মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পেঁচা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্বাস ও অবিশ্বাস গুলি কি কি ?.


 পেঁচা কথাটি শুনলে আপনার মনে ভাল ও মন্দ দুই ধরণের কথা মনে পড়ে যায় । কিছু পেঁচাকে সৌভাগ্যের চিহ্ন হিসাবে আবার কিছু পেঁচাকে দুঃখের কারণ বলে মানুষ মনে করে । লক্ষ্মী পেঁচাকে আমরা সবাই সৌভাগ্যের প্রতীক ও হুতুম পেঁচাকে অলক্ষ্মী বলে ভেবে থাকি । আদিম যুগে মানুষ পেঁচাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেছেন ও তাঁর পুজো করেছেন । বাঙালিদের লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে পেঁচাকে স্থান দেওয়া হয়েছে । মা লক্ষ্মীর বাহন হওয়ার আগে থেকেও পেঁচার পুজো করা হত ।


  লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে পেঁচা এসেছে আলেকজান্ডারের পরে পশ্চিম সীমান্তবর্তী গ্রিক রাজাদের মুদ্রা থেকে । লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে পেঁচাকে ভাবার কারণ হল যে – পেঁচা শস্যক্ষেত্রে বিভিন্ন পোকামাকড়, ইঁদুর, ব্যাঙ ও বিভিন্ন শস্য নস্টকারী প্রাণীদের খেয়ে ধ্বংস করে বলে । একজোড়া পেঁচা পাঁচ বছরে প্রায় তিন হাজার ইঁদুর হত্যা করতে পারে । প্রাচীন রোমের দেবী ‘মিনার্ভা’র হাতে পেঁচা থাকে । তাঁকে জ্ঞানের ও জাদুর প্রতীক হিসাবে মনে করা হয় । আবার পেঁচা গ্রিসের শান্তি ও জ্ঞানের দেবী এথেনার বাহন হিসাবে দেখা যায় । খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালে ইজিপ্টে একটি কাঠের কফিনে একটি অদ্ভুত দেখতে পেঁচার ছবি পাওয়া গিয়েছে । আবার মধ্য-পশ্চিম আমেরিকায় একটি পাহারের গুহায় প্যালিওসিন যুগের পেঁচার ফসিল পাওয়া গিয়েছে ।


  পেঁচার বয়স কত ? আপনি বলবেন আবার কত হবে । মানুষের বয়সের থেকে হয়তো একটু বেশি আবার কি । কিন্তু না, তাহলে পৃথিবীতে পেঁচা কবে থেকে এসেছে ? একদল গবেষকদের মতানুসারে – পেঁচা ডাইনোসরদের থেকে ৩৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে জন্ম হয়েছিল । পেঁচা নাকি ডাইনোসরদের থেকেও পুরনো । প্রত্নতাত্ত্বিকরা পেঁচার জীবাশ্ম বিচার করে দাবি করেন যে – পেঁচার বয়স ৬ কোটি বা তাঁর থেকে বেশি হবে । বিশেষজ্ঞদের মতে পেঁচার বয়স আরও বেশি হতে পারে বলে তাঁর মনে করেন

  পাখিদের মধ্যে পেঁচা সবথেকে নিষ্ঠুর শিকারি পাখি । ঈগলের মত শিকারি পাখিরা এতটা নিষ্ঠুর হয়না । শিকার করার পর শিকারের হৃদপিণ্ড ও পাকস্থলী প্রথমে বার করে খায় । পেঁচারা আবার স্বজাতীয় মাংস খায় । পেঁচার যদি কোন দুর্বল সন্তান হয় তবে তাঁকে সুস্থ ও সবল সন্তানদের মধ্যে খাবার হিসাবে ভাগ করে খেতে দেয় । পেঁচারা আবার ছদ্মবেশ ধরায় পাকা ওস্তাদ । আফ্রিকার জঙ্গলে এমন এক ধরণের পেঁচার খোঁজ পাওয়া যারা নিজেদেরকে দিনের বেলায় লুকিয়ে রাখে । যাতে করে কোন শিকারি পাখি তার খোঁজ না পায় । 
   আবার গাছের ডালে গা ঢাকা দিয়ে থাকে, আবার কখন গাছের ছালের সঙ্গে মিশে যায় । গবেষকদের মতে – তাঁরা যদি আপনার চোখের সামনে থাকে, তবুও তাঁদের চেনা খুব কঠিন কাজ হবে । বিশ্বের ক্ষুদ্রতম পেঁচার উচ্চতা মাত্র ৬ ইঞ্চি ও ওজন মাত্র ৪০ গ্রাম । কানাডা ও আমেরিকার বিশেষকরে ক্যালিফোর্নিয়ার কলোরাডো নদীর ধারে এই পেঁচা বেশি দেখা যায় ।


 পেঁচা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্বাস ও অবিশ্বাস –
  আমাদের দেশ কেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেঁচা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্বাস ও অবিশ্বাস প্রচলিত আছে । ভারতে কিছু বিশ্বাস ও অবিশ্বাস এমন হল যে – ভারতের কোন কোন এলাকায় মানুষ এমন বিশ্বাস করেন যে পেঁচা হল নাকি বাদুড়ের স্ত্রী । প্রাচীনকালে উত্তর ভারতের মানুষরা বিশ্বাস করতেন যে কেউ যদি পেঁচার চোখ খেয়ে নেয় তবে সে রাত্রে ভাল দেখতে পাবে । প্রাচীনকালে বাতের ব্যথা সারাতে ও হজমের ওষুধ হিসাবে পেঁচার মাংস ব্যবহার করা হয় । উত্তর ভারতে কাল পেঁচাকে মৃত্যুর প্রতীক হিসাবে ধরা হয় ।

  আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকাতে বিভিন্ন জাতি এদের কি মনে করতেন । মধ্য আফ্রিকার বান্টু জাতির কাছে জাদুকরের প্রতীক ছিল পেঁচা । দক্ষিণ আফ্রিকার জুলুক জাতির কাছে পেঁচা হল একটি জাদুকরী পাখি । পূর্ব আফ্রিকার সোয়া-হিলি জাতির লোকেরা বিশ্বাস করতেন যে – ছোটো শিশুদের অসুস্থতার সংকেত পেঁচা বহন করে নিয়ে আসে । পশ্চিম আফ্রিকায় পেঁচাকে জাদুকরী ও পিশাচিনীর বার্তা বাহক মনে করা হত । পেঁচা তাঁদের খারাপ সময়ের আগান অবস্থা জানাত ।

  অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীরা বিশ্বাস করেন যে – বাদুড় পুরুষ আত্মার বাহক আর পেঁচা নারী আত্মার বাহক । পোল্যান্ডের পোলিশ সভ্যতার মানুষদের ধারণা ছিল যে – মৃত্যুর পর অবিবাহিত নারীরা পায়রা হয় ও বিবাহিত নারীরা পেঁচা হয়ে জন্ম নেয় । ব্যাবিলনে এমন বিশ্বাস যে নারীর প্রসব হওয়ার সময় পেঁচা তাবিজ হয়ে তাঁদেরকে রক্ষা করেন । জার্মানিতে বিশ্বাস – যদি সন্তান জন্মের সময় পেঁচা ডাকে তবে সেই সন্তানের ভাগ্য ভাল হয়না । ফ্রান্সের লোকেরা বিশ্বাস করেন যে – অন্তঃসত্ত্বা মহিলা যদি পেঁচার ডাক শোনেন তাহলে তাঁর কন্যা সন্তান হবে ।


  বেলজিয়ামের মানুষরা বিশ্বাস করেন যে – গির্জায় ইঁদুরের উৎপাত বন্ধ করার জন্য পেঁচাকে গির্জায় থাকার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন যিশুখ্রিস্টস্পেনে প্রাচীন কালে মানুষের বিশ্বাস ছিল যে – যীশুকে ক্রুশের ওপর হত্যা হওয়ার দেখার আগে পর্যন্ত পেঁচা একটি সুরেলা পাখি ছিল । কিন্তু, এই ঘটনার পর রাত্রে ডাকার সময় পেঁচার ডাক বদলে গেছে ।

 মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে যাওয়ার আগে যদি রাস্তাতে কোন পেঁচাকে দেখে যায় তবে, সেই যুদ্ধের ফল হবে রক্তাক্ত । জাপানের এইনু প্রজাতির মানুষরা যে কোন অভিযানে যাওয়ার আগে পেঁচাকে সুরা উৎসর্গ করতেন । তাঁদের বিশ্বাস ছিল এর ফলে তাঁদের কোন বিপদ হলে তাঁরা সেই বিপদ থেকে বেঁচে যাবেন । এছাড়াও বিভিন্ন দেশে পেঁচাকে নিয়ে বিভিন্ন কথা প্রচলিত রয়েছে, তাঁরা সেইসব ধারণা মেনে চলতেন ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

  আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কম্প্যুটার ভাইরাস কাকে বলে, ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় কি কি ?.


  দশ বছরের ছোট রিয়া সে আজ তাঁর বাবার সাথে ডাক্তার বাবুর কাছে এসেছে । ডাক্তার বাবু রিয়াকে দেখে বললেন – রিয়া তোমার তো ভাইরাস থেকে জ্বর হয়েছে । তখন রিয়া বলল – ডাক্তার বাবু ভাইরাস তো মোবাইল কম্প্যুটারে হয় । ডাক্তার বাবু বললেন – এখানে ভাইরাস হল এক প্রকার জীবাণু যা আমাদের শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরণের অসুখ তৈরি করে । তাহলে মোবাইল কম্প্যুটার ভাইরাস কি ?.


 মোবাইল কম্প্যুটার ভাইরাস হল এমন একটি ঘাতক কম্প্যুটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়ার যা কিনা আমাদের কম্প্যুটারে আমাদের অজান্তে প্রবেশ করে । প্রবেশ করার পর সাধারণত ব্যবহারকারীর কম্প্যুটারে বিভিন্ন ফাইল, হার্ড ডিস্ক, ও অন্যান্য প্রোগ্রামের ক্ষতি করে । ভাইরাস গুলি ব্যবহারকারী বোঝার আগে কম্প্যুটারে ক্ষতি করে দেয় । এরফলে কম্প্যুটারের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায় । অনেক সময় দেখা যায় এই ভাইরাস গুলির মধ্যে মজার মেসেজ বা ছবি দেখতে পাওয়া যায় । ভুল ফলাফল প্রদান করে, গড়বড় হয়ে যায় । আপনি যদি দেখেন যে আপনার কম্প্যুটার আগের মত কাজ করতে পারছেনা, কাজে দেরি হচ্ছে, তাহলে বুজতে হবে যে ভাইরাস আক্রমণ করেছে ।


  ভাইরাস গুলি বিভিন্ন প্রকারের হয় - ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস - বিভিন্ন প্রোগ্রামে যে সমস্ত একজিকিউটিভ ফাইল থাকে সেগুলি নষ্ট করে দেয় । এরফলে সেই প্রোগ্রাম আর কাজ করতে পারেনা । বুট ভাইরাস - কম্প্যুটার বুট হওয়ার সময় লোড হয়ে বুটিং সমস্যা তৈরি করেন । ম্যাক্রো ভাইরাস - এক্সেল, এম,এস,ওয়ার্ড ইত্যাদি প্রোগ্রামের ক্ষতি করে । কয়েকটি ভাইরাস হল – Worm.Win32.FiyStudio.co/ Pack.Win32.Black.d

