মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

অলিম্পিক প্রতিযোগিতার ইতিহাস ও বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর গুলি কি কি ?.


 অলিম্পিক হল একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা । দুইশ বা ততাোধিক দেশের অংশগ্রহণে এই অলিম্পিক গেমস বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং সর্বোচ্চ সম্মানজনক প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হয় । অলিম্পিক সংক্রান্ত একটি প্রাচীন লিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে অলিম্পিকের সূচনা ঘটেছিল খৃষ্টপূর্ব ৭৭৬ সালের দিকে । আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ থেকে ৩৯৫ অব্দ সময়ের মধ্যে গ্রিসের অলিম্পিয়া নামক স্থানে দেবতা জিউসের সম্মানে প্রতি চার বছর অন্তর এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হত । ১৭৯৮ সালে ব্যারন পিয়ের দ্য কুবেরতা  সর্বপ্রথম  আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) গঠন করেন । সুইজারল্যান্ডের লুসানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদর দফতর রয়েছে ।

 অলিম্পিক গেমসের ক্রীড়া অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত  আইওসি গ্রহণ করে । এই প্রাচীন জাতীয় ক্রীড়ার অনুসরণে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ২৫ মার্চপিয়ের দ্য কুয়েরএর উদ্যোগে এথেন্সে এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রথম অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয় ১৮৯৬ সালে এথেন্সের প্যানাথেনেইক স্টেডিয়ামে । এই খেলায় ৪৩ টি প্রতিযোগিতায় ১৪ টি দেশের প্রায় ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ অংশ গ্রহণ করেছিলেন । এর পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি চার বছর অন্তর এই খেলা অনুষ্ঠিত হয় বর্তমানে এই ক্রীড়ানুষ্ঠান অলিম্পিক ক্রীড়া নামে পৃথিবী খ্যাত অলিম্পিকে ৩৩ টি ক্রীড়ার ৪০০ টি বিভাগে প্রায় ১৩,০০০ ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করে থাকেন । প্রত্যেক বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী ক্রীড়াবিদদের যথাক্রমে  সোনা, রুপা এবং ব্রোঞ্জের পদক  দেওয়া হয় ।
 ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০১০ সালে মূল অলিম্পিক গেমসের সাথে যুব অলিম্পিক গেমসের সংযোজন করা হয় । অলিম্পিক গেমস চলাকালীন সময়ে ক্রীড়াবিদ ও আধিকারিকদের যে স্থানে থাকতে দেওয়া হয় তাকে অলিম্পিক ভিলেজ বলা হয় । ২০০৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আইওসি একটি অলিম্পিক অনুষ্ঠানসূচী কমিশন গঠন করে । প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই প্রতিযোগিতা বন্ধ ছিল ।
অলিম্পিকের নীল, কালো, লাল, হলুদ ও সবুজ এই পাঁচ রঙের পাঁচটি বলয় হল পাঁচ মহাদেশের প্রতীক । নীল – ইউরোপ, কালো – আফ্রিকা, হলুদ – এশিয়া, লাল – আমেরিকা ও সবুজ ওশিয়ানিয়া মহাদেশের প্রতীক । ফ্রান্সের ব্যারন পিয়ের দ্য কুবারতিন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে এই পাঁচটি বলয় আঁকা পতাকা তৈরি করেন । ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প অলিম্পিকে এই পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়েছিল । ভারত প্রথম অলিম্পিকে যোগদান করে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ।
কবে কোথায় অলিম্পিক ক্রীড়া হয়েছিল –
খ্রিস্টাব্দ -- স্থান -- দেশ.
১৮৯৬ -- এথেন্স -- গ্রিস.
১৯০০ -- প্যারিস -- ফ্রান্স.
১৯০৪ – সেন্ট লুই – ফ্রান্স.
১৯০৮ – লন্ডন – ইংল্যান্ড.
১৯১২ – স্টকহোম – সুইডেন.
১৯১৬ – খেলা হয়নি ।
১৯২০ – অ্যান্টওয়ার্প – বেলজিয়াম.
১৯২৪ – প্যারিস – ফ্রান্স.
১৯২৮ – আমস্টারডাম – নেদারল্যান্ড.
১৯৩২ – লস এঞ্জেলেস – আমেরিকা.
১৯৩৬ – বার্লিন – জার্মানি.
১৯৪০ -- খেলা হয়নি ।
১৯৪৪ -- খেলা হয়নি ।
১৯৪৮ – লন্ডন – ইংল্যান্ড.
১৯৫২ – হেলসিংকি – ফিনল্যান্ড.
১৯৫৬ – মেলবোর্ন – অস্ট্রেলিয়া.
১৯৬০ – রোম – ইতালি.
১৯৬৪ – টোকিও – জাপান.
১৯৬৮ – মেক্সিকো সিটি – মেক্সিকো.
১৯৭২ – মিউনিখ – পশ্চিম জার্মানি.
১৯৭৬ – মন্ট্রিল – কানাডা.
১৯৮০ – মস্কো – রাশিয়া.
১৯৮৪ -- লস এঞ্জেলেস – আমেরিকা.
১৯৮৮ – সিউল – দক্ষিণ কোরিয়া.
১৯৯২ – বার্সেলোনা – স্পেন.
১৯৯৬ – আটলান্টা – আমেরিকা.
২০০০ -- সিডনি -- অস্ট্রেলিয়া.
২০০৪ -- এথেন্স -- গ্রিস.
