বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

চাকরির পরীক্ষায় ভূগোলের বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর গুলি কি কি ?.


১) বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সর্বাধিক – নাইট্রোজেন গ্যাস ।
২) বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত – ২১% ।
৩) পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানের নাম কি – মাউন্ট এভারেস্ট ।
৪) পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থানের নাম কি – মারিয়ানা খাত ।
৫) পৃথিবীর সবথেকে শীতলতম স্থান কোনটি – রাশিয়ার ভস্তক ।
৬) এশিয়ার সবথেকে উষ্ণতম স্থানের মান কি – পাকিস্তানের জেকোবাবাদ ।
৭) পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপের নাম কি – গ্রিনল্যান্ড ।
৮) পৃথিবীর বৃহত্তম শহরের নাম কি – লন্ডন ।
৯) পৃথিবীর বৃহত্তম মিউজিয়ামের নাম কি – ব্রিটিশ মিউজিয়াম (লন্ডন) ।
১০) পৃথিবীর বৃহত্তম লাইব্রেরির কোনটি – লেলিন লাইব্রেরি, রাশিয়া ।


১১) পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাসাদের নাম কি – ভ্যাটিকান প্রাসাদ, রোম ।

১২) পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপের নাম কি – সুন্দরবন ।
১৩) সন্ধ্যাতারা কোন আকাশে দেখা যায় – পশ্চিম আকাশে ।
১৪) যমজ গ্রহ কাদের বলা হয় – পৃথিবী ও শুক্র কে ।
১৫) ভারতের প্রথম মহাকাশচারীর নাম কি – রাকেশ শর্মা ।


১৬) ভারতের প্রথম মহিলা মহাকাশচারীর নাম কি – কল্পনা চাওলা । ১৭) হ্যালির ধূমকেতু কত বছর পর পর দেখা যায় – ৭৬ বছর । ১৮) সূর্যের সবথেকে কাছের গ্রহের নাম কি – বুধ ।
১৯) কোন স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় – থার্মোস্ফিয়ার স্তরে ।
২০) ক্ষুব্ধ মণ্ডল কোন স্তরকে বলা হয় –  ত্রপোস্ফিয়ার ।
২১) প্রতি ১০০ মিটার উচ্চতায় কত ডিগ্রি উষ্ণতা হ্রাস পায় – ৬.৪ ডিগ্রি ।
২২) ইউরোপ ও এশিয়াকে একত্রে কি বলা হয় – ইউরেশিয়া ।
২৩) বিশ্বউস্নায়নের জন্য দায়ী প্রধান গ্যাস কি – কার্বন ডাই-অক্সাইড ।
২৪) সাদা মহাদেশ কাকে বোলা হয় – অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশকে ।
২৫) পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমির নাম কি – পামির মালভূমি ।
২৬) পৃথিবীর উচ্চতম বিমান ক্ষেত্র কোনটি – লাডাক ।
২৭) পৃথিবীর উচ্চতম বাঁধের নাম কি – নিউরেক বাঁধ ।
২৮) পৃথিবীর উচ্চতম ঝুলানো সেতুর নাম কি – রয়েল জর্জ ।
২৯) পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণীর নাম কি – আন্দিজ ।
৩০) পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীর নাম কি – মিসিসিপি-মিসৌরি ।
৩১) পৃথিবীর সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শহরের নাম কি – টোকিও ।
৩২) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি – ভ্যাটিকান সিটি ।
৩৩) ভূস্বর্গ কাকে বলা হয় – কাশ্মীরকে ।
৩৪) সূর্যোদয়ের দেশ কাকে বলে – জাপানকে ।
৩৫) সোনার ভেড়ার লোমের দেশ কাকে বলে – অস্ট্রেলিয়াকে ।


৩৬) অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ কাকে বলে – আফ্রিকাকে ।
৩৭) বাংলার দুঃখ কাকে বলে – দামোদর নদকে ।
৩৮) ভারতের প্রবেশদ্বার কাকে বলে – মুম্বাই ।
৩৯) নীলনদের দান কাকে বলে – মিশরকে ।
৪০) নিশীথ সূর্যের দেশ কাকে বলে – নরওয়ে কে ।
৪১) হাজার হ্রদের দেশ কাকে বলে – ফিনল্যান্ড ।
৪২) স্বর্গ পূরী কাকে বলে – রোমকে ।
৪৩) ভারতে গম উৎপাদনে কোন রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে – উত্তর প্রদেশ ।
৪৪) দুটি বাগিচা ফসলের নাম কি – চা, কফি ।
৪৫) ভারতের ম্যানচেস্টার কাকে বলে – আমেদাবাদকে ।
৪৬) ভারতের চা গবেষণা কেন্দ্র কোথায় আছে – অসমের জোড়হাটে ।
৪৭) ভারতে স্বাক্ষরতার হার কত – ৭৪.০৪ % ।
৪৮) ভারতের কোন রাজ্যে জনঘনত্ব সবথেকে বেশি – বিহার ।
৪৯) ভারতের কোথায় প্রথম মেট্রো রেল চালু হয় – কলকাতায় ।
৫০) সোনালি চতুর্ভুজ দ্বারা কোন পথকে নির্দেশ করা হয় – সড়ক পথ ।