  ভাইরাস কিভাবে আসে – বিভিন্ন কারণে আমাদের কম্প্যুটার ভাইরাস আসতে পারে । আপনি যদি কোন ভাইরাস যুক্ত ফাইল খোলেন, ভাইরাস যুক্ত সফটওয়ার বা প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন । ই-মেলের সাথে যে অ্যাটাচ করা ফাইল থাকে সেগুলি ভাইরাস থাকলে । সেই ই-মেল যদি আপনি কাউকে পাঠান তবে তাঁর কম্প্যুটার ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে । কোন অপরিচিত ও অ্যাটাচ করা ই-মেল খুলবেন না । কারণ অপরিচিত ই-মেলের মাধ্যমে ভাইরাস আসতে পারে । সেই ই-মেল খোলার আগে ডিলিট করবেন । কোনো সিডি, ডিভিডি, বা ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোড করার সময়ও আসতে পারে । যেকোন সাধারণ সাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করবেন না ।  যেকোনো প্রোগ্রামার তাঁর মত করে ভাইরাস বানায়, তাই ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য সবসময় খেয়াল রাখবেন ।


 ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় – যদি আপনার কম্প্যুটারে ভাইরাস প্রবেশ করে, ফাইল গুলিকে নষ্ট করে দেয় তাহলে খুব সমস্যা । এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে । এই সব সমস্যা প্রতিকারের জন্য আমাদের কাছে আছে এন্টিভাইরাস । তাহলে এন্টিভাইরাস কি ? এটি হল এক প্রকারের সফটওয়ার বা প্রোগ্রাম, যে প্রোগ্রাম ভাইরাস নষ্ট করে ফাইল গুলিকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনতে পারে । যখন কম্প্যুটারে কোনো ভাইরাস দেখতে পাওয়া যায় তখন এন্টিভাইরাস ভাইরাসকে নষ্ট করে দেয় । প্রতিদিন আমাদের পৃথিবী উন্নত হচ্ছে, আবার নতুন নতুন ভাইরাস বানান হচ্ছে । এখন বাজারে বিভিন্ন প্রকারের এন্টিভাইরাস কিনতে পাওয়া যায় ।
   আপনার যেটি ভাল লাগে আপনি সেটি ব্যবহার করতে পারেন । বিনামূল্যে এন্টিভাইরাস গুলি ট্রায়াল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন । ফ্রী এন্টিভাইরাস দিয়ে ভাইরাস ডিলিট করা যায় না । এর জন্য পেইড এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন । কম্প্যুটারে ইন্টারনেট চালানোর আগে অবশ্যই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন । ইন্টারনেট থেকে ভাইরাস আসে । আপডেট করা এন্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন, যা নতুন নতুন ভাইরাস সহজে মোকাবিলা করতে পারে । সাধারণ কথাটা মনে রাখুন এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন, এতে আপনি সুরক্ষিত থাকবেন এবং আপনার কম্পিউটার ও সুরক্ষিত থাকবে। এবার চিন্তা না করে ইন্টারনেট চালানো যেতে পারে । কয়েকটি এন্টিভাইরাস হল – Quick Heal, Norton, AVG, Nod 32, Kaspersky, McAfee.
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইন্টারনেট বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইন্টারনেট লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সুস্থ নীরোগ সন্তান লাভ করবেন কিভাবে ?.


  আমরা সব মানুষ আশা করি যে আমাদের সন্তান যেন পৃথিবীতে ভালভাবে জন্ম নিয়ে সুস্থ, নীরোগ ও দীর্ঘ জীবী হয় । তাঁর জন্য আমাদের বিশেষ করনীয় কাজ আছে । তাঁর মাধ্যমে আমারা সুস্থ, নীরোগ সন্তান পেতে পারি । সেই করনীয় কথা গুলি জানতে আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ুন ।

১) প্রথমে আমাদের সব থেকে দরকারি কথা হল যে – সন্তান ধারণকারী মা ও বাবার শরীর যেন সুস্থ থাকে । কারণ তাঁদের শরীরে যদি কোন রোগ হয়ে থাকে । কারণ মা বাবার শরীরে যদি কোনও রোগ থাকে তাহলে তা হতে যাওয়া সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । অবশ্যই দুজনের ডাক্তারি পরীক্ষা করে নেবেন । এইডস, থ্যালাসেমিয়া,  প্রভৃতি রোগ আপনার থেকে আপনার সন্তানের হতে পারে । আপনাদের কোন সময় শরীর একদম সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে সেই সময় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন । অসুস্থ অবস্থায় সন্তান নেওয়া ঠিক নয় ।


২) গর্ভধারণের জন্য প্রহর খুব গুরুত্বপূর্ণ । রাত্রির প্রথম প্রহরে গর্ভধারণ হলে সন্তান অল্পায়ু, রুগ্ন, দুর্বল হয় । দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রহর উপযুক্ত নয় । যদি চতুর্থ প্রহরে গর্ভধারণ করেন সন্তান নীরোগ ও দীর্ঘায়ু হয় । ঋতুর প্রথম দিন থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত গর্ভধারণের সময় । সুসন্তান পাওয়ার জন্য ঋতুর প্রথম প্রথম চার দিন, এগারো দিন, তেরতম দিন বাদ দিয়ে সহবাস করুন । সংক্রান্তি, চতুর্দশী, অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দিন বাদ দিয়ে সহবাস করুন । চতুর্থ, ষষ্ঠ, অষ্টম, দশম, দ্বাদশ রাত্রে সহবাস করলে পুত্র সন্তান আর পঞ্চম, সপ্তম, নবম, একাদশ রাত্রে সহবাস করলে কন্যা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । সোমবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সহবাস করার জন্য আদর্শ বার । সকালে ও দ্বিপহরে সহবাস করবেন না । পায়খানা, পিপাসা, খিদে, প্রস্রাব ইত্যাদির সময় সহবাস করবেন না ।

