মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০

আপনি একটি কেমন মেয়েকে বিবাহ করবেন ?.


 বিয়ে মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ বিয়ের করার জন্য পাত্র পাত্রী নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটি খুব কঠিন কাজ । সারা জীবনের জন্য জাকে জড়ানো হবে আপনার জীবনে তাকে নির্বাচন করাটা আর যাই হো কোন সহজ ব্যাপার নয় । খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনাকে জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হ এবং সেখানে কোন ভুল হোক এটা কোন ভাবেই কাম্য নয় বিয়ের পর নানা ধরণের অশান্তি লেগেই থাকে, এই রকম দৃশ্য আমরা অনেকের সংসারে দেখতে পাই । তখন তো আর কিছু করার উপায় থাকে না  তাই এখন আমি আপনাদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলব যা সাধারণত মেয়েদের বিয়ে করার জন্য ছেলেদের কাজে লাগবে । 


) পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে তা হল ধার্মিকতা একটু সরল ও ধার্মিক প্রকৃতির মেয়েকে বিয়ে করুন বিবাহের ক্ষেত্রে এমন নারী নির্বাচন করবে যার মধ্যে ধার্মিকতা থাকে স্বামীর চেয়ে বেশি কারণ ধর্ম গুণ যার মধ্যে নেই সে কখনো আপনাকে সুখী করতে পারবে না সকল পুরুষের উচিৎ একটি হিন্দু বা ইসলামিক পরিবারের ধা‌‌‌র্মিক মেয়ে কে বিয়ে করা । কারণ, একটি ধার্মিক মেয়ে পারে একটি পুরুষ এর জীবনে পরিপূর্ণ শান্তি এনে দিতে ।
২) সবাই চায় যে তাঁর বউ যাতে সুন্দর এবং ভদ্র প্রকৃতির হয় । যে সব মেয়েদের মধ্যে নীরবতা এবং কোমলতা থাকে, যারা বেশিরভাগ সময় নীরব ও চুপচাপ থাকে, আস্তে আস্তে কথা বলে, অনেক নরম স্বভাবের হয় এমন মেয়েকে পছন্দ করুন আপনার খুব খুব খেয়াল রাখবে এমন একজন মেয়ে বউ হিসেবে উপযুক্ত । এমন একজনকে বউ করবেন, যে আপনাকে বুঝবে, আপনার উপর অকারণে রাগ করবে না । বউ হিসাবে সেই মেয়েই সবচেয়ে উপযুক্ত যে মেয়ে স্বামীর সঠিক সিদ্ধান্তে তার আনুগত্য প্রকাশ করে কিন্তু, স্বামী ভুল করলে তার ভুল ধরিয়ে দেয় । আপনার ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গীর মানবিক অনুভূতি গুলো কেমন সেটাও যাচাই করে নিতে হবে যেন তার সকল কথা আপনাকে বলতে কোন দ্বিধা না করে
) পাত্রী পছন্দের ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলো দেখা জরুরী তার মধ্যে অন্যতম একটি মেয়ের শিক্ষা জীবন দেখা আমার মতে সর্ব প্রথম দেখতে হবে মেয়েটি সু-শিক্ষিত কিনা । সুশিক্ষায় যে মেয়ে শিক্ষিত তাকে বিয়ে করুন । তাহলে আপনার সংসার সুখের হবে । কারণ বিয়ের পর আপনার যখন সন্তান হবে, তাদের কে শিক্ষার বেপারে কিন্তু একজন মায়ের ভূমিকা সবথেকে বেশি থাকে । কারণ বাবারা সব সময় তাদের বিভিন্ন কাজ কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে । মা সু-শিক্ষিত হলে, তার সন্তান কেও সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবেন । আপনি যাকে বিয়ে করে বউ করবেন, তাকে নিয়ে সারাটি-জীবন সুখে-শান্তিতে থাকবেন । আপাদের সন্তান অনেক বড় হবে, এই দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে । একেবারে মূর্খ অশিক্ষিত নারী বিবাহ না করাই উত্তম । 
 ) সুন্দর চেহারার চেয়ে সুন্দর মন আর সৎ চরিত্র বেশি জরুরি । সৎ এবং চরিত্রবান মেয়েকে বিয়ে করুন এই রূপ মানুষকে বিয়ে করলে সুখী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ । যে সকল মেয়ে তাদের কথায় কাজে সৎ এবং কথা দিয়ে কথা রাখে এই রূপ মেয়েকে বিয়ের জন্য নির্বাচন করুন যে মেয়ে আপনাকে পুরাপুরি বুঝতে পারবে এবং আপনার ভালবাসার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে সেই মেয়ে বউ হিসেবে ভাল হবে । যে মেয়ের মা ভালো গুনের অধিকারী হয় সে মেয়ে ভাল বউ হয় ।
) দায়িত্ববান মেয়েকে বিয়ে করুন কারণ - আপনি যদি প্রেমের মাধ্যমে আপনার সঙ্গী নির্বাচন করে থাকেন, তাহলে মনে রাখবেন, বিয়ে হচ্ছে ভালোবাসার একটি সুন্দর পরিণতি । কিন্তু শুধুমাত্র ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই বিয়ে করা ঠিক নয় । বাস্তবতা বুঝে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শুধু মাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে যদি আপনি কিছু করেন এবং তার ফলাফল যদি ভালো না হয় তাহলে তার দায়ভার শুধু মাত্রই আপনার  মনে রাখবেন, ভালোবাসার মানুষের সাথে কয়েক ঘণ্টা কাটানো আর এক ছাদের নিচে সারা জীবন কাটানো এক বিষয় নয় ভালোবাসায় বিশ্বাস আমাদের থাকতে হবে । কারণ বিশ্বাস হল ভালোবাসার মূলমন্ত্র  কারো সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকলে তাকে আগে যাচাই করে নিনবিয়ের আগে প্রেমিকার পরিবার পরিজন, তাদের পারিবারিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থা, ইত্যাদি অবশ্যই জেনে নেবেন
) বার আসা যাক, চেহারা বা সৌন্দর্যের ব্যাপারে সুন্দর চেহারার চেয়ে সুন্দর মন আর সৎ চরিত্র বেশি জরুরি ।  মনে রাখবেন, একজন মানুষকে যদি শুধু মাত্র তার বাইরের সৌন্দর্য দিয়ে বিবেচনা করেন তাহলে আপনি মানুষ হিসেবে নিজেকে এবং সেই মানুষটিকে অসম্মান করছেন । আধুনিক সমাজে সুন্দর বলতে শিক্ষা, স্মার্টনেস, বাচনভঙ্গি, মন, মানসিকতা ইত্যাদিকে বোঝায় । তবে তার সাথে সুন্দর চেহারা হলে সোনায় সোহাগা । বিবাহের পূর্বে এ বিষয়টি খেয়াল করতে হবে যে, যাকে বিবাহ করা হচ্ছে, সে নারী বাড়ি—ঘরের কাজ, রান্না—বান্নার কাজ, ও ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে কতটুকু করতে পারে । বিবাহের পর ঘরের যাবতীয় কাজের দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে

৭) একইসাথে সৎ বংশের হওয়াটা খুব জরুরি । আপনি যদি সত্যি বিয়ে করতে চান - তাহলে মেয়ে দেখার পূর্বে তার জীবন বৃত্তান্ত আগে দেখুন শিক্ষাগত জীবন ও পারিবারিক জীবন দেখার পাশাপাশি সামাজিক জীবন দেখাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনার দেখা উচিত অন্য মানুষের সাথে তার আঁচার আচরণ কেমন, বিশেষ করে ভাইবোন, বাবা মা, এবং একেবারে অপরিচিত মানুষের সাথে । কারণ পাবলিক কমিউনিকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তাই পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় গুলো দেখা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী এর সাথে তার পারিবারিক, সামাজিক এবং শিক্ষার ব্যাপারটি জড়িত থাকে কারন, তার এই আচরণ গুলি আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে তাকে শেয়ার করতে হবে স্ত্রী দূরের বংশের হওয়াটা বেশি উপকারী । কারণ নিকটাত্মীয় বা আপন আত্মীয়ের মধ্যে থেকে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করে সাধারণত তারা মেধা শক্তি ও জ্ঞান গরিমায় দুর্বল হয়ে থাকে । কখনও বা বিকলাঙ্গ, বিভিন্ন জটিল রোগের শিকার হয়ে থাকে

৮) নারী অর্থ সম্পদের ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী সমতুল্য না হোক তাতে কিছু যায় আসেনাসংসারে সুখী হতে হলে মেয়ের পরিবার কে হতে হবে ছেলের পরিবার হতে আর্থিকভাবে দুর্বল । যে মহিলা অসুস্থ থাকে, এসব মেয়েদের কে বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে কোনো সুখ পাওয়া যায়নাযেসব মহিলা সর্বক্ষণ সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে বা সবসময় অশ্লীল ভাষায় কথা বলে সেই সব মহিলাকে বিবাহ করবেনা
 ৯) অপরিচিত বা অল্প পরিচিত মেয়ে বাদ দিয়ে পরিচিত মেয়ে কেই পাত্রী হিসেবে বেচে নিতে পারেন এতে আপনি বিয়ের মাধ্যমে সুখী পরিবার গঠনে অন্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন । আপনি এটা দেখুন যে মেয়েটি সখ বসত কোন প্রাণী পুষেছে কিনা । এতে আপনি বুজতে পারবেন যে - সে আপনার পরিবারকে কতটা ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে পারবে
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন ।