২০০৮ – বেজিং – চিন.
২০১২ – লন্ডন – ইংল্যান্ড.
২০১৬ – রিও ডি জেনিরো – ব্রাজিল.
২০২০ - টোকিও – জাপান,(অনুষ্ঠিত হবে).
১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪০ ও ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য অলিম্পিক খেলা বন্ধ থাকে ।
বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর গুলি কি কি –
১) ভারতীয় হকি দল প্রথম কবে অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে – ১৯২৮ সালে ।
২) ভারতীয় হকি দল প্রথম কবে অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় সোনা পায় - ১৯২৮ সালে ।
৩) ভারতীয় হকি দল প্রথম অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় কোন দেশের সাথে খেলেছিল – অস্ট্রিয়ার সাথে ।
৪) সেই খেলার ফলাফল কি হয়েছিল – ভারত ৬-০ ব্যবধানে জিতেছিল ।
৫) অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় ভারত কোন দেশকে হারিয়ে সোনা পায় – ইংল্যান্ড, ৩-০ গোল ।
৬) ভারত আজ পর্যন্ত অলিম্পিক হকিতে কতবার সোনা পেয়েছে – ৮ বার ।
৭) ভারতের কোন খেলোয়াড় ৩ বার অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করেন – লেসলি ক্লডিয়াস ।
৮) অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় হকিতে ভারতের সর্বোচ্চ গোল কত – ২৪/১, ১৯৩২, আমেরিকার বিপক্ষে ।
৯) অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় হকিতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রথম খেলার ফলাফল কি হয়েছিল – ভারত ১-০ গোলে জিতেছিল ।
১০) একটি অলিম্পিকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সর্বাধিক স্বর্ণপদক কে পেয়েছেন – আমেরিকার মাইকেল ফেলপস, ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকে ১০ টি স্বর্ণপদক পেয়েছেন ।
১১) অলিম্পিকে কবে মেয়েরা প্রথম অংশ গ্রহণ করেন – ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে, প্যারিস অলিম্পিকে ।
১২) কোন ভারতীয় মহিলা অলিম্পিকে প্রথম পদক পান – কর্নম মালেশ্বরী, ভারোত্তোলন
১৩) বাবা ও ছেলে দুটি আলাদা ইভেন্টে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক পান, তাঁরা কে কে – হাঙ্গেরির ইমবে লেমেথ ও ছেলে মিকলান লেমেথ ।
১৪) অলিম্পিকে প্রথম বক্সিং কবে অন্তর্ভুক্ত হয় – ১৮৯৬ সালে ।
১৫) কোথায়, কবে উইন্টার অলিম্পিক শুরু হয় – ফ্রান্সে, ১৯২৪ ।
১৬) আধুনিক অলিম্পিকে মশাল হাতে দৌড় কবে থেকে শুরু হয় – ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ।
১৭) নোবেল পুরস্কার জয়ী কে অলিম্পিকে দৌড় প্রতিযোগিতায় পদক পান – স্যর ফিলিপ নোয়েল ।
১৮) অলিম্পিকে মহিলা বিভাগে বাস্কেট বল কবে অন্তর্ভুক্ত হয় – ১৯৭৬ সালে ।
১৯) স্বাধীন ভারতের প্রথম অলিম্পিক পদক বিজয়ী কে ছিলেন – ধাসাবা দাদাসাহেব যাদব, ১৯৫২ সালে হেলসিংকি অলিম্পিকে কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পদক ।
২০) লন্ডন অলিম্পিক ২০১২ খ্রিস্টাব্দে কোন খেলা প্রথম চালু হয় – মেয়েদের বক্সিং ।
২১) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে অলিম্পিকে শিল্পকলা প্রতিযোগিতায় কোন ভারতীয়, ভাস্কর্য বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক পান – চিন্তামণি কর ।
২২) ভারত শেষবার কবে অলিম্পিক হকিতে সোনা জিতেছিল – ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ।
২৩) প্রথম ভারতীয় হিসাবে পরপর দুটি অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক পেয়েছেন কে – সুশীল কুমার ।
২৪) প্রথম কবে অলিম্পিক খেলা টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত হয় - ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকই সর্বপ্রথম টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত হয়েছিল ।
২৫) অলিম্পিকে প্রথমবারের জন্য অলিম্পিক ম্যাসকটের ব্যবহার কবে করা হয় -১৯৬৮ মেক্সিকো অলিম্পিকে প্রথমবারের জন্য অলিম্পিক ম্যাসকটের ব্যবহার করা হয় ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । খেলা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে খেলা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 
আমাদের খেলা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়ুন -
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

গাছ-গাছড়ার সাহায্যে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উপায় কি কি ?.


