বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯

বিভিন্ন যোগ ব্যায়াম ও তাদের উপকারিতা কি কি ?


  যোগ শব্দটি ভারতীয় সভ্যতায় বহু প্রাচীন । ব্যায়াম কথার অর্থ নিয়মিত অঙ্গ চালনা । একটি বিশেষ ভঙ্গিতে মনঃ সংযোগ করে কিছু সময়ের জন্য স্থির ভাবে অবস্থান করাকে বলে আসন বা যোগাসন । শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে নিয়মিত যোগ ব্যায়াম আভ্যাস করার প্রয়োজন । প্রাচীনকালে আশ্রমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের বেদ আভ্যাসের সাথে সাথে শরীর গঠনের জন্য যোগাসন অনুশীলন করতে হত ।  যোগাসন অনুশীলন করলে দেহ সুগঠিত হয়, শরীর ও মনের বিকাশের জন্য সহায়তা করে । নীচে আপনি অভ্যাস করতে পারেন এমন কয়েকটি যোগাসনের প্রনালি ও উপকারিতা দেওয়া হল । সব গুলোর প্রনালি ও উপকারিতা জানতে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন 


১) পদ্মাসন – পদ্মাসন আভ্যাসের সময় পা দুটি এমন ভাবে একটির উপর অপরটি থাকে, যাতে পায়ের অবস্থান পদ্মের পাপড়ির মত দেখায় । বাম উরুর উপর ডান পা, ডান উরুর উপর বান পা রাখতে হবে । এই অবস্থায় দু হাঁটু মাটিতে ঠেকে থাকবে । মেরুদণ্ড সোজা রেখে বাম হা ত ডান উরুর উপর, ডান হাত বাম উরুর উপর রাখতে হবে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে ।

