শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভারতের বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের বাংলা জীবনী.


ওঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না - স্বামী বিবেকানন্দ .

 স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন দেশাত্বপ্রান, সমাজসেবী ও এক আদর্শ সন্ন্যাসী । ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি উত্তর কলকাতায় সিমলা অঞ্চলে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে স্বামী বিবেকানন্দ জন্ম গ্রহণ করেন । পিতার নাম বিশ্বনাথ দত্ত ও মাতার নাম ভুবনেশ্বরী দেবী । বিশ্বনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতা উচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী । আদর করে তাঁরা বিলে বলে ডাকতেন শৈশব থেকে বিবেকানান্দ নির্ভীক, সত্যবাদী ও সহানুভূতিশীল ছিলেন । শৈশবে তিনি অত্যন্ত দুরন্ত ছিলেন, পিতামাতার পক্ষে তাকে সামলানো মাঝে মাঝেই দুঃসাধ্য হয়ে উঠত । ছাত্র হিসাবে ছিলেন খুবই মেধাবীপ্রথমে নিজ গৃহে মায়ের নিকট এবং পরে একজন গৃহশিক্ষকের নিকট নরেন্দ্রর শিক্ষাজীবন শুরু হয় । 


 তিনি তিন বছরের পাঠ্য এক বছরে পড়ে ১৮৭৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন ও প্রথম বিভাগে পাশ করেন । তিনি মেট্রোপলিটন ইন্সটিটিউশন ও স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে শিক্ষালাভ করেন । পিতার প্রগতিশীল ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও মায়ের ধর্মপ্রাণতা বিবেকানন্দের চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল । তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে আরও একটি ভাল গুন পেয়েছিলেন সেটি হল,  তিনি ভাল রান্না করতে পারতেন । স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে নানা গুনের সমন্বয় দেখা দিয়েছিল । সবাইকে তিনি শ্রদ্ধা করতেন, নিজের নিন্দা বা অপ্রিয় কথা বলতে তিনি কুণ্ঠিত হতেন না । সমকালীন ভারতে ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক সংকট পূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল । জাতীয় জীবনে এক নির্ভর যোগ্য শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল । এই রকম এক পরিস্থিতিতে দেশ পেল স্বামী বিবেকানন্দকে । অল্পকাল বয়স থেকে সমাজ সেবার প্রবণতা তাঁর মধ্যে ছিল । অশিক্ষিত, দরিদ্র, হরিজনদের সেবার জন্য তিনি ছুটে যেতেন ।

 ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি তিনি আকর্ষিত হতেন । সাধু সন্ন্যাসীদের প্রতি তাঁর আকর্ষণ অল্প বয়স থেকে ছিল । দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্য বিষয়ে বই পড়ায় তার বিশেষ আগ্রহ ছিল । তিনি রাজা রামমোহন  রায়ের বেদান্ত বিষয়ক গ্রন্থাদি পাঠ করে ব্রাহ্মসমাজের প্রতি আকৃষ্ট হন । নরেন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কথা প্রথম শোনেন জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশনে পড়ার সময় । ১৮৮১ সালে মাত্র আঠারো বছর বয়সে দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় । প্রথম দিকে রামকৃষ্ণ তাঁর উপর প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারলেও, কালক্রমে রামকৃষ্ণের সর্বজনীনতা, উদার নৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গি শিক্ষার দ্বারা স্বামীজী গভীর ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন । শ্রীরামকৃষ্ণের উপদেশ, বানী ও গৌতম বুদ্ধের জীবন ও বানী তাঁকে বিশেষ প্রভাবিত করেছিল । গৌতম বুদ্ধের মানব সেবা স্বামীজীকে বিশেষ ভাবে আকর্ষণ করেছিল ।

 শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর নরেন্দ্রনাথ স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত হন শ্রী রামকৃষ্ণের দেহ ত্যাগের পর তিনি তাঁর বানী প্রচার করতে ছয় বছর ধরে সারা ভারত পর্যটন করেন । তিনি দেশবাসীর অবর্ণনীয় দুঃখ, দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেন । তিনি উনুধাবন করলেন যে ভারত আজ দরিদ্র ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে আছে । ১৮৮৩ সালে কন্যাকুমারীতে স্বামীজী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, ভারত ও ভারতবাসীর সামগ্রিক কল্যাণ করে অবহেলা, অন্ধকার দূর করে সমগ্র জাতিকে উপরে তুলে আনবেন । ভারতের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সক্রিয় হন । দেশ ও দেশবাসীর জন্য তাঁর ভালবাসা ছিল গভীর । দেশের মানুষদের দুর্দশা মোচনের জন্য জনসেবার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন । তিনি ভারতে নবজাগরণ আন্দোলনের এক নতুন গতি সঞ্চার করেছিলেন । দেশমাতৃকার সেবার জন্য বিবেকানন্দ যুব সমাজকে জীবন উৎসর্গ করার আহবান জানান । তাঁর স্বদেশ সেবামূলক আবেদনে ভারতের আদর্শবাদী যুব সমাজ অনুপ্রাণিত হয়েছিল,দরিদ্রের সেবার আহবানের তিনি যথাযথ সাড়া পেয়েছিলেন, তাঁর ডাকে দেশের যুব সমাজ উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণ কর্মে ব্রতী হয় ।  

 ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে ভারতবর্ষের মহান ঐতিহ্য এবং সনাতন হিন্দু ধর্মের আদর্শের কথা প্রচার করে স্বদেশের গৌরব  এনে দেন । যার মাধ্যমেই তিনি পাশ্চাত্য সমাজে প্রথম হিন্দুধর্ম প্রচার করেন । দি নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড তাঁকে ধর্ম সম্মেলন থেকে আবির্ভূত বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে । তিনি বোস্টন, ডেট্রয়েট, নিউ ইয়র্ক, বাল্টিমোর, ওয়াশিংটন, ব্রুকলিন প্রভৃতি শহর থেকে বক্তৃতা করার আমন্ত্রণ লাভ করেন । বহু আমেরিকান নারী-পুরুষ তাঁর শিষ্যত্ব লাভ করেন এবং বেশ কয়েকজন তাঁর সঙ্গে ভারতে চলে আসেন । এরপর তিনি সেখান থেকে লন্ডনে যান । এই সময় তাঁর সাথে মিস মার্গারেট নোবেলের পরিচয় হয় । তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বাকি জীবন ভারতবর্ষেই অতিবাহিত করেন । এভাবে বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি ১৯০০ সালে বেলুড়ে ফিরে আসেন । ১৮৯৭ সালে তিনি ক্যাথলিক মিশনের মডেল অনুসারে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি হিন্দু ধর্মকে একটি বিশ্বধর্মে পরিণত করেন । তিনি ছিলেন ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনা সম্পন্ন ।
 স্বামী বিবেকানন্দ সকলের জন্য প্রেম প্রীতি ভালোবাসার কথা বলে গেছেন । দরিদ্র নারায়ণ সেবার উপর তিনি জোর দিয়েছিলেন । মানবতা ও মানবসেবার মাধ্যমে সকলকে আত্ম নিয়োগ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন । তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সব সম্ভাবনার দেশ মনে করেন ।  প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যর মধ্যে সহযোগিতা এবং মৌলিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্যেই মানুষের ভবিষ্যৎ বিদ্যমান বলে তিনি উপলব্ধি করেন । তিনি পশ্চিমী সংস্কৃতির ভাল দিক গুলি সংগ্রহ করে ভারতীয় করণ করেন । দুনিয়ার যা কিছু ভাল তা সংগ্রহ করার জন্য আহ্বান করেন । ভবিষ্যৎ জাতির জন্য ক্ষতিকর সবকিছুকেই তিনি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন ।
 জীব সেবার মধ্য দিয়ে তিনি ঈশ্বর সেবার আদর্শ খুঁজে পেয়েছিলেন  তাঁর প্রধান শিষ্যা ছিলেন মার্গারেট নোবেল । পরে তিনি ভগিনী নিবেদিতা নামে পরিচিত হন । সমাজ সেবা, শিক্ষা বিস্তার, বেদান্ত, দর্শন ইত্যাদি প্রচারের মাধ্যমে তিনি দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন । তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থগুলি হল – বর্তমান ভারত, পরিব্রাজক, জ্ঞানযোগ, পাচ্য ও পাশ্চাত্য তার জন্মদিনটি ভারতে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয় ।
 ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে ৪ জুলাই মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এই বীর সন্ন্যাসী পরলোক গমন করেন ।

 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জীবনী বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে জীবনী লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 


আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন - 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাংলায় সুলতানি আমলে শিল্প-স্থাপত্য ও ভাস্কর্য কেমন ছিল ?.