  অনেক দেশের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে গাছ-গাছড়ার সাহায্যে চিকিৎসা করা একটি অন্যতম প্রাচীন পদ্ধতি । বর্তমানে আধুনিক যুগেও এখন আমরা তার ব্যবহার করে থাকি । প্রাচীন কালে মুনি-ঋষিরা সেই সব গাছের গুনাগুণ জেনে তার ব্যবহার করতেন । এখন আমরা জানবো যে – সেই সব গাছ গাছড়ার ব্যবহার দ্বারা কিভাবে আমরা ঘরোয়া ভাবে কিছু রোগের চিকিৎসা করতে পারি । সমস্ত টা জানতে আশা করি আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়বেন ।
১) সাধারণ জ্বর - সাধারণ জ্বর আমাদের বিভিন্ন কারণে হয় যেমন – অত্যধিক পরিশ্রম, রাত্রি জাগা, ঋতু পরিবর্তন, আঘাত লাগা, ঠাণ্ডা লাগা ইত্যাদি । এই রোগের লক্ষণ হিসাবে – মাথা ব্যথা, নাড়ীর গতি দ্রুত হওয়া, খাবারে অরুচি, অস্থিরতা, গরম বা শীত অনুভব করা, পিপাসা ইত্যাদি । ৫ গ্রাম তুলসী পাতার রস, ১ চামচ মধু, সামান্য মকরধ্বজ ও ৫ গ্রাম শিউলি পাতার রস মিশিয়ে নেবেন । দিনে তিনবার করে তিনদিন খাবেন । ডাল, সবজি, দুধ, আটার রুটি  জাতীয় খাবার খাবেন ।

২) সর্দি-জ্বর – জলে ভিজলে, ঠাণ্ডা লাগলে, সর্দি-জ্বর হয়ে থাকে । গায়ে জ্বর জ্বর ভাব, নাক দিয়ে জল পড়া, বুক ব্যথা, হাঁচি প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ । ১০ গ্রাম বাসক পাতার রস, ১০ গ্রাম শিউলি পাতার রস, ১০ গ্রাম তুলসী পাতার রস, ২ চামচ মধু মেশান । প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিন-চার দিন খাবেন । এছাড়া আদা, পেঁয়াজ, রসুন তেল দিয়ে ভেজে গরম ভাতের সাথে খেতে পারেন ।

৩) সর্দি ও কাশি – এই রোগের ফলে বুক ব্যথা, গলা খুসখুস, হাঁচি, কাশি ইত্যাদি দেখা যায় । হঠাৎ করে গরম থেকে ঠাণ্ডায় বা ঠাণ্ডা থেকে গরম লাগা, ঠাণ্ডা লাগা, জলে ভেজা ইত্যাদির কারণে আমাদের সর্দি ও কাশি হয় ।  ৪ গ্রাম তুলসী পাতা, ৪ গ্রাম আদা, বাসক পাতা ৪ গ্রাম, তেজপাতা ৩ গ্রাম, বচ ৩ গ্রাম, পিপুল ৩ গ্রাম নিয়ে ৩-৪ কাপ জলে সিদ্ধ করুন । হালকা গরম করে সেই জল পান করুন । ৫ দিন দুবেলা করে খাবেন । আরেক টি পদ্ধতি – তুলসীর মঞ্জুরি ১০ গ্রাম, বাসক পাতা ১০ গ্রাম নিয়ে ২৫০ গ্রাম জল নিয়ে তাতে ফোটাবেন । ১০০ গ্রামের মত জল হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিন । এরপর এর সাথে ৪ চামচ মধু মেশান । পরপর ৫ দিন দিনে দিনে দুবার করে খাবেন ।

৪) বমি – আমাদের যদি খাওয়ার অভ্যাসের বদল ঘটে তাহলে বমির সম্ভাবনা দেখা যায় । অসময়ে খাবার খাওয়া, বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া, অজীর্ণতা, কৃমিদোষ ইত্যাদি থাকলে আমাদের বমি দেখা যায় । ১০ গ্রাম হরিতকী, ১০ গ্রাম গুলঞ্চ, ১০ গ্রাম গোলমরিচ ও ১০ গ্রাম পিপুল ভালকরে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে । এরপর এগুলোকে গুঁড়ো করে নিতে হবে । এর সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুবার খেতে হবে । গুরুপাক জাতীয় খাবার খাবেন না ।


