মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

জীবনে ধনী মানুষ হওয়ার বিভিন্ন উপায় কি কি ?.


  আমরা প্রতিটি মানুষ জীবনে ধনী বা টাকাওয়ালা হতে চাই । আপনি না বলতে পারবেন না যে আপনি ধনী বা টাকাওয়ালা হতে চান না । কিন্তু আমরা সবাই সেটা হতে পারিনা । আপনি মনে করেন, যারা কোটিপতি তাঁরা কোটিপতি হয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন । আপনার এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল । আপনি ধনী নন এর জন্য আপনি নিজে দায়ী । আমাদের জীবনের কতগুলি খারাপ বা বদ অভ্যাস আমাদের ধনী হতে দেয়না । আপনি যদি আপনার সেই খারাপ বা বদ অভ্যাস গুলি ত্যাগ করতে পারেন, নিজের ইচ্ছাশক্তি সংকল্প এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সঠিক, সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আমি আশা করি আপনি একদিন সত্যি সত্যি ধনী হয়ে উঠবেন । তাহলে আসুন এখন জেনে নিন জীবনে ধনী হওয়ার বিভিন্ন উপায় ।


১) নির্দিষ্ট কাজ – সবার আগে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট কাজ ঠিক করতে হবে । আপনার সকল মানসিক শক্তি দিয়ে আমার লক্ষ্যকে ফোকাস করুন । একবার আপনি আপনার জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন । যদি আপনি আপনার দৃষ্টি লক্ষ্যের দিকে নির্দিষ্ট করে রাখেন কারো সাধ্য নেই আপনাকে আটকিয়ে রাখবে । কোনও কাজ করার আগে সতর্ক হন এবং বার বার ভাবুন । আপনি তাহলে নিশ্চয়ই পারবেন । এমন একটা কাজ নির্বাচন করুন যার থেকে আপনি ভাল একটা টাকা মাসে মাসে পেতে পারেন । আপনাকে আপনার নিজের কাজ খুঁজে নিতে হবে । সেই কাজ করুন যা আপনার করতে ভাল লাগে । যে কাজের মধ্যে আপনি আপনার প্রতিভা দেখাতে পারবেন ও ভবিষ্যতে আরও উপরের ওঠার রাস্তা থাকে । কারণ দিনে দিনে আপনাকে আপনার আয় আরও বাড়াতে হবে । সবসময় একি টাকায় আমাদের চলেনা । বাইরে কোথায় কি হল সে দিকে মন না দিয়ে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকুন ।

২) টাকা জমানোধনী হওয়ার জন্য হিসেব করে খরচ করা ও টাকা জমানো অবশ্যই প্রয়োজন   আমি ধরলাম আপনি একটা কাজ শুরু করেছেন, ভাল টাকা আয় হচ্ছে তবুও টাকা আপনার কাছে থাকছেনা । এর কারণ হল হাতে টাকা রাখলে আপনি সেই টাকা ধরে রাখতে পারবেন না । দামী মোবাইল কিনে, উইকএন্ডে দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, মাসে মাসে ঘুরতে যাওয়া এসব করেন । এরফলে আয়ের থেকে বেশি টাকা ব্যায় করে ফেলছেন । এরফলে আপনার হাত থেকে যেকোনো সময় টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে । এসব করবেন আপনার এক্সট্রা টাকা দিয়ে । তাই আপনাকে একটা নির্দিষ্ট টাকা প্রতি মাসে জমাতে হবে । আপনি যা আয় করেন যদি তাঁর ২০-৩০ শতাংশ প্রতি মাসে জমাতে পারেন তাহলে আপনি খুব ভাল কাজ করবেন । ধরলাম, আপনি আপনি মাসে ৫ হাজার টাকা আয় করেন । সেই টাকার ২০-৩০ শতাংশ হলে প্রতি মাসে হবে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা । মাঝে মাঝে সেই টাকা আবার নতুন করে ডিপোজিট করবেন । আপনি আপনার টাকা যত বেশি দিন ডিপোজিট করে রাখবেন ততই বেশি সুদ পাবেন । এখন বলবেন - আমি এত দিন অপেক্ষা করতে পারবোনা । তাহলে আমি বলবো আপনি জীবনে কোনোদিন কিছু করতে পারবেন না । আপনি কখনোই রাতারাতি কোটিপতি হতে পারবেন না । কারণ, পৃথিবীতে যত ধনী মানুষ আছে তাঁরা একদিনে কেউ ধনী হননি । বছরের পড় বছর কষ্টের পর তাঁরা আজ এই অবস্থায় আসতে পেরেছে ।

৩) ব্যবসা – এখন আপনার হাতে যদি কিছু টাকা থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই কোনও ছোট-বড় একটা ব্যবসা শুরু করতে হবে । কারণ চাকরিতে আপনার মাইনা নির্দিষ্ট থাকে । আপনি ইচ্ছা করলে তা বাড়াতে পারবেন না । কিন্তু, যদি আপনি কোনও ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি আপনার ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে আপনার আয়ও বাড়বে । আপনি যদি ব্যবসা করে ধনী হতে চান, তবে প্রথমে আপনাকে আপনার পরিশ্রম আর মনোযোগের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে যেকোনো একটাতে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন যায়গায় টাকা বিনিয়োগ করুন । যেমন – মিউচুয়াল ফান্ড, ফিক্সড ডিপোজিট । শুধু একটা কাজ করলে আয় বাড়বেনা, বিভিন্ন কাজের মধ্যে আপনাকে যুক্ত থাকতে হবে । ভারতের টাটা কোম্পানি তাদের ৯৯ বিভিন্ন ব্যবসা আছে ।