আমাদের আর পোস্ট -
ফেসবুকে ভুয়ো বা ফেক প্রোফাইল চেনার উপায় গুলি কি কি ?.
আপনি জীবনে সাফল্য লাভ করবেন কিভাবে ?.
দেহের গঠন অনুসারে মানুষ কেমন প্রকৃতির হয় ?.
আপনি জীবনে যে ৫ টি কারনে সুখী হতে পারেন না ?
আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনাকে সত্যি ভালোবাসে কিনা বুঝবেন কিভাবে ?.

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শয়তানের বাইবেল বই কিভাবে, কবে তৈরি হল ?.


 কোডেক্স জিগাস হল বিশ্বের বৃহত্তম এখন বিদ্যমান মধ্যযুগীয় অলংকৃত পাণ্ডুলিপি । কোডেক্স জিগাস এর অন্য নাম হল ‘শয়তানের বাইবেল’ বা  Devil's Bible’ ল্যাটিন শব্দ কোডেক্স জিগাজ, যার অর্থ হল -  বিশাল আকারের বই এটি ৩৬.২ ইঞ্চি লম্বা, ১৯.৭ ইঞ্চি চওড়া এবং ৮.৬ ইঞ্চি পুরু, ওজন প্রায় ৭৫ কিলোগ্রাম এ বইটি যে নামে সর্বাধিক পরিচিত তা শুনলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন । কারণ এর আরেক নাম হল শয়তানের বাইবেল এটিই হল মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপি গুলির মধ্যে বৃহত্তম ।


 কেন এই বইটি লেখা হয়েছিল তা নিয়ে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে   পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে সবচাইতে বিস্ময়কর যে তথ্য প্রচলিত সেটি হল - ১৩শ শতাব্দীর প্রথম তৃতীয় অংশে বোহেমিয়ার (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র) বেনেডিক্ট পোডলাজাইসের আশ্রমে এটি তৈরি করা হয়েছিল এই পাণ্ডুলিপির লেখক ছিলেন একজন মোনাকো (সন্ন্যাসী) যে তার মোনাকোর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে । যার ফলে শাস্তি হিসেবে তাকে জীবিত দেওয়াল গেঁথে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয় কিন্তু, সন্ন্যাসী রাজার কাছে আর্জি করলেন, তাকে যেন শেষ বারের মতো একটি সুযোগ দেয়া হয় বিনিময়ে তিনি পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান সংকলন করে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দেবেন ধারণা করা হয় যে - হারমেন নিকোলাস নামের এক চার্চের সন্ন্যাসী ছিলেন তিনি ।
 বিনিময়ে তিনি পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান সংকলন করে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দেবেন রাজা তার প্রস্তাবে রাজি হলেন ঠিকই, কিন্তু তাকে সময় দিলেন মাত্র এক রাত্রি সন্ন্যাসী রাজি হয়ে গেলেন । তিনি কাজে লেগে গেলেন । তিনি মাঝ রাত পর্যন্ত দেখেন মাত্র অর্ধেক পাতা লিখতে পেরেছেন তিনি মধ্যরাত্রি কাছাকাছি নিশ্চিত হন, যে তিনি একা এই কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন নাতাই তিনি একটি বিশেষ প্রার্থনা করেন শয়তানের কাছে শয়তানের কাছে এই বলে সাহায্য কামনা করেন যে - শয়তান যদি তাকে এই বই লিখে দেয় তবে তিনি তার আত্মা শয়তান কে সপে দেবেন তার আত্মার বিনিময়ে বইটি সম্পূর্ণ করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করলেন সাড়া দেয় শয়তান । স্ব-শরীরে হাজির হয় শয়তান শয়তান পাণ্ডুলিপিটি সম্পূর্ণ করে এবং মোনাকো শয়তানের সাহায্যের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য প্রতীক হিসেবে সে একটি চিত্র সংযোগ করেন নিজেকে প্রমাণ দেবার জন্য নিজ হাতে শয়তান তার ছবি বইটির ২৯০ নং পৃষ্ঠায় এঁকে রেখে যায় তাই এই বইটি শয়তানের বাইবেল নামে পরিচিত ।