৫) চুলকানি ও পাঁচড়া - আমাদের শরীর অপরিষ্কার থাকার জন্য আমাদের এই রোগ দেখা দেয় । প্রথমে ঘামাচির মত ছোটো ছোটো ফুসকুড়ি দেখতে পাওয়া যায় । সেগুলি চুলকোয়, পরে বড়ো হয়ে ঘা হয়ে ফোস্কার মত হয়ে যায় । নিম পাতা সেদ্ধ করে সেই জল দিয়ে চুলকানি পাঁচড়ার জায়গাগুলোকে ভাল করে পরিষ্কার করে নিন । তার আগে আপনি – কর্পূর ২ গ্রাম,  ২ গ্রাম সলিস্যালিক অ্যাসিড, গন্ধক গুঁড়ো ২ গ্রাম, ভেসলিন ৫০ গ্রাম, চালমুগরা তেল ১০ গ্রাম মিশিয়ে একটি মলম বানান । প্রতিদিন একবার করে লাগাবেন ।

৬) পেট ব্যথা – পেটে যদি আমাশয়, কৃমি থাকে খাবার হজম না হলে বায়ু তৈরি হয়ে পেটে ব্যথা হতে পারে । হরিতকী ১০ গ্রাম, জোয়ান ১০ গ্রাম, সৈন্ধব লবণ ১০ গ্রাম, শুঁঠ ১০ গ্রাম নিয়ে গুঁড়ো করে নিন । দুপুর ও রাত্রে খাবার পর ১ চামচ গুঁড়ো এক গ্লাস জলে দিয়ে খাবেন ।

৭) নখকুনি – আমাদের নখের কনে যদি ময়লা জমে বা নখের মাংস অংশ দূষিত হয়ে যায় তাহলে আমাদের নখকুনি হতে পারে । পরে দেখা যায় যে সমস্ত নখটি নষ্ট হয়ে যায় । নিমফল ২০-২৫ টি, হরিতকী ২ টি, হলুদ রস ১০০ মিলিগ্রাম । হলুদের রসের সাথে হরিতকী বেটে নিন, হালকা গরম করবেন । ১ ঘণ্টা অন্তর দিনে ২-৩ বার লাগান ।


৮) কান পাকা ও যন্ত্রণা – ঠাণ্ডা লাগলে, কানে জল ঢুকলে কানপাকা রোগ হয় । রসুনের রস হালকা গরম করে দু-ফোঁটা কানে কয়েক দিন দেবেন । কানে যন্ত্রণা হলে দু-ফোঁটা রসুন ও পেঁয়াজের রস হালকা গরম করে দিনে দুবার দেবেন ।
৯) ব্রণ ও মুখে কালো দাগ – কাঁচা হলুদের রস ১ চামচ, চিনি ১ চামচ, নিম পাতার রস ১ চামচ এক মাস খালি পেটে সকাল বেলা খাবেন । ১ চামচ মুলতানি মাটি, আধ চামচ নিমপাতা বাটা, গোলাপ জল, আধ চামচ তুলসী পাতা বেটে সারা মুখে মাখুন । মুখে কালো দাগ থাকলে – মুসুরির ডাল বেটে দুধ দিয়ে মুখে লাগালে মুখের কালো দাগ কমে যায় ।
১০) মাথা ধরা, মাথা ঘোরা – ঠাণ্ডা লাগা, মাথায় রক্তাধিক্য, স্নায়বিক দুর্বলতা, রাতজাগা, নেশা করা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে । আবার আপনার যদি অন্য কোনও রোগ থাকে তাঁর ফলে এই রোগ হতে পারে । আগে আপনাকে আপনার অন্য রোগের চিকিৎসা করানো দরকার । দু-ফোঁটা রসুনের রস নাকে টানলে আরাম পাওয়া যায় ।  স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অবশ্যই দরকার ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়ুন - 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

হরপ্পা সভ্যতা বা সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন দিক কেমন ছিল ?.


 প্রাচীন ভারতে সিন্ধু নদের তীরে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেটি সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত । পড়ে মহেঞ্জোদারোতে এই সভ্যতার কেন্দ্র আবিষ্কার হয় । হরপ্পা কেন্দ্রটি ছিল অনেক বড়ো । তাই এই সভ্যতা হরপ্পা সভ্যতা নামেও পরিচিত । ১৯২০ সালে হরপ্পা ও ১৯২১ সালে মহেঞ্জোদারো নামে দুটি কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয় । হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায় ইতিহাস যুগের সভ্যতা বলা হয় । কারণ এখানে প্রাপ্ত লিপিগুলি পড়া সম্ভব হয়নি । এখানের মানুষেরা তামা ও ব্রোঞ্জ ধাতুর ব্যবহার করত । সময়কাল হিসাবে ধরা হয় আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত । এই সভ্যতার বিস্তার ছিল প্রায় সাত লক্ষ বর্গ কিলোমিটার । সীমানা ছিল উত্তরে আফগানিস্তান, জম্বুর মান্ডা অঞ্চল, দক্ষিণে মহারাষ্ট্রের দৈমাবাদ, কচ্ছ, গুজরাত অঞ্চল, পূর্বে আলমগির পুর, পশ্চিম সীমা পাকিস্তানের বালুচিস্তান পর্যন্ত ।