উপকারিতা ধ্যান ধারনা অভ্যাসের জন্য এই আসন গুরুত্বপূর্ণ । এই আসনে পায়ের বাত দূর হয় । মেরুদণ্ড সরল  ও নমনীয় হয় । পায়ের পেশি সবল হয় । মানসিক একাগ্রতা ও ধৈর্য বৃদ্ধি পায় । পড়াশুনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পায় ।
২) ভুজাঙ্গসন – এই আসন করার সময় কোমর থেকে দেহের উপরের অংশকে উপরে তুলতে হয় । এই আসন করার সময় শরীর ভুজঙ্গ বা সাপের ফনা তুললে যেমন হয় সেভাবে দেখায় । পা দুটি জোড়া ও সোজা রাখা অবস্থায় চিবুক মাটিতে রেখে উপুড় হয়ে শুতে হবে । দু হাতের তালু বুকের দুপাশে এমন ভাবে রাখতে হবে যেন আঙুল কাঁধের সমান ও কনুই কোমরের সঙ্গে লেগে থাকে । এবার হাতে ভর না দিয়ে কোমরের জোরে বুক ও নাভির উপর অংশ উপরে তোলার চেষ্টা করুন । এই অবস্থান ৪০-৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত করবেন । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে ।
উপকারিতা – এই আসনের দ্বারা কোমর, বুক, পীঠ, শিরদাঁড়া, পাকস্থলীর কাজ ভাল হয় । মেরুদণ্ডের বক্রতা দূর হয়  মেরুদণ্ডের সামনের অংশে স্নায়ুতন্ত্র গুলি সলরতর হয় ।
৩) শবাসন – এই আসন অভ্যাসের সময় শব বা মড়ার মত নিঃশব্দে শুয়ে থাকে, তাই একে শবাসন বলে । পা দুটি সোজা সরল রেখে দেহ শিথিল করে চিত হয়ে শুয়ে পড়তে হবে । পা দুটো যেন লম্বা লম্বি ভাবে শরীরের দুপাশে থাকে ।শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে । এমন ভাবে শুয়ে থাকতে হবে যেন আপনার মনে কোন চিন্তা ভাবনা নেই । অন্যান্য আসন করার শেষে শবাসন করা যায় । উপুড় হয়ে শবাসন করা ঠিক না ।
উপকারিতা - শবাসন করার ফলে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায় । শরীরে নতুন কর্ম শক্তি আসে । মানসিক উত্তেজনা, চঞ্চলতা, অনিদ্রা, অবসাদ প্রভৃতি  এই আসনের দ্বারা দূর হয় ।
৪) বজ্রাসন পা দুটি পিছনের দিকে মুড়ে গোড়ালি দুটো কিছুটা ফাঁক রেখে তার উপর বসতে হবে । মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত দুটি দুই উরুর উপর সোজা ভাবে রাখতে হবে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে । প্রথম দিকে কিছুটা অসুবিধা হলেও অভ্যাস করতে পারলে পরে আর কোনো অসুবিধা হবে না ।
উপকারিতা  অম্বল, বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি পেটের রোগ ভাল হয় । নিয়মিত আভ্যাস করলে সায়টিকা বাত, পায়ের বাত ইত্যাদি হয় না । পায়ের পেশি ও স্নায়ু সবল হয় ।
৫) ধনুরাসন – ধনুরাসন করার সময় অনেকটা ধনুকের মতো দেখতে লাগে । শরীর শিথিল করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন ।পা দুটি হাঁটুর কাছ থেকে নিয়ে পিঠের দিকে এনে দু হাত দিয়ে গোড়ালি শক্ত করে ধরুন । পা ও হাঁটু জোড়া রাখার চেষ্টা করুন । এখন হাত দিয়ে গোড়ালি টেনে ধীরে ধীরে মাথা, বুক ও পা মাটি থেকে তুলুন  ঘাড় যতটা পারেন পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে ।
উপকারিতা – এই আসন অভ্যাসের ফলে লিভারের সমস্যা, কোষ্টকাঠিন্য, পেটে ও কোমরে চর্বি জমা হওয়া থেকে মুক্তি দেয় । মেরুদণ্ড নমনীয়, কুঁজো ভাব দূর হয় । বুকের বেষ্টনী বাড়াতে সাহায্য করে ।
৬) সূর্য নমস্কার – প্রাচীন কালে মুনি ঋষিরা যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করার আগে শরীরকে যোগ ব্যায়াম অভ্যাসের উপযোগী করে তোলার জন্য এই আসনটি করতেন । ভঙ্গি গুলি একটা ছন্দময়য় গতিতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত করতে হয় ।
উপকারিতা –  অল্প সময়য়ের মধ্যে দেহের জড়তা কেটে যায় । দেহ যেকোনো কাজের উপযোগী হয়ে ওঠে । বুকের, কোমরের, পীঠের, হাতের, কাঁধের ও পায়ের পেশি সুগঠিত হয় । শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, শ্বাসযন্ত্র  সবল হয় ।
 ৭) সহজ প্রানায়ন – আমাদের শ্বাসকার্যে প্রধান ভূমিকা নেয় ফুসফুস । ফুসফুসের ক্ষমতার অর্ধেকের কম অংশ ব্যবহার হয় । সহজ প্রানায়নের উদ্দেশ্য হল যে ফুসফুসের সম্পূর্ণ অংশকে ব্যবহার করে দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ানো । যে কোন আসনে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে । যখন আর শ্বাস নেওয়া যাচ্ছেনা তখন আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়তে হবে । যতটা সময় নিয়ে শ্বাস নেবেন তার থেকে বেশি সময় নিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে ।
 উপকারিতা -  ফুসফুসের জন্য খুব উপকারী । মানসিক একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে । দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে । সর্দি, কাশি হাঁপানি ভালো হয় । দেহের বাইরে দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায় ।
  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯

আপনার সাস্থ্য রক্ষার জন্য কি কি খাবার খাবেন ?