৫১) শ্যাম দেশ কাকে বলা হয় – থাইল্যান্ড কে ।
৫২) কোন দেশের জাতীয় প্রতীক গোলাপফুল – ইরান ।
৫৩)  কোন দেশের জাতীয় প্রতীক ক্যাঙ্গারু – অস্ট্রেলিয়া ।
৫৪) ভারতে প্রথম কবে বেতার সম্প্রচার হয় – ১৯২৭ সালে ।
৫৫) সমুদ্রের জলে সর্বাধিক কি পাওয়া যায় – সোডিয়াম ক্লোরাইড ।
৫৬) কোন যন্ত্রের সাহায্যে বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় – হাইগ্রমিটার ।
৫৭) ভিল উপজাতি কোথায় বাস করে – মধ্য ভারতে ।
৫৮) কোন পর্বত ইউরোপ ও এশিয়ার সীমানা হিসাবে অবস্থিত – উরাল পর্বতশ্রেণী ।
৫৯) সমুদ্র জলের গড় লবণতা কত – ৩২ % ।
৬০) কোন নদী বৃদ্ধ গঙ্গা নামে পরিচিত – গোদাবরী ।


৬১) কোন পর্বত পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালাকে সংযুক্ত করেছে – নীলগিরি ।
৬২) ভারত ও আফগানিস্তানের সীমারেখার নাম কি – ডুরান্ড লাইন ।
৬৩) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কত সালে তৈরি হয় – ১৯৫৫ সালে ।
৬৪) পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয় কোন জেলায় – জলপাইগুড়ি জেলায় ।
৬৫) ভারতের কোথায় থোরিয়াম পাওয়া যায় – কেরল উপকূলে ।
৬৬) ‘থালি’ লোকনৃত্য কোন রাজ্যের – হিমাচল প্রদেশ ।
৬৭) ভূত্বকের অধিকাংশ অঞ্চল কোন শিলা দ্বারা গঠিত – আগ্নেয় শিলা ।
৬৮) সৌরজগতের কোন গ্রহের আবর্তন সবথেকে বেশি – বুধ ।
৬৯) সবুজ বিপ্লব কোন ক্ষেত্রকে বলা হয় – গম উৎপাদন ।
৭০) ‘ব্ল্যাক-হোল’ এর ধারণা প্রথম কে দিয়েছিলেন – আইনস্টাইন ।
৭১) বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে পালিত হয় – ৫ জুন ।
৭২) দাক্ষিণাত্য মালভূমি কোন শিলায় গঠিত – ব্যাসল্ট শিলা ।
৭৩) কোন নদীর প্রবাহ পথে যোগ জলপ্রপাত আছে – সরাবতি ।
৭৪) ভারতের কোন রাজ্যে বনাঞ্চলের পরিমাণ বেশি – সিকিম ।
৭৫) ভারতের সবথেকে পুরনো জাতীয় উদ্যান কোনটি – জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

প্রাচীন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও মহাবিহার গুলি কেমন ছিল ?


 আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি । আমদের এই বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবার থেকে এসেছে বলে মনে করা হয় । এমন দেখা যায় যে, বিভিন্ন ভাষার শব্দের মধ্যে অন্তর্নিহিত মিল রয়েছে । বাংলায় আমরা বলি মা, সংস্কৃতে মাত বা মাতৃ, ইংরেজিতে Mother শব্দের অর্থও মা । এইভাবে বেশকিছু শব্দের মিল খুঁজে পাওয়া যায় । মানুষের মত ভাষারও পরিবার আছে । এই রকম একটি ভাষা পরিবার হল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবার ।

ইউরোপ ও ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক ভাষা এই ভাষা পরিবারের সদস্য । ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা ব্যবহারকারীরা কোন এলাকায় বাস করতো সেটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে । অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন – এরা মধ্য এশিয়ার তৃণভূমি অঞ্চলে যাযাবর ছিল । খাদ্যের অভাব দেখা দিলে এরা ভারতে, ইরানে, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে আসে ।

 বেদ কথাটি ‘বিদ’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ জ্ঞান । সমস্ত বৈদিক সাহিত্য চারভাগে বিভক্ত – সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ ।  সংহিতাতে আছে ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব বেদ । ঋক বেদ হল সবথেকে পুরনো সাহিত্য উপাদান । এরপরের রচনাগুলি পরবর্তী বৈদিক যুগের বলে ধরা হয় । বৈদিক সাহিত্য ঠিক কোন সময় রচনা করা হয়েছিল তা নিশ্চিত করে বলা যায়না । আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ৬০০ অব্দের মধ্যে বৈদিক সাহিত্য রচিত হয় । এরপর খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দ পর্যন্ত পরবর্তী বৈদিক যুগ ।

 বৈদিক যুগে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান ছিলেন গুরু । শিক্ষা লাভের জন্য তাঁর কাছে ছাত্রদের প্রথমে আবেদন করতে হত । উপযুক্ত হলে উপনয়নের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরু সেই ছাত্রকে শিষ হিসাবে গ্রহণ করতেন । সেই সময় মৌখিক ভাবে শিক্ষা চর্চা হত । ছাত্রদের গুরুর বোঝানো পাঠ শুনে মুখস্থ করতে হত । প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় স্মৃতির উন্নতি সাধন ছিল সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । ছাত্রদের থাকা, খাওয়ার সমস্ত দায়িত্ব গুরুর উপর ছিল । বেদ পাঠের সঙ্গে ব্যকরন, গণিত, ভাষা শিক্ষার চর্চা হত ।

 বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি ছাত্রদের হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হত । অস্ত্র চালনা, চিকিৎসা করার চর্চা হত । শিক্ষিত মেয়েরা নাচ গানের চর্চা করতেন । প্রায় বার বছর ধরে শিক্ষা দেওয়া হত ।  শিক্ষা শেষ হলে ‘সমাবর্তন’ নামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রকে স্নাতক বলে ঘোষণা করা হত । গুরুর গৃহ থেকে চলে যাওয়ার সময় ছাত্রকে গুরু দক্ষিণা দিতে হত । গুরু দক্ষিণা হিসাবে গরু দান করা হত ।

  পরবর্তী বৈদিক যুগের পড়াশোনা প্রথা খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক নাগাদও চালু ছিল । খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের দিকে বেদের পাশাপাশি কাব্য, ব্যকরন, ছন্দ, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়ন, মুদ্রা, নথিপত্র, যুদ্ধ ও শিকার সম্বন্ধে পড়ানো হত । এই সময় জীবিকা ও পড়াশোনার মধ্যে একটা যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল । এর পাশাপাশি বৌদ্ধ বিহারগুলিতে এক নতুন শিক্ষা পদ্ধতি ও লিপির ব্যবহার শুরু হয় । কয়েকটি বিখ্যাত মহাবিহার গুলি হল – নালন্দা, তক্ষশীলা, বিক্রমশীলা, বলভী ইত্যাদি । এই মহাবিহার গুলিতে দেশ বিদেশের ছাত্ররা পড়তে আসতো ।

  নালন্দা – নালন্দা মহাবিহার ছিল গুপ্ত যুগের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাকেন্দ্র । প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যে(বিহার) এটি অবস্থিত । খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে বারশো শতাব্দী পর্যন্ত এটি ছিল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । নালন্দা বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠার জন্য ৫০০ বণিক ১০ কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করেন বলে হিউয়েন সাং এর থেকে উল্লেখ পাওয়া যায় । এখানে যেকোনো ধর্ম, বর্ণের ছাত্ররা পড়তে পারতেন । ভর্তি হওয়ার জন্য ছাত্রদের কঠিন পরীক্ষায় পাশ করতে হত । এখানে থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনার জন্য কোনও মূল্য দিতে হতনা । লেখাপড়ার শেষে পরীক্ষা দেওয়া রীতি ছিল । নাগার্জুন নালন্দার অধ্যক্ষও হয়েছিলেন । সেই সময়ের অনেক বিখ্যাত মানুষ এই মহাবিহারে পড়াশোনা করেছেন । সুমাত্রা, জাভা, তিব্বত, চীন, কোরিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে ছাত্ররা নালন্দায় পড়তে এসেছিলেন । তুর্কি আক্রমণের ফলে এই বৌদ্ধবিহার ধ্বংস হয় । এই বিহারে বুদ্ধের একটি মূর্তিও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল  বর্তমানে নালন্দা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র এবং বৌদ্ধ তীর্থ পর্যটন পথের অন্যতম গন্তব্যস্থল

তক্ষশীলা – গান্ধার জনপদের রাজধানী ছিল তক্ষশীলা ।  প্রাচীন তক্ষশীলা শহর ছিল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র টলেমির ভূগোলে তক্ষশীলাকে বর্ণনা করা হয়েছে 'তক্ষিয়ালা' (Taxiala) হিসেবেবর্তমানে এটি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত । এই স্থান ধীরে ধীরে শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । যোগ্যতার ভিত্তিতে ছাত্র বাছাই করে নেওয়া হত । সাধারণত ষোলো থেকে কুড়ি বছর বয়সের ছাত্ররা ভর্তি হতেন । দেশ ও দেশের বাইরে থেকে বহু ছাত্র এখানে পড়তে আসতেন । রাজা বা ব্যবসায়ি’রা এই বিদ্যালয় চালানোর জন্য জমি বা অর্থ দান করতেন । এখানকার বিখ্যাত ছাত্ররা হলেন চাণক্য, জীবক, পাণিনি ।


 ফাসিয়ান ও সুয়ান জাং এর লেখার মাধ্যমে জানা যায় যে – বাংলাতে অনেকগুলি বৌদ্ধ বিহার ছিল । নালন্দার সমসাময়িক একটি বৌদ্ধবিহার ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কাছে মোঘলমারিতে । মগধ থেকে তাম্রলিপ্ত যাওয়ার পথে এই বিহারটি অবস্থিত । সুবর্ণরেখা নদী এই বিহারের কাছ দিয়ে বয়ে যেত । মনে করা হয় এই বিহারটিতে বনিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল । প্রত্নতাত্ত্বিক ডঃ অশোক দত্ত এই বৌদ্ধ বিহারটি আবিষ্কার করেন ।  পশ্চিমবঙ্গের বৌদ্ধ প্রত্নস্থলের মধ্যে এখন এটি হল সবথেকে বড়ো । এই বৌদ্ধ বিহারের নাম কি ছিল তা এখন জানা যায়নি ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইতিহাস বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইতিহাস লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   


আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯

ব্যান্ডেল চার্চ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম গির্জার জানা অজানা কথা কি ?.