 ৫) সঠিক পরামর্শ ও নির্দেশনা - এমন মানুষদের সাথে সম্পর্ক রাখুন যারা আজ ধনী হয়েছেন । এরা আপনাকে সামনে আগিয়ে যেতে সাহায্য ও উৎসাহ দেবে । আপনি কোনও সমস্যায় পড়লে আপনাকে সঠিক পরামর্শ ও নির্দেশনা দেবে । তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিন যে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞয় । অনেক মানুষ আছে যারা মুখে অনেক বড়ো বড়ো কথা বলে কিন্তু, কোনও কাজ করার ক্ষমতা নেই । তাদের থেকে দূরে থাকুন ।

) অযথা ব্যয়আমাদের সবারই ছোটবেলা থেকে কমবেশি সঞ্চয় করার অভ্যাস রয়েছে । আপনার টাকা থাকলেও বিনা কারণে অযথা টাকা ব্যায় করবেন না অতিরিক্ত খরচ ধনী হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শত্রু । পৃথিবীর অনেক ধনী ব্যাক্তিরা এখনো হিসেব করেই খরচ করেন । দরকারি ছাড়া বিনা দরকারে টাকা ব্যায় করে আপনার নিজের ক্ষতি করবেন না প্রতিটি টাকা খরচ করার আগে ভেবে নিন যে, আপনার টাকাটি যোগ্য স্থানে খরচ করছেন  কিনা ।  যেটুকু শুধু আপনার প্রয়োজন পূরণ করে সেটুকু দিয়ে জীবন যাপন করতে শিখুন প্রয়োজনের মধ্যে জীবনযাপন করতে শিখে গেলে দেখবেন আপনি অনেক খরচই বাঁচাতে পারবেন । যদি আপনি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে টাকা নিয়ন্ত্রণ করবেন কিভাবে । আমরা কি করি, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, পাড়ার লোকদের দেখানোর জন্য অনেক অদরকারি জিনিস বাড়িতে কিনে আনি সেই জিনিস কিনুন যেটা আপনার বাড়িতে লাগবে  কোনওকিছু কিনতে না পারাটা কোনও লজ্জার বিষয় নয় যে জিনিসটা প্রয়োজন, এবং যা আপনি আপনার সাধ্যের মধ্যে কিনতে পারবেন শুধু সেটাই কিনুন দামী জিনিস কিনতে চাওয়া দোষের কিছু নয়   কিন্তু সাধ্যের বাইরে কেনাটা বোকামী   পাড়ার একটা লোক একটা জিনিস কিনে আনলেন, আপনার দেখে কিনার ইচ্ছা হল একবার ভাবলেন না যে জিনিসটা আমার কি সত্যি দরকার আছে ?


৭) ধার দেওয়া – আমারা সমাজবদ্ধ জীব । সমাজে থাকলে হলে একে অপরকে সাহায্য আমাদের করতেই হয় । তাঁর মধ্যে সবথেকে বেশি লেনদেন হয় টাকা ।  আপনার টাকা যদি কাউকে ধারে বা সুদে দেন, তাঁর আগে ভাল করে লোকটি সম্বন্ধে জেনে নিন । কারণ বেশির ভাগ সময় আনাদের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয় হয় এই টাকা ধার দেওয়া নিয়ে । আপনি ধারে টাকা দিলেন সে সঠিক সময়, মানে আপনার যখন টাকা লাগবে সেই সময় যেন ফেরত দিতে পারে তা বুঝে শুনে তবে টাকা ধার দেবেন ।

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 


 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯

বিপ্লবী সাধক ঋষি শ্রী অরবিন্দের বাংলা জীবনী.


 আমাদের ভারতে অনেক মনীষী জন্ম গ্রহণ করেছেন, কিন্তু একটি মানুষের মধ্যে নানাবিধ গুনের সম্ভার খুব বেশি চোখে পড়েনা । ঋষি অরবিন্দ ঘোষ ছিলেন দার্শনিক, ঋষি, বিপ্লবী, সাহিত্যিক, সম্পাদক ও সাহিত্য সেবক । ১৮৭২ সালের ১৫ আগস্ট ঋষি অরবিন্দ ঘোষ জন্ম গ্রহণ করেন । পিতার নাম ছিল কৃষ্ণধন ঘোষ, তিনি ডঃ কে.ডি ঘোষ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন । মায়ের নাম ছিল স্বর্ণলতা দেবী । তিনি নানা গুনের অধিকারিণী ছিলেন । কবিতা লেখা, সামাজিক কাজকর্মের মধ্যে তিনি যুক্ত থাকতেন । অরবিন্দের জন্ম হয় ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের বাড়িতে । অরবিন্দ কথার অর্থ হল পদ্ম ।

  ঋষি অরবিন্দের বাবা ছিলেন একজন সাহেবি কায়দার মানুষ । এদেশীয় লোকেদের সাথে তিনি বেশি মেলামেশা করতেন না । ১৮৭১ সালে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি চিকিৎসক হিসাবে কর্ম জীবন শুরু করেন । ভারতীয় সমাজের রক্ষণশীলতা, সংস্কার, অভ্যাস, রীতিনীতি সমস্ত তিনি ত্যাগ করেছিলেন । তিনি এটি চাইতেন না যে তাঁর সন্তানেরা এদেশের মানুষের মত হোক । তিনি অরবিন্দকে ও তাঁর অন্য দুই সন্তানকে, যখন অরবিন্দের বয়স পাঁচ বছর তখন দার্জিলিং এর ‘লরেটো কনভেন্ট’ স্কুলে ভর্তি করে দেন ।