  সাস্থ্য মানুষের সব থেকে বড় সম্পদ । সেই সম্পদকে যদি ভাল রাখতে চান তাহলে খাওয়ার সময় কতগুলি কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে । কোন খাদ্যে কি গুন তা আগে আমাদের ভাল করে জানতে হবে । আপনি কোন কোন খাবার খাবেন তা আপনার জানার প্রয়োজন । সঠিক ভাবে খাবার খাওয়ার ফলে আপনি একজন স্বাস্থ্যবান পুরুষ বা মহিলা হয়ে ওঠবেন । এখন আমি জানাবো যে, আপনি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কোন কোন খাবার খাবেন। সবকিছু জানতে হলে লেখাটি শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ুন ।

  কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কলা পাতাতে খাওয়ার প্রচলন ছিল, এখন আর নেই বলা যায় । আপনি কি জানেন যে কলা পাতায় ভাত খেলে ২৮ টি রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন । মাটিতে আসন পেতে খেতে হবে । কলা পাতায় সাইট্রিক অ্যাসিড, ক্যারোটিন, ভিটামিন ’,  ভিটামিন সি’, ক্যালসিয়াম গুন বিশিষ্ট ট্যানিন পাওয়া যায় । বীচিকলা, কাঁঠালি কলার মোচা স্বাস্থ্যের জন্য খাওয়া ভাল ।

  যারা নিরামিষ খাবার খান আপনারা যা যা খাবেন কচু, ওল, ছানা, দুধ, ডুমুর, সজনে ডাঁটা, থোড়, মোচা, কলা, আম, চালকুমড়ো, পেঁপে, পটল, উচ্ছে, করলা, লাউ, মুলো, ঝিঙে, ডাল, টকদই ইত্যাদি । আলুতে ব্লাড সুগার হয় তাই ডালে আলু না খাওয়া ভাল ।

  দুপুরে ঘুমলে বা বেশি খেলে যাদের অম্বল হয় তাঁরা খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট পর জল খান । একটু বেশি করে জল খাবেন । অম্বল হলে স্যালাড, টক খাবেন । স্যালাড বানান মুলো, টম্যাটো, পিয়াজ, শসা, গাজর বিট দিয়ে । স্যালাড ছাড়া হাতের তৈরি রুটি খাবেন না ।


  গরম জল আর পাতিলেবুর রস একসাথে খেলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় । যাদের প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হয় তাঁরা লেবুর রস দিয়ে অনেকটা পরিমাণে জল খাবেন । জল কম বা বেশি খেলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায় । তাই পরিমাণ মত জল পান করুন । সারা দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার জল খাবেন ।

  দুধ এমন একটা খাবার যা শিশুদের জন্য সকল দরকারি উপাদান সঠিক পরিমাণে পাওয়া যায় । দুধ খেলে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয় পূরণ, দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে পরিচালনা ও দেহের উষ্ণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ।
  আমাদের শরীরে জীবনী শক্তি বাড়াতে, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে, দেহে শক্তি জোগাতে যে উপাদানের প্রয়োজন হয় তা হল ভিটামিন । ভিটামিন এ থেকে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ইনফুয়েঞ্জা, কান ও চোখের রোগ সারানোর ক্ষমতা থাকে । শাকসবজি, ফল, দুধ, ডিম, মাখন, পালংশাক, গাজর, বাঁধাকপি, পাকা আম, টম্যাটো, খাসির চর্বি, মটর শুটি, রাঙা আলু, পাঁঠার মেটুলি ইত্যাদিতে ভিটামিন এ থাকে ।

  ভিটামিন বি এর অভাবে মুখে জিভে ঘা, ওজন কম, স্তনে দুধের অভাব, বেরি-বেরি, অজীর্ণ শীর্ণতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রভৃতি রোগ দেখা যায় । সয়াবিন, মাছের ডিম, দুধ, লেবু, মাংস, ছানা, ছোলা, নারকেল, ডিমের কুসুম, ছাতু, আলু, কমলা লেবু, চিনা বাদাম ইত্যাদিতে ভিটামিন বি থাকে ।


 ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি, দাঁত ও অস্থির অপুষ্টি, খিটখিটে ভাব, শিশুদের ওজন কম হওয়া ইত্যাদি দেখা যায় । দুধ, দই, লেবু, টম্যাটোবাঁধাকপি, রাঙা আলু, তরমুজ, আনারস, আপেল, ছোলা, পালংশাক ইত্যাদিতে ভিটামিন সি থাকে ।