 ব্যান্ডেল চার্চ পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম গিরজাগুলির মধ্যে হল একটি । বাংলায় পর্তুগীজ উপনিবেশের স্মৃতি হিসাবে একে দেখা হয় । ১৫৭১ সালে পর্তুগীজরা ব্যান্ডেলকে তাদের বন্দর হিসাবে ব্যবহার শুরু করে । মোঘল সম্রাট আকবর তাদের হুগলীতে একটি নগর তৈরির অনুমতি দিয়েছিলেন । ১৫৭৯ সালে পর্তুগীজরা হুগলী নদীর তীরে একটি বন্দর তৈরি করে । এরফলে এই স্থানটি একটি বাণিজ্য কেন্দ্র তৈরি হয় ।  ১৫৯৯ সালা ব্যান্ডেলে একটি গির্জা তৈরির জন্য গোয়া থেকে একজন অগাস্টিন পন্থী মঠবাসী সন্ন্যাসীকে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন । এখানে বসবাস শুরু করলে, তাদের পাদ্রিরা স্থানীয় লোকেদের ধর্মান্তরিত করতে শুরু করেন । 


 পর্তুগীজরা নিজেদের জন্য এখানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন । ১৫৮০ সালে ক্যাপ্টেন পেড্রোড্রোভার সম্রাট আকবরের কাছে খ্রিষ্টধর্ম প্রচার ও চার্চ প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমতি পান । ১৫৯৯ সালে চার্চটি গঠিত হয় । এটি হল বাংলার মাটিতে প্রাচীনতম চার্চ ।


 কিন্তু, পর্তুগিজদের সুখের দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি হুগলীতে মোঘল আক্রমণ হলে পর্তুগিজরা চূড়ান্ত ভাবে পরাজিত হয় এবং তাদের গির্জা ও কেল্লা ধ্বংস হয়ে যায়। । ফাদার জন দ্য ক্রুজ নামে একজন পুরোহিত ও কয়েক হাজার খ্রিস্টানকে দিল্লিতে শাহজাহানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় । তিনি তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করেন ।  তাদেরকে ভয়ানক হাতির সামনে দাঁড় করানো হয় ।  কিন্তু, অবাক করা ঘটনা ঘটে ।  হাতিটি ফাদার জন দ্য ক্রুজ কে শুঁড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে সম্রাটের সামনে নতজানু হয়ে বসে পড়ে । এমন ভাবে যেন সে সম্রাটের কাছে ক্ষমা পার্থনা করছে । এই ঘটনায় সম্রাট শাহজাহান গভীরভাবে প্রভাবিত হলেন । তিনি বন্দীদের মুক্তি দিয়ে ব্যান্ডেলে ফেরত পাঠিয়ে দেন । সম্রাট শাহজাহান গির্জাটি আবার নতুন করে তৈরি করার জন্য ১৬৩৩ সালে অর্থ এবং ৭৭৭ বিঘা জমি দান করেন । এরপর থেকে এটি অনেকবার পরিবর্তিত হয়েছে ।

 এমন শোনা যায় যে – একদিন ঝড়ের রাতে ফাদার জন ডি ক্রুজ নদীর তীরে একটি আলো দেখেন, তাঁর এক পরিচিত বন্ধু  দিয়াগের গলার আওয়াজ শোনেন । দিয়াগ বলছেন – মা মেরি আমাদের জয় আনে দিয়েছে, তিমি ফিরে আসছেন । পরের দিন ফাদার  জন ডি ক্রুজ নদীর তীরে মা মেরির মূর্তি খুঁজে পান । মূর্তিটি এনে গির্জার মূল বেদিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ।  ১৯৯০ সালে মূর্তিটি গির্জার ব্যালকনিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ।


 গির্জার সম্মুখে একটি জাহাজের মাস্তুল রয়েছে । একবার বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঝড়ে জাহাজডুবি থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন বলে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা একটি মাস্তুল দান করার অঙ্গীকার করেন । ব্যান্ডেল গির্জায় খ্রিষ্ট যজ্ঞে অংশ গ্রহনের পর ক্যাপ্টেন একটি মাস্তুল গির্জায় দান করেন । সেই মাস্তুলটি এখনও গির্জা প্রাঙ্গণে রাখা আছে  আজও সেটি গির্জায় দেখা যায় । মাস্তুলকে পর্তুগিজ ভাষায় ব্যান্ডেল বলা হয় 

 এই গির্জাটির কারুকার্য খুব সুন্দর । এখানে প্রার্থনা গৃহ, মাস্তুল, কবর স্থান, মা মেরির মূর্তি, চারমুখ বড়ো ঘড়ি, যীশুর দেওয়াল চিত্র বিখ্যাত । গির্জায় তিনটি পূজাবেদি, কয়েকটি সমাধিপ্রস্তর, একটি পাইপ অর্গ্যান ও মেরির একটি সিংহাসন রয়েছে ।


 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন- 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

স্বপ্ন কি ? কিভাবে দেখলে স্বপ্ন সত্যি হয় ?


 স্বপ্ন মানুষের একটি মানসিক অবস্থা, যাতে মানুষ  ঘুমন্ত অবস্থায় বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা অবচেতনভাবে অনুভব করে থাকে । স্বপ্ন হল ধারাবাহিক কতগুলো ছবি ও আবেগের সমষ্টি যা ঘুমের সময় আমাদের মনের মধ্যে আসে । এগুলো আমাদের কল্পনা হতে পারে, অথবা আমাদের অবচেতন মনের কথাও হতে পারে । সাধারনত আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি । তবে সবগুলো মনে থাকে না মানুষ জীবনের ৩৩% সময় ঘুমিয়ে কাটায় । স্বপ্ন মানুষের ঘুমন্ত জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ ঘুম থেকে জেগে উঠার পর অধিকাংশ স্বপ্নই ঠিকঠাক মনে থাকে না ।  মানুষ সজাগ থাকলে স্বপ্ন দেখে না পেটে কোনো সমস্যা থাকলে বা উল্টো পাল্টা বেশি কিছু খেলে স্বপ্নের মাত্রা বাড়তে পারে ।