   বাল্যকাল থেকে অরবিন্দের ইংরেজি আদব কায়দা, খাদ্য, পোশাক সব ছিল সাহেবি ধরনের । তিনি এখানে দুবছর পড়াশোনা করেন । নিজের ছেলেদের নিয়ে ডঃ কে.ডি ঘোষের অনেক উচ্চাশা ছিল । ডঃ কে.ডি ঘোষ ১৮৭৯ সালে আবার ইংল্যান্ডে যান, সেখানে ড্রইট পরিবারে তিনি তাঁর ছেলেদের রাখার ব্যবস্থা করেন । ম্যানচেস্টারে ড্রইট পরিবারে মিঃ রেভারেন্ড ড্রইট, তাঁর স্ত্রী ও তাঁর মায়ের কাছে অরবিন্দরা থাকতে লাগলেন । অরবিন্দ প্রায় ১৪ বছর ইংল্যান্ডে ছিলেন । প্রথম পাঁচ বছর ম্যানচেস্টারে, পরের ছয় বছর লন্ডনে, শেষ তিন বছর ছিলেন কেমব্রিজে ।

 ম্যানচেস্টারে থাকার সময় ড্রইট সাহেব তাকে ল্যাটিন ও ইংরাজি, তাঁর স্ত্রী অঙ্ক ও ভূগোল ও ফরাসি ভাষা শেখাতেন । বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাঁর পাঠ্যসূচীর ভার বাড়তে লাগল । কাব্য, ইতিহাস, সাহিত্য, শেক্সপীয়ার, শেলী ও বাইবেল পড়তে হত । প্রথম পাঁচ বছর এভাবে কাটলো । ১৮৮৪ সালে ড্রইট সাহেব অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলে তাঁর মা ও অরবিন্দ ও তাঁর ভাইদের দেখাশোনার ভার নেন । এবার তাঁরা ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনে চলে আসেন । ১৮৮৪ সালে অরবিন্দ ও তাঁর ভাইয়েরা সেন্ট পলস স্কুলে ভর্তি হন ।  সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মিঃ ওয়াকার । তিনি অরবিন্দকে ব্যক্তিগত ভাবে গ্রীক ও নানা বিষয় পাঠে সাহায্য করতেন । স্কুলের পড়া ছাড়াও অরবিন্দ ঘোষ ফরাসি কবিতা, উপন্যাস পাঠ করতেন, গ্রীক ও ল্যাটিন ভাষায় কবিতা রচনা করেন ।


 ১৮৮৯ সালে অরবিন্দ সেন্ট পলস থেকে পাশ করেন । সেই বছর তিনি কিং কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পরীক্ষায় বসেন ও সর্বশ্রেষ্ঠ হন । বাৎসরিক ৮০ পাউন্ডের ‘Senior Classical Scholarship’ লাভ করেন । ১৮৯০ সালে ICS প্রবেশিকা পরীক্ষায় জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন । গ্রীক ও ল্যাটিনে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাশ করেন । অশ্বারোহণ পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য তিনি ICS পরীক্ষায় পাশ করতে পারলেন না । ICS পরীক্ষায় যোগ না দিয়ে তিনি মাতৃভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ ঘটালেন ।

 ১৯৯০ সালে তিনি বরদাতে আসেন । বরদার মহারাজা গাইকোয়াড়ের  কাছে ২০০ টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করেন । অরবিন্দের বাবা শুনেছিলেন অরবিন্দ রুমানিয়া জাহাজে আসছেন । সেই জাহাজটা পর্তুগালের কাছে ডুবে যায় । কিন্তু, অরবিন্দ আসেন এস,এস কার্থেজ জাহাজে । কৃষ্ণধন বাবু একথা সহ্য না করতে পেরে মারা যান । চাকরীতে যোগদান করার পর তাকে জরীপের কাজে, পরে দেওয়ান খানা বা মহাকরণে নিযুক্ত করা হয় । ১৯৯০ সালে বরদা কলেজে অধ্যাপক ও ১৯০৪ সালে অধ্যক্ষ হয়েছিলেন ।


 রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ থাকার কারণে অরবিন্দ পরাধীন ভারতীয় অবস্থার দিকে মনোনিবেশ করেন । সরকারী চাকরী করার সুবাদে অরবিন্দের বাবা ভারতীয়দের প্রতি ইংরেজদের নিষ্ঠুর ও হৃদয়হীন অত্যাচার তাকে ব্যথিত করত । অরবিন্দকে তিনি এসব জানাতেন, এরফলে অরবিন্দের মনে ইংরেজদের প্রতি ঘৃণার ভাব তৈরি হয় । লন্ডনে থাকার সময় অরবিন্দ গুপ্ত সমিতির সদস্য হয়েছিলেন । বারোদায় অরবিন্দ ভারতীয় সংস্কৃতির উপর গভীর অধ্যয়ন শুরু করেন । বরদাতে থাকার সময় তিনি ভারতীয় সম্বন্ধে জানার জন্য রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, কালিদাস, সংস্কৃত ইত্যাদি পড়েন । 

  ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন করেন । ১৯০৭ সালে তিনি ‘বন্দে মাতরম’ পত্রিকা প্রকাশ করেন । পত্রিকাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে রাজদ্রোহের অভিযোগে সরকার পত্রিকাটি বন্ধ করার চেষ্টা করেন । সরকার এই পত্রিকার জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পেলেন । ৩০শে জুলাই ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকার উপর পুলিশের আক্রমণ হয় । ১৪ আগস্ট অরবিন্দকে গ্রেপ্তার করা হয় । ২৯ শে আগস্ট অরবিন্দকে জামিনে মুক্ত করা হয় । ২৩শে সেপ্টেম্বর বিচারে রায় হয় – বন্দেমাতরম পত্রিকাকে রাজদ্রোহের জন্য দোষী করা হয়, কিন্তু অরবিন্দ মুক্তি পান ।


  ১৯০৮ সালের ৩০ শে এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে গাড়িতে বোমা ছোঁড়া হয়েছিল । এই ঘটনার ফলে সারাদেশে হইচই পড়ে যায় । আলিপুর বোমা মামলার আসামি হিসাবে ২রা মে অরবিন্দকে গ্রেপ্তার করা হয় ।  ৫মে তাঁদের আদালতে পেশ করা হয় । অরবিন্দ ও অপর বন্দীদের আলিপুর জেলে স্থানান্তর করে আনা হয় । ১৯০৯ সালে বিচারের রায় প্রকাশিত হয় । এই মামলায় অরবিন্দদের আইনি সাহায্য করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ । অরবিন্দ ও বাকী ৯ জনের বেকসুর খালাস হয় । বাকীদের বিভিন্ন মেয়াদে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর ও কারাবাসের আদেশ হয় । বারীন ঘোষ ও উল্লাসকর দত্তের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, পরে আপিলের দ্বারা যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের আদেশ দেওয়া হয় । ১৯০৯ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত তাঁর ‘কর্মযোগিন’ পত্রিকায় শিক্ষা সম্পর্কে প্রকাশিত প্রবন্ধগুলি ছিল প্রগতিশীল ও সুদূর প্রসারী ।

 বরদাতে থাকার সময় থেকে তিনি প্রায় প্রাণায়ণ করতেন । কারাগারে থাকার সময় তাঁর অপরিমেয় আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ঘটে । যখন তিনি কারাগার থেকে বেরলেন তখন তিনি যেন এক আলাদা ব্যক্তি । এবার তিনি রাজনৈতিক জীবন পরিত্যাগ করলেন । বিপ্লবী অরবিন্দ ঋষি অরবিন্দে পরিণত হোন । ১৯১০ সালে তিনি ফরাসি অধিকৃত পণ্ডিচেরিতে চলে আসেন । এখানে থাকার সময় তিনি ধর্ম, দর্শন, ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন । তিনি তাঁর জীবনের ৪০ বছর এখানে কাটান । ১৯৫০ সালের ৫ই ডিসেম্বর অরবিন্দের মৃত্যু হয় ।


অরবিন্দ ঘোষের রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:
The age of Kalidasa
A System of National Education
The Renaissance in India
Speeches of Aurobinda
Mother India
কারাকাহিনী
ধর্ম ও জাতীয়তা
অরবিন্দের পত্র
যোগ সাধনার ভিত্তি

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জীবনী বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।


অর্ডার করতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯

মৃত সাগর কি, মৃত সাগর কোথায় আছে ?.


  আমরা সবাই বিশ্বাস করি মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর স্থান হয় স্বর্গে বা নরকে । কিন্তু মৃত্যুর সাগর সেটা আবার কি ? নামটা নিশ্চয়ই অদ্ভুত ঠেকছে আপনার কাছে জর্ডন ও সিরিয়ার মাঝখানে রয়েছে এই সাগর । প্রকৃতির অনন্য বিস্ময়কর সৃষ্টি এই মৃত সাগর । পৃথিবীর বুকে যে সমস্ত লবণাক্ত সাগর গুলি রয়েছে তাদের মধ্যে সবথেকে লবণাক্ত সাগর হল এটি । সাগর বলা হলেও এটি আসলে একটি হ্রদ । এর দৈর্ঘ্য হল ৬৭ কিলোমিটার ও প্রস্ত ১৮ কিলোমিটার । গভীরতা আছে ১৪০১ ফুট ।


 এই সাগরকে কেন মৃত সাগর বলা হয় ? প্রায় ৩০ লক্ষ বছর আগে জর্ডন নদী, মৃত সাগর ও গুয়েদি আবাবা এলাকা বারবার লোহিত সাগরের জলে বন্যার ফলে প্লাবিত হত । এই প্লাবনের ফলে একটি উপসাগর তৈরি হয় । তারপর ধীরে ধীরে এটি একটি লবণাক্ত হ্রদে পরিণত হয় । তারপর দেখা যায় যে এই উপসাগরের জলে যেকোনো জিনিস খুব সহজে ভেসে থাকতে পারে । এমন কি ভারী বস্তুও এর জলে ভেসে থাকতে পারে । তারপর এই সাগরের নাম হয় মৃত সাগর ।