৩) গর্ভাস্থায় দুঃখ, শোক, রাতজাগা, উপবাস, সহবাস এগুলি করবেন না । গর্ভাস্থায় সৎ ও ধর্ম চিন্তা করলে আপনার সন্তান সুখী ও ধার্মিক হবে । গর্ভাস্থায় নারী যদি মিথ্যা কথা বলা, অন্যায় কাজ করা, হিংসা করা ইত্যাদি করে তবে, সন্তানের সেই গুন প্রাপ্ত হয় । মনে কোনও খারাপ চিন্তা থাকবেনা । দুজনের শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে, পেত সম্পূর্ণ খালি বা পূর্ণ নয়, এমন অবস্থায় সহবাস করুন । গর্ভ ধারণের তৃতীয় মাসে একটি কাঁচা পলাশ পাতা বেটে দুধের সাথে খাওয়ালে বীর্যবান পুত্র সন্তান লাভ হয় । চতুর্থ মাসে যা খেতে ইচ্ছা হবে তাই খেতে দিতে হবে । চতুর্থ মাসে মা যেসব বিদ্যাচর্চা করবেন সন্তান সেই গুন লাভ করে । সামান্য কাজকর্ম করা ভাল, অত্যধিক পরিশ্রমের কাজ করবেন না ।



৪) যদি বন্ধ্যাত্ব দেখা যায় তবে তাঁর প্রতিকার করুন । স্ত্রী জননের গঠনগত সমস্যা বা ক্ষুদ্রতা, ডিম্বাশয়, জরায়ু, শ্বেত প্রদর, ডিম্ববাহী নালী ইত্যাদি সমস্যার জন্য বন্ধ্যাত্ব দেখা যায় । আমার স্বামীর যদি কোনও সমস্যা থাকে তাহলে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে । পুরুষদের ধ্বজভঙ্গের কারণ – অতিরিক্ত স্ত্রীসঙ্গম, আঘাত লাগা, অতি শুক্রক্ষরন, হস্ত মৈথুন ইত্যাদি ।

৫) গর্ভ হলে জানবেন কিভাবে – মুখ শুখনো দেখা যাবে । মুখ থেকে থুতু বের হবে । আলস্য ভাব দেখা যাবে । শরীর ভারী ভারী মনে হবে । স্তনের মুখ কালো হবে । গর্ভবতী স্ত্রীর দুধ নিয়ে যদি পরীক্ষা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন যে – দুধ কে যদি আয়নায় রাখা হয় রৌদ্রে মতির মত বিন্দু দেখা দিয়েছে, তবে পুত্র সন্তান আর যদি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যায় তবে কন্যা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । প্রতিদিন নিয়মিত স্নান করবেন, শরীর মন পরিষ্কার রাখবেন ।

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিয়ে করার জন্য সঠিক ছেলে বা মেয়ে কিভাবে নির্বাচন করবেন ?.


  আমাদের সবার জীবনে বিয়েটা একবার আসে । তাই এক বারের বেশি তাঁর সুযোগ আপনি পাবেন না । যদি ভুল নির্বাচন করেন তাহলে সারাজীবন কষ্টের শেষ থাকবেনা । আর যদি সঠিক নির্বাচন করেন তাহলে আপনার জীবন হবে সুন্দর ও সুখময় । এখন আমি আপনাদের বিয়ে করার জন্য ছেলের বা মেয়ের কি কি গুন বা বৈশিষ্ট্য দেখে বিয়ে করবেন তাঁর কিছু পদ্ধতি এখানে বলা হল । আশা করি আপনি এর মাধ্যমে আপনার সঠিক জীবন সাথী নির্বাচন করতে পারবেন । তাহলে চলুন জেনে নিন সঠিক জীবন সাথী নির্বাচনের বিভিন্ন পদ্ধতি


১) আপনি যাকে বিয়ে করতে চলেছেন বা যে আপনাকে বিয়ে করবেন – একটা জিনিস আপনি অবশ্যই খোঁজ নেবেন যে, সে আপনাকে ভালবেসে বিয়ে করছে না আপনার টাকা-পয়সা বা আপনার চেহারা দেখে বিয়ে করছে । কিছু কিছু এমন মানুষ আছে যারা – মানুষের কোন গুন আছে কিনা না দেখে তাঁর টাকা-পয়সা বা চেহারা দেখে বিয়ে করেন । এমন যদি কোন সম্পর্ক হয় তাহলে সে সম্পর্কের কোনও ভবিষ্যৎ থাকেনা । এমন অনেক ছেলে আছে যারা – কোন সুন্দরি মেয়ে দেখলেই বিয়ে করে নেয় । আবার কিছু মেয়ে আছে যারা – কোন ছেলের টাকা বা সুন্দর চেহারা দেখে বিয়ে করে । বাকি অন্য দরকারি জিনিস গুলি তাঁরা লক্ষ করে না । তাই আপনি যাকে বিয়ে করতে চলেছেন এই বিষয় গুলো ভাল করে খেয়াল রাখবেন । তাই জীবন সাথী নির্বাচন করার সময় দেখুন যে – সে আপনার টাকা-পয়সা বা চেহারা নয়, আপনাকে ভালোবেসে বিয়ে করছে ।