 আমাদের মস্তিষ্ক এক রহস্যময় জীবন্ত যন্ত্রযেখানে আমরা এখনো ঠিকঠাক জানি না এটি কিভাবে এবং কেন এরকমভাবে কাজ করে  পড়াশুনা ও নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে আমরা এখনো ১০০ ভাগ নিশ্চিত নয়যে কেন আমাদের ঘুম প্রয়োজনীয় বা কেন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন আসে । আদিকাল থেকেই স্বপ্ন ব্যাখ্যার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে ।  আমরা কেন ঘুমাই অথবা কেনই বা স্বপ্ন দেখিএটা আশ্চর্যজনক হলেও সত্যিআধুনিক বিজ্ঞানের কাছে এর স্পষ্ট জবাব এখনো নেই  বিভিন্ন ধর্মে এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে । মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে স্বপ্ন দেখা তত কমতে থাকে  স্বপ্ন ভবিষ্যতের বার্তা বহন করতে পারে  ঘুমের সময় গুরু মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে গেলে স্বতন্ত্র নার্ভ ক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ভবিষ্যৎ বাণী পাঠায়  অনেক সময় এমন স্বপ্নও মানুষ দেখে থাকে যখন স্বপ্ন দেখার সময়ই ঘটনাটা ঘটছে 


  স্বপ্নে আমরা আমাদের বিভিন্ন রূপে দেখতে পাই যেমন – আকাশে ওড়া, মাটিতে পড়ে যাওয়া, কোনও অসাধ্য কাজ করা, যৌন মিলন করা ইত্যাদি । স্বপ্ন এমন একটা আলাদা অনুভূতি আপনি নিজে সেটি অনুভব করতে পারেন, অন্য কাউকে সহজে ব্যাখ্যা করে বুঝানো মুশকিল । 
যাদের ঘুম ব্যাধি রয়েছেতারা ঘুমের মধ্যেও নড়াচড়া করতে পারে এবং স্বপ্ন দেখার সময় স্বপ্ন অনুসারে অ্যাক্ট করতে পারে । তারা এমনকি বিছানা থেকে বের হয়ে হাঁটাচলা শুরু করতে পারে । রঙিন টিভি আবিষ্কারের আগে মানুষ সাদাকালো স্বপ্ন দেখত ।

কিভাবে দেখলে স্বপ্ন সত্যি হয় –
 আমরা যেসব স্বপ্ন দেখি তার সব স্বপ্ন সত্যি হয়না, আবার মিথ্যা হয় না । স্বপ্ন সত্যি হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়, পক্ষ ও আমাদের শোয়ার ভঙ্গীর উপর নির্ভর করে । এখন আপনি জানতে পারবেন যে – কোন কোন সময় স্বপ্ন দেখলে, কোন পক্ষে ও কিভাবে শুয়ে স্বপ্ন দেখলে আমাদের স্বপ্ন সত্যি হবে । যদি আপনি এগুলি ঠিক ভাবে পূরণ করতে পারেন তাহলে আপনার স্বপ্ন সত্যি হয়ে যেতে পারে ।
 কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদে স্বপ্ন দেখলে সত্যি হয়না । দ্বিতীয়ায় স্বপ্ন দেখলে তা দীর্ঘ সময় পরে সত্যি হতে পারে । কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া, চতুর্থী, দ্বাদশী ও চতুর্দশীতে স্বপ্ন দেখেন তাহলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে সত্যি হতে পারে । আবার কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমী, ষষ্ঠী, একাদশী ও ত্রয়োদশী তে স্বপ্ন দেখলে তা সত্যি হয়না । অমাবস্যায় স্বপ্ন দেখা অশুভ লক্ষণ ।


 শুক্লপক্ষের প্রতিপদের স্বপ্ন দীর্ঘ সময় পরে সত্যি হয় । শুক্লপক্ষের চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী ও দশমীতে স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্ন সত্যি হতে পারে । একাদশী ও দ্বাদশীর স্বপ্ন অনেক পরে সত্যি হয় । শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী ও চতুর্দশী স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্ন কোনোদিন সত্যি হয় না । আর যদি পূর্ণিমায় স্বপ্ন দেখেন তবে সেই স্বপ্ন খুব তাড়াতাড়ি সত্যি হয় ।


 শোয়ায় ধরন –
 মেয়েরা যদি ঘুমানোর সময় বামদিক চেপে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে তবে, সেই স্বপ্ন সত্যি হয় । আবার ছেলেরা যদি দক্ষিণদিক বা ডানপাশ চেপে স্বপ্ন দেখে তাহলে সেই স্বপ্ন সত্যি হয় । এর বিপরীত হলে – মেয়েরা যদি ডানদিকে চেপে ও ছেলেরা যদি বামদিক চেপে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে তাহলে সেই স্বপ্ন সত্যি হয় না ।

 প্রহরের হিসাব
 প্রহর অনুসারেও স্বপ্নের ফলাফল লাভ হয় । আপনি যদি প্রথম প্রহরে স্বপ্ন দেখেন তাহলে সেটি তিন মাস পরে সত্যি হতে পারে । দ্বিতীয় প্রহরে স্বপ্ন দেখলে সাত মাস পরে সত্যি হতে পারে ।  তৃতীয় প্রহরে তিন মাস সময় পরে সত্যি হতে পারে । চতুর্থ প্রহরে স্বপ্ন দেখলে দশ দিনের মধ্যে সত্যি হতে পারে । আপনি যদি একেবারে সকালে স্বপ্ন দেখেন তাহলে তিন দিনের মধ্যে তা সত্যি হতে পারে । সুস্বপ্ন দেখলে আবার ঘুমিয়ে পরবেন না । ঘুমিয়ে পড়লে আপনার স্বপ্ন সত্যি হবেনা ।


  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । বিজ্ঞান ও সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে  বিজ্ঞান ও সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

 আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ কি কি, আমাদের জীবনে তার কি প্রভাব ?.


