শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯

মৃত সাগর কি, মৃত সাগর কোথায় আছে ?.


  আমরা সবাই বিশ্বাস করি মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর স্থান হয় স্বর্গে বা নরকে । কিন্তু মৃত্যুর সাগর সেটা আবার কি ? নামটা নিশ্চয়ই অদ্ভুত ঠেকছে আপনার কাছে জর্ডন ও সিরিয়ার মাঝখানে রয়েছে এই সাগর । প্রকৃতির অনন্য বিস্ময়কর সৃষ্টি এই মৃত সাগর । পৃথিবীর বুকে যে সমস্ত লবণাক্ত সাগর গুলি রয়েছে তাদের মধ্যে সবথেকে লবণাক্ত সাগর হল এটি । সাগর বলা হলেও এটি আসলে একটি হ্রদ । এর দৈর্ঘ্য হল ৬৭ কিলোমিটার ও প্রস্ত ১৮ কিলোমিটার । গভীরতা আছে ১৪০১ ফুট ।


 এই সাগরকে কেন মৃত সাগর বলা হয় ? প্রায় ৩০ লক্ষ বছর আগে জর্ডন নদী, মৃত সাগর ও গুয়েদি আবাবা এলাকা বারবার লোহিত সাগরের জলে বন্যার ফলে প্লাবিত হত । এই প্লাবনের ফলে একটি উপসাগর তৈরি হয় । তারপর ধীরে ধীরে এটি একটি লবণাক্ত হ্রদে পরিণত হয় । তারপর দেখা যায় যে এই উপসাগরের জলে যেকোনো জিনিস খুব সহজে ভেসে থাকতে পারে । এমন কি ভারী বস্তুও এর জলে ভেসে থাকতে পারে । তারপর এই সাগরের নাম হয় মৃত সাগর ।


 নানা তথ্য বিশ্লেষণের পর দেখা যায় যে – মহাসাগরের জলের তুলনায় এখানকার জলে মিশে থাকা খনিজ পদার্থের পার্থক্যের পরিমাণ অনেক । এর জলে রয়েছে প্রচুর নোনা । জলে লবণের পরিমাণ প্রায় ৩০ ভাগ । এরফলে আপনি সহজে বুঝতে পারছেন যে এখানে কতটা লবণ রয়েছে । লবণ থাকার ফলে জলের ঘনত্ব হয়েছে অনেক বেশি । তাই যেকোনো বস্তু এই জলে সহজে ডোবেনা, ভেসে থাকে ।

 মৃত সাগরের জলে মানুষ বসে, শুয়ে আপনার যেভাবে ইচ্ছা আপনি সেভাবে থাকতে পারবেন । এই জলে প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যার ফলে কোনও প্রাণী এই জলে বসবাস করতে পারেনা । প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অনুপযোগী এই মৃত সাগর । মাছ বা অন্য কোনও প্রাণী এই জলে নেই । অনেক পর্যটক এখানে ভেসে থাকার আনন্দ নেওয়ার জন্য প্রতি বছর আসেন । তাঁরা কেউ জলে শুয়ে আছেন আবার কেউ জলের উপর বই পরছেন ।


বিভিন্ন রোগে অসুস্থ মানুষদের বায়ু পরিবর্তনের স্থান হল এই মৃত সাগর । বর্তমানে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম কেন্দ্রস্থল । বিশেষ ভাবে যারা চর্ম রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য সবথেকে ভাল হল এখানকার মাটি । মনে করা হয় যে – চর্ম রোগে আক্রান্ত লোকেরা এই মাটি ব্যবহার করলে চর্মরোগ ভাল হয়ে যায় । সোরিয়াসিস, সেলুলাইট, ব্রণ, ফুসকুড়ি, খুশকি দূর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । এখানে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবও কম । বিভিন্ন ধরণের খনিজ পদার্থের বিপুল উপস্থিতি রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । এখানকার খনিজ ও লবণ সুগন্ধি ও প্রসাধনী তৈরীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে । এখানে এখন শস্য গবেষণার কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে । মাছ বা পাখি এখানে না থাকলেও মানুষের জন্য একটি আদর্শ স্থান ।
আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 


  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৯

ইন্টারনেট, সার্চ ইঞ্জিন, সোশাল নেটওয়ার্কিং, ওয়েবসাইট, ব্লগ ও ব্লগার এগুলি কি ?


  আমাদের বর্তমান সময়ে টেকনোলোজির যুগে যোগাযোগের জন্য এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হল ইন্টারনেট । এখন প্রায় প্রতিটি মোবাইল ও কম্প্যুটার ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন । ইন্টারনেট ব্যবহারের সাথে কতগুলি শব্দ যুক্ত হয়ে আছে । আজ আমরা এরকম কতগুলি শব্দের সাথে আপনাদের পরিচয় করাবো । জানতে হলে আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন । ইন্টারনেট বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইন্টারনেট লেখাটির উপর ক্লিক করুন ।

১)ইন্টারনেট – ইন্টারনেট হল একটি প্রযুক্তি । এর মাধ্যমে আপনি আপনার কম্প্যুটার বা মোবাইলের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাথে সাথে যোগাযোগ করতে পারেন । আপনার বাড়িতে বসে বিমান, রেল, জাহাজ ইত্যাদির টিকিটের আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন । এছাড়াও আরও বিভিন্ন কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়ে থাকে ।  ইন্টারনেট প্রথম আবিষ্কার করেন ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ । তাঁরা ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে এটি আবিষ্কার করেন । এর মাধ্যমে সৈনিক ও বিজ্ঞানীরা একে অপরকে বিনা বাধায় তথ্য পাঠাতে পারতেন । ১৯৮৪ সালে প্রায় ১০০০ এর বেশি কম্প্যুটার ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয় । ১৯৮০ সালে সর্বসাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করেন । ভারতে ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেটের প্রচলন হয় । বর্তমানে লক্ষ লক্ষ কম্প্যুটার এর সাথে যুক্ত রয়েছে । ইন্টারনেট কোনও সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়না । কোনও একজন ব্যক্তি, কোম্পানি, সংস্থা এর মালিক হতে পারেনা ।