 কোডেক্স জিগাস একটি কাঠের তৈরি কভার দিয়ে ঢাকা, যা চামড়া এবং কিছু অলঙ্কৃত ধাতু দিয়ে আবৃত বইটিতে গাধার চামড়া দিয়ে তৈরি মোট ৩১০টি পৃষ্ঠা ব্যবহৃত হয়েছে প্রাথমিক দিকে এতে ৩২০টি পাতা ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে এর থেকে কিছু পাতা অপসারিত করা হয়েছে কি কারণে এই পাতাগুলি সরিয়ে ছিলেন তা জানা যায় না । এই পৃষ্ঠাগুলোর আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি বইটি তৈরি করতে ১৬০টি গাধা অথবা সম্ভবত বাছুরের চামড়া প্রয়োজন হয়েছে  ক্ষুদ্রাকৃতির লেখা মধ্যে অনেক ধরণের তান্ত্রিক মন্ত্র, জাদুমন্ত্র, স্বর্গের শহরের ছবি এবং শয়তানের ছবিও অঙ্কিত আছে পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ১২৯৫ সালের দিকে সেডলেক সভ্যতার সাথে এই গ্রন্থের সম্পৃক্ততা আছে


 গ্রন্থটি মূলত ল্যাটিন ভাষায় রচিত তবে, এর মধ্যে আরো কিছু ভাষার অক্ষরেরও অস্তিত্ব দেখা গেছে যেমন, হিব্রু, গ্রীক ও স্ল্যাভিক । ছবির ধরণ দেখে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়েছে যে এই গ্রন্থ শয়তানের সাহায্য নিয়ে লেখা হয়েছে ।  শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রন্থটিতে এক ধরণের হাতের লেখা দেখা গেছে । লেখার ধরণ দেখে বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি একমত যে - গ্রন্থটির এক ব্যক্তির লেখা । এ থেকে লোক মুখে প্রচলিত হয়েছে যে, বইটি রাতারাতি লেখা হয়েছে । লোকমুখে প্রচলিত এই কথার কোন নির্ভরযোগ্য উৎস নেই । কারো একার পক্ষে বইটি বহন করা সম্ভব নয় বইটিকে  এক স্থান থেকে অন্ন স্থানে নিয়ে যেতে কমপক্ষে ২ জন ব্যক্তির প্রয়োজন । বইটিতে ভয়ঙ্কর রোগের অভিশাপ ও মুক্তি, আত্মাকে বশীকরণ ও লালন-পালন, কালা জাদুর মন্ত্র সহ নানান বিষয়ে সমাধান দেওয়া আছে  । কিভাবে ডাইনি চেনা যায় তার বর্ণনা রয়েছে এখানে ।

 প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, বইটি লেখতে সময় লেগেছিল মাত্র একটি রাত কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই তথ্যের সাথে একমত নন । কোডেক্স জিগাস নিয়ে আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘National Geography’ বেশ কয়েকটি প্রামাণ্য চিত্র প্রচার করে ।  ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক গবেষণায় বলা হয়েছে - কোন মানুষ যদি ছবি ছাড়াই শুধু লেখা দিয়ে এই গ্রন্থ লিখতে চায় তাহলে তাকে একাধারে রাত দিন মিলিয়ে নির বিচ্ছিন্নভাবে ৫ বছর লিখতে হবে ।

 সুইডেন জাতীয় গ্রন্থাগারের গবেষকদের মতে - যদি লেখক পুরো সপ্তাহ জুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে লিখে থাকেন, তাহলেও বইটি শেষ করতে তার লেগে যাবে প্রায় ত্রিশ বছর । প্রথমে পাণ্ডুলিপিটি স্থান পেয়েছিল প্রাগে দ্বিতীয় রুডলফের সাম্রাজ্যিক গ্রন্থাগারে । ১৬৪৮ সালে প্রাগের সাথে ৩০ বছরের যুদ্ধ শেষে বিজয়ী সুইডিশ সৈন্যরা এই বই লুঠ করে ১৬৪৮ সাথে স্টকহোমে সুইডিশ রয়াল লাইব্রেরীতে নিয়ে যায় । স্টকহোমের সুইডেনের জাতীয় গ্রন্থালয়ে এই গ্রন্থটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে সেখানে এটি জনসাধারণের দর্শনার্থে প্রদর্শিত হয় আপনি সুইডেন গেলে গ্রন্থটি দেখে আসতে পারেন । এ বইটি নিয়ে দিন দিন বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়ছে । কিন্তু এখনো এই বইটির আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি । কোডেক্স জিগাস নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে । এই অদ্ভুত পাণ্ডুলিপিটি যুগ যুগ ধরে জ্ঞান পিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে ।


 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন । 
আমাদের আর পোস্ট -
পৃথিবীর অবাক, মজার কথা গুলি কি কি ?
বিখ্যাত ১৫০ টি বই ও লেখক, লেখিকার নাম কি কি ?.
ভারতের বৃহত্তম, উচ্চতম, দীর্ঘতম, সর্বাপেক্ষা বেশি বস্তু গুলি কি কি ?.
ভারতের জাতীয় পতাকার অজানা কাহিনী কি ?.
প্রথম ভারতীয় এবং বাঙালি পুরুষ ও মহিলা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কে কে ?
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০

বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার বাংলা জীবনী.