 চার্লস ম্যাসন পাঞ্জাবের সাহিওয়াল জেলায় গিয়েছিলেন ১৮২৬ সালে । তিনি ধারণা করেন যে এখানে আলেকজান্ডার ও পুরুর যুদ্ধ হয়েছিল । এরপর আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৫০ সালে এই এলাকায় যান । তিনি প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে উৎসাহী ছিলেন । তিনি সেখানে দেখেন যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে রেল লাইন বানানোর কাজে । সেখানে সেই ইটের সাথে কিছু লিপি ও বাসনপত্র পাওয়া যায় । কেউ এবিষয়ে তেমন গুরুত্ব তখন দেননি । শেষে ১৯২০ সালে দয়ারাম সাহানি হরপ্পায় এবং ১৯২১ সালে মহেঞ্জোদারোতে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় খননকার্য করেন । জন মার্শাল ১৯২৪ সালে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সম্পর্কে বিবরণ পেশ করলে বিশ্ববাসী সবিস্তাতে এই সভ্যতার কথা জানতে পারেন ।


 এখানে শাসক কারা বা কে ছিলেন সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়না । মহেঞ্জোদারোতে একটি পুরুষের মূর্তি পাওয়া গেছে । তাঁর চোখ আধবোজা, চুল সুন্দর করে আঁচড়ানো, গালে চাপদাড়ি, আবার বা কাঁধে চাদর আছে । ইনি কি তবে হরপ্পার রাজা না পুরোহিত তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে । আবার অনেকের মতে – ইনি একজন পুরোহিত রাজা । তবে এর নিশ্চিত প্রমাণ এখন পাওয়া যায়নি ।

 হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ছিল দুটো বড়ো নগর । হরপ্পা সভ্যতাতে প্রথম নগর তৈরি হয়েছিল । অনেকে তাই একে প্রথম নগরায়ন বলেন । এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় যেমন – বানাওয়ালি, ঢোলবিরা, কুনতাসি, কালিবঙ্গান, লোথাল, সুর কোটাডা ইত্যাদি ছোটো বড়ো শহর পাওয়া গেছে । হরপ্পার নগরগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল । একদিকে থাকত উঁচু এলাকা যাকে সিটাডেল বলা হয় । এটি একটি উঁচু ঢিপির উপর বানানো হত । নগরগুলি উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা থাকত ।


  মহেঞ্জোদারোতে ১৮০ ফুট/১০৮ ফুটের একটি স্নানাগার পাওয়া গেছে । এতে জল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা ছিল । জল ঢোকানো ও জল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল । এর চারিদিকে ৮ ফুট উঁচু ইটের দেওয়াল ছিল ও চারপাশে ছোটো ছোটো ঘর ছিল । হরপ্পায় খাদ্য মজুত করে রাখার জন্য পাকা ঘরের মত দুটি কেন্দ্র তৈরি করা হয় । সেখানে শুকনো খাদ্যশস্য রাখার ব্যবস্থা ছিল । হাওয়া চলাচলের জন্য দেওয়ালের গায়ে অনেক ঘুলঘুলি ছিল । পাশে থাকা ঘরগুলি শস্য পেষাই করা শ্রমিকদের বলে মনে করা হয় ।

 শহরের উঁচু অংশগুলিতে সম্ভবত প্রশাসকরা থাকতেন । সেগুলি আবার দুর্গ ও পরিখা দিয়ে ঘেরা থাকত । এখানে একটি বাড়ি পাওয়া গেছে প্রায় ৩০০ বর্গ মিটার এলাকা নিয়ে তৈরি । রাস্তাগুলি ছিল চওড়া, নর্দমাগুলি ছিল ঢাকা দেওয়া । প্রতিটি বাড়িতে উন্নত জল নিকাশি ব্যবস্থা ছিল । উঁচু এলাকা গুলিতে বড়ো বড়ো বাড়ি তৈরি করা হত । নিচু এলাকায় থাকত ছোটো ছোটো বাড়ি । রাস্তার ধারে জলের কুয়ো ছিল । প্রায় বাড়িতে শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল । একতলা, দোতলা বাড়ি গুলি পড়া ইটের তৈরি । প্রত্যেক বাড়ির ছোটো নালা বড়ো নর্দমায় গিয়ে পড়েছে ।