২) আপনি যদি ভালোবেসে বিয়ে করতে চান তাহলে আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে যে – সে আর আপনি যেন নিজেদেরকে মানিয়ে চলতে পারেন । এমন যেন না হয় – আপনারা বিয়ে করতে চলেছেন, অথচ কেউ কাউকে মানিয়ে নিতে পারছেন না । এরকম হলে জীবনের অনেক ক্ষতি হবে । নিজেদের মধ্যে এরকম ভুল বোঝাবুঝি যেন না হয় । যাতে বোঝাবুঝি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন ।

৩) আপনি যাকে বিয়ে করবেন এটি লক্ষ করবেন যে – সে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কতটা ভাল সম্পর্ক রাখে, বা তাঁর পরিবারের খেয়াল রাখে । কারণ, সে যদি তাঁর পরিবারের খেয়াল রাখে তাহলে সে আপনাকে ও আপনার পরিবারের সদস্যদের ও খেয়াল রাখবে । যদি সে নিজের পরিবারের খেয়াল না রাখে তবে, সে আপনার পরিবারের খেয়াল রাখবেনা । কারণ, অন্যদের খেয়াল রাখা তাঁর স্বভাবে নেই । 


৪) আপনি যাকে বিয়ে করতে চলেছেন এটা দেখে নিন যে – তাঁর জীবনে আগে থেকে অন্য কোন মানুষ আছে না নেই । সে হয়তো  আগে কাউকে ভালোবাসতো, সেই সম্পর্ক কোন কারনে ভেঙ্গে গেছে । তাঁর সাথে আগে যা হওয়ার হয়েছে, বর্তমানে তাঁর সাথে এখন কোন সম্পর্ক নেই । তাহলে আপনি তাঁকে না করবেন কিভাবে । কিন্তু, যদি দেখেন যে সে এখনও কারোর সাথে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে তবে তাঁকে বিয়ে করার জন্য নির্বাচন করবেন না । কারণ, যার মনে অন্য কারোর জন্য জায়গা আছে সে আপনাকে তাঁর মনে জায়গা কিভাবে দেবে ।

৫) যে মানুষ নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারে, এমন মানুষ জীবনে অনেক কিছু করতে পারে । আপনি যাকে বিয়ে করার জন্য নির্বাচন করবেন তাঁর মধ্যে এই গুনটি আছে নাকি দেখে নেবেন । এই সমস্ত মানুষ জীবনে যা চায় তা পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে । আমাদের জীবনে অনেক সময় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় । এই সমস্ত মানুষ নিজের সমস্যা সমাধানের পরে আপনার ও আপনার পরিবারের সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে । যদি তাঁর কাছে এই সব সমস্যার সমাধান সহজে পেয়ে যান তাহলে, আপনার কোন সমস্যা আপনাকে ক্ষতি করতে পারবেনা ।
৬) কোন মানুষের মধ্যে ব্যক্তিত্ব থাকা ভাল, তবে তাঁর ব্যক্তিত্ব যেন এমন না হয় যে সেটা অহংকারে পর্যবসিত হয় । অহংকারী মানুষ কোনটা সঠিক কোনটা ভুল সহজে বুজতে পারেনা । সে ভাবে যে তাঁর মত আর কেউ নেই, সে সবার সেরা । মনে অহংকার থাকা ভাল স্বভাব নয় । তাই যাকে বিয়ে করবেন তাঁর এই দোষটি আছে কিনা লক্ষ করুন ।

৭) এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের সম্পর্ক নিয়ে তেমন কোনও আগ্রহ দেখা যায় না । এরকম সম্পর্ক বেশি দিন টিকে না, সহজে ভেঙ্গে যায় । যদি সম্পর্কে দুজনের কোন আগ্রহ না থাকে তাহলে সেটা টিকিয়ে রাখা কঠিন । এরকম সম্পর্কের কোন মূল্য থাকেনা ।

৮) সবার শেষে বলবো বিয়ে করুন তাঁকে যার বংশ ভাল । কারণ ভাল বংশের মানুষরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের নানা গুনের অধিকারী হয় । তাঁরা তাঁদের বংশের মানুষদের মত হয়ে থাকে । তাই আমরা চাকরি করা বাড়ির লোকেদের চাকরি করতে দেখি, শ্রমিক মজুর বাড়ির লোকেরা শ্রমিক মজুর হয় ।
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় সঠিক ভাবে ঘুমনোর উপায় গুলি কি কি ?.


 আমরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা কাজ করি । বিছানায় শুলে চোখ বন্ধ হয়ে আসে । নতুন সূর্যের আকর্ষণে দেহ ও মনে নতুন শক্ত নিয়ে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে । ঘুম মানুষের জীবনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা । কিন্তু, অনেক মানুষ আছেন যারা রাতে ভালকরে ঘুমতে পারেন না । যদি আপনার রাতে সঠিক ঘুম না হয় তাহলে আপনার বিভিন্ন সমস্যা যেমন – হৃদপিণ্ডের, ফুসফুসের ক্ষতি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মানসিক উৎকণ্ঠা বাড়া ইত্যাদি দেখা যায় । মেলাটোনিন কম তৈরি হওয়ার ফলে চোখের তলায় কালি পড়ে, গায়ের রং কালো হয়ে যায় ।


  বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন কারণে ঘুম হয়না । মনে যদি চিন্তা থাকে, রাতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চা, কফি, সিগারেট খাওয়া, মদ্যপান করা ইত্যাদি । আবার অনেকে অসুস্থ থাকেন যেমন – যক্ষ্মা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, মাথার যন্ত্রণা ইত্যাদি । আবার অনেকের কোনও নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু বা বিচ্ছেদ ঘটে থাকলে ।