২)সার্চ ইঞ্জিন – যে সফটওয়ার প্রোগ্রামের সাহায্যে ইন্টারনেটে থাকা ওয়েবসাইট, ওয়েবপেজ, বা বিভিন্ন ফাইল অনুসন্ধান করার জন্য আমাদের সাহায্য করে তাদেরকে সার্চ ইঞ্জিন বলা হয় । আপনি যখন কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের নাম না জেনে থাকেন তখন আপনাকে অনেকগুলি লিঙ্ক দেখানো হয় । আপনি সেই লিঙ্ক গুলির মাধ্যমে আপনার পছন্দের ওয়েবসাইটে যেতে পারেন । কোনও ফাইল খোঁজার জন্য আপনাকে প্রথমে সার্চ ইঞ্জিনের টেক্সট বক্সে কিছু শব্দ লিখতে হয় । সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে আপনার টাইপ কারে শব্দের সাথে মিল রয়েছে এমন লিঙ্ক দেখায় । এভাবে আপনি আপনার দরকারি তথ্য পেয়ে যাবেন  । আমাদের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হল Google, এছাড়া অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন হল Bing, Yahoo, Yandex, Duckduckgo ইত্যাদি ।

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
ফেসবুকে ভুয়ো বা ফেক প্রোফাইল চেনার উপায় কি কি ?.
৩)সোশাল নেটওয়ার্কিং – সোশাল নেটওয়ার্ক হল এমন একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যার সাহায্যে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন । আপনার যাদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ থাকেনা, তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন । আপনি এখানে আপনার ফোটো, ভিডিও, অডিও, টেক্সট ইত্যাদি বিনা খরচে আপলোড করতে পাড়বেন । আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে পারেন, ভিডিও, ফোটো, টেক্সট শেয়ার করতে পারেন । বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বের অনেক মানুষ এই সাইটের সাথে যুক্ত হয়ে আছেন । আপনার টাইম পাস করার জন্য এগুলি হল উপযুক্ত জায়গা । সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলির মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হল ফেসবুক । ফেসবুক ২০০৪ সালে শুরু করা হয়েছিল । এছাড়াও অন্যান্য সাইট গুলি হল – WhatsApp, Twitter, Instagram ইত্যাদি ।


৪)ওয়েবসাইট – আমরা ইন্টারনেটে যে সব তথ্য বা ডকুমেন্ট দেখি সেগুলিকে ওয়েবপেজ বলা হয় । ওয়েবপেজে টেক্সট, ফোটো, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি থাকে । এরকম বেশকিছু ওয়েবপেজ নিয়ে তৈরি হয় একটি ওয়েবসাইট । ওয়েবসাইট বিভিন্ন প্রকারের হয় যেমন – নিউজ ওয়েবসাইট, এডুকেশন ওয়েবসাইট, বিজনেস ওয়েবসাইট, সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট ইত্যাদি । এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে থাকেন যেমন – খেলার খবর, আবহাওয়া খবর, সংবাদ, কোনও কোম্পানি বা কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য, আরও বিভিন্ন তথ্য । এই ওয়েব সাইটগুলি কোনও ব্যক্তি, কোম্পানি, সংস্থা বা সরকার পরিচালনা করেন । আপনি যে পেজগুলি দেখেন সেগুলি বিশেষ কম্প্যুটারে জমা থাকে, তাকে সার্ভার বলা হয় । আপনি যতক্ষণ সেই সার্ভারে থাকেন ততোক্ষণ এই পেজগুলি দেখতে পান ।


৫) ব্লগ ও ব্লগার – আমার মনে হয় আপনারা এই শব্দ দুটির সাথে তেমন পরিচিত নয় । ব্লগ হল এমন একটি অনলাইন মাধ্যম যেখানে আপনি আপনার নিজের লেখা গল্প, চিন্তাধারা, পরামর্শ ইত্যাদি সহজে প্রকাশ করতে পারবেন । আপনি এখন যে আমার এই লেখাটা পড়ছেন এটি হল একটি ব্লগ । ইন্টারনেটে এরকম অনেক ব্লগ আছে । প্রতিটি ব্লগ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় । আর ব্লগার হল গুগলের দ্বারা বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করার সুবিধা প্রদানকারী পরিসেবা । ১৯৯৯ সালে এটি তৈরি হয়, ২০০৩ সালে গুগল একে কিনে নেয় । এর মাধ্যমে আপনি আমার মত আপনার নিজের ব্লগ তৈরি করতে পারবেন, আর এর মাধ্যমে আপনি পয়সা উপার্জন করতে পারবেন । যেখানে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে পয়সা পাবেন ।


  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইন্টারনেট  বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইন্টারনেট লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯

আপনি জীবনে সাফল্য লাভ করবেন কিভাবে ?.