 বেগম রোকেয়া একজন অসাধারণ মহিলা । তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তিনি বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী । যার কর্ম প্রচেষ্টা বেশ গ্রহণ যোগ্য ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মহিলা শিক্ষার অবস্থা বদলে দিয়েছিল । তাঁর পুর নাম বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন । রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার ও মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী পিতা ও মাতার দিক থেকে বেগম রোকেয়া উচ্চবংশীয় এবং জমিদার শ্রেণীভুক্ত ছিলেন । রোকেয়ারা ছিলেন তিন বোন ও তিন ভাই ।


 তিনি ছিলেন প্রথম প্রথা ভঙ্গকারী, যিনি দরিদ্র মুসলিম মহিলাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন । তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে – মহিলাদের আধুনিক শিক্ষা সমাজের অগ্রগতির জন্য অবশ্যই প্রয়োজন । তিনি পিছিয়ে পরা মহিলাদের প্রতি দয়ালু, হত দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন । তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের গৃহের অর্গলমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের কোনো সুযোগ ছিল না বেগম রোকেয়ার পিতা আবু আলী হায়দার সাবের আরবি, উর্দু, ফারসি, বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হলেও মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল ।
 রোকেয়ার জ্ঞানপিপাসা ছিল অসীম । রোকেয়ার বড় বোন করিমুন্নেসাও ছিলেন বিদ্যোৎসাহী ও সাহিত্যানুরাগী বেগম রোকেয়ার শিক্ষালাভ, সাহিত্যচর্চা এবং সামগ্রিক মূল্যবোধ গঠনে বড় দু’ভাই ও বোন করিমুন্নেসার যথেষ্ট অবদান ছিল । বেগম রোকেয়ার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের ছিলেন আধুনিক মনাতিনি চাননি তাঁর বোনেরা পিছিয়ে থাকুক । তিনি রোকেয়া ও করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান । বড় ভাই-বোনদের সমর্থন ও সহায়তায় তিনি বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি এবং আরবি ভাষা আয়ত্ত করেন । বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের সহযোগিতায় গভীর রাত পর্যন্ত মোমবাতির ক্ষীণ আলোতে পড়াশোনা করেছেন
 তৎকালীন মুসলিম সমাজে ছিল কঠোর পর্দা ব্যবস্থা । বাড়ির মেয়েরা পরপুরুষ তো দূরে থাক, অনাত্মীয় নারীদের সামনেও নিজেদের চেহারা দেখাতে পারতো না । তৎকালীন সমাজব্যবস্থা অনুসারে রোকেয়া ও তাঁর বোনদের কখনোই বাড়ির বাইরে পড়াশুনা করার জন্য পাঠানো হয়নি । তিনি শিক্ষার অভাবকে নারী পশ্চাৎপদতার কারণ বলেছেন । নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করলেন, নারীকে মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই শিক্ষার মাধ্যমে নারী সমাজকে আধুনিক প্রগতিশীল করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য ।

 ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে । তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, সমাজ সচেতন, কু-সংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্নতাঁর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত ঘটে স্বামীর অনুপ্রেরণায় । যার হাত ধরেই বেগম রোকেয়া পেয়েছিলেন স্বাধীনতার স্বাদ, নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার অফুরন্ত সুযোগ । বিয়ের পর রোকেয়ার আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ালেখা পুরো দমে শুরু হয় এবং সাহিত্যচর্চার পথটা তাঁর জন্য খুলে যায় । স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পান এবং ক্রমশ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন । রোকেয়ার বিবাহিত জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয় নি । ১৯০৯ সালের ৩ মে সাখাওয়াত হোসেন মারা যান । বেগম রোকেয়া বৈধব্য জীবন বেছে নেন এবং সমাজ সেবামূলক কাজ ও সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন ।
 ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর পর বেগম রোকেয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও হাল ছাড়েননি । স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগ করেন১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন । সেটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩ নং ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়িতে মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে তিনি নব পর্যায়ে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন । সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল ১৯৩০ খ্রিঃ বেগম রোকেয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমে একটি উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় । কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে পুরুষ শাসিত সমাজের সমাজপতি ও রক্ষণশীল গোঁড়াপন্থি কিছু লোক নানা বিঘ্ন সৃষ্টি করে ।  এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার জন্য বেগম রোকেয়া তার নিজস্ব জমিদারি থেকে প্রাপ্ত আয়ের বহুলাংশ স্কুলের জন্য ব্যয় করেন ।
 ১৯১৬ সালে কলকাতায় ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ নামে একটি মহিলা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি যেখানে বিধবা নারীদের কর্মসংস্থান, দরিদ্র অসহায় বালিকাদের শিক্ষা, বিয়ের ব্যবস্থা, দুঃস্থ মহিলাদের কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ, নিরক্ষরদের অক্ষর জ্ঞান দান, বস্তিবাসী মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন । বেগম রোকেয়ার আত্মত্যাগ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে বাংলার মুসলিম নারীজাগরণ ও মুক্তির পথ প্রশস্ত হয় । ১৯১৭ সালে ওই সংগঠনের ৫০ জন মহিলা সদস্যের উপস্থিতিতে ১৫ এপ্রিল প্রথম বার্ষিক সম্মেলন করে একটা যুগান্তকারী ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিলেন
 মুসলিম নারী সমাজে শিক্ষাবিস্তার, নারীমুক্তি ও প্রগতির আন্দোলন ছাড়াও বেগম রোকেয়া সাহিত্য ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন ।  ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও শ্লে­ষাত্মক রচনায় রোকেয়ার স্টাইল ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্য মন্ডিত । প্রবন্ধগ্রন্থে রোকেয়া নারী-পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় আহ্বান জানিয়েছেন । ১৯০২ সালে ‘পিপাসা’ নামে একটি বাংলা গল্প লিখে সাহিত্য জগতে তার অবদান রাখা শুরু হয় । এরপর একে একে লিখে ফেলেন মতিচূর-এর প্রবন্ধগুলো এবং সুলতানার স্বপ্ন-এর মতো নারীবাদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ।
 তার প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গ সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন । তিনি পুরুষতান্ত্রিক কিংবা নারী তান্ত্রিক সমাজ গড়তে চাননি । তিনি চেয়েছিলেন সমাজে নারী ও পুরুষ যাতে একসাথে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে বাঁচে । সমাজের অর্ধেক অংশকে বাদ দিলে কখনোই রাষ্ট্রের উন্নতি হবে না । তাই  তিনি ছিলেন সমতায় বিশ্বাসী । নারীশিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়া আমৃত্যু কাজ করে গিয়েছেন । নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, ভোটাধিকারের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন বেগম রোকেয়া ।

 বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান হয়ে থাকবে নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বেগম রোকেয়ার জীবনকাল ছিল মাত্র বায়ান্ন বছর ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মাত্র ৫২ বছর বয়সে বেগম রোকেয়া কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন । বেগম রোকেয়ার কর্ম ও আদর্শ উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ই ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন করে । বেগম রোকেয়া আজ আমাদের মাঝে নেই । কিন্তু তাঁর আদর্শ যাতে আমরা বুকে লালন করে চলতে পারি, নিজেদের কাছে আমরা সেই প্রতিজ্ঞা করবো ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । জীবনী বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার ইমেল দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করুন । 

আমাদের আর পোস্ট - 
শিক্ষককুলের রবি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের বাংলা জীবনী.
ভারতের বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের বাংলা জীবনী.
দয়ার সাগর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা জীবনী .
ভারতের মিসাইল ম্যান ডঃ এ. পি. জে আব্দুল কালামের বাংলা জীবনী
বিশ্বকবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা জীবনী
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

পিরামিড কবে, কিভাবে তৈরি করা হয়েছিল ?.


 মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় নিদর্শন হল পিরামিড ।  পিরামিড হল পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি । এর সুবিশাল উচ্চতা ও শৈলীর সামনে দাঁড়ালে বাকরুদ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না । সারা বিশ্বের কাছে মিশরের পরিচিতি আছে তাদের পিরামিড গুলোর জন্য । পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত পিরামিডগুলো মিশরে অবস্থিত । প্রাচীন কালের পৃথিবীর সাত আশ্চর্যের মধ্যে পিরামিডই সবচেয়ে পুরনো এবং অনেকাংশে অক্ষত । প্রাচীন মিশরে নির্মিত সব পিরামিড নীল নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত


 প্রাচীনকালে মিশরীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর পরও তাদের আত্মা বেঁচে থাকে । মৃতদেহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মমি করতো তারা ।  মিশরের প্রাচীন রাজাদের মৃত্যুর পর এসব পিরামিডের ভেতর সমাহিত করা হতো । এসব শরীর মমি করে পিরামিডের ভেতর রাখা হত । ফারাওদের মৃতদেহের সাথে কবরস্থ করা হতো বিপুল ধন-সম্পদ । আত্মার বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রয়োজনীয় নানা জিনিস । তাই নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে খাবার-দাবার মৃতদেহের সাথে দিয়ে দিতো তারা । সমাজের বিত্তশালীদের কবরেও মূল্যবান সামগ্রী দেয়া হতো ।


 বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সভ্যতাগুলোর একটি গড়ে উঠেছিল মিশরে ।  মেসোপটেমিয়ার অধিবাসীরা সর্বপ্রথম পিরামিড আকৃতির স্থাপনা তৈরি করেছিল । মিশরের প্রাচীনতম পিরামিডগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে মেমফিসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সাক্কারায় । প্রথম দিকের ইতিহাস অনুসারে মিশরীয় রাজবংশের মানুষদের মৃত্যুর পরে বেঞ্চ-এর মত কাঠামোতে চির শায়িত করা হত ।

 কোনো বহুভূজের উপর অবস্থিত যে ঘনবস্তুর একটি শীর্ষবিন্দু থাকে এবং যার পার্শ্ব তলগুলোর প্রত্যেকটি ত্রিভুজাকার তাকে পিরামিড (Pyramid) বলে । পিরামিড একটি বহুভূজাকৃতি ভূমির উপর অবস্থিত । পিরামিডের দুইটি সন্নিহিত তল অর্থাৎ দুইটি পার্শ্ব তল অথবা একটি পার্শ্ব তল ও ভূমি যে রেখায় মিলিত হয়, তাকে পিরামিডের একটি ধার বলে । পিরামিডের পার্শ্ব তলগুলো যে একটি সাধারণ বিন্দুতে মিলিত হয়, তাকে পিরামিডের শীর্ষবিন্দু বলে । পিরামিডগুলোর উপরে ছিল আলাবাস্তার চুনাপাথরের আবরণ । তার ফলে অত বড় ইমারতগুলো সব সময়ে চকচক করত ।

 আজ থেকে প্রায় ৪৫০০ বছর আগে নির্মিত হলেও তা বিজ্ঞানীদের মাথাকে ঘোরাচ্ছে এখনও, কীভাবে মিশরীয়রা এই অদ্ভুত সুন্দর, রহস্যময় জিনিস তৈরি করল । প্রতিটি দেশের সম্পদ সীমিত । এত বিশাল পাথরগুলো কীভাবে দূর থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল সেটা বের করতে গিয়ে কিছু গবেষক ধারণা করেন - আদি মিশরীয়রা ওগুলোকে মরুভূমির মধ্য দিয়ে টেনে নিয়ে এসেছে । কিছু পাথর এসেছিল ওই এলাকার খনি থেকে, বাকিটা দক্ষিণ মিশরের আসোয়ান থেকে নীলনদ হয়ে । সেই সব পাথর কি ভাবে সাজানো হয়েছিল কিংবা অত উঁচুতে কিভাবে তোলা হয়েছিল, তা নিয়ে নিশ্চিত ইতিহাসবিদেরা । তাঁদের কাছে ক্রেন সদৃশ কোনো যন্ত্র ছিল না, ছিল না লোহার জিনিস মসৃণ করে সূক্ষ্মভাবে তৈরি করার মত প্রযুক্তি ।


 মিশরীয় পিরামিড হল মিশরে অবস্থিত প্রাচীন পিরামিড-আকৃতির প্রস্তর নির্মিত স্থাপনাসমূহ । মিশরীয় পিরামিডগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত পিরামিডগুলি দেখা যায় কায়রো শহরের উপকণ্ঠে গিজায় । গিজার বেশ কয়েকটি স্থাপনাকে বিশ্বের অন্যতম বৃহদাকার স্থাপনা বলে মনে করা হয় । মিসরে ছোটবড় ৭৫টি পিরামিড আছে । সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় হচ্ছে গিজা'র পিরামিড যা খুফু'র পিরামিড হিসেবে পরিচিত । ফারাও খুফুর পিরামিড আকারে সবচেয়ে বড়, তার নাম গ্রেট পিরামিড । এটি তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর আগে । এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছিল আনুমানিক ১ লাখ । এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট । এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত । খুফু’র পিরামিডের ভেতরে কোন চিত্রলিপি পাওয়া যায় নি খুফুর জন্য নির্মিত গিজার পিরামিডটির পাশে তার রাণীদের জন্য আরো তিনটি পিরামিড নির্মিত হয় শহরের রাস্তা ধরে এগোতে থাকলে অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ে গিজা পিরামিড কমপ্লেক্স ।