  ঘুম বলতে কি বোঝায় ? বিজ্ঞানীদের মতে – আমাদের মস্তিষ্কে যদি রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা যায় তবে আমাদের ঘুম আসে । আধুনিক বিজ্ঞানীদের মতে – আমাদের মস্তিষ্কে ‘হাইপোথ্যালামাস’ অংশের পিছনে বিশেষ স্নায়ুকোষ থাকে । এই স্নায়ুকোষ গুলি থেকে এক প্রকার রাসায়নিক সংকেত পাঠায়, যার জন্য আমাদের ঘুম আসে ।

  সঠিক ভাবে ঘুমনোর উপায় কি কি

১) দুশ্চিন্তা দূর করুন – বেশিরভাগ মানুষের ঘুম না হওয়ার প্রধান কারণ দুশ্চিন্তা করা । বিছানায় শুলে পৃথিবীর যত চিন্তা মাথায় ভিড় করে । বিভিন্ন কথা চিন্তা করতে করতে অস্থির হয়ে পড়েন । তখন ঘুম আসতে দেরি হয় । তাই, আপনার বিছানায় শুয়ে যে কথা ভাবলে মনে ভালোলাগা তৈরি হয় শুধু সেই কথা ভাবুন । যা ভেবে আপনি কষ্ট পান সেই চিন্তা বাদ দিন । জীবনে কোনও দুঃখের কথা বেশিদিন মনে রাখবেন না । তাতে আপনি কষ্ট ছাড়া আর কিছু পাবেন না ।

২) মনের ইচ্ছা – অনেক মানুষের জীবনে বিভিন্ন ইচ্ছা থাকে, তা পূরণ করার চেষ্টা সে সবসময় করে । কিন্তু, যখন দেখা যায় যে তাঁর মনের ইচ্ছা পূরণ হয়না তখন উৎকণ্ঠা, উৎবেগে তাঁর ঘুম আসেনা । তাই, স্বপ্ন দেখা ভাল, কিন্তু, যা পূরণ হওয়ার নয় তা পূরণ করতে গিয়ে নিজের খাওয়া, ঘুম ছেঁড়ে নিজেকে কষ্ট দেবেন না । আপনি জীবনে ততটা পাবেন যতটা আপনার পাওয়ার যোগ্যতা আছে ।


৩) সঠিক খাবার – রাতে ঘুমনোর আগে খাবারের মধ্যে উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার খাবেন না, আপনার হজমে সমস্যা হবে । রাতে খাবার পর চা, কফি খাবেন না । এগুলি আপনার শরীরে ক্যাফিনের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয় । এরফলে আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয় । লঘু ও সহজপাচ্য খাবার খাবেন । রাতে ঘুমনোর আগে পারলে এক গ্লাস দুধ বা জল খাবেন ।

৪) নির্দিষ্ট সময় – আপনি কি বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন । তাহলে আজই এই অভ্যাস বদলে ফেলুন । বেশি রাত পর্যন্ত জেগে কাজ না করে সকালে তাড়াতাড়ি ওঠে কাজ করা উচিত । কারণ – আমাদের পূর্বপুরুষ যখন বনে-জঙ্গলে থাকত তখন তাঁরা সূর্য ডোবার পর তাড়াতাড়ি ঘুমতে চলে যেতেন আর খুব সকালে উঠে পড়তেন । বর্তমানে আমরা আর ঠিক উল্টো কাজ করছি । আপনি প্রতিদিন একটি সময় নির্দিষ্ট করুন । সেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমবেন । রাত ১০ টার মধ্যে ঘুমবেন ও সকাল সকাল উঠে পরবেন । প্রতিদিন কম করে ৬-৮ ঘণ্টা আমাদের ঘুমের প্রয়োজন । অসুস্থ, বাচ্চা ও বৃদ্ধ ছাড়া দুপুর বেলা আমাদের ঘুমের তেমন প্রয়োজন হয় না । তবে কাজের ফাঁকে একটু অবসর নিলে আমাদের মস্তিষ্ক তরতাজা হয় ।  পড়াশুনা করার জন্য আমাদের উপযুক্ত সময় হল ঘুমনোর আগে ও ঘুম থেকে ওঠার পর । কারণ – এই সময় আমাদের মস্তিষ্ক বিশেষ প্রভাবশালী হয় ।

৫) শরীর পরিচর্যা – আপনি ঘুমের আগে আপনার শরীরের কিছু পরিচর্যা করতে পারেন । ঘুমের আগে মাথায় চিরুনি করলে মস্তিষ্কের ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় । এরফলে আমাদের সহজে ঘুম আসে । প্রতি সপ্তাহে একদিন ঘুমের আগে ত্বকের পুষ্টির জন্য আঙুর, স্টবেরি, দুধ, মুলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারেন । ঘুমের আগে অবশ্যই মুখের মেকআপ তুলে ফেলবেন ।


 শোয়ার আগে যদি আপনার শরীর ম্যাসেজ করতে পারেন তাহলে খুব ভাল হয় । হাত, পা ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে নেবেন । চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিতে পারেন । হালকা ও ঢিলেঢালা জামা কাপড় পরে ঘুমবেন । হালকা গরম জল দিয়ে ত্বক ও শরীর পরিষ্কার করে নিলে খুব ভাল হয় ।

৬) বিছানা – বিছানার সঙ্গে ঘুমের একটা সম্পর্ক আছে । শোয়ার আগে বিছানা গুছিয়ে নিয়ে ভালকরে দেখে নিন । প্রতিদিন অবশ্যই মশারি ব্যবহার করবেন । মশারির মধ্যে মশা, পিঁপড়ে, পোকামাকড় বা অন্য কোনও বস্তু আছে কিনা দেখে নেবেন । বিছানা সবসময় পরিষ্কার রাখবেন । বেশি নরম বা বেশি শক্ত বিছানা ও বালিশ ব্যবহার করবেন না । ঘুমের সময় আপনার শিরদাঁড়া সোজা রাখবেন । দুটো বালিশ ব্যবহার না করলে ভাল হয় ।