  ‘ব্যর্থতা হল সুযোগ নতুন করে শুরু করার, যেখানে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা যায়’- হেনরি ফোর্ড ।
  আমরা প্রতিটি মানুষ চাই জীবনে সাফল্য অর্জন করতে । জীবনে সাফল্য কে চায় না ? কি আপনিও তাই চান তো ? কিন্তু, সবাই জীবনে সাফল্য লাভ করতে পারেনা । কেউ সাফল্যের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করে যান, আবার কেউ সাফল্যের জন্য পরিশ্রম না করে একঘেয়ে জীবনের ঘানি টেনে চলেন । কেউ বললেন যে আমার ভাগ্যটা খারাপ, সত্যি কি তাই । যারা আজ জীবনে সফল, সেই সফল মানুষরা কি করেন, যা আজ তাঁদেরকে সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছে দিয়েছে । আসুন এখন জেনে নিন সফল মানুষদের কিছু অভ্যাস ।

  ১) সবার প্রথমে আপনাকে একটি লক্ষ নির্ধারণ করতে হবে । আপনার ক্ষমতা অনুসারে লক্ষ নির্ধারণ করুন । নিজে জীবনে কি করতে চান সেই বিষয়ে যদি আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকে তবেই আপনি জীবনে সফল হতে পারবেন । তারপর সেই লক্ষে পৌঁছনোর জন্য বা সাফল্য পাওয়ার জন্য আপনাকে সেই কাজটি আগ্রহ বা মন দিয়ে করতে হবে । আপনি তখন সফল হবেন যখন আপনি আপনার কাজটিকে ভালবাসতে পারবেন । এটি আপনাকে আপনার জীবনে সাফল্য লাভ করতে সাহায্য করবে ।


  ২) সাফল্য লাভ করতে হলে আপনি সেই সব মানুষদের সাহায্য নিন যারা আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । তাঁরা কিভাবে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে সেগুলি জেনে নিন । আপনার কাজে উৎসাহ দেন এমন মানুষদের সাথে থাকুন । সব সময় পজিটিভ চিন্তা করবেন । নেগেটিভ চিন্তা মাথায় একদম আনবেন না । যারা আপনাকে নেগেটিভ কথা বলে তাঁদের থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন । আপনার মন ভাল থাকে এমন কাজ করুন ।

  ৩) জীবনে আলস্যকে একদম প্রশ্রয় দেবেন না । রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমবেন ও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন । আপনার শরীরের যত্ন নিন । তাই শরীর চর্চা করতে পারেন, হালকা শরীরচর্চা আপনাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে । এরফলে আপনার পেশির শিথিলতা বাড়বে, রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়ে আপনার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে ।

  ৪) আপনি আপনার কাজের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখুন । আমাদের চারপাশে অনেক ঘটনা ঘটে থাকে, সেদিকে আপনার নজর যেন বেশি না হয় । আপনার নজর থাকবে শুধুমাত্র আপনার কাজের দিকে । বাইরের দিকে মন চলে গেলে কাজে মন বসাবেন কিভাবে ? যদি অন্য দিকে আপনার মন যায় তাহলে সাফল্য থেকে আপনি দূরে সরে যাবেন ।


  ৫) সাফল্য লাভের জন্য আমাদের জীবনে প্রচুর কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এর কোনও বিকল্প নেই । আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম না করেন তাহলে আপনি নিজের লক্ষে পৌঁছাতে পারবেন না । কাজে আপনাকে সময় দিতে হবে । অল্প দিকের মধ্যে কেউ বড়ো কিছু করতে পারেনা । রাতারাতি কেউ বড়ো হতে পারেনা । তাই সময় নিন, আপনি আপনার কাজ করে যান । দেখবেন একদিন সাফল্য আপনার জীবনে অবশ্যই আসবে । তাঁর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে । মেয়েদের পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে সময় দিন । দেখবেন আপনার সময়ের কোনও অভাব হবেনা ।

  ৬) আপনাকে সেই কাজের ব্যপারে আরও বেশিকরে জ্ঞান লাভ করতে হবে । যেমন রাম একটি কাজ করছে দেখে আপনিও সেই কাজ শুরু করলেন । কিন্তু, রাম যে টাকা ইনকাম করছে আপনি তা করতে পারছেন না । কেন এমন হল ? এর কারণ হল রাম সেই কাজটি খুঁটিনাটি সম্পর্কে সব ভালকরে জানে, আপনি জানেন না । তাই আপনাকেও যে কাজটি করবেন সেই কাজের খুঁটিনাটি সব বিষয় ভালকরে জানতে হবে । তাঁর জন্য আপনি বই পড়তে পারেন বা ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন । সবাই যে ভাবে কাজটি করে আপনি তাঁর থেকে আলাদা ভাবে করার পদ্ধতি বার করে কাজটি তাড়াতাড়ি করার ব্যবস্থা করুন । আজকের দিনে মানুষ তাকে চায় যে অল্প সময়ে ভাল পরিষেবা দিতে পারে ।


৭) আপনি যে কাজ করছেন যদি সে কাজে অনেক মানুষ মিলে করতে হয় তবে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করুন । যদি দলের কারোর সাথে আপনার মতের পার্থক্য হয়ে থাকে তবে আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে ফেলুন । দলের সবার মতামতকে গুরুত্ব দিন । মনে রাখবেন – আপনি ও আপনার কর্মচারীর মধ্যে যদি সম্পর্ক ভাল থাকে তবে আপনার কাজ অনেক সহজে হয়ে যাবে । সাফল্যের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করা ।


