু দিয়ে তেমন কিছু বানাতে পারে বলে মনে করা হয় না । এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সেন্টিনেলীদের জনসংখ্যার কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না । মনে করা হয় যে - দ্বীপটির লোকসংখ্যা ৫০ থেকে ৪০০ জনের মতো হতে পারে । সেন্টিনেলরা তাঁদের অঞ্চলে, তাঁদের সব বিষয়ে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে । এই দ্বীপে আজও পৌঁছাতে পারেনি পৃথিবীরর আধুনিকতার ছোঁয়া ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।


আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

ভারতের জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীর বাংলা জীবনী .


 মহাত্মা গান্ধী একজন অন্যতম ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাত প্রাদেশিক এলাকা পোর বন্দরে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্ম গ্রহণ করেন । তার পিতা করমচাঁদ গান্ধী ও মা পুতলিবা করমচাঁদের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন । পুতলিবা প্রণামী বৈষ্ণব গোষ্ঠীর ছিলেন । তাঁর মা ছিলেন একজন অত্যন্ত ধার্মিক মহিলা, যিনি পুত্রের মধ্যে দৃঢ় হিন্দু নৈতিকতার সঞ্চার করেছিলেন । ধার্মিক মায়ের সাথে এবং গুজরাটের জৈন প্রভাবিত পরিবেশে থেকে গান্ধী ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি অহিংসা, নিরামিষ ভোজন, আত্মশুদ্ধির জন্য উপবাসে থাকা, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয় শিখতে শুরু করেন । মানব হিতৈষী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সবার কাছে পরিচিত ছিলেন মহাত্মা এবং বাপু নামে । 

মহাত্মা গান্ধী তার ছোটবেলায় পোর বন্দর ও রাজকোটের  ছাত্র ছিলেন । গুজরাটের ভবনগরের সামালদাস কলেজ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন । ১৮৮৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধী বাবা মায়ের পছন্দে কস্তুরবা মাখাঞ্জীকে বিয়ে করেন । তার পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাকে  আইনজীবী করা । সে জন্য ১৮ বছর বয়সে ১৮৮৮ সালের ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে পড়তে যান । তিনি লন্ডনের গুটি কয়েক নিরামিষভোজী খাবারের দোকানের একটিতে নিয়মিত যেতেন ।

 লন্ডনে পড়তে যাবার আগে গান্ধী তার মা পুতলিবাই এবং চাচা বেচারজির কাছে প্রতিজ্ঞা করেন যে
, তিনি মাংস খাওয়া, মদ্যপান এবং নারী সঙ্গ থেকে বিরত থাকবেন । তিনি মাংস, মদ এবং উচ্ছৃঙ্খলতা ত্যাগ করার হিন্দু নৈতিক উপদেশ পালন করেন । গান্ধী এ সময় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গলাভ করেন এবং লন্ডন ভেজিটেরিয়ান সোসাইটির চেয়ারম্যান ড. জোসেফ ওল্ডফিল্ড এর বন্ধু হয়ে ওঠেন । গান্ধী হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইসলামসহ অন্যান্য ধর্ম এবং বিভিন্ন রীতি সম্পর্কে পড়াশোনা করেন । লন্ডন থেকে ফেরার পর গান্ধী নিরামিষ খাবার ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করেন । গান্ধীর মতে, নিরামিষ শুধু শরীরের চাহিদাই মেটাবে না, এটি মাংসের প্রয়োজন মিটানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও পূরণ করবে, যা সবজি ও ফলের চেয়ে মূল্যবান ।