দিল্লিতে সুলতানি সাম্রাজ্যের ভাঙনের ফলে ভারতে একাধিক স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল । সেই আঞ্চলিক রাজ্যগুলি তাদের নিজের চেষ্টায় দিল্লি সুলতানদের মত বিশাল ও ব্যাপক না হলেও, ইন্দো-ইসলামীয় স্থাপত্য ধারায় স্থাপত্য নির্মাণ করেন । ঐতিহাসিক দিক থেকে এইসব স্থাপত্য কর্মের গুরুত্ব কম নয় । স্থানীয় উপকরণ ও স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা এইসব স্থাপত্য গড়ে ওঠে । এইসব আঞ্চলিক স্থাপত্যে স্থানীয় স্থাপত্য রীতি ও বৈশিষ্ট্যের প্রভাব ছিল দেখার মত । ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এরকম স্থাপত্য ও শিল্পের নিদর্শন পাওয়া যায় । আমরা এখন জানবো শুধু আমাদের বাংলাদেশের (অবিভক্ত বাংলা) সুলতানি আলমের স্থাপত্য, শিল্প ও ভাস্কর্য সম্পর্কে ।

 বাংলাদেশে মুসলমান শাসকরা ছড়িয়ে পড়ে খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতকে । বাংলার সেই স্বাধীন ও অর্ধ স্বাধীন অঞ্চলে নানা স্থানে তাঁদের প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করেছিল । সেই সময় বাংলার স্থাপত্য নির্মাণের মূল গঠন ভঙ্গি ছিল ইসলামীয় রীতি । কাঁচামাল ও কারুকার্যে বাংলার লৌকিক রীতিও দেখা যায় । প্রধানত গৌড় ও পাণ্ডুয়াকে কেন্দ্র করে বাংলার স্থাপত্য বিকশিত হয়েছিল । সেইসব স্থাপত্যের মধ্যে বর্তমানে খুব কম টিকে আছে, আবার যেগুলি আছে তাদের অবস্থা ভগ্ন ও জরাজীর্ণ । এখানে ইটের ব্যবহার করা হত । বাড়ি ও মন্দির গুলির চাল ঢালু করা হত, কারণ বৃষ্টির জল সহজে দাঁড়াতে না পারে । এই নির্মাণ পদ্ধতিকে বলা হয় বাংলা । পুরনো মন্দির গুলি একই ধাঁচে তৈরি করা । পরপর দুটি কাঠামোকে পাশাপাশি জুড়ে তৈরি করা হলে তাকে বলা হত জোড়-বাংলা ।

 এই সময় মন্দির গুলি বেশির ভাগ দেওয়াল গুলিতে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কাজ করা হত । এগুলি এখন বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ও বাংলার নানা স্থানে দেখতে পাওয়া যায় । আয়তক্ষেত্রাকার কাঠামোর উপরে অনেক গুলি চুড়া ব্যবহার করে মন্দির বানানো হত, সেগুলিকে চুড়া বলা হয় । একটি চুড়া থাকলে এক রত্ন, আবার পাঁচটি চুড়া থাকলে তাকে বলা হয় পঞ্চরত্ন মন্দির । এসময় আবার চাল বা চালা ভিত্তিক মন্দির বানানোর রীতি ছিল । মন্দিরের মাথায় চালার সংখ্যা হিসাবে এগুলিকে বলা হত একচালা, দো-চালা ইত্যাদি ।

 এই সময়ের বাংলার স্থাপত্য শিল্পকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে । প্রথম পর্যায় ছিল ১২০২ থেকে ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত । সেসব স্থাপত্য অধিকাংশ রাজধানী গৌড়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল । এই সময় ইট ও পাথর দিয়ে গম্বুজাকৃতি মসজিদ তৈরি হয় । মসজিদ গুলিতে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির অলংকরণ ছিল । এগুলির কোন কার্নিশ ছিল না । এই পর্বের ইমারত গুলি ত্রিবেণী, পাণ্ডুয়া, সপ্তগ্রাম স্থান গুলিতে নির্মিত হয় । ত্রিবেণীতে জাফর খানের সমাধির ভগ্নাবশেষ ও বসিরহাটে ছড়িয়ে থাকা কিছু স্তূপ ছাড়া সেই সময়ের স্থাপত্য আজ টিকে নেই ।
আরো পড়ুন-
 দ্বিতীয় পর্বের সময়কাল হিসাবে ধরা হয় ১৩৪০ থেকে ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত । সেই সময় স্থাপত্যকর্ম পাণ্ডুয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল । দ্বিতীয় পর্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মালদহের পাণ্ডুয়ার আদিনা মসজিদ । সুলতান সিকন্দর শাহ ১৩৬৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নতুন রাজধানী পাণ্ডুয়াতে এই মসজিদ নির্মাণ করেন । দামাস্কাসের আদি মসজিদের সাথে আদিনা মসজিদের সীমানা প্রায় সমান । এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৪০০ ফুট ও ১৩০ ফুট । মসজিদের উপরের অংশের খিলান ও গম্বুজ প্রধানত ইট দিয়ে তৈরি হয়েছিল । 

  অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে – মুসলিম স্থাপত্যের প্রথম পর্যায়ের উপকরণ গুলি হিন্দু স্থাপত্য থেকে নেওয়া হয়েছে । আদিনা মসজিদের সামনের উপ কাঠামো নির্মাণের পাথর বা দেওয়ালের অভ্যন্তরে খোদাই করা পাথর, মূর্তি ইত্যাদি অন্য কোন স্থাপত্য থেকে নেওয়া হয়েছে । মনে করা হয় যে – এগুলি লক্ষণাবতী বা তার কাছাকাছি কোন হিন্দু স্থাপত্য বা অট্টালিকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে । আদিনা মসজিদের গাম্ভীর্য ও শিল্পচর্চায় রাজকীয় মর্যাদার উন্নত একটি শিল্প সৃষ্টি হিসাবে স্বীকার করা হয়েছে ।


 বাংলার সুলতানি স্থাপত্যের তৃতীয় পর্বের সময়কাল হিসাবে ধরা হয় ১৪৪২ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত । তৃতীয় পর্বে বাংলায় ইন্দো-ইসলামিয় স্থাপত্য শিল্প সবথেকে উন্নত হয়েছিল । এই সময় নতুন স্থাপত্য ধারা দেখা যায় । বাংলার আদ্র জলবায়ুর উপযোগী স্থাপত্যের উপর জোর দেওয়া হয় । এই সময় ছাদের জল তাড়াতাড়ি সরানোর জন্য ছাদ ঢালু ও বক্র করা হয় । তৃতীয় পর্বের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য হল – একলাখি সমাধি, দাখিল দরওয়াজা, তাঁতিপাড়া মসজিদ, ছোটো সোনা মসজিদ, বড়োসোনা মসজিদ, কদম রসুলের মসজিদ ইত্যাদি ।

তৃতীয় ধারায় প্রথম প্রকাশ দেখা যায় পাণ্ডুয়ায় সুলতান জালালউদ্দিন মহম্মদ শাহ (যদু) একলাখি স্মৃতি সৌধ । এই মসজিদের টেরাকোটার কাজ ও অর্ধ গোলক আকৃতি অন্যতম আকর্ষণীয় । এর চুড়া অষ্টভুজাকৃতি, যা দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি হয়তো দ্বিতল । এটি নির্মিত হয় ১৪২৫ সালে । গৌড়ের দাখিল দরওয়াজা সে সময়ের আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য । ১৪৬৫ সালে সুলতান বারবক শাহ এটি নির্মাণ করেছিলেন । এটি একটি বিজয় তোরণ হিসাবে গৌড় দুর্গের উত্তর প্রাকারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ।

 গৌড়ের তাঁতিপাড়া মসজিদটি ১৪৮০ সালে তৈরি হয় । নির্মাণ শৈলী স্থায়িত্বের দিক থেকে এটি দাখিল দরওয়াজা থেকে অনেক উন্নত । আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে নির্মাণ করা হয় ছোটো সোনা মসজিদ । ১৫১০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয় । গৌড়ের মধ্যে সবথেকে বড়ো মসজিদ হল বড়োসোনা মসজিদ । এই মসজিদে উজ্জ্বল মিনাকরা বহু বর্ণের টালি ব্যবহার করা হয়েছে । জন মার্শালের মতে – এই মসজিদের নকসা দ্রাবিড় স্থাপত্যের অনুরূপ ।

 
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । ইতিহাস বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে ইতিহাস লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 
আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন -

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

হলুদ, আদা, পেঁয়াজ, রসুন ও আমলকীর দ্বারা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উপায় কি কি ?.