  ৮) নতুন কিছু করে দেখান । কারণ মানুষ নতুন নতুন জিনিস বেশি পছন্দ করে । সব সময় মানুষের ঝোঁক থাকে নতুনের দিকে । বাজারে যে জিনিস নতুন আসে তাঁর চাহিদা প্রচুর হয় । কাস্টমারের কোনও অভাব তখন পড়েনা । আপনার কাস্টমারকে সব সময় খুশি রাখার চেষ্টা করুন । এরফলে আপনার ব্যবসা অনেক বেড়ে যাবে ।

  ৯) আপনাকে আপনার নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে । এটা ভাবুন যে আমি যে স্বপ্ন দেখেছি তা আমাকে পূরণ করতে হবে । আপনি ততক্ষণ হারবেন না যতক্ষণ না আপনি আপনার নিজের কাছে হার না মানবেন । কোনও কাজ শুরু করার পর হাল ছাড়বেন না ।

  ১০) সবশেষে বলি আগে নিজেকে ও নিজের শরীরকে ঠিক রাখুন । আপনি যদি কাজের পিছনে ছুটে শরীর খারাপ করে ফেলেন তাহলে কাজটি করবেন কিভাবে । অনেককে দেখা যায় যে কাজের চাপে ঠিক সময় খান না, ঘুমানো কমিয়ে দেন, এরকম করবেন না । সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে কাজ করুন । আপনার শরীরটা না থাকেলে আপনি থাকবেন কি করে ।


আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
বিয়ে করার জন্য সঠিক ছেলে বা মেয়ে কিভাবে নির্বাচন করবেন ?.
সুলক্ষণা নারীদের দেহের লক্ষণ ও গঠন কেমন হয় ?
কোন মানুষকে প্রভাবিত করে তার মনে আপনার স্থান কিভাবে করবেন ?.

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯

ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় কি কি ?.


  আমাদের শরীরে আঘাত লাগা, অন্য কোন অসুখের আক্রমণ, সংক্রমণ, স্ফীতের কারণে বা অন্য কোন কারণে দেহের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়াকে জ্বর বলা হয় । সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত হয় ফারেনহাইট স্কেলে ৯৮.৪ ডিগ্রি । যখন সেই তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি বৃদ্ধি পায় তখন আমাদের বুঝতে হবে শরীরে জ্বর হয়েছে । গায়ে হাত দিয়ে তাপমাত্রা বেড়েছে কিনা অনুমান করা যায় । সঠিকভাবে তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা দরকার । থার্মোমিটার বগলে বা জিভের নিচে দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হয় । জ্বর হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে ।



  জ্বরের লক্ষণ – সাধারণভাবে চারপাশের আবহাওয়া বদলের ফলে জ্বর হতে দেখা যায় । মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শরীরে আঘাত লাগা, জীবাণু বা ভাইরাসের সংক্রমণ হলে, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কালাজ্বর, টাইফয়েড ইত্যাদির কারণেও জ্বর হতে পারে । আবার বিভিন্ন রোগের ফলে যেমন – ডিপথেরিয়া, জলবসন্ত, হাম, টনসিলের প্রদাহ ইত্যাদি । জ্বর হলে আমাদের খিদে কমে যায়, মাথাঘোরা, বমিভাব, ত্বক গরম হয় ও শুকনো হয়ে যায় । চোখ, মুখ লাল হয়ে যায় । হাতে ও পায়ে ব্যথা তৈরি হয় । অনেক মানুষ আবার জ্বরের জন্য ভুল বকে থাকেন ।


 
প্রতিকারের উপায়
– জ্বর কোনও নির্দিষ্ট রোগ নয়, অন্য রোগের ফলে আমাদের শরীরে জ্বর হয় । ঘরোয়া পদ্ধতি যেগুলি করতে পারেন – ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে কোন ওষুধ খাবেন না । প্রথমে রোগীর মাথায় ঠাণ্ডা জলের কাপড়ের পট্টি দিতে হবে । যদি পারেন মাথায় বরফের ব্যাগ দিতে পারেন । ভিজে কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে দিতে হবে । হালকা পাতলা জামা কাপড় পরাতে হবে । রোগী যে ঘরে থাকবে সেই ঘর পরিষ্কার, আলো বাতাস যুক্ত হতে হবে । ঘরের দরজা, জানলা খুলে আলো ও বাতাস আসার ব্যবস্থা করে দিন । শিশুদের জ্বর হলে তাঁদের ঢাকা দেওয়া জামা কাপড় পরাবেন না । হালকা পাতলা জামা কাপড় পরাতে হবে । মাথায় হাওয়া দিতে হবে ।

১) ম্যালেরিয়া – প্লাজমোডিয়াম নামের এককোষী আদ্য প্রাণীর জন্য আমাদের ম্যালেরিয়া জ্বর হয় । ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রে পোষক দুটি প্রাণীর নাম হল – স্ত্রী মশা ও মানুষ । স্ত্রী মশারা জীবাণু বহন করে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দেয় । ম্যালেরিয়ার লক্ষণ হল – রক্তশূন্যতা, যকৃৎ বড়ো হয়ে যাওয়া, প্লীহাবৃদ্ধি ইত্যাদি । মাথাঘোরা, বমিভাব, হাত, গায়ে ব্যথা । ম্যালেরিয়া হলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যান ।


প্রতিকারের উপায় – সবার প্রথমে মশার বংশ বৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে । আশেপাশে জল জমতে দেবেন না । মশারি ব্যবহার করতে হবে । মশা মারার জন্য ধুপ বা কয়েল ব্যবহার করুন । মশা আপনাকে কামড়াতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন । শরীরে ক্রিম বা তেল মাখুন । মশার লার্ভা ধ্বংস করুন । রোগীকে আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করুন । সব সময় পরিষ্কার পরিছন্ন থাকবেন । উপরে দেওয়া উপায় গুলি পালন করুন ।