 নানা তথ্য বিশ্লেষণের পর দেখা যায় যে – মহাসাগরের জলের তুলনায় এখানকার জলে মিশে থাকা খনিজ পদার্থের পার্থক্যের পরিমাণ অনেক । এর জলে রয়েছে প্রচুর নোনা । জলে লবণের পরিমাণ প্রায় ৩০ ভাগ । এরফলে আপনি সহজে বুঝতে পারছেন যে এখানে কতটা লবণ রয়েছে । লবণ থাকার ফলে জলের ঘনত্ব হয়েছে অনেক বেশি । তাই যেকোনো বস্তু এই জলে সহজে ডোবেনা, ভেসে থাকে ।

 মৃত সাগরের জলে মানুষ বসে, শুয়ে আপনার যেভাবে ইচ্ছা আপনি সেভাবে থাকতে পারবেন । এই জলে প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যার ফলে কোনও প্রাণী এই জলে বসবাস করতে পারেনা । প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অনুপযোগী এই মৃত সাগর । মাছ বা অন্য কোনও প্রাণী এই জলে নেই । অনেক পর্যটক এখানে ভেসে থাকার আনন্দ নেওয়ার জন্য প্রতি বছর আসেন । তাঁরা কেউ জলে শুয়ে আছেন আবার কেউ জলের উপর বই পরছেন ।


বিভিন্ন রোগে অসুস্থ মানুষদের বায়ু পরিবর্তনের স্থান হল এই মৃত সাগর । বর্তমানে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম কেন্দ্রস্থল । বিশেষ ভাবে যারা চর্ম রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য সবথেকে ভাল হল এখানকার মাটি । মনে করা হয় যে – চর্ম রোগে আক্রান্ত লোকেরা এই মাটি ব্যবহার করলে চর্মরোগ ভাল হয়ে যায় । সোরিয়াসিস, সেলুলাইট, ব্রণ, ফুসকুড়ি, খুশকি দূর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । এখানে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবও কম । বিভিন্ন ধরণের খনিজ পদার্থের বিপুল উপস্থিতি রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । এখানকার খনিজ ও লবণ সুগন্ধি ও প্রসাধনী তৈরীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে । এখানে এখন শস্য গবেষণার কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে । মাছ বা পাখি এখানে না থাকলেও মানুষের জন্য একটি আদর্শ স্থান ।
আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 


  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৯

ইন্টারনেট, সার্চ ইঞ্জিন, সোশাল নেটওয়ার্কিং, ওয়েবসাইট, ব্লগ ও ব্লগার এগুলি কি ?


  আমাদের বর্তমান সময়ে টেকনোলোজির যুগে যোগাযোগের জন্য এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হল ইন্টারনেট । এখন প্রায় প্রতিটি মোবাইল ও কম্প্যুটার ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন । ইন্টারনেট ব্যবহারের সাথে কতগুলি শব্দ যুক্ত হয়ে আছে । আজ আমরা এরকম কতগুলি শব্দের সাথে আপনাদের পরিচয় করাবো । জানতে হলে আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন । ইন্টারনেট বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইন্টারনেট লেখাটির উপর ক্লিক করুন ।

১)ইন্টারনেট – ইন্টারনেট হল একটি প্রযুক্তি । এর মাধ্যমে আপনি আপনার কম্প্যুটার বা মোবাইলের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাথে সাথে যোগাযোগ করতে পারেন । আপনার বাড়িতে বসে বিমান, রেল, জাহাজ ইত্যাদির টিকিটের আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন । এছাড়াও আরও বিভিন্ন কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়ে থাকে ।  ইন্টারনেট প্রথম আবিষ্কার করেন ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ । তাঁরা ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে এটি আবিষ্কার করেন । এর মাধ্যমে সৈনিক ও বিজ্ঞানীরা একে অপরকে বিনা বাধায় তথ্য পাঠাতে পারতেন । ১৯৮৪ সালে প্রায় ১০০০ এর বেশি কম্প্যুটার ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয় । ১৯৮০ সালে সর্বসাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করেন । ভারতে ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেটের প্রচলন হয় । বর্তমানে লক্ষ লক্ষ কম্প্যুটার এর সাথে যুক্ত রয়েছে । ইন্টারনেট কোনও সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়না । কোনও একজন ব্যক্তি, কোম্পানি, সংস্থা এর মালিক হতে পারেনা ।

২)সার্চ ইঞ্জিন – যে সফটওয়ার প্রোগ্রামের সাহায্যে ইন্টারনেটে থাকা ওয়েবসাইট, ওয়েবপেজ, বা বিভিন্ন ফাইল অনুসন্ধান করার জন্য আমাদের সাহায্য করে তাদেরকে সার্চ ইঞ্জিন বলা হয় । আপনি যখন কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের নাম না জেনে থাকেন তখন আপনাকে অনেকগুলি লিঙ্ক দেখানো হয় । আপনি সেই লিঙ্ক গুলির মাধ্যমে আপনার পছন্দের ওয়েবসাইটে যেতে পারেন । কোনও ফাইল খোঁজার জন্য আপনাকে প্রথমে সার্চ ইঞ্জিনের টেক্সট বক্সে কিছু শব্দ লিখতে হয় । সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে আপনার টাইপ কারে শব্দের সাথে মিল রয়েছে এমন লিঙ্ক দেখায় । এভাবে আপনি আপনার দরকারি তথ্য পেয়ে যাবেন  । আমাদের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হল Google, এছাড়া অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন হল Bing, Yahoo, Yandex, Duckduckgo ইত্যাদি ।