 আমাদের এই পৃথিবী সব জায়গায় একই রকম সমান নয় । কোথাও উঁচু, আবার কোথাও ঢেউ খেলানো, আবার কোথাও সমতল বা নিচু । গঠন, উচ্চতা ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পৃথিবীতে প্রধানত তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায় । ভূপৃষ্ঠের সবথেকে উঁচু অংশ হল পর্বত, মাঝারি মাপের উঁচু অংশকে মালভূমি ও সবথেকে নিচু বা সমতল অংশকে সমভূমি বলে ।
 এই সমস্ত ভূমিরূপ পৃথিবীর দু-ধরনের শক্তির জন্য তৈরি হয়েছে । আমরা যে মাটি বা ভূমির উপর দাঁড়িয়ে আছি সেটা কিন্তু স্থির নয় । ভূপৃষ্ঠ অনেক ছোটো ও বড়ো পাত দিয়ে গঠিত হয় । মহাদেশ ও মহাসাগর এই পাদ দিয়ে তৈরি । এগুলি একটা থকথকে(সান্দ্র) স্তরের উপর ভেসে বেড়ায় । ভাসতে ভাসতে এগুলো কখনও কাছে এসে ধাক্কা খায় বা দূরে সরে যায় । ধাক্কা খাওয়ার সময় ভূআলোড়নের সৃষ্টি হয় । এরফলে পর্বত, মালভূমি, সমভূমি বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ তৈরি হয় । এটা হল পৃথিবীর ভিতরের শক্তি । নদী, বায়ু, সমুদ্র তরঙ্গ, হিমবাহ এগুলি ভূমিরূপের উপর সব সময় কাজ করে ক্ষয় করে বা আবার অন্য স্থানে সঞ্চয় করে বিভিন্ন ভূমিরূপ তৈরি করে এটাই হল বাইরের শক্তি ।

 পৃথিবীর চারভাগের এক ভাগ হল পর্বত । সাধারণ ভাবে ৯০০ মিটার বা তার থেকে বেশি উঁচু, অনেকদূর বিস্তৃত, শিলাদ্বারা গঠিত ভূমিরূপকে পর্বত বলে । পর্বতের সবথেকে উপরের দিকে সূচালো, সরু অংশকে পর্বতের চূড়া বা পর্বত শৃঙ্গ বলে । অনেক পর্বতশৃঙ্গ একটি বিরাট উপত্যকা জুড়ে অবস্থান করলে তাকে পর্বতশ্রেণী বলে । এই ভাবে অনেক পর্বতশ্রেণী বিভিন্ন দিক থেকে এসে এক জায়গায় মিশে তাঁকে বলা হয় পর্বত গ্রন্থি ।

 উৎপত্তি অনুসারে পর্বত প্রধানত তিন প্রকার । ভূপৃষ্ঠের প্রবল চাপে পাতগুলি মাঝখানে ভাঁজ খেয়ে যে উঁচু পর্বত সৃষ্টি হয় তাঁকে ভঙ্গিল পর্বত বলে । হিমালয়, রকি, আলস, আন্দিজ ইত্যাদি হল ভঙ্গিল পর্বত । আবার  ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে ফাটল তৈরি হয়ে মাঝের অংশ উঁচু হয়ে যায় বা পাশের অংশ নিচু হয়ে বসে যায় । মাঝের উঁচু অংশ স্তূপের মত পর্বত সৃষ্টি করে । একে স্তূপ পর্বত বলে । সাতপুরা, ভোজ, ব্ল্যাক ফরেস্ট ইত্যাদি হল স্তূপ পর্বত । আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের সময় প্রচুর ছাই, লাভা, পাথর ইত্যাদি বেরিয়ে এসে চারিদিকে জমা হয়ে যে পর্বত তৈরি হয় তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে । ফুজিয়ামা, কিলি-মাঞ্জারো, এটনা, ভিসুভিয়াস ইত্যাদি হল আগ্নেয় পর্বত ।


 সাধারণভাবে ৩০০ মিটারের বেশি উঁচু, চারিদিকে খাড়া ঢালযুক্ত, এরকম ভূমিভাগকে মালভূমি  বলে । পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে রয়েছে মালভূমি । অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকাতে বড়ো বড়ো মালভূমি দেখা যায় । মালভূমিকে টেবিল ল্যান্ড বলা হয় । অবস্থান ও উৎপত্তির পার্থক্যের জন্য মালভূমি বিভিন্ন প্রকার হয় । পর্বতবেষ্টিত মালভূমি, যেমন – তিব্বত মালভূমি । মহাদেশীয় মালভূমি, যেমন – পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দঃ আফ্রিকা, অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড । লাভা গঠিত মালভূমি, যেমন – দাক্ষিণাত্য মালভূমি, মালব মালভূমি । ব্যবছিন্ন মালভূমি, যেমন – ছোটো নাগপুরের মালভূমি । তিব্বত মালভূমি হল পৃথিবীর সবথেকে বড়ো মালভূমি । পামীর মালভূমি (৪৮৭৩মিটার) হল পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি ।

 সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের কম উচ্চতা নিচু, সমতল, বিস্তীর্ণ ভূমিভাগ হল সমভূমি । সমভূমি উর্বর হয়, তাই পৃথিবীর বেশি মানুষ সমভূমিতে বাস করে । উত্তর আমেরিকার প্রেইরি, দঃ আমেরিকার পম্পাস, এশিয়ার গাঙ্গেয় সমভূমি ও আফ্রিকার নীলনদ সমভূমি হল বিশ্ববিখ্যাত সমভূমি । সমভূমি বিভিন্ন ধরনের হয় । সমুদ্র বা হ্রদের পলি জমে যে সমভূমি তৈরি হয় তাকে পলিগঠিত সমভূমি বলে । ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা- ব্রহ্মপুত্রের সমভূমি পলি গঠিত সমভূমি । মরুভূমির বালি অনেক দুরে উড়ে গিয়ে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি তৈরি হয় তাকে লোয়েস সমভূমি বলে । আগ্নেয়গিরির লাভা জমে যে সমভূমির তৈরি হয় তাকে লাভা সমভূমি বলে । আইসল্যান্ডে লাভা সমভূমি দেখতে পাওয়া যায় ।

 ভূমিরূপের সাথে মানুষের জীবনের সম্পর্ক খুব নিবিড় । ভূমিরূপ মানুষের জীবিকা, জীবন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে । ভূমির প্রকৃতি অনুসারে মানুষ তার মানানসই জীবনযাত্রা গড়ে তুলেছে । পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলি থেকে সারাবছর জল পাওয়া যায় । এই নদীগুলি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাহায্য করে । নরম মূল্যবান কাঠ পার্বত্য অঞ্চলে পাওয়া যায় । পর্বতের ঢালে ধাপ চাষ ও পশুপালন করা হয় । এখানে আরামদায়ক আবহাওয়ার জন্য পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে ।

 মালভূমিতে খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় । বড়ো এলাকা জুড়ে পশুচারণ করার ক্ষেত্র তৈরি হয় । এই অঞ্চলে খুব কম চাষ হয় । সমভূমিতে পলি থাকার জন্য সমভূমি উর্বর হয় । সমভূমিতে কৃষিকাজ খুব ভাল হয় । বেশিরভাগ শহর, জনপথ, নগর সমভূমিতে দেখা যায় । সমভূমিতে শিল্প, ব্যবসা –বাণিজ্য, পরিবহণ ব্যবস্থা সবকিছু সুবিধা বেশি পাওয়া যায় । তাই সমভূমি অঞ্চলে পৃথিবীর সবথেকে বেশি মানুষ বসবাস করে । 

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ভূগোল বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ভূগোল লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
পৃথিবীর সাদা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের অজানা কথা গুলি কি ?.
ভারতের ভূগোলের বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর গুলি কি কি ?.
পৃথিবীর ভূগোলের বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর গুলি কি কি ?.
বিশ্ব উষ্ণায়ন কি, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীতে কি হতে পারে ?.
বায়ুমণ্ডল কাকে বলে, বায়ুদূষণের কারণ ও ফলাফল কি ?.

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

আকাশ, মহাবিশ্ব কি ? মহাবিশ্বে কি আছে ?.


 আমারা রাতের আকাশে যে তাঁরা দেখি আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেও মানুষ সূর্য, তারা, উল্কা, ছায়াপথ, ধূমকেতু ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তাদের সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করতো । সেই সময় আজকের মত বিজ্ঞান এত উন্নত ছিলনা । ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, কম্পাসও ছিলনা । চাঁদ ও সূর্যের চলাচল দেখে দিন, দিক, মাস, সময়, বছর গণনা করা হত । সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি উপরের দিকে ১০০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত যে শূন্যস্থান আছে তাকে আকাশ বলা হয় । পৃথিবী ছাড়িয়ে রাতের আকাশে তাকালে যতদূর দেখা যায় সেই বিশাল ফাঁকা শূন্যস্থান কে মহাকাশ বলে ।


 মহাবিশ্ব  মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে অনেক মত পার্থক্য আছে । আধুনিক মত অনুসারে – মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ একটি বালির কণার থেকেও ছোটো অবস্থায় ছিল । প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে প্রচুর তাপ ও শক্তি নিয়ে এর প্রসারণ শুরু হয় । সেই সঙ্গে প্রচুর গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ ও ধূলিকণা তৈরি হয় । কোটি কোটি বছর ধরে  এই গ্যাস আর মেঘ থেকে তৈরি হয় গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু নীহারিকা ইত্যাদি । মহাকাশের পরিসীমা ঠিক কতদূর সেটা মানুষের ধারনার বাইরে ।


 মহাকাশে রয়েছে বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু । এগুলি হল - গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু নীহারিকা ইত্যাদি । এখন আমরা এগুলি সম্বন্ধে কিছু কথা জেনে নেব ।

১) নক্ষত্র ও নক্ষত্রমণ্ডল – যে সব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো ও উত্তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বলে । সূর্য নক্ষত্র আছে আমাদের থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে । তারপর রয়েছে ৪১ লক্ষ কোটি কিলোমিটার দূরে নক্ষত্র প্রক্সি-মা সেন্তাউরি । জ্যোতির্বিজ্ঞানিরা মহাবিশ্বের বিভিন্ন নক্ষত্র ‘আলোকবর্ষ’ একক দিয়ে দূরত্ব পরিমাণ করেন । ১ সেকেন্ডে আলোর গতি প্রায় ৩০০,০০০ কিলোমিটার এই হিসাবে আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই হল আলোকবর্ষ । মনেকরা হয় যে নক্ষত্র গুলি নীহারিকা থেকে সৃষ্টি হয়েছে । নক্ষত্রদের রং দেখে আমরা সেই নক্ষত্র কতটা উত্তপ্ত অনুমান করতে পারি । লাল রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবথেকে কম, মাঝারি হলুদ নক্ষত্রের উষ্ণতা একটু বেশি । নীল নক্ষত্রের উষ্ণতা আরও একটু বেশি । সাদা রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবথেকে বেশি ।