 একজন শিক্ষিত ব্রিটিশ আইনজীবী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিপীড়িত ভারতীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গান্ধী প্রথম তাঁর অহিংস শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের মতাদর্শ প্রয়োগ করেন । গান্ধীজী একজন আইনজীবী হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান । দক্ষিণ আফ্রিকা গান্ধীর জীবনকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দেয় । প্রথম শ্রেণীর বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরা থেকে তৃতীয় শ্রেণীর কামরায় তাকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় । এমন কি তাকে হোটেল থেকেও বহিষ্কার করা হয় । এখানে তিনি ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হন । ১৮৯৪ সালে গান্ধী নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন । এই সংগঠনের মাধ্যমে সেখানকার ভারতীয়দেরকে রাজনৈতিক ভাবে সংঘবদ্ধ করেন । দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ভোটাধিকার ছিল না । এই অধিকার আদায়ের বিল উত্থাপনের জন্য তিনি আরও কিছুদিন দেশটিতে থেকে যান ।
 ১৯১৫ সালের ৯ই জানুয়ারি গান্ধী ভারতে ফিরে আসেন এইজন্য ওই দিনটিকে প্রবাসী ভারতীয় দিবস হিসাবে পালন করা হয় । গান্ধী ভারতে প্রথম সাফল্য অর্জন করেন ১৯১৮ সালের চম্পারন বিক্ষোভ এবং খেদা সত্যাগ্রহের মাধ্যমে । সে সময় মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মাঝে ব্রিটিশরা একটি শোষণমূলক কর চালু করেন এবং তা বাড়ানোর চেষ্টা করেন । এতে পরিস্থিতি প্রচণ্ড অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে । তিনি প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রদেশ ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয় । অন্যায়ের বিরুদ্ধে গান্ধীর অস্ত্র ছিল অসহযোগ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ । এই ঘটনার ফলে জেলের বাইরে হাজার হাজার লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । পুলিশ স্টেশন ও আদালতে এসে তারা গান্ধীর মুক্তি দাবি করতে থাকে । আদালত নীরবে মেনে নিয়ে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন  । গান্ধী জমিদারদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত বিক্ষোভ ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করেন এবং জমিদাররা ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে কৃষকদের আরও বেশি ক্ষতিপূরণ এবং চাষাবাদের বিষয়ে তাদের আরো নিয়ন্ত্রণ প্রদানে রাজি হয় । গান্ধী সেখানে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার বহু দিনের সমর্থক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একত্রিত করেন ।
 গান্ধী ভারতে শিখদের তীর্থস্থান অমৃতসরে এক গণহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করলেন ।
 পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে সাধারণ মানুষের উপরে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ১৯১৯ সালে সংগঠিত ভাবে হত্যাকাণ্ড চালায় ব্রিটিশদের গুলিতে প্রায় ৪০০ মানুষ প্রাণ হারায়, আর আহত হয় ১৩০০ মানুষ । গান্ধী তার অহিংস নীতির পরিবর্ধন করেন স্বদেশী নীতি যোগ করে । স্বদেশী নীতি মতে সকল বিদেশী পণ্য বিশেষত ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করতে হবে । তিনি ব্রিটিশ শাসকদের সাথে অসহযোগিতার ডাক দেন, যার সাথে সাথে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনেরও কর্মসূচি পালন করেন । তাঁর অহিংস আন্দোলন-বিক্ষোভের ডাক সব শ্রেণী এবং ধর্মের মানুষের দ্বারা সাদরে সমাদৃত হয়েছিল । ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ গান্ধীকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এনে গ্রেপ্তার করেন এবং দুই বছরের জন্য তাকে কারাবন্দী করার আদেশ দেওয়া হয় ।
 ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের  নির্বাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ।  ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর গান্ধী ভারতব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী স্বাধীনতা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ, জাতির অর্থনৈতিক সচ্ছলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচার শুরু করেন । তাছাড়াও তিনি অস্পৃশ্যতা, মদপান, অবজ্ঞা এবং দরিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন । স্বরাজ পার্টি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মাঝে বাধা দূর করতে চেষ্টা করেন ।  গান্ধী কলকাতা কংগ্রেসে ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান, অন্যথায় নতুন অহিংস নীতির পাশাপাশি পূর্ণ স্বাধীনতার হুমকি দেন । ১৯৩০ সালে গান্ধী ভারতীয়দের লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ৪০০ কিলোমিটার বা ২৪৮ মাইল দীর্ঘ ডান্ডি লবণ আন্দোলন করেন । তাঁর সাথে হাজার হাজার ভারতীয় হেঁটে সাগরের তীরের পৌঁছান । এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তার অন্যতম সফল প্রয়াস ।