 নদীর তীরবর্তী জমি ছিল উর্বর, আবার জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায় । তাই চাষের কাজের সুবিধার জন্য এখানের অধিবাসীরা নদীর তীরে বসবাস করতেন । নগরের বাইরে গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজীবী মানুষরা বাস করতেন ।  গ্রামে যব, গম, সরষে, নানা প্রকারের ডাল ও ধানের চাষ হত । তবে, ধানের ফলন সব জায়গায় হত কিনা এর প্রমাণ পাওয়া যায়না ।  এছাড়াও তিল, তুলোর চাষ করা হত । কৃষিকাজ ছাড়া এখানে পশু পালন করা হত । প্রধান পশু ছিল – ভেড়া, ছাগল, ষাঁড়, উট ইত্যাদি । ঘোড়ার ব্যবহার তাঁরা জানতোনা বলে মনে করা হয় । কৃষির পাশাপাশি এখানকার মানুষরা যে বাণিজ্য করত তার প্রমাণ আমরা পাই, মেসোপটেমিয়ায় পাওয়া হরপ্পায় তৈরি তেইশটি সিলমোহর থেকে । এরফলে আমরা জানতে পারি যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল । আবার মেসোপটেমিয়ার একটি সিলমোহর এখানে পাওয়া গেছে । তাছাড়াও ইরান, তুর্কমেনিস্তানে হরপ্পার শিল্পদ্রব্যের খোঁজ পাওয়া গেছে । তাঁরা সাধারণত স্থলপথে ও জলপথে বাণিজ্য করত । বিদেশ থেকে আমদানি করা হত দামি পাথর, হাতির দাঁত, চিরুনি, সোনা, তামা, রুপো । আর রপ্তানি করা হত তেল, পশম, ময়দা ও বার্লি জাতীয় দ্রব্য ।

 যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য হরপ্পার অধিবাসীরা পশুর টানা গাড়ি, নৌকা ও জাহাজের ব্যবহার করত । পশু হিসাবে গাধা, বলদ, উঠ ইত্যাদি ব্যবহার হত ।  বলদের ব্যবহার গাড়ি টানার জন্য ব্যবহার বেশি হত । নানা রকম চাকার গাড়ির ব্যবহার হত । গাড়ির পাশাপাশি নৌকা ব্যবহার হত, কারণ – নদীপথে যাতায়াতের সময় অনেক কম লাগত । পালতোলা নৌকার ব্যবহার হত, যাতে হাওয়া ও স্রোতের সাহায্যে সহজে যাতায়াত করা যেত । যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক বেশি নদীর ওপর নির্ভর করত ।

 অনেক কারিগরি শিল্পের বিকাশ এখানে ঘটেছিল । নানা ধরণের বাসনপত্র, বাটালি, ছুরি, কুঠার, ইত্যাদি বানাত । এখানের মানুষরা লোহার ব্যবহার জানত না । পাথর ও ধাতু দিয় বিভিন্ন জিনিস তাঁরা বানাত । কাঁসা, তামা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি ব্যবহার করতো । মাটির পাত্র যেমন – থালা, বাটি, জালা ইত্যাদি তৈরি করতো । মাটির পাত্র তৈরি করার পর আগুনে পুড়িয়ে নানা নকসা তৈরি করতো । মাটি পুড়িয়ে নারীমূর্তি, পশুপাখির মূর্তি ইত্যাদি বানাত । অনেক রকম মালা ব্যবহার হত । তাঁরা সোনা, তামা, শাঁখ, হাতির দাঁত, নীলচে লাজুলি পাথর মালা ও গয়না হিসাবে ব্যবহার করতো ।

 হরপ্পার লিপিগুলি ঠিকমত পড়া যায়নি । তাই এর থেকে তেমন কিছু জানা যায়না । লিপিগুলি সাংকেতিক ভাবে ছিল, তাতে ৩৭৫ থেকে ৪০০ টির মত চিহ্ন রয়েছে । এই লিপিগুলি লেখা ডান দিক থেকে বাম দিকে । ছোটো ছোটো চিহ্ন গুলিকে সংখ্যা বলে মনে করা হয় । তামার ফলক, সিলমোহরের উপর হরপ্পার লিপি পাওয়া গেছে । অনুমান করা হয় দ্রাবিড় ভাষার সাথে এর মিল রয়েছে । যে সিলমোহর এখানে পাওয়া গেছে সেগুলি নরম পাথর কেটে তৈরি করা । সিলমোহরে একটি এক শিং ওয়ালা পশুর মূর্তির ছাপ ও লিপির ব্যবহার দেখা যায় । এছাড়াও মানুষ, গাছ, ষাঁড়, জ্যামিতিক নকসা দেওয়া সিলমোহর পাওয়া গেছে । এগুলিতে সাদা জিনিস মাখিয়ে পোড়ানো হত ।