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
ফেসবুকে ভুয়ো বা ফেক প্রোফাইল চেনার উপায় কি কি ?.
৩)সোশাল নেটওয়ার্কিং – সোশাল নেটওয়ার্ক হল এমন একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যার সাহায্যে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন । আপনার যাদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ থাকেনা, তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন । আপনি এখানে আপনার ফোটো, ভিডিও, অডিও, টেক্সট ইত্যাদি বিনা খরচে আপলোড করতে পাড়বেন । আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে পারেন, ভিডিও, ফোটো, টেক্সট শেয়ার করতে পারেন । বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বের অনেক মানুষ এই সাইটের সাথে যুক্ত হয়ে আছেন । আপনার টাইম পাস করার জন্য এগুলি হল উপযুক্ত জায়গা । সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলির মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হল ফেসবুক । ফেসবুক ২০০৪ সালে শুরু করা হয়েছিল । এছাড়াও অন্যান্য সাইট গুলি হল – WhatsApp, Twitter, Instagram ইত্যাদি ।


৪)ওয়েবসাইট – আমরা ইন্টারনেটে যে সব তথ্য বা ডকুমেন্ট দেখি সেগুলিকে ওয়েবপেজ বলা হয় । ওয়েবপেজে টেক্সট, ফোটো, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি থাকে । এরকম বেশকিছু ওয়েবপেজ নিয়ে তৈরি হয় একটি ওয়েবসাইট । ওয়েবসাইট বিভিন্ন প্রকারের হয় যেমন – নিউজ ওয়েবসাইট, এডুকেশন ওয়েবসাইট, বিজনেস ওয়েবসাইট, সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট ইত্যাদি । এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে থাকেন যেমন – খেলার খবর, আবহাওয়া খবর, সংবাদ, কোনও কোম্পানি বা কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য, আরও বিভিন্ন তথ্য । এই ওয়েব সাইটগুলি কোনও ব্যক্তি, কোম্পানি, সংস্থা বা সরকার পরিচালনা করেন । আপনি যে পেজগুলি দেখেন সেগুলি বিশেষ কম্প্যুটারে জমা থাকে, তাকে সার্ভার বলা হয় । আপনি যতক্ষণ সেই সার্ভারে থাকেন ততোক্ষণ এই পেজগুলি দেখতে পান ।


৫) ব্লগ ও ব্লগার – আমার মনে হয় আপনারা এই শব্দ দুটির সাথে তেমন পরিচিত নয় । ব্লগ হল এমন একটি অনলাইন মাধ্যম যেখানে আপনি আপনার নিজের লেখা গল্প, চিন্তাধারা, পরামর্শ ইত্যাদি সহজে প্রকাশ করতে পারবেন । আপনি এখন যে আমার এই লেখাটা পড়ছেন এটি হল একটি ব্লগ । ইন্টারনেটে এরকম অনেক ব্লগ আছে । প্রতিটি ব্লগ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় । আর ব্লগার হল গুগলের দ্বারা বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করার সুবিধা প্রদানকারী পরিসেবা । ১৯৯৯ সালে এটি তৈরি হয়, ২০০৩ সালে গুগল একে কিনে নেয় । এর মাধ্যমে আপনি আমার মত আপনার নিজের ব্লগ তৈরি করতে পারবেন, আর এর মাধ্যমে আপনি পয়সা উপার্জন করতে পারবেন । যেখানে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে পয়সা পাবেন ।


  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইন্টারনেট  বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইন্টারনেট লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯

আপনি জীবনে সাফল্য লাভ করবেন কিভাবে ?.


  ‘ব্যর্থতা হল সুযোগ নতুন করে শুরু করার, যেখানে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা যায়’- হেনরি ফোর্ড ।
  আমরা প্রতিটি মানুষ চাই জীবনে সাফল্য অর্জন করতে । জীবনে সাফল্য কে চায় না ? কি আপনিও তাই চান তো ? কিন্তু, সবাই জীবনে সাফল্য লাভ করতে পারেনা । কেউ সাফল্যের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করে যান, আবার কেউ সাফল্যের জন্য পরিশ্রম না করে একঘেয়ে জীবনের ঘানি টেনে চলেন । কেউ বললেন যে আমার ভাগ্যটা খারাপ, সত্যি কি তাই । যারা আজ জীবনে সফল, সেই সফল মানুষরা কি করেন, যা আজ তাঁদেরকে সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছে দিয়েছে । আসুন এখন জেনে নিন সফল মানুষদের কিছু অভ্যাস ।

  ১) সবার প্রথমে আপনাকে একটি লক্ষ নির্ধারণ করতে হবে । আপনার ক্ষমতা অনুসারে লক্ষ নির্ধারণ করুন । নিজে জীবনে কি করতে চান সেই বিষয়ে যদি আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকে তবেই আপনি জীবনে সফল হতে পারবেন । তারপর সেই লক্ষে পৌঁছনোর জন্য বা সাফল্য পাওয়ার জন্য আপনাকে সেই কাজটি আগ্রহ বা মন দিয়ে করতে হবে । আপনি তখন সফল হবেন যখন আপনি আপনার কাজটিকে ভালবাসতে পারবেন । এটি আপনাকে আপনার জীবনে সাফল্য লাভ করতে সাহায্য করবে ।


  ২) সাফল্য লাভ করতে হলে আপনি সেই সব মানুষদের সাহায্য নিন যারা আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । তাঁরা কিভাবে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে সেগুলি জেনে নিন । আপনার কাজে উৎসাহ দেন এমন মানুষদের সাথে থাকুন । সব সময় পজিটিভ চিন্তা করবেন । নেগেটিভ চিন্তা মাথায় একদম আনবেন না । যারা আপনাকে নেগেটিভ কথা বলে তাঁদের থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন । আপনার মন ভাল থাকে এমন কাজ করুন ।