১) হলুদ – হলুদ আমাদের বিভিন্ন উপকার করে । বহু বছর ধরে রোগ প্রতিরোধক হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে হলুদ মুখে মাখার জন্য কাঁচা হলুদ আর মসুরের ডাল একসাথে বেটে নিন । এরপর এর মধ্যে দুধের সর মিশিয়ে মাখিয়ে নিন । এভাবে এক মাস মাখুন, আপনার মুখের ত্বক উজ্জ্বল হবে । তেল আর হলুদ একসাথে গায়ে মাখলে দেহের উজ্জ্বলতা বাড়ে । আপনার গলা ধরলে ২ গ্রাম হলুদ গুঁড়ো, সামান্য চিনি, ১ গ্লাস সামান্য গরম জলে সরবতের মত করে খেতে হবে । আপনার কৃমি হলে ১৫-২০ ফোটা হলুদের রসের সাথে খানিকটা লবণ দিয়ে সকাল বেলা খালি পেটে খাবেন । সাতদিন ধরে এভাবে খেতে হবে । 

 লিভারের সমস্যা হলে ১ চামচ হলুদ রস সামান্য চিনি বা মধু দিয়ে এক মাস খাবেন । সর্দি বা কাশি কমাতে হলে মধুর সাথে হলুদের রস মিসিয়ে খেতে পারেনহলুদ খেলে হজমের সমস্যা দূর হয় হলুদ শরীরে ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে


২) আদা – আদা আমাদের বিভিন্ন উপকার করে । মসলা ও আচারের উপকরণ হিসেবে আদা অধিক ব্যবহিত হয় আদার আবার ঔষধি গুণ রয়েছে আদায় রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে । আপনার আমবাত দেখা দিলে ১০ গ্রাম আখের গুড়, ১ চামচ আদার রস নিয়ে প্রতিদিন খেতে হবে । এভাবে প্রায় ১ মাস খেতে হবে । আদা হজমে সাহায্য করে । হিক্কা হলে ১ চামচ আদার রস ও ১ চামচ ছাগলের দুধ একসাথে মিশিয়ে খেতে হবে । আপনার আমাশয় হলে শুকনো আদা গুঁড়ো ১ গ্রাম, এক কাপ হালকা গরম জলে মিশিয়ে খেতে হবে । প্রতিদিন দুবার করে খাবেন, যতদিন ভাল না হওয়া পর্যন্ত । সর্দি জ্বর হলে ১ চামচ আদার রস, ২ চামচ শিউলি পাতার রস, ১ চামচ তুলসী পাতার রস, ১ চামচ মধু মিসিয়ে খাবেন । প্রতিদিন দুবার করে তিনদিন পর্যন্ত । ভিনিগারে আদার টুকরো, লবণ, মরিচ দিয়ে কিছু দিন রাখুন । খাওয়ার সময় আচার হিসেবে খেতে পারেন ।

৩) পেঁয়াজ – পেঁয়াজ কাটতে গেলে আমাদের সবার চোখে জল আসে । বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য পেঁয়াজ ভাল কাজ করে । প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের সঙ্গে এতে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা আমাদের শরীরে নানা উপকার করে । প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, সালফার, ভিটামিন B এবং C পেঁয়াজের মধ্যে থাকে । কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়তে পেঁয়াজ আমাদের সাহায্য করে । কানে পুঁজ হলে পেঁয়াজ ও রসুনের রস হালকা গরম করে ১-২ ফোঁটা প্রতিদিন দুবার করে ৪-৫ দিন দিতে হবে । সর্দির জন্য নাক দিয়ে জল পড়লে ১ চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চামচ জল দিয়ে খাবেন । নাক থেকে রক্ত পড়লে ৪-৫ ফোঁটা পেঁয়াজের রস নিয়ে নাকে নস্যির মত টানতে হবে । বমি ও হিক্কা হলে ২-৩ চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে সামান্য জল দিয়ে খেলে ভাল হবে ।
) রসুনরসুন একটি মসলা জাতীয় খাদ্য উপাদান । রান্নার মসলা হিসেবে রসুনের ব্যবহার বেশি করা হয় । অনেক দিন আগ থেকেই দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে । রসুনের মধ্যে আছে ভিটামিন A,B,C,D, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, আয়োডিন রসুন মানুষের দেহে এমন কোনও রোগ বালাই নেই যার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে না । রসুনের মধ্যে সকল রোগ আরোগ্যের করার উপায় সৃষ্টিকারী উৎস বিদ্যমান রয়েছে । হার্ট সুস্থ রাখা থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত রসুনের ভূমিকা রয়েছে । গবেষকদের মতে খালি পেটে রসুন খাওয়া হলে হজমের গণ্ডগোল রোধ হয় । মাথা ধরলে - চামচ রসুনের রস নাকে নস্যির মত টানুন আপনার গায়ে যদি কোন ঘা বা ক্ষত থাকে তাহলে সেখানে রসুনের - টি কোয়া বেটে পরপর কয়েক দিন লাগাবেন শরীরের ক্ষয় ওজন বৃদ্ধির জন্য দুধে রসুন সিদ্ধ করে সেই দুধ খেতে হবে এক কাপ দুধে কোয়া রসুন নেবেন আধকোয়া রসুন বেটে ঘোলের সাথে প্রতিদিন খেতে পারেন