২) ডেঙ্গু – ভারত ও বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার পর ডেঙ্গু হল সর্বাধিক মশা বাহিত রোগ । স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান বাহক । এই মশা দিনের বেলা, সকালের দিকে মানুষকে কামড়ায় । বাড়ির আশেপাশে যেমন – ডাবের খোলা, ফুলদানি, বোতল, বাতানুকূল যন্ত্র ইত্যাদিতে এরা জন্মায় । প্রচুর পরিমাণে জ্বর শরীরে হয়, হাড়ে ব্যথা হয় । আপনার মনে হবে যেন হাড় ভেঙ্গে গেছে । মাথা যন্ত্রণা, নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, মলের রঙ কালো হয়ে যায় । দেহের রক্তচাপ ও তাপমাত্রা কমে যায়, লিভার বেড়ে যায়, হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যায় ।

প্রতিকারের উপায় – বাড়ির আশেপাশে জল জমতে দেবেন না । জমা জলে এই মশা ডিম পারে । জলে কেরোসিন, রাসায়নিক স্প্রে দিন । ফুলদানি, টব, রেফ্রিজারেটরের জল নিয়মিত বদলাতে হবে । প্রতিদিন নিয়মিত দিনে ও রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমবেন । জ্বর হলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করান । রোগীর যদি রক্তের প্রয়োজন হয় তাহলে রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে । মশার হাত থেকে সব সময় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন ।
   আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।


শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ম্যাপ বা মানচিত্রের সাহায্যে পৃথিবী চিনবেন কিভাবে ?.


   রাহুল কয়েকদিন আগে একটি অচেনা জায়গায় বেড়াতে গিয়েছিল । বিকেলে আকাশ মেঘলা করে বৃষ্টি শুরু হল । এর মধ্যে সে রাস্তা হারিয়ে ফেলল । আকাশে মেঘ থাকার জন্য দিক ঠিক করতে পারছেনা । একজনকে বলায় সে বলল সোজা উত্তর দিকে চলে যেতে । কিন্তু, উত্তর দিক কোনটা বুঝতে পারছেনা । তাহলে আমাদের কাছে কি থাকলে কোন দিক বা জায়গা সম্বন্ধে ধারণা করতে পারি ? উত্তর হল ওই এলাকার ম্যাপ বা মানচিত্র ।


 খ্রিস্ট জন্মের ২৫০০ বছর আগে পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র আবিষ্কৃত হয় ব্যাবিলনে । মানচিত্রটি একটি পোড়া মাটির ফলকের উপর আঁকা ছিল । ষোড়শ শতাব্দীতে ১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভূগোল বিদ মার্কেটর প্রথম মানচিত্র বই প্রকাশ করেন । গ্রিক পুরাণের দেবতা ‘Atlas’ এর নাম অনুসারে নাম করণ করা হয় Atlas’বর্তমানে মানচিত্র বইকেও Atlas’ বলা হয় । মানচিত্র প্রাচীনকালে চামড়া, কাপড়, তুলোট কাগজের ওপর সাধারণত আঁকা হত । ম্যাপ শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘ম্যাপা’ থেকে, যার অর্থ কাপড় । মানচিত্র আঁকার বিদ্যাকে বলা হয় কার্টোগ্রাফি । বর্তমানে ঘরে বসেই উপগ্রহের চিত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার দ্বারা মানচিত্র তৈরি করা যায় ।

  মানচিত্র ছাড়াও আরও কতগুলির উপাদানের দ্বারা কোন অঞ্চলের বা জায়গা সম্বন্ধে জানতে পারি । গ্লোব হল পৃথিবীর একটি ছোটো মডেল বা ক্ষুদ্র প্রতিরূপ । তবে, গ্লোবের দ্বারা বেশি তথ্য পাওয়া যায়না । তাছাড়াও স্কেচ ও প্ল্যান-এর দ্বারা কোনও অঞ্চল সম্বন্ধে ধারণা করা যায় । স্কেচ থেকে দিক ও দূরত্ব সঠিক পাওয়া যায়না । পৃথিবী সম্বন্ধে সঠিক ভাবে  জানতে সবথেকে ভাল ও সহজ উপায় হল ম্যাপ বা মানচিত্র । পৃথিবী গোলাকার তাই তাঁকে সমতল কাগজে আঁকতে গেলে অনেক ত্রুটি হয় ।

  মানচিত্রে বিভিন্ন তথ্য ও নানা বিষয় দেখানো হয় । যে মানচিত্রে নদনদী, মালভূমি, পাহাড়-পর্বত, সমভূমি ইত্যাদি দেখানো হয় সেই মানচিত্রকে প্রাকৃতিক মানচিত্র বলে । যে মানচিত্রে জেলা, দেশ, মহাদেশ ইত্যাদি দেখানো হয় তাকে রাজনৈতিক মানচিত্র বলে । আবার যেসব মানচিত্রে আবহাওয়া, রেলপথ, সড়কপথ, জনসংখ্যা, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি নির্দিষ্ট বিষয় দেখানে হয় তাকে বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র বলা হয় ।