   ভিটামিন ডি ও ই পাওয়া যায় - কর্ড লিভার ও সার্ক লিভার তেল, দুধ, মাখন, ডিমের কুসুম, সূর্যের আলো । বাদাম, নারকেল কলা, মাংস, ডিম ইত্যাদিতে ভিটামিন ই পাওয়া যায় ।

 ব্লাড সুগার আছে যাদের তাঁরা সকালে খালি পেটে হাঁটবেন । হাই প্রেশারের রোগীরাও সকালে হাঁটবেন । লো প্রেশারের রোগীরা বেশি বিশ্রাম নেবেন । উপবাস বিনা কারনে করবেন না । হাঁপানির রোগীরা কাঁকড়া খাবেন না, বেশি কথা বলবেন না । রাতে খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমাতে যাবেন না, আধ ঘণ্টা পরে ঘুমবেন । দিনের বেলা ঘুমবেন না, বাচ্চা, বয়স্ক ও রোগীরা ঘুমবেন ।

   ভাঙ্গা ডিম খাবেন না, কারন এতে সংক্রামক রোগ দেখা যায় ।  ইলিশ মাছ, ডিম, কাঁকড়া, বেগুন বেশি না খাওয়া ভাল । মাছ, মাংস, দুধ একসাথে খাবেন না । ইলিশ মাছ পর পর কয়েক দিন খাবেন না । ভরা পেটে ঘি খাবেন না । বাচ্চারা রেগে রাত্রে না খেয়ে ঘুমান ঠিক না । পর পর কয়েক দিন এরকম করলে পরে বড় ধরনের রোগ হতে পারে ।

 বেশি ভাজাভুজি খাবার খাবেন না । রঙ দেওয়া খাবার যেমন-মিহিদানা, বোঁদে, কমলা ভোগ বেশি খাবেন না । গরম খাবারের পর ঠাণ্ডা খাবার, বা ঠাণ্ডা খাবারের পর গরম খাবার খাবেন না । সারা জীবন সুস্থ সুন্দর থাকার জন্য খাবার খান সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে ।

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯

আপনি জীবনে যে ৫ টি কারনে সুখী হতে পারেন না ?


 আমরা প্রতিটি মানুষ জীবনে সুখী বা হ্যাপি হতে চাইকিন্তু সবার জীবন সমান নয় । তাই সবাই সমান সুখী হতে পারেন না । বাস্তব জীবনে সুখী মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম আসলে সুখী থাকা ব্যাপার টা আমাদের একটা আবেগ বা অনুভূতি বলা যায় । আমরা যদি নিজেকে সুখী ভাবি তো আমরা সুখীআর যদি ভাবি আমার মত অসুখী মানুষ আর পৃথিবীতে কেউ নেই তো আপনি সেটাই হবেন । তাই বলছি আপনি যদি আপনার ভাবনা বদল করতে না পারেন তাহলে কোনদিন সুখী হতে পারবেন না । নিচে আমি আপনাদের কয়েকটি কথা বলবোআশা করি আপনি যদি সেগুলি মেনে চলতে পারেন জীবনে সুখী থাকতে পারবেন ।