 ১৯৩১ সালে কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিতে লন্ডন সফরে যান গান্ধী । গান্ধীকে গোল টেবিল বৈঠকের জন্য লন্ডনে আমন্ত্রণ জানান হয় । সেখানে তিনি একাই কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে দেয়া, গান্ধীর আন্দোলনের লক্ষ্যগুলো বাস্তব হয়ে ওঠে । ১৯৪৭ সালে অনেক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রিয়তম দেশে স্বাধীনতা আসে ।
 মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল থেকেছেন   তিনি সাধারণ নিরামিষ খাবার খেতেন । শেষ জীবনে ফলমূলই বেশি খেতেন নিরামিষভোজী এর ধারণা হিন্দু ও জৈন ধর্মে গভীরভাবে বিদ্যমান । গান্ধী প্রবলভাবে বিশ্বাস করতেন যে, সামাজিক কাজে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি অবশ্যই সাধারণ জীবন যাপন করবে । তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং একটি স্বায়ত্তশাসিত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন । গান্ধী স্বল্প বসনের মানুষ ছিলেন । আন্তর্জাতিক বৈঠকেও তিনি এই পোশাকে উপস্থিত হতেন । নিজের পরিধেয় কাপড় তিনি নিজেই চরকায় বুনতেন তাঁর জীবনাচরণে ছিল অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলা, সাদামাটা জীবন-যাপন গ্রহণ এবং নিজের কাপড় নিজে ধোয়া । গান্ধী হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার সারা জীবন ধরে হিন্দু ধর্মের চর্চা করেন । হিন্দু ধর্ম থেকেই তিনি তার অধিকাংশ আদর্শ গ্রহণ করেনতিনি সকল ধর্মকে সমানভাবে বিবেচনা করতেন গান্ধী বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি ধর্মের মূলে আছে সত্য ও প্রেম

 গান্ধী পত্র-পত্রিকায় প্রচুর চিঠি লিখতেন । প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন পত্রিকায় তার চিঠি প্রকাশিত হতো গান্ধী গুজরাটি ভাষায় "ভগবত গীতা"র উপর ধারাভাষ্য লেখেন । গুজরাটি পাণ্ডুলিপিটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন মহাদেব দাসী গান্ধীর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে এগুলি হল - সত্যের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতার গল্প (The Story of My Experiments with Truth), দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রাম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ (Satyagraha in South Africa), স্বাধীকার বিষয়ে মেনিফেস্টো হিন্দি স্বরাজ ইত্যাদি । বহুমুখী লেখায় পারদর্শী মহাত্মা গান্ধী সম্পাদনা করেছেন গুজরাটি, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার পত্রিকা হরিজন ১৯৬০ দশকে ভারত সরকার গান্ধীর রচনাবলি দ্য কালেক্টেড ওয়ার্ক অব মহাত্মা গান্ধী প্রকাশ করে । বইটি শতাধিক খণ্ডে প্রকাশিত হয় ।
 ভারত সরকার মহাত্মা গান্ধীকে ভারতের জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করেছে । ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মহান এই নেতার মৃত্যু হয় । একটি পার্থনা সভায় যোগ দেওয়ার জন্য বেরিয়ে ছিলেন । নাথুরাম গডসে ছিলেন একজন হিন্দু মৌলবাদী, সে গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করে । শান্তির জন্য বিশ্বজুড়ে সুবিদিত এক মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে সারাবিশ্ব থেকে অসংখ্য মানুষ সমবেত হন শোক প্রকাশের জন্য । গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী, তার দেহ-ভস্ম বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান নদীতে ডুবানো হয় । তার দেহ-ভস্ম মহাত্মা গান্ধী বিশ্ব শান্তি সৌধে একটি হাজার বছরের পুরনো চৈনিক পাথরের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয় ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জীবনী বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।
আমাদের আরও পোস্ট - 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।