  মানচিত্র আঁকার জন্য আমাদের কতগুলি অপরিহার্য উপাদানের দরকার হয় । পুরো পৃথিবীকে আমরা একসাথে দেখতে পাইনা । একটি নির্দিষ্ট স্কেল অনুসারে পৃথিবী বা তার কোন অংশকে মানচিত্রে উপস্থাপন করা হয় । যখন ছোটো স্থানে পুরো পৃথিবী, দেশ বা মহাদেশ দেখানো হয় তখন তাকে ছোটো স্কেল মানচিত্র বলে । এখানে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়না । আবার যেসব মানচিত্রে ছোটো এলাকাকে বড়ো করে দেখানো হয় তাকে বড়ো স্কেল মানচিত্র বলে । এখানে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় ।

  মানচিত্রের কোনও বড়ো এলাকাকে পুরোটা দেখানোর জন্য তাকে বাস্তব দূরত্বের তুলনায় আকারে ছোটো করে দূরত্ব দেখানো হয় । পৃথিবীর দুটি স্থানের মধ্যে যে নির্দিষ্ট দূরত্ব অনুপাতে মানচিত্রের দূরত্ব দেখা যায় তাকে বলা হয় মানচিত্রের স্কেল । মানচিত্রে দুটি স্থানের মধ্যে বাস্তব দূরত্ব বের করার জন্য প্রথমে স্থান দুটিকে একটি সরল রেখায় যোগ করতে হবে । এরপর মানচিত্র দূরত্বকে মানচিত্রের স্কেল দিয়ে গুন গুন করতে হবে । পৃথিবীর ম্যাপের মধ্যে আমরা ভারত বা বাংলাদেশেকে খুব ছোটো দেখি । কিন্তু, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে দেখলে একটু বড়ো দেখা যায় ।  এর কারণ হল – পৃথিবীর মানচিত্রে অনেক দেশ, মহাদেশ থাকার জন্য ছোটো দেখায়, আর এশিয়াতে কয়েকটি দেশ থাকার জন্য বড়ো দেখায় ।

  মানচিত্রে যখন কোন এলাকাকে ছোটো করে দেখানো হয় তখন সেখানে কি কি আছে তা বোঝাবার জন্য কিছু সংকেত, রঙ, প্রতীক, চিহ্ন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় । পৃথিবীর সমস্ত দেশের মানচিত্রে কিছু নির্দিষ্ট সংকেত, রঙ, প্রতীক, চিহ্ন একই অর্থের জন্য ব্যবহার করা হয় । তাকে প্রচলিত বা প্রথাগত প্রতীক চিহ্ন বলে । এরকম কয়েকটি হল – পাহাড় পর্বতের জন্য খয়েরি বা বাদামি, জলের জন্য নীল, সমভূমি বা বনভূমির জন্য সবুজ, কৃষিজমির জন্য হলুদ রঙ ।

  এছাড়া শিরোনাম থাকে, যার সাহায্যে মানচিত্রের বিষয় বস্তুর ধারণা পাওয়া যায় । উত্তর দিক দেখানো তিরচিহ্ন, দিক নির্ণয় করার জন্য । যদি কোন মানচিত্রে দিক চিহ্ন না থাকে তবে তার উপরের দিক উত্তর দিক, নীচের দিক দক্ষিণ দিক, ডানদিকে পূর্বদিক ও বামদিকে পশ্চিম দিক হয় । মানচিত্রে অসংখ্য ধরণের তথ্য দেওয়া থাকে । নির্দেশিকায় তার অর্থ দেওয়া থাকে । তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে – মানচিত্রকে সঠিক ভাবে যদি না পড়তে পারেন তাহলে মানচিত্রে দেখানো কোন অঞ্চল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করতে পারবেন না ।

    আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ভূগোল ও জানা অজানা  বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল ও জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । 


অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে প্লিজ ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিশ্ব উষ্ণায়ন কি, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীতে কি হতে পারে ?.


  আমাদের পরিবেশে বিভিন্ন উৎস থেকে বেরোনো ধোঁয়ার মধ্যে নানা রকমের গ্যাসীয় পদার্থ, ভাসমান কণা যেমন – মিথেন, কার্বনডাই অক্সাইড, সালফারডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি থাকে । পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এইসব গ্যাসীয় পদার্থ ছাড়া ওজোন ও জলীয় বাষ্প থাকে । এই পদার্থগুলো বায়ুমণ্ডলে গিয়ে জোমা হয়ে পৃথিবীকে একটা চাদরের মতো করে মুড়ে রেখেছে । এই গ্যাসীয় পদার্থের চাদর পৃথিবীর ছেড়ে দেওয়া তাপ শক্তির একটা অংশকে বায়ুমণ্ডলে ধরে রাখতে সাহায্য করে, পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে রাখতে সাহায্য করে ।

  বায়ুমণ্ডলে যদি জলীয় বাষ্প, কার্বনডাই অক্সাইড না থাকে তাহলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা -১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যেত । পৃথিবীতে প্রাণ থাকত না । আমাদের বিভিন্ন কাজকর্মের ফলে এই গ্যাসীয় পদার্থগুলির পরিমাণ পরিবেশে অনেক বেড়ে যায় । তখন এই গ্যাসগুলি দরকারের অতিরিক্ত তাপ পৃথিবীতে ধরে রাখে । এই কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থার থেকে বেড়ে যায় । তাই একে বলা হয় ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’
  জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে বিশ্ব উষ্ণায়নের যোগাযোগ রয়েছে । বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে । বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জেনেছেন যে – এই গ্যাসগুলি পৃথিবীতে স্বাভাবিক অবস্থার থেকে অনেক বেড়ে গেছে । ২০০৬ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বনডাই অক্সাইড এত বেশি বেড়েছে যে কয়েক হাজার বছরে এতটা বাড়েনি । ১৯৭০ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে এই গ্যাস প্রায় ৪০% পরিবেশে প্রতিবছর মিশেছে । ২০০১ সালের প্রথম দিকে জানা যায় যে – গত ১০০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে । ১৯৮০ – ১৯৮৮ সালের মধ্যে ভারতে ১৮ টি তাপ প্রবাহের ঘটনা ঘটেএই তাপ প্রবাহের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয় । মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা(NASA) জানায় যে – ২০০৫ সাল ছিল গত শতাব্দীর মধ্যে উষ্ণতম বছর ।