১) অতীতের কথা – সব মানুষ বেশির ভাগ সময় অতীত নিয়ে পড়ে থাকে । যখন আপনি একলা থাকেন তখন আপনার মনে শুধু অতীতের খারাপ কথা গুলো মনে পড়েআর নিজেকে কষ্ট দেন । অতীতের যা ঘটেছে তা আপনার হাতে ছিলনাআপনি আর তা পরিবর্তন করতে পারবেন না । হয়তো আপনার জীবনে কোন বড় ঘটনা ঘটেছেতা নিয়ে দিনের পর দিনমাসের পর মাস কাটিয়ে দিচ্ছেন । এগুলো ভেবে সময় না কাটিয়ে ভবিষ্যতে কি করবেন তা  ভাবুন । যা জীবনের দুঃখের কারণ তা না ভাবাই উচিৎ । আজ এখন থেকে অতীতের কথা ভোলার চেষ্টা করুন । সমাজে থাকলে অনেক মানুষ অনেক কথা বলবে তাতে কান না দিয়ে নিজের কাজে নিয়ে থাকুন ।
২) জীবনের চাওয়া-পাওয়া – আমাদের মানুষ জীবনে চাওয়ার পাওয়ার কোন শেষ নেই । যে জীবনে যত পায় সে আরও বেশি বেশি চায় । আপনার যা আছে তাই নিয়ে সুখী থাকার চেষ্টা করুন । একবার ভেবে দেখেছেন কি আপনার থেকেও পৃথিবীতে আরও দুঃখী মানুষ বেঁচে আছে । আপনি হয়তো জীবনে কোন কিছু হতে চান বা করতে চান কিন্তু মনের মত করতে পারছেন না । সময় নিয়ে কাজ করুন জীবনে একদিন আপনার ও আসবে । কখন নিজেকে অন্যের থেকে ছোট ভাববেন না । জীবনে চাওয়ার একটা সীমা থাকে এর বেশি চাইলে আপনি পাবেন কি করে । আপনার যোগ্যতা অনুসারে আপনি ঠিক ততটা পাবেন ।
৩) নিজেকে সুখী না ভাবা – আপনি যদি সুখী হতে চান তো আপনাকে ভাবতে হবে যে আপনি সুখী । এখন আমি আপনাদের একটি গবেষণার কথা বলবো । এমন কিছু মানুষদের নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল যারা ছিল অসুস্থ । তাঁরা জানতেন না যে তাঁদের নিয়ে কোন গবেষণা করা হচ্ছে । কয়েকদিন চিকিৎসার পর তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে আপনারা কেমন আছেন । তাঁরা উত্তর দেয় যে তাঁরা আগের থেকে ভাল আছেন ও সুস্থ হচ্ছেন ।  কিন্তু আসল কথাটা শুনলে আপনি চমকে যাবেন । তাঁদের যে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল সেগুলি কোন ওষুধ ছিলনা ছিল চিনির দানা । এই গল্পের দ্বারা আমরা কি শিখলামসুখী থাকাটা নিজের উপর ও কিছুটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে । আপনি আর আপনার পরিবেশ যদি ভাল রাখতে পারেন তাহলে সুখী হরে কোন বাঁধা থাকবেনা ।

৪) মনের কথা চেপে রাখা – আমরা কি করি আমাদের জীবনের না বলা কথা গুলো কাউকে না বলতে পেরে নিজে নিজে দুঃখ পাই । না বলা কথা মনের মধ্যে চেপে রাখবেন না আপনার নিকট আত্মীয় বা বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন । তাতে আপনার মনের কোনে চেপে রাখা দুঃখ কিছুটা হালকা হবে । তবে হ্যাঁ সেই মানুষদের বলবেন যারা সত্যি কারের আপনার ভাল চায় । যারা সামনে বন্ধু আর বাইরে শত্রু তাঁদের ভুলেও একদম এসব কথা বলতে যাবেন না ।
৫) নিজেকে ব্যস্ত রাখা – কর্মময় জীবনই সুখী হওয়ার সবচেয়ে মোক্ষম উপায় সারাদিনের কাজের একটি নির্দিষ্ট রুটিন সাজিয়ে নিন আপনি যদি নিজেকে সব সময় কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখতে পারেন তাহলে আপনার একা একা থাকার সময় থাকবেনা । যখন আপনি একলা থাকেন তখন আপনার মধ্যে যত রাজ্যের আজে বাজে চিন্তা ভাবনা চলে আসে । কাজের মধ্যে থাকলে আপনার আর চিন্তা ভাবনার করার সময় থাকবেনা । যখন আপনি একা থাকেন তখন বই পড়তেগান শুনতেবন্ধুদের নিয়ে খেলা করতে পারেন । আপনার যদি বিশেষ কোন শক বা হবি থাকে সেটা করতে পারেন ।