৭) ঘুমের পরিবেশ – ঘুমনোর আগে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন । বিছানায় শোয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে থেকে মোবাইল, টিভি বা ইলেক্ট্রনিক বস্তু ব্যবহার বন্ধ করুন । ঘরটিতে যতটা সম্ভব অন্ধকার বা হালকা আলো থাকে । শোয়ার আগে জোরে জোরে কথা বলা বা গান শুনবেন না । আপনার যাতে সহজে ঘুম আসে ঘরটি যেন তেমন ঠাণ্ডা হয় । ডাক্তার ছাড়া অন্য কারোর ওষুধ খাবেন না ।


৮) শোয়ার ধরন – ঘুমনোর জন্য চিত হয়ে শোওয়া সব থেকে ভাল । তবে সারারাত একই ভাবে শুয়ে থাকবেন না । আপনার যে ভাবে শুলে আরাম হয় আপনি সেভাবে শুবেন । সারা শরীর ছড়িয়ে, এলিয়ে বা টান টান হয়ে শোবেন না । দুটি হাঁটুর তলায় একটি কোল বালিশ নিতে পারেন ।

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৯

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে কি রহস্য লুকিয়ে আছে ?.


  আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল যাকে আবার শয়তানের ট্রায়াঙ্গল বলা হয়, সেখানে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ? যেখানে জাহাজ বা উড়োজাহাজ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় । কাজ করা বন্ধ করে দেয় চুম্বক কারণ হিসাবে অনেকে মনে করেন স্বাভাবিক দুর্ঘটনা, আবার অনেকে মনে করেন যে আর জন্য দায়ী  কোনও অতিপ্রাকৃতিক শক্তি বা ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতি এর পিছনে কি কারণ রয়েছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি । নেই কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা । বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন অতিরঞ্জিত লেখাতে জায়গাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে ।

  বারমুডা দ্বীপদেশটি গঠিত ১৪৫ টি দ্বীপ নিয়ে । সব দ্বীপগুলি কোরাল দিয়ে তৈরি । মোট আয়তন ২১ বর্গমাইল । এই দ্বীপগুলির মধ্যে ১২০ টির নাম করণ করা হয়েছে । এর মধ্যে মাত্র ২০ টি দ্বীপে জনবসতি গড়ে উঠেছে । এদের মধ্যে সবার বড়ো দ্বীপটির নাম বারমুডা, যার রাজধানী হ্যামিলটন । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বাধিক উচ্চতা ২৬০ ফুট । স্পেনের এক সমুদ্র সন্ধানী ব্যক্তি যার নাম জুয়ান বারমুডেজ তিনি ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে এই দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার করেছিলেন । তাঁর নাম অনুসারে এই দ্বীপপুঞ্জের নাম রাখা হয়েছে । বর্তমানে ব্রিটিশ উপনিবেশ হলেও বারমুডার স্বায়ত্ত শাসনের অধিকার আছে ।


 এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের অবস্থান আটলান্টিক মহাসাগরের ঠিক কোথায় তা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে এক মতানুসারে - আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের উপর একটি ত্রিভুজাকৃতি অঞ্চল কল্পনা করা হয় । যাকে বলা হয় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলফ্লোরিডা বন্দরের শেষ প্রান্তকে একটা বিন্দু ধরে সেই বিন্দুর সাথে বারমুডা আর পুয়ের্তো রিকো দ্বীপ দুটোকে যোগ করা হলে যে ত্রিভুজ তৈরি হয় তাকেই বলে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলএর মধ্যে পড়ে পুয়ের্তো রিকো, বাহামাস আর বারমুডা । অন্য মতানুসারে – ফ্লোরিডা প্রণালী, বাহামাস ও সমগ্র ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ সহ পূর্ব অ্যাটলান্টিক অঞ্চল পর্যন্ত এর অবস্থান ।

  ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ১৪ জন বিমান শিক্ষানবিশ তাঁরা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর ফ্লোরিডা থেকে রওনা দিয়েছিল । কিন্তু দেড় ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর পাইলট বুঝতে পারেন কোনও একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে । কিন্তু কি সেই সমস্যা তিনি বুঝতে পারলেন না । একসাথে তিনটি কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে । পশ্চিম দিকে যাওয়ার কথা হলেও পশ্চিম দিক কোনটা তিনি বুঝতে পারছেন না । স্রোত যেন এখানে থেমে গিয়েছে । বিমান যত এগোচ্ছে সামনে অল্প আলো দেখা যাচ্ছে । কিন্তু কি সেই আলো বোঝা যাচ্ছেনা । বিমান চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে । এই বিমানটি আর ফিরে আসেনি । তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি । সেইদিন এই বিমানটিকে খোঁজার জন্য আরও একটি বিমান পাঠানো হয় । ১৩ জন মানুষ সমেত সেই বিমানটি রওনা দেওয়ার ২৭ মিনিট পর হারিয়ে যায় । কোথায় হারিয়ে গেল পর পর দুটি বিমান, তার উত্তর এখন অজানা । বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর The Associated Press পত্রিকায়

  এইরকম ঘটনা প্রথম নজরে আসে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের, তিনি যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন । তিনি এক জায়গায় গিয়ে দেখলেন যে – এখানে কিছু আলো চকচক করছে । সমুদ্র একেবারে স্থির হয়ে আছে । কিন্তু সেগুলি কিসের আলো সেটা বোঝা যাচ্ছেনা । যেন মনে হয় রাস্তা এখানে শেষ হয়ে গিয়েছে । কম্পাস ও চুম্বক সব কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে । জাহাজ আর এগোবেনা