   হিমবাহকে জমাট বাঁধা বরফের নদী বলা হয় । হিমবাহ হল পৃথিবীর মিষ্টি জলের ভাণ্ডার । বিভিন্ন নদী এই হিমবাহের জলে পুষ্ট হয় । পৃথিবীর ৯৯% হিমবাহের অবস্থান উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে, হিমালয় পর্বতে, অন্যান্য পর্বতে । হিমালয়ের অন্যতম হিমবাহগুলি হল – গঙ্গোত্রী, জেমু, জমুনেত্রী ইত্যাদি । গঙ্গা, যমুনা ইত্যাদি নদী এইসব হিমবাহের বরফ গলা জলে পুষ্ট । বৃষ্টিপাত, বায়ুর উষ্ণতা প্রভৃতি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর হিমবাহ গুলির উপর গভীর প্রভাব পড়ে । পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বেড়ে গেলে হিমবাহের বরফ বেশি মাত্রায় গলতে শুরু করবে ।

  উত্তর মেরু সংলগ্ন আলাস্কা উপকূলে যে বরফের স্তর আছে তা গত ৩০ বছরে প্রায় ৪০% কমে পাতলা হয়ে গিয়েছে । গঙ্গোত্রী হিমবাহ প্রতি বছর একটু একটু করে কমে আসছে । যদি হিমবাহগুলি সম্পূর্ণ গলে যায় তবে ভবিষ্যতে এই হিমবাহের জলে পুষ্ট নদীগুলির জল প্রথমে বেড়ে যাবে, পরে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাবে । এরফলে প্রথমে বন্যা, পরে জলের তীব্র সংকট দেখা যাবে । হিমবাহ প্রায় ২০% সূর্য রশ্মি শোষণ করে আর ৪০% সূর্য রশ্মি পতিফলিত করে । হিমবাহ যদি গলে যায় তবে এই ৪০% সূর্য রশ্মি ভূভাগ দ্বারা শোষিত হয়ে পৃথিবীর উষ্ণতা আরও অনেক বাড়িয়ে দেবে ।

  হিমবাহ গলে গেলে সমুদ্রের জলের স্তর বেড়ে যাবে । ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ৩ মিমি(০.১ইঞ্চি) করে সমুদ্রের জলতল প্রতিবছর গড়ে বেড়েছে । পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রভাব পড়বে সমুদ্রের জলের তলের উপর । একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে – ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা ৭০ সেমি বেড়ে যেতে পারে । ফলে সমুদ্র উপকূল এলাকাতে বন্যার সম্ভাবনা দেখা যাবে । এরফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূল অঞ্চলে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের ক্ষতি হতে পারে । উপকূল অঞ্চলের জীব  বৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে । আমাদের সুন্দরবন আজ এই বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । এখানে বসবাসকারী প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ ও বাঘের সকলের অস্তিত্ব সংকটের মুখে ।

  প্রবাল বা কোরাল হল এক ধরণের সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী । এরা নিডারিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত । প্রবালরা তাদের দেহের বাইরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট-এর একটা বহিঃ কঙ্কাল তৈরি করে । এটি এদের দেহকে রক্ষা করে । একসাথে বাসকরা অনেক প্রবালের দেহের বাইরে থাকা  ক্যালসিয়াম কার্বনেট-এর বহিঃ কঙ্কাল একটা শক্ত প্রাচীর গঠন করে প্রবাল প্রাচীর তৈরি করে । প্রবাল প্রাচীরে ২৫% সামুদ্রিক প্রজাতির জীবের আশ্রয়স্থল । মাছ, মোলাস্কা, স্পঞ্জ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাণী প্রবাল প্রাচীরে বাস করে । বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এই প্রবাল প্রাচীর বিপন্ন হয়ে পড়ছে । ১৯৮৮ সালে প্রায় ১৬% প্রবাল ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল । ভারত মহাসাগরে জলের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রবাল প্রাচীর গুলিতে মাছেদের আদর্শ বাসস্থান আর থাকছেনা । আবার লোভী মানুষ প্রবাল চুরি করে এদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে । মৃত প্রবালের সাদা বা রঙিন কঙ্কালের সৌন্দর্য আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করে ।

  পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী ছড়িয়ে আছে । আবার খালি চোখে আমরা দেখতে পাইনা এমন জীবরাও রয়েছে । পৃথিবীতে এরকম অনেক অঞ্চল রয়েছে যেখানে খুব বেশি প্রজাতির জীব আছে । আমাদের ভারতবর্ষে জীববৈচিত্র্যে এত বেশি যে ভারতবর্ষকে ‘অতি বৈচিত্র্যের’ দেশ বলা হয় । কিন্তু, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাঁদের আজ ধ্বংসের মুখে পড়তে হয়েছে । গত ৫০০ বছরে ৭৮৪ টি প্রজাতি পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে । এদের মধ্যে রয়েছে ৩৩৮ টি মেরুদণ্ডী, ৩৫৯ টি অমেরুদণ্ডী, ৮৭ টি উদ্ভিদ প্রজাতি । বর্তমান সময়ে প্রায় ১৫,০০০ টি প্রজাতি ধ্বংসের মুখে রয়েছে । গত ২০ বছরে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে ২৭ টি প্রজাতিযে জীব গুলি পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে – বাংলার শকুন, বাঘ, চিতা, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, একশৃঙ্গ গণ্ডার ইত্যাদি । আমাদের সবার কর্তব্য হল পৃথিবীর জীব গুলিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো ।

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ভূগোল ও বিজ্ঞান বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল ও বিজ্ঞান লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 
 
অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে প্লিজ ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পৃথিবীতে কি সত্যি নরকের দরজা বলে কিছু আছে ?.