) আমলকীআমলকী হল সবচেয়ে উপকারী ভেষজের মধ্যে একটি ভেষজ । অর্শ্ব, ডায়রিয়া, আমাশয়, রক্তস্বল্পতা, জন্ডিস ও ত্বক সমস্যায় আমলকীর আছে অশেষ ক্ষমতা । আমলকী গাছের কাণ্ড ও শিকড়ের ছাল থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ । আমলকী আমাদের বিভিন্ন উপকার করে রোজ সকালে এক চামচ আমলকীর রস খেলে শরীর ও লিভার দুটিই চাঙা থাকে । মেহ-রোগ হলে প্রতিদিন একটা করে কাঁচা আমলকী খাবেন যোনীতে ব্যথা হলে চামচ কাঁচা আমলকীর রস, চামচ হিঞ্চের রস নিয়ে ১৫-২০ দিন প্রতিদিন একবার করে খাবেন আপনার চুল উঠে গেলে, চুল পেকে গেলে কাঁচা আমলকী বেটে নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ২৫-৩০ মাঠায় লাগাতে হবে আপনার প্রস্রাবে যদি জ্বালা হয় তাহলে চামচ কাঁচা আমলকীর রস, গ্রাম মিছরির জল নিয়ে - দিন খেতে হবে আমলকী লিভারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে, লিভারকে সুরক্ষিত রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে । মধু ও আমলকী একসাথে খেলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো থাকে । আমলকী ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ।
 
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে স্বাস্থ্য লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

আপনি আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস কিভাবে বাড়াবেন ?.


 আপনার আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর । আত্মবিশ্বাস মানুষের ভেতরকার এমন এক ক্ষমতা, যা দিয়ে মানুষ কঠিন কাজ সহজেই করে ফেলতে পারে, অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলতে পারেন । এই পৃথিবীতে সব মানুষ কিন্তু আত্মবিশ্বাস নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না আপনি যদি নিজের থেকে না চান তাহলে কেউ আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে না । এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা আপনার উপর নির্ভরশীল । আমরা জানি যে এক সঠিক দিশা আমাদের সম্পূর্ণ জীবন বদলে দিতে পারে ।  শুধু আমাদের লক্ষ ঠিক রেখে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেদিকে আগিয়ে যেতে হবে । এখন আমি আপনাদের জানবো যে – কিভাবে আপনি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবেন, তার বিভিন্ন উপায় কি কি ।

 সফল কাজ – আপনি যে সমস্ত সফল কাজ করেছেন, সেই কাজ গুলির কথা কনে করুন । যেমন – কোনও ক্লাসে প্রথম হওয়া, পুরস্কার পাওয়া, এমন কাজ যেটি কেউ পারেনি আপনি পেরেছেন ইত্যাদি । এরফল হবে, আপনি যখন অন্য একটি বড়ো কাজ করতে যাবেন তখন আপনার নিজের উপর একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে । যেকোনো কাজ করার আগে তার জন্য একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে হয় ফলে এখন আপনি যে কাজটি করতে চলেছেন তা করা আপনার পক্ষে অনেকটা সহজ হয়ে যাবে । আপনি নিজে মনে করবেন যে, আমি এখন এই কাজটিও করতে পারবো ।