 
  হরপ্পায় অনেক নারী মূর্তি পাওয়া গেছে, এরফলে মনে করা হয় যে এখানে মাতৃ পূজার প্রচলন ছিল । একটি যোগী পুরুষের মূর্তি পাওয়া গেছে । এর চারপাশে রয়েছে বাঘ, গণ্ডার ইত্যাদি জন্তু । অনেকে একে আদি পশুপতি শিব বলেন । এক শিং ওয়ালা কাল্পনিক পশুর মূর্তির পূজা হত । ধর্মীয় কাজে এখানে জলের ব্যবহার হত ।

হরপ্পা সভ্যতা বিভিন্ন কারণে অবনতি হয়েছিল । অতিরিক্ত গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়, ফলে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় । আবহাওয়া পরিবর্তনের হয়ে শুষ্ক জলবায়ু দেখা যায় । অনেকে মনে করেন যে সিন্ধু নদীর বন্যার ফলে এই সভ্যতা অবনতি হয় । পাচিলে কাদার চিহ্ন পাওয়া গেছে । বন্যার ফলে এই অবস্থা বলে অনুমান করা হয় । বাণিজ্যে ভাটা পড়ার জন্য নগর ও শাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায় । অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দেয় । এছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে হরপ্পা সভ্যতা দুর্বল হয়ে পড়ে ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইতিহাস বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইতিহাস লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 
আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।



রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

বাঘ ও হাতি সম্পর্কে বিভিন্ন জানা অজানা কথা গুলি কি কি ?.


বাঘ - বাঘ হল বড়ো বিড়াল জাতের অন্তর্ভুক্ত একটি স্তন্যপায়ী, ফেলিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে বড় প্রাণী । পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক এলাকায় একে দেখা যায় । আমরা এখন বাঘ ও হাতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আপনাকে জানাবো । বাঘের পা খুব নমনীয় হয় তাই, বাঘেরা চলাফেরা করার সময় সামান্য শব্দ করেনা । অন্য কোনও জন্তু বা মানুষের চলাফেরা এরা সহজে বুঝতে পারে । এদের ধারালো নখ শিকার করার আগে ভেতরে থাকে । বাঘের জোরালো চোয়াল আর ধারালো শ্বদন্ত দাঁত থাকে । এদের ক্যানাইন দাঁত ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় । বাঘ খুব বুদ্ধিমান প্রানী । এদের সার্কাস এর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় । এরা খুব সহজেই বুঝতেও পারে ।

 বাঘদের দর্শন শক্তি ও শ্রবণ শক্তি প্রখর হয় । চোখের রেটিনার মধ্যে ট্যাপেটাম লুসিডাম কোষের জন্য রাতের অল্প আলোতে ভাল দেখতে পায় । বাঘ রাতেই বেশি শিকার করে । বাঘ যতটা সম্ভব শিকারের কাছে কাছে থাকে । তারপর সুযোগ বুঝে তাড়া করে বা পিছন দিক থেক শিকারের কাঁধে বা গলায় কামড়ে ধরে । শিকার দমবন্ধ হয়ে না মরা পর্যন্ত বাঘ গলা আঁকড়ে ধরেই থাকে । এরা নিজেদের থেকে বড়ো প্রাণী শিকার করতে পারে । এদের খাবার থাকলেও শিকার হাতছাড়া করেনা । খাবার বেশি হলে সেগুলি জমিয়ে রাখে, পাহারা দেয় । শিকারের প্রয়োজনে এরা জলে সাঁতার কাটতে বা গাছে চড়তে পারে । হরিণ ও শুয়োরের মাংস বাঘদের প্রিয় খাদ্য । আবার বাচ্চা ও বয়স্ক বাঘদের সব সময় শিকার জোটেনা ।

 বাঘেরা তাদের নিজের এলাকায় থাকতে বেশি পছন্দ করে । যদি অন্য কোনও বাঘ তাঁর এলাকায় ঢুকে পড়ে তখন দুজনের লড়াই হয় । বাঘেরা মূত্রনালি থেকে বেরনো তরল দিয়ে মাটিতে ও গাছে ছিটিয়ে তাঁর এলাকা চিহ্নিত করে রাখে । আবার অনেক সময় গাছে আঁচড় কেটে বা দাগ দিয়ে থাকে । গন্ধ শুকে বাঘ ও বাঘিনী একে অপরকে খুঁজে নেয় । বড়ো বাঘেরা সাধারণত একা একা থাকে । জননের সময় বাঘিনীর সাথে মিলিত হয় । বাঘের মিলন বছরের যেকোন সময় হতে পারে । তবে নভেম্বর-এপ্রিলের মধ্যেই সর্বাধিক মিলন ঘটে ।
 বাচ্চা পালনের সময় বাঘেরা সবথেকে বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে । বাচ্চা জন্মানোর আগে একটি পরিষ্কার জায়গা নির্বাচন করে । এরপর সারাদিন ধরে বাচ্চাদের পাহারা দেয় । নিজেদের খাওয়ার সময় তখন এরা ঠিক মত সময় পায়না । বাচ্চারা একটু বড়ো হলে মা বাঘ তাদের শিকার করা শেখায় । প্রথমে কোন শিকার করা প্রাণীর এনে তার মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে দেয় । পরে আধমরা প্রাণী এনে তার মাংস ছিঁড়ে খেতে শেখায় । দাঁতের সাহায্যে মাংস কিভাবে ছিঁড়ে খেতে হয় তাও শেখায় । বাঘেরা তাদের বাচ্চাদের নদীতে সাঁতার শেখাতে নিয়ে যায় । বাচ্চারা ২ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের সাথে থাকে । বাঘের বাসা বদলের সময় অনেক মানুষ বাঘের আক্রমণের জন্য মারা যায় । কারণ তারা বাচ্চাদের কাছে সহজে কাউকে আসতে দেয়না । সুন্দরবন এলাকায় বাঘ মাঝে মাঝেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে । এদের ধরে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয় । সুন্দরবন অঞ্চলে বাঘ সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে ।