 আমরা সবাই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি যে - মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর স্থান হয় স্বর্গে বা নরকে । স্বর্গ বা নরকের কথা শোনেননি এমন একটা মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবেনা । অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে স্বর্গ বা নরক রয়েছে । কিন্তু, আপনি কি মৃত্যুর আগে নরকের দরজা দেখার ইচ্ছা করেন ? তাহলে আমি আপনাদের এখন সেই নরকের দরজার কথা বলবো । কথাটা শুনে আপনার হয়তো অবাক লাগছে ? অবাক হবার কিছু নেই । পৃথিবীয়ে এমন একটি জায়গা আছে যাকে বলা হয় নরকের দরজা । সেই নরকের দরজা আসলে কি ? জানতে হলে আমাদের এই লেখাটা শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়তে থাকুন ।


  তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমির একটি সহজ সাধারণ স্থান হল দরওয়াজা গ্রাম । রাজধানী আসকাবাদ থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । মাত্র ৩০০ মানুষের বসবাস রয়েছে সেই গ্রামে । সেখানে গেলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন, হাড়হিম হয়ে যাবে, গায়ে কাটা দেবে । এখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন একটি বড়ো আগুনের গর্ত । 


যার ব্যাস ৬৯ মিটার ও গর্ত ৩০ মিটার দীর্ঘ গভীর । সেই গর্তের মধ্যে এখন দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন, যে আগুন কখন নেভেনা । এই কারণের জন্য গ্রামটি আলাদা মাত্রা পায় ।
রাতের বেলা আগুনের শিখাগুলো বেশ স্পষ্ট হয় । সেসময় দূর থেকে এই দৃশ্য ভয়ংকর সুন্দর লাগে ভ্রমণবিলাসী মানুষদের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর দৃশ্য গ্রামের মানুষরা সেই গর্তটির নাম দিয়েছেন ‘নরকের দরজা’ । আবার এটি শয়তানের সুইমিং পুলনামেও  পরিচিত

 এই গর্তটি প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়নি । মানুষের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে । ১৯৭১ সালের আগেও এর কোনও অস্তিত্ব ছিল না সেই সময় তুর্কমেনিস্তান সোভিয়েত রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল । ১৯৭১ সালে সোভিয়েত রাশিয়া বিভিন্ন এলাকাতে তেল সংগ্রহের জন্য অভিযান চালায় । সোভিয়েত রাশিয়ার অনুসন্ধানকারীরা এই জায়গাটি আবিষ্কার করেন । 

  প্রথমে মনে করা হয় যে এলাকাটি ছিল একটি তেলের খনি । তেল সংগ্রহের জন্য সেখানে আস্তানা তৈরি করা হয় । বিভিন্ন ভাবে তেল তোলার চেষ্টা করা হয় । তার জন্য জায়গাটি খনন করা শুরু হয় । কিছুটা খোঁড়ার পর সেখানে দেখা যায় যে সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হচ্ছে । সেখানে দুর্ঘটনার ঘটে, তারফলে কারোর কোনও ক্ষতি না হলে মাটি ধসে পুরো ড্রিলিং রিগসহ পড়ে যায় । তখন প্রচুর বিষাক্ত গ্যাস বের হতে থাকে ।


 এরপর সেখানে ভূতাত্ত্বিকরা আসেন, গবেষণার পর তাঁরা বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের ব্যাপারে জানতে পারেন । তাঁদের ধারণা ছিল যে এখানে সামান্য পরিমাণে গ্যাস রয়েছে । পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করার জন্য তাঁরা পরামর্শ দিলেন যে গ্যাস উদ্গিরন মুখটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে রাখা হোক । কিন্তু, তাঁদের ধারণা ভুল প্রমাণ হয় । কারণ সেই ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সেই আগুন এখন জ্বলছে ।

  এই আগুন কবে নিভবে এর উত্তর কারোর জানা নেই । এর তাপ এত বেশি যে দু মিনিটের বেশি সময় কেউ এর পাশে দাঁড়াতে পারেনা । ২০১০ সালে তুর্কমেনিস্তানের রাষ্ট্রপতি এটি বন্ধের প্রস্তাব দেন । কারণ হিসাবে অন্যান্য এলাকাতে যাতে গ্যাস তোলার প্রভাব না পড়ে । তুর্কমেনিস্তান গ্যাস মজুদের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, তাঁরা বিভিন্ন দেশে গ্যাস রপ্তানি করে ।

  পর্যটকরা প্রতিবছর এখানে বেড়াতে আসেন । গ্যাস ক্ষেত্রটি ও পাশাপাশি অবস্থিত মরুভূমি পর্যটকদের কাছে বেড়ানোর প্রিয় স্থান । আপনি চাইলে আপনার নিজের চোখে জায়গাটি দেখে আসতে পারেন ।


     আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

    আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।