 সফল ব্যক্তিমানুষ প্রাকৃতিক ভাবেই সামাজিক জীব আপনি যদি আপনার সমাজে এমন মানুষ দেখেন যার উপর নিজের আত্মবিশ্বাস আছে, আপনি তাঁর কাছ থেকে কিছু পরামর্শ বা উপদেশ নিতে পারেন । আপনি কোন সফল ব্যক্তির সাথে আলোচনা করতে পারেন, তাঁর জীবনের সাফল্যের কথা শুনে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে । আমরা সাধারণ ভাবে বেশি সফল ব্যক্তিদের অনুসরণ করি । আমদের উচিত তাদের মত হয়ে উঠতে হলে সেভাবে নিজেকে তৈরি করা । আপনি যত সফল ব্যক্তিদের সাথে থাকবেন আপনার আত্মবিশ্বাস তত বেড়ে যাবে । নিজের আত্মবিশ্বাসকে ঠিক রাখতে হলে নেতিবাচক সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে  

 ব্যর্থ হতে পারেন – আপনি যদি কাউকে বলেন যে, সে কাজ করতে গিয়ে কোনদিন কিছু ভুল করেছে কি, তার উত্তর কি হবে ? অবশ্যই হ্যাঁ হবে । কেউ যদি না বলে তাহলে সেটা পুরো মিথ্যা কথা । কাজ করতে গেলে আমাদের অনেক ভুল হতে পারে, ব্যর্থতা আসতে পারে । আপনার দ্বারা ভুল কেন হল সেই জন্য নিজেকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন আমাদের সেই ব্যর্থতা স্বীকার করে পরের কাজটি আরও বেশি ভাল করতে হবে যাতে, আর কোনও ভুল না হয় । আমরা সেই কাজ ছেড়ে দেই যখন দেখি সেটি করতে গিয়ে ভুল করি, ব্যর্থতা আসে । তখন আমরা চিন্তা করি যে এটি আর আমার দ্বারা হবেনা । এরকম ভাবলে আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক কমে যাবে । কোন কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, ছেড়ে না দিয়ে কিভাবে সেটি করা যায় তার উপায় চিন্তা করুন নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন না।

 নিজেকে উন্নত করুন -  বর্তমান সময়ে মানুষকে পড়াশুনার পাশাপাশি আরও কিছু বাড়তি গুনের অধিকারী হতে হয় আপনি যদি নিজেকে সবার থেকে আলাদা পরিচিতি পেটে চান তাহলে, আপনার মধ্যে যে ক্ষমতা আছে তা পুরোপুরি দিয়ে কাজে লেগে পড়ুন । আত্মবিশ্বাসী মানুষরা কাজ নিয়েই বেশি ভাবেন কোনও কাজ করতে হলে আপনাকে ১০০ % সময় দিতে হতে । আপনি এমন কাজ করতে গেছেন যা আগে থেকে আপনার ধারণা নেই তাহলে, আপনাকে সেই কাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করতে হবে । নিজেকে আগের থেকে এখন আরও অনেক উন্নত করতে হবে । আপনাকে সহজে কাজ করতে হলে বর্তমানের উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে । তার জন্য আপনি সেই বিষয়ে বই পড়তে পারেন, ইন্টারনেটে পড়তে পারেন । নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবে তৈরি করুন ।

 অপরকে সাহায্য করা – আপনি আপনার পাশে থাকে এরকম মানুষদের সাহায্য করতে পারেন । আপনি যে বিষয়ে জানেন সেই বিষয়ে কেউ পরামর্শ করতে চাইলে সাহায্য করুন । আপনার সাহায্যে যদি তাঁর কোন উপকার হয় তাহলে, আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়বে । পরামর্শ দেওয়ার আগে ব্যপারটা ভাল করে বুঝে নেবেন ।
 বারবার করা – আমরা কাজ করতে গেলে ব্যর্থ হতে পারি, তাই সেই কাজটিকে ছেরে না দিয়ে বারবার করতে থাকুন । কারণ আমরা যখন কোন কাজ শুরু করি আমাদের সেই বিষয়ে অনেক কম জানা থাকে । আপনি কাজটি বারবার করার ফলে আপনার সেই কাজ সম্পর্কে জ্ঞান ধীরে ধীরে বাড়বে । যদি ভয় পেয়ে সেই কাজ আর না করেন তাহলে আর কি হল । পৃথিবীতে যত বড়ো বড়ো আবিষ্কার বা কোম্পানি তৈরি হয়েছে, তারা শুরুতে অনেক ভুল করেছে । কিন্তু, বারবার চেষ্টা করার ফলে তারা এখন বর্তমান অবস্থায় আসতে পেরেছে । আপনি জখন কাজটি সম্পূর্ণ করবেন তখন আপনার আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিক ভাবে বাড়বে ।