  ৩) জীবনে আলস্যকে একদম প্রশ্রয় দেবেন না । রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমবেন ও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন । আপনার শরীরের যত্ন নিন । তাই শরীর চর্চা করতে পারেন, হালকা শরীরচর্চা আপনাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে । এরফলে আপনার পেশির শিথিলতা বাড়বে, রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়ে আপনার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে ।

  ৪) আপনি আপনার কাজের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখুন । আমাদের চারপাশে অনেক ঘটনা ঘটে থাকে, সেদিকে আপনার নজর যেন বেশি না হয় । আপনার নজর থাকবে শুধুমাত্র আপনার কাজের দিকে । বাইরের দিকে মন চলে গেলে কাজে মন বসাবেন কিভাবে ? যদি অন্য দিকে আপনার মন যায় তাহলে সাফল্য থেকে আপনি দূরে সরে যাবেন ।


  ৫) সাফল্য লাভের জন্য আমাদের জীবনে প্রচুর কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এর কোনও বিকল্প নেই । আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম না করেন তাহলে আপনি নিজের লক্ষে পৌঁছাতে পারবেন না । কাজে আপনাকে সময় দিতে হবে । অল্প দিকের মধ্যে কেউ বড়ো কিছু করতে পারেনা । রাতারাতি কেউ বড়ো হতে পারেনা । তাই সময় নিন, আপনি আপনার কাজ করে যান । দেখবেন একদিন সাফল্য আপনার জীবনে অবশ্যই আসবে । তাঁর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে । মেয়েদের পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে সময় দিন । দেখবেন আপনার সময়ের কোনও অভাব হবেনা ।

  ৬) আপনাকে সেই কাজের ব্যপারে আরও বেশিকরে জ্ঞান লাভ করতে হবে । যেমন রাম একটি কাজ করছে দেখে আপনিও সেই কাজ শুরু করলেন । কিন্তু, রাম যে টাকা ইনকাম করছে আপনি তা করতে পারছেন না । কেন এমন হল ? এর কারণ হল রাম সেই কাজটি খুঁটিনাটি সম্পর্কে সব ভালকরে জানে, আপনি জানেন না । তাই আপনাকেও যে কাজটি করবেন সেই কাজের খুঁটিনাটি সব বিষয় ভালকরে জানতে হবে । তাঁর জন্য আপনি বই পড়তে পারেন বা ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন । সবাই যে ভাবে কাজটি করে আপনি তাঁর থেকে আলাদা ভাবে করার পদ্ধতি বার করে কাজটি তাড়াতাড়ি করার ব্যবস্থা করুন । আজকের দিনে মানুষ তাকে চায় যে অল্প সময়ে ভাল পরিষেবা দিতে পারে ।


৭) আপনি যে কাজ করছেন যদি সে কাজে অনেক মানুষ মিলে করতে হয় তবে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করুন । যদি দলের কারোর সাথে আপনার মতের পার্থক্য হয়ে থাকে তবে আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে ফেলুন । দলের সবার মতামতকে গুরুত্ব দিন । মনে রাখবেন – আপনি ও আপনার কর্মচারীর মধ্যে যদি সম্পর্ক ভাল থাকে তবে আপনার কাজ অনেক সহজে হয়ে যাবে । সাফল্যের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করা ।


  ৮) নতুন কিছু করে দেখান । কারণ মানুষ নতুন নতুন জিনিস বেশি পছন্দ করে । সব সময় মানুষের ঝোঁক থাকে নতুনের দিকে । বাজারে যে জিনিস নতুন আসে তাঁর চাহিদা প্রচুর হয় । কাস্টমারের কোনও অভাব তখন পড়েনা । আপনার কাস্টমারকে সব সময় খুশি রাখার চেষ্টা করুন । এরফলে আপনার ব্যবসা অনেক বেড়ে যাবে ।

  ৯) আপনাকে আপনার নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে । এটা ভাবুন যে আমি যে স্বপ্ন দেখেছি তা আমাকে পূরণ করতে হবে । আপনি ততক্ষণ হারবেন না যতক্ষণ না আপনি আপনার নিজের কাছে হার না মানবেন । কোনও কাজ শুরু করার পর হাল ছাড়বেন না ।

  ১০) সবশেষে বলি আগে নিজেকে ও নিজের শরীরকে ঠিক রাখুন । আপনি যদি কাজের পিছনে ছুটে শরীর খারাপ করে ফেলেন তাহলে কাজটি করবেন কিভাবে । অনেককে দেখা যায় যে কাজের চাপে ঠিক সময় খান না, ঘুমানো কমিয়ে দেন, এরকম করবেন না । সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে কাজ করুন । আপনার শরীরটা না থাকেলে আপনি থাকবেন কি করে ।


আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 
বিয়ে করার জন্য সঠিক ছেলে বা মেয়ে কিভাবে নির্বাচন করবেন ?.
সুলক্ষণা নারীদের দেহের লক্ষণ ও গঠন কেমন হয় ?
কোন মানুষকে প্রভাবিত করে তার মনে আপনার স্থান কিভাবে করবেন ?.

  আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ   

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯

ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় কি কি ?.