 কিছুদিন এ রুটিন মেনে চলুন, আশা করি আপনি সুখী মানুষ হিসাবে সুখ অনুভব করবে । সেই সঙ্গে সর্বদা মনে রাখবেন, সুখ অর্থ বিত্তে থাকেনা । সুখ রয়েছে দায়িত্বশীলতায়, সুখ আসে নিয়মানুবর্তিতায় ও সত্যবাদিতায়
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।
আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনাকে সত্যি ভালোবাসে কিনা বুঝবেন কিভাবে ?.
ফেসবুকে ভুয়ো বা ফেক প্রোফাইল চেনার উপায় গুলি কি কি ?.
কোন মানুষকে প্রভাবিত করে তার মনে আপনার স্থান কিভাবে করবেন ?.
আপনি জীবনে সাফল্য লাভ করবেন কিভাবে ?.
জীবনে ধনী মানুষ হওয়ার বিভিন্ন উপায় কি কি ?.

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯

আপনার ত্বকের যত্ন ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে করবেন ?


   আমাদের শরীরের মধ্যে সবথেকে বড় অঙ্গ হল আমাদের ত্বক । তাকে যত্ন করা আমাদের অবশ্যই দরকার । সুন্দর ত্বক বলতে আমরা বুঝি পরিছন্ন, কোমল, মসৃণ, সজীব ত্বক । এক জন মানুষের শরীরে ত্বকের ওজন হয় আড়াই থেকে সারে তিন কেজি । সুন্দর ত্বকের সম্মান অর্জন করতে হলে ত্বকের নিয়মিত পরিচর্যা করবেন, অযত্ন ও অবহেলা করলে ত্বকের ক্ষতি হবে ।


  ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে আমাদের জানতে হবে ত্বকের গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে । আমাদের এই গরম দেশে প্রধানত চার ধরনের ত্বক দেখা যায় ১) স্বাভাবিক, ২) তৈলাক্ত, ৩) শুষ্ক, ৪) মিশ্র  আপনার ত্বক কি রকমের তা জানার জন্য আপনি সকালে ঘুম থেকে ওঠে একটি টিসু পেপার নিয়ে গালে, কপালে, নাকের দুপাশে, থুতনিতে না ঘসে কিছুক্ষণ চেপে রাখুন । এরপর টিসু পেপারটি দেখুন, যদি দেখেন টিসু পেপারে হালকা তৈলাক্ত ভাব আছে সেই ত্বক স্বাভাবিক । তেলতেলা বা ভিজে ভাব এই ত্বকে থাকেনা ।


    টিসু পেপারে যদি তেলের ছাপ বেশি থাকে সেই ত্বক হয় তৈলাক্ত । গরম কালে ত্বক বেশি তেলতেলা হয় । মেকআপের পর এই ত্বকে বেশি তেলা ভাব দেখা যায় ।

   এবার দেখুন যে টিসু পেপারে প্রায় তেলের ভাব নেই, এই ত্বক শুষ্ক ত্বক । পাতলা ও বলিরেখা এই ত্বকে দেখা যায় । শুষ্ক ত্বক প্রায় ফেটে যায়, শীতকালে আরও শুষ্ক ও ফাটা দেখায় ।

   আবার অনেক মানুষের মিশ্র ত্বক দেখা যায় । শরীরের বিভিন্ন অংশে এদের তৈলাক্ত ভাব থাকে যেমন কপাল, নাক, চিবুকে । বাকি অংশ শুষ্ক দেখা যায় ।


     আপনার  ত্বকের পরিচর্যা করার জন্য কতগুলি নিয়ম পালন করতে পারেন । পরিছন্নতা ত্বকের  সৌন্দর্য নির্ভর করে আমরা কতটা ত্বককে পরিষ্কার, পরিছন্ন থাকি তার উপর । সবসময় চেষ্টা করবেন যতটা পারেন নির্মল, পরিষ্কার, পরিছন্ন থাকার । শরীরে ধুলো, অপরিছন্ন চুল, নখের নীচে ময়লা ইত্যাদি ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণ । ত্বকের ময়লা দূর করার জন্য জলের দরকার । প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল খাবেন । স্নানের সময় ঠাণ্ডা ও গরম দুধরনের জল ব্যবহার করুন ।