 হাতি – হাতিকে দুভাগে ভাগ করা হয়, আফ্রিকান হাতি ও এশিয়ান হাতি । হাতির কথা শুনলে আমাদের মনে আগে আসে তাঁর বিশাল দেহ ও শুঁড়ের কথা । পৃথিবীর মাটিতে যত রকম প্রাণী আছে তাদের মধ্যে সবথেকে বড়ো হল হাতি । আফ্রিকান হাতিরা সবথেকে ভারী ও উঁচু হয় । ভারতের এক একটি হাতির ওজন হয় প্রায় দু-হাজার কিলোগ্রাম, উঁচু হয় প্রায় ১১ ফুট পর্যন্ত । হাতির প্রধান কাজের অঙ্গ হল তাঁর শুঁড় । নাক আর ঠোঁট জোড়া লেগে হাতির শুঁড় তৈরি হয়েছে ।

 হাতি তাঁর শুঁড়ের সাহায্যে গাছের ডাল ভাঙা, জল শুষে মুখে ঢালা, মাটি থেকে জিনিস তোলা, ঘাস ছিঁড়ে খাওয়া ইত্যাদি কাজ করে । হাতির শুঁড়ের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি পেশী থাকে । হাতির আর একটি অঙ্গ হল দাঁত । এক একটি দাঁত প্রায় ৫-৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় । ভারতের মেয়ে হাতির দাঁত বেশি লম্বা হয়না । অনেক চোরা শিকারি হাতির দাঁতের জন্য এদের হত্যা করে । বাঘ ও হাতি সম্পর্কে বিভিন্ন জানা অজানা কথা গুলি কি কি ?.

 হাতিরা সবসময় একসাথে দলে থাকে । দলটি হল হাতির পরিবার । হাতিরা তাদের সন্তানদের সবসময় চোখে চোখে রাখে । হাতিরা শান্ত হলেও বাচ্চার কষ্ট একদম সহ্য করতে পারেনা । বিপথ হতে পারে এমন জায়গায় হাতিরা যায়না । যদি হাতি কোনও বিপদে পড়ে তখন তাঁরা শুঁড় তুলে ডাকতে থাকে । দলের সবাই তখন একসাথে বিপদের মোকাবিলা করে । হাতি পরিবারের প্রধান হল দিদিমা বা মা । অন্যরা হল তার মেয়ে, নাতি, নাতনি । হাতি প্রতি দু থেকে চার বছরের মধ্যে একটি বাচ্চা প্রসব করে । ছেলে হাতিরা বড়ো হলে দল ছেড়ে একা একা ঘুরে বেড়ায় । হাতিরা বিভিন্ন ধরনের শব্দ করতে পারে, ৬ মাইল পর্যন্ত একে অপরের উচ্চ শব্দ শুনতে পায় ।

 হাতি সমাজের নিয়ম খুব কড়া । যদি কোন দলছুট বাচ্চা হাতি কোন মানুষের কাছে আশ্রয় নেয় তাহলে  হাতিরা তাকে পরিবারে আর ফিরিয়ে নেয়না । আমরা দেখি যে রেলের ধাক্কায় যদি কোন হাতি আহত হয়, বাকি হাতিরা তখন তাকে ঘিরে পাহারা দেয় ।  হাতির শরীর বিশাল বড়ো তাই, খাবার লাগে অনেক । একটি হাতি প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০ কেজি ঘাস পাতা খায় । কোনও কারণে জঙ্গলে খাবার অভাব দেখা দিলে এরা তখন জঙ্গল ছেড়ে খাবারের খোঁজে গ্রামের ফসলের ক্ষেতে চলে আসে । এরফলে গ্রামের ফসলের অনেক ক্ষতি হয় । তাড়াতে গেলে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ফেলে, মানুষকে আঘাত করে । অবৈধ শিকার ও জঙ্গলের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে হাতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । বিজ্ঞান বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে বিজ্ঞান লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে প্লিজ ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।