  আমাদের শরীরে আঘাত লাগা, অন্য কোন অসুখের আক্রমণ, সংক্রমণ, স্ফীতের কারণে বা অন্য কোন কারণে দেহের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়াকে জ্বর বলা হয় । সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত হয় ফারেনহাইট স্কেলে ৯৮.৪ ডিগ্রি । যখন সেই তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি বৃদ্ধি পায় তখন আমাদের বুঝতে হবে শরীরে জ্বর হয়েছে । গায়ে হাত দিয়ে তাপমাত্রা বেড়েছে কিনা অনুমান করা যায় । সঠিকভাবে তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা দরকার । থার্মোমিটার বগলে বা জিভের নিচে দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হয় । জ্বর হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে ।



  জ্বরের লক্ষণ – সাধারণভাবে চারপাশের আবহাওয়া বদলের ফলে জ্বর হতে দেখা যায় । মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শরীরে আঘাত লাগা, জীবাণু বা ভাইরাসের সংক্রমণ হলে, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কালাজ্বর, টাইফয়েড ইত্যাদির কারণেও জ্বর হতে পারে । আবার বিভিন্ন রোগের ফলে যেমন – ডিপথেরিয়া, জলবসন্ত, হাম, টনসিলের প্রদাহ ইত্যাদি । জ্বর হলে আমাদের খিদে কমে যায়, মাথাঘোরা, বমিভাব, ত্বক গরম হয় ও শুকনো হয়ে যায় । চোখ, মুখ লাল হয়ে যায় । হাতে ও পায়ে ব্যথা তৈরি হয় । অনেক মানুষ আবার জ্বরের জন্য ভুল বকে থাকেন ।


 
প্রতিকারের উপায়
– জ্বর কোনও নির্দিষ্ট রোগ নয়, অন্য রোগের ফলে আমাদের শরীরে জ্বর হয় । ঘরোয়া পদ্ধতি যেগুলি করতে পারেন – ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে কোন ওষুধ খাবেন না । প্রথমে রোগীর মাথায় ঠাণ্ডা জলের কাপড়ের পট্টি দিতে হবে । যদি পারেন মাথায় বরফের ব্যাগ দিতে পারেন । ভিজে কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে দিতে হবে । হালকা পাতলা জামা কাপড় পরাতে হবে । রোগী যে ঘরে থাকবে সেই ঘর পরিষ্কার, আলো বাতাস যুক্ত হতে হবে । ঘরের দরজা, জানলা খুলে আলো ও বাতাস আসার ব্যবস্থা করে দিন । শিশুদের জ্বর হলে তাঁদের ঢাকা দেওয়া জামা কাপড় পরাবেন না । হালকা পাতলা জামা কাপড় পরাতে হবে । মাথায় হাওয়া দিতে হবে ।

১) ম্যালেরিয়া – প্লাজমোডিয়াম নামের এককোষী আদ্য প্রাণীর জন্য আমাদের ম্যালেরিয়া জ্বর হয় । ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রে পোষক দুটি প্রাণীর নাম হল – স্ত্রী মশা ও মানুষ । স্ত্রী মশারা জীবাণু বহন করে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দেয় । ম্যালেরিয়ার লক্ষণ হল – রক্তশূন্যতা, যকৃৎ বড়ো হয়ে যাওয়া, প্লীহাবৃদ্ধি ইত্যাদি । মাথাঘোরা, বমিভাব, হাত, গায়ে ব্যথা । ম্যালেরিয়া হলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যান ।


প্রতিকারের উপায় – সবার প্রথমে মশার বংশ বৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে । আশেপাশে জল জমতে দেবেন না । মশারি ব্যবহার করতে হবে । মশা মারার জন্য ধুপ বা কয়েল ব্যবহার করুন । মশা আপনাকে কামড়াতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন । শরীরে ক্রিম বা তেল মাখুন । মশার লার্ভা ধ্বংস করুন । রোগীকে আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করুন । সব সময় পরিষ্কার পরিছন্ন থাকবেন । উপরে দেওয়া উপায় গুলি পালন করুন ।

২) ডেঙ্গু – ভারত ও বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার পর ডেঙ্গু হল সর্বাধিক মশা বাহিত রোগ । স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান বাহক । এই মশা দিনের বেলা, সকালের দিকে মানুষকে কামড়ায় । বাড়ির আশেপাশে যেমন – ডাবের খোলা, ফুলদানি, বোতল, বাতানুকূল যন্ত্র ইত্যাদিতে এরা জন্মায় । প্রচুর পরিমাণে জ্বর শরীরে হয়, হাড়ে ব্যথা হয় । আপনার মনে হবে যেন হাড় ভেঙ্গে গেছে । মাথা যন্ত্রণা, নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, মলের রঙ কালো হয়ে যায় । দেহের রক্তচাপ ও তাপমাত্রা কমে যায়, লিভার বেড়ে যায়, হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যায় ।

প্রতিকারের উপায় – বাড়ির আশেপাশে জল জমতে দেবেন না । জমা জলে এই মশা ডিম পারে । জলে কেরোসিন, রাসায়নিক স্প্রে দিন । ফুলদানি, টব, রেফ্রিজারেটরের জল নিয়মিত বদলাতে হবে । প্রতিদিন নিয়মিত দিনে ও রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমবেন । জ্বর হলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করান । রোগীর যদি রক্তের প্রয়োজন হয় তাহলে রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে । মশার হাত থেকে সব সময় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন ।
   আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নীচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।