 ইতিহাস থেকে আমরা আরও জানতে পারি  - গিজার গ্রেট পিরামিড তৈরিতে প্রায় আড়াই মিলিয়ন পাথরের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে যার একেকটির ওজন ২-৭০ টন, আর দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মত । পাথরের সাথে পাথর জোড়া দিয়ে পিরামিড তৈরি করা হত । ১৩ একর জায়গা জুড়ে পিরামিডটি বিস্তৃত । নির্মাণের সময় গিজার পিরামিডের বাইরের আবরণ এক বিশেষ পাথর দ্বারা আবৃত করা হয় ৪৫০০ বছরের ঝড়, দুর্যোগ সহ্য করে এখনও টিকে আছে ।

 এই পিরামিড গুলো এতটা সূক্ষ্মভাবে মাপজোখ নিয়ে নির্মিত হয়েছে, দেখে মনে হবে বর্তমান সময়ের কোনো কারিগর সেখানে সময় পরিভ্রমণ করে গিয়ে তৈরি করে দিয়ে আসছে । এদের সম্মুখভাগ প্রায়ই বিভিন্ন রঙের প্রলেপ দেয়া থাকত, যা জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত গুরুত্ব বহন করত । ২০০৮ সাল পর্যন্ত মিশরে ১৩৮টি পিরামিড আবিষ্কৃত হয়েছে ।  এগুলির অধিকাংশই নির্মিত হয় প্রাচীন ও মধ্যকালীন ফ্যারাওদের রাজত্বকালে তাদের ও তাদের পত্নীদের সমাধিসৌধ হিসেবে ।

 গিজার পিরামিডের মাঝামাঝিতে খুফুর পুত্র খাফ্রের সমাধি নির্মিত হয়েছে । তার শাসনামলেই দ্য গ্রেট স্ফিংক্স নির্মিত হয় । গ্রেট পিরামিড সামনে স্ফিংক্স হল একটি প্রাণীর মূর্তি যার শরীরটি সিংহের এবং মস্তকটি মানুষের । স্ফিংক্স-টির উচ্চতা ২০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩.৫ মিটার সম্ভবত সাড়ে ৪ হাজার বছরেরও আগে বেলে পাথর দ্বারা নির্মিত এই মূর্তি


 একটা বিষয়ে মিশরীয়রা বরাবরই চুপ থেকেছে । সেটি হল কীভাবে পিরামিড তৈরি হল । এ বিষয়ে কোথাও স্পষ্ট করে কোনো প্রমাণ তাঁরা রেখে যায়নি । সাধারণ মানুষের পক্ষে ১৪৫ মিটার উচ্চতায় কয়েক টন ওজনের পাথর উঠানো সম্ভব ছিল ? নাকি সেগুলো ছিল জায়ান্টদের কাজ । তাহলে কারা পিরামিড বানিয়েছিল ? কেন এত বড় পাথর ব্যবহার করা হল ? অনেকেই বলেন -  ভিনগ্রহ বাসীরা এটা তৈরি করেছিল অথবা হাজার হাজার মিশরীয় দাস বছরের পর বছর টন টন পাথর কেটে এনে এই পিরামিডগুলো বানিয়েছিল । বর্তমানকালের বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন হাজার হাজার মানুষ মিলে বছরের পর বছর এত কষ্ট সহ্য করে পিরামিডগুলো বানিয়েছিল । ভিনগ্রহ বাসীরা পিরামিড তৈরি করেছিল এর তেমন শক্ত প্রমাণ নেই । ফারাওদের সময়ে হাজার হাজার ইহুদী মিশরে দাস হিসাবে ছিল । তারা ছিল অত্যাচারিত । অনেকে ভাবেন এই দাসদের দিয়েই পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল । এখানে খনন করা হচ্ছে, আরো হবে এবং একদিন হয়ত পুরো পিরামিডের রহস্যই আমরা উদঘাটন করে জানতে পারব । পিরামিড দেখার জন্য প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক মিশরে আসেন ।

 আমরা কি বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পিরামিড বানাতে পারব ? আপনার কি মনে হয় ।
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে বা আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্ট টি পৌঁছেদিতে অনুগ্রহ করে শেয়ার করুণ । ইতিহাস ও জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইতিহাস ও জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুণ । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ  
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।