   খাবার খাওয়ার সময় সতেচন হতে হবে । হজমের গণ্ডগোল হলে ত্বকের স্বাস্থ্য খারাপ হয় । পেট পরিষ্কার ও হজম ভাল হলে ত্বক সজীব ও টান টান হয় । প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফল ও শাক সবজি জাতীয় খাবার ত্বকের জন্য খাওয়া দরকার ।
   ঘুম বা নিদ্রা প্রতিটি মানুষের জন্য একান্ত প্রয়োজন । আজ কালকার সময় আমরা ঘরে বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকি, তবু নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হওয়াটা জরুরি । ত্বককে ভাল রাখতে বাইরের নির্মল হাওয়া ও রোদের প্রয়োজন । আপনি যদি ব্যায়াম করতে পারেন তাহলে নিয়মিত, বিধিসম্মত ব্যায়াম করতে পারেন । ব্যায়াম করলে ত্বক সুন্দর হয় ।


    ১) স্বাভাবিক ত্বক -  স্বাভাবিক ত্বকের সমস্যা অনেক কোন হয় । হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে, ঠাণ্ডা জল দিয়ে ঝাপটা দেবেন । সারাদিনে কমকরে ৫-৬ বার জলের ঝাপটা দেবেন  ঘরোয়া ভাবে সাবান বা বেসন ব্যবহার করতে পারেন । ২-৩ চামচ বেসন জল দিয়ে গুলে সারা গায়ে মেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । পাতিলেবুর রস, শসার চাকা, আলু থেঁতো ব্যবহার করতে পারেন । স্বাভাবিক ত্বক যাদের তাঁরা সপ্তাহে ১-২ দিন ফেসপ্যাক লাগাতে পারেন । রাতে শোবার আগে মুখ, হাত, পা, পরিষ্কার করবেন । ডিমের কুসুম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক করতে পারেন ।

  ২) শুষ্ক ত্বক – একবার গরম জল আবার পরে ঠাণ্ডা জল দিয়ে সকাল, সন্ধ্যা, রাতে মুখ ধুতে হবে । ডিমের কুসুম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক সপ্তাহে ২-৩ দিন লাগাতে হবে । পরে ঠাণ্ডা জলে মুখ ভাল করে ধুয়ে নেবেন । ময়শ্চারিং লোশন লাগানর পর তুলো দিয়ে মুখ ভাল করে পরিষ্কার করবেন ।

  ৩) তৈলাক্ত ত্বক – চন্দন না লেবুযুক্ত সাবানের ফেনা ভাল করে মাখবেন । দিনে একবার ময়শ্চারিং লোশন মাখুন । যত বেশিবার পারবেন মুখ ধুবেন । ঘরোয়া ভাবে পাতিলেবুর রস, শসার চাকা, আলু থেঁতো ব্যবহার করলে ভাল । ডিমের সাদা অংশের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে, পরে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন ।


 ৪) মিশ্র ত্বক – এই ত্বকের কিছু অংশ একটু বেশি তেলা ভাব দেখা যায় । উপরের বলা পদ্ধতি গুলি ব্যবহার করবেন । স্বাভাবিক ত্বকের মত যত্ন নিতে হবে । উষ্ণ গরম জলে তুলসী পাতা দিয়ে সবাই সপ্তাহে বা পক্ষে একদিন করে ভাব নেবেন ।

   ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরির করার পদ্ধতি – কাঁচা হলুদ বাটা ২ চামচের সাথে ৪ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ মিশিয়ে স্নানের আগে সারা গায়ে ভাল করে মাখুন । দুধের স্বর ৪ চামচ ও ময়দা ৪ চামচ মিশিয়ে মাখুন । ৪ চামচ চন্দন বাটা, ৪ চামচ দুধের মিশ্রণ বা শসার রস ও ১ চামচ গোলাপ জলের মিশ্রণ লাগাতে পারেন । ৩ চামচ মসুর ডাল বাটা ১ টা ডিমের সাদা অংশ । দুধ, বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন ।


   আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।