 
১৮৭২ সালে ‘মারি সেলেস্ত’ নামের একটি মালবাহী জাহাজ নিউইয়র্ক বন্দর থেকে রওনা হয়ে অনেকদিন কেটে যাওয়ার পর যখন সেটি গন্তব্যে পৌঁছায়নি, তখন তার খোঁজ শুরু করা হয় । সেই জাহাজটিকে
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কাছে পাওয়া যায় সবকিছু অক্ষত ছিল কিন্তু, জাহাজের ১১ জন কর্মীকে পাওয়া যায়নি ।

  ১৯১৮ সালে এরকম ‘ইউএসএস সাইক্লোপস’ নামক একটি জাহাজ আমেরিকা যাচ্ছিল, সেই জাহাজ আর ফিরে আসেনি । ৩০৯ জন যাত্রীসহ কোথায় গেল তার হিসাব পাওয়া যায় না ১৯৩৬ সালে ‘মেরিন সালফার কুইন’ নামে একটি জাহাজ ১৫ হাজার টন গলিত সালফার ও ৩৯ জন নাবিক নিয়ে  নিখোঁজ হয়ে যায় ।

  ১৯৩৭ সালে একটি উড়োজাহাজ ফ্লোরিডার উপকূলের আকাশে উধাও হয়ে গিয়েছিল কিন্তু, তাঁর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়না কোনও স্থানীয় খবরের কাগজে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়না ১৯৪১ সালে ‘ইউএসএস প্রটিয়াস’ ও ‘ইউএসএস  নিরিয়াস’ নামের দুটি জাহাজ নিখোঁজ হয়ে যায়


  ১৯৫৮ সালে ফ্লোরিডাতে একটি ঘটনা ঘটে  হার্ভি কোনভার নামে এক ব্যবসায়ী তার ইয়াচ নিয়ে প্রচণ্ড ঝড়ের মুখে পড়ে ঝড়ের উল্টো দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাকে তাঁর ইয়াচকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি

   ১৯৬৭ সালের একটা ঘটনা, উইচক্র্যাফট নামে একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন যখন জানালেন যে ইঞ্জিনের গোলমাল দেখা দিয়েছে, তখন সেই জাহাজটি নোঙর করা থেকে মাত্র ১ মাইল দূরে ছিল । কিন্তু, কোস্ট গার্ড যখন সেখানে পৌঁছল সেই জাহাজকে সেখানে পাওয়া গেলনা ।

  অ্যালাম অস্টিন তিনি জাহাজ নিয়ে গিয়েছিলেন এখানে কি আছে তা নিয়ে গবেষণা করার জন্য । তিনি দেখেন সেখানে একটি ছোট জাহাজ আছে । ছোট জাহাজের লোকেরা অস্টিনকে চিনতেন । কিন্তু, রহস্য সমাধান করার আগে সেই ছোটো জাহাজটি হারিয়ে যায় । অস্টিনরা সেই জাহাজের আর কোনও নাগাল পাননি


 
এই রহস্য সমাধানের জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা করেছেন ও এখনো চেষ্টা চালাচ্ছেন । প্রচুর গবেষণার পর ২০১৬ সালের ৪ মার্চ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে
, তাতে জানা যায় যে প্রায় ৩০০ টির মত জাহাজ আর ৭৫ টির মত বিমান নিখোঁজ হয়েছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যের কারন -

 বারমুডাতে এত রহস্যের কারন হিসাবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে । সমুদ্রের প্রচণ্ড ঝড়ের জন্য এমন ঘটনা হতে পারে । ক্যারিবিয়ান হ্যারিকেন প্রচণ্ড শক্তিশালী, বহু মালবাহী জাহাজ এই ঝড়ে ডুবে গেছে । এরফলে কত প্রাণহানি হয়েছে । এখানে এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে ।

 সমুদ্রের স্রোতের জন্য এরকম হতে পারে । মেক্সিকো উপসাগরে এই স্রোতের গতি সেকেন্ডে ২.৫ মিটার । ছোটো প্লেন বা নৌকার যদি গোলমাল দেখা যায় তবে এই স্রোত তাকে অনেক দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ।


 
এখানে রয়েছে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক, যার ফলে এখানে কোনও কম্পাস ও চুম্বক কাজ করে না । এখানে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক কুয়াশা । এরফলে বিমান বা জাহাজের চালকরা দিক ভুল করেন । এভাবে তাঁরা রাস্তা হারিয়ে ফেলে । এখানে রয়েছে একটি গুপ্ত নদী, সেটি সধারন অবস্থায় শান্ত থাকে । যখন কোনও জাহাজ সেখান দিয়ে যায় তখন তাঁর ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ডে পড়ে সেগুলি হারিয়ে যায় ।

 সাগরের অগভীর অংশে প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে, তার থেকে অনেক সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে । তারপর ধ্বংসাবশেষ ভেসে ওঠে সেগুলি অনেক দূরে ভেসে যায় । আবার জলদস্যুরা জাহাজ লুটকরে জাহাজ ডুবিয়ে দেয় । ড্রাগ পাচারকারীরা ছোটো ছোটো ইয়াচ চুরি করে ।

 অনেকে মনে করেন এখানে রয়েছে অ্যালিয়ান । তাঁরা এখানে স্পেস যানে করে এসেছিল । আবার অনেকের মতে এখান থেকে কোনও অন্য দুনিয়াতে বা অন্য কোনও গ্রহে পৌঁছনো যায় । যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই ।


আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।