  অনেক নক্ষত্র কাছাকাছি অবস্থান করে, তাদের কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে বিভিন্ন আকৃতি গঠিত হয় । এদেরকে বলা হয় নক্ষত্রমণ্ডল । উত্তর আকাশে সাতটি নক্ষত্রের সমষ্টিকে সপ্তর্ষিমণ্ডল বলে । তাঁদের নাম প্রাচীনকালের সাত জন ঋষির নাম অনুসারে রাখা হয়েছে । এদের দেখতে অনেকটা ? চিহ্নের মত হয় । আবার ইংরেজি M অক্ষরের মত ক্যাসিওপিয়া । ক্রস চিহ্নের মত হল বকমণ্ডল । কালপুরুষ নক্ষত্র মণ্ডলকে পুরাকালের একজন বীর শিকারি হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে । ধ্রুব তারাকে সারাবছর উত্তর আকাশে একই স্থানে দেখা যায় ।


২) গ্রহ ও উপগ্রহ – যে সমস্ত জ্যোতিষ্কের নিজের আলো ও উত্তাপ নেই, যারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয় তাদের গ্রহ বলে । আবার গ্রহদের চারিদিকে যারা ঘোরে তাদের উপগ্রহ বলে । উপগ্রহরা আলো নক্ষত্রদের কাছ থেকে পায় । সূর্যের চারিদিকে আবর্তন করে ৮ টি গ্রহ । এগুলি হল – বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, উরেনাস ও নেপচুন । চাঁদ হল পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ । চাঁদ তার আবর্তন ও পরিক্রমণ শেষ করে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় । এছাড়াও অন্য গ্রহদের উপগ্রহ আছে । আগে প্লুটোকে গ্রহ হিসাবে ধরা হলেও এখন তাকে বামন গ্রহের তালিকায় রাখা হয়েছে ।

৩) গ্রহাণুপুঞ্জ – গ্রহের মত খুব ছোটো ছোটো জ্যোতিষ্ককে গ্রহাণুপুঞ্জ বলা হয় । এরাও এদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে । মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে । সৌরজগতের সবথেকে বড়ো গ্রহাণুপুঞ্জ হল সেরেস ।

৪) ধূমকেতু – ধূমকেতু হল মহাকাশের এক প্রকার জ্যোতিষ্ক । এটি দেখতে দীর্ঘ লেজ বিশিষ্ট বা অনেকটা ঝাঁটার মত হয় । ধূমকেতুর মাথার দিকটা উজ্জ্বল আর লেজের দিকটা হয় বাস্পময় । সূর্যের কাছাকাছি এলে ধূমকেতুর ধুলো গ্যাস জ্বলতে আরম্ভ করে । একে অনেক বছর পর পর দেখা যায় । পৃথিবী থেকে হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পর দেখা যায় । শেষ বার দেখা গেছে ১৯৮৬ সালে, আবার দেখা যাবে ২০৬২ সালে ।


৫) উল্কা – আমরা মেঘহীন রাতের আকাশে হঠাৎ আলোর পিণ্ড নীচে নেমে আসতে দেখি । একে বলা হয় তারা খসা বা উল্কাপাত । ধূমকেতু, গ্রহাণুপুঞ্জের বা কোনও নক্ষত্রের ভাঙ্গা টুকরো পৃথিবীর আকর্ষণে পৃথিবীর দিকে প্রবল গতিবেগে ছুতে আসে । বাতাসের সাথে ঘষা লেগে এরা জ্বলতে শুরু করে । বেশিরভাগ উল্কা বাতাসে পুড়ে যায় ।  আবার কখনো বড়ো উল্কার অংশ পৃথিবীর বুকে আছরে পড়তে পারে ।


৬) নীহারিকা – মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় অসংখ্য ধূলিকণা গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ তৈরি হয় । তার থেকে তৈরি হয়েছে নীহারিকা । মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় ১০ লক্ষ বছর পর গ্যাসীয় পদার্থগুলি জমাট বেঁধে প্রচণ্ড গতিতে একে অপরের সাথে মিলে জ্বলন্ত নক্ষত্রের জন্ম দেয় । এই নীহারিকা থেকে নক্ষত্রদের জন্ম হয়েছে ।

৭) ছায়াপথ – মহাকাশের এক এক জায়গায় লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তারা ও গ্যাসীয় বস্তু মিলে একটি বিশাল তারা জগত গড়ে তোলে, একে ছায়াপথ বলে । ছায়াপথ গুলি ডিম্বাকার, প্যাঁচালো ইত্যাদি নানা রকম হয় । খালি চোখে আমরা যে তারা দেখি সেগুলি আকাশগঙ্গা ছায়াপথের তারা । প্রায় ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা, গ্যাস মিলে আকাশগঙ্গা একটি বিরাট প্যাঁচানো ছায়াপথ । সূর্য, পৃথিবী ও অন্য গ্রহগুলি এই আকাশগঙ্গা ছায়াপথে রয়েছে ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা ও বিজ্ঞান বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা ও বিজ্ঞান লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।


 আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।