 হার না মানাআত্মবিশ্বাস বাড়ানো একদিনের কাজ নয় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল যে, – আপনি এটা করতে পারবেন, পারবোনা এই কথাটা মনে একদম আসতে দেবেন না । সবসময় মনে করবেন আমি এটা করবই । যদি আপনি এই পজিটিভ ইচ্ছা নিয়ে থাকতে পারেন তাহলে আপনার সাফল্য একেবারে নিশ্চিত হবে । পৃথিবীতে এমন কিছু কাজ নেই যা মানুষ করতে পারেনা । এমন মানুষ আছে যারা হাত, পা ছাড়া শুধুমাত্র মনের জোরে সাগর পার হচ্ছে, পাহাড় চুড়ায় উঠছে । কোন কাজে সাফল্যের জন্য শরীরের থেকে আমাদের মনের জোর বেশি দরকার হয় ।
আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । সম্পর্ক বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে  সম্পর্ক লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 
আমাদের সম্পর্ক বিষয়ে পোস্ট পড়ুন -
 মেয়েরা ছেলেদের কি কি গুন গুলি পছন্দ করে ?
ফেসবুকে ভুয়ো বা ফেক প্রোফাইল চেনার উপায় গুলি কি কি ?.
বিয়ে করার জন্য সঠিক ছেলে বা মেয়ে কিভাবে নির্বাচন করবেন ?.
আপনি জীবনে সাফল্য লাভ করবেন কিভাবে ?.
দেহের গঠন অনুসারে মানুষ কেমন প্রকৃতির হয় ?.

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

বাংলা ভাষার উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল, মধ্য যুগে বাংলা সাহিত্য কেমন ছিল ?.


 আজ সারা বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটির অধিক লোক দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ভাষা ব্যবহার করেন । বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের ব্যবহৃত প্রধান ভাষা হল বাংলা ভাষা । তাছাড়াও বিহার, উড়িষ্যায় বাংলা ভাষায় কথা বলে এমন মানুষ বাস করেন । বাংলাদেশের সরকারি ভাষা হল বাংলা ভাষা । পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের প্রশাসনিক ভাষা হল বাংলা । বাংলা ভাষা হল পৃথিবীর সপ্তম বৃহতম ভাষা । 


 বাংলা ভাষা কবে সৃষ্টি হয়েছিল, সেই নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখন গবেষণা চালান হচ্ছে । বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস ১৩০০ বছর পুরনো মনে করা হয় যে - সংস্কৃত ভাষা থেকে স্বাভাবিক বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশীয় ভাষা যেমন – পালি, প্রাকৃত, সৌরসেনী, অপভ্রংশ ইত্যাদি ভাষার উৎপত্তি হয়েছে । তাই এমন ভাবা হয় যে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি সংস্কৃত ভাষা থেকে । আদি-মধ্য যুগে বাংলা ভাষা প্রথম সৃষ্টি হয় । এই ভাষার প্রথা ব্যবহার দেখা যায় চর্যাপদে । 


  চর্যাপদকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসাবে ধরা হয় । হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে এটি আবিষ্কার করেন । সেই সময় সৌরসেনী ও বাংলা ভাষার প্রভাব ছিল । ধীরে ধীরে বাংলা ভাষা সাহিত্যের উপযুক্ত হয়ে ওঠে । সেই সময়ের লেখকরা সৌরসেনী, অপভ্রংশ ও বাংলা ভাষায় কাব্য চর্চা করতেন । মোট ৫০ টি প্রাচীন বাংলায় লেখা চর্যাপদের আবিষ্কার করা হয় । সেগুলির মধ্যে প্রকৃতি, কবিত্ব, অনুভূতি, আবেগ ইত্যাদির প্রকাশ লক্ষ করা যায় ।

 চর্যাপদ ছারাও সেই সময়ে লিখিত বাংলা গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে । চালুক্যরাজ তৃতীয় সোমেশ্বরের আমলে লিখিত মানসোল্লাহ’ গ্রন্থের ‘গীতবিনেদ’ শ্রীকৃষ্ণের লীলা বিষয়ক কিছু গীত আছে । সেটি বাংলা ভাষায় রচিত । এই গ্রন্থের কবিতা গুলি প্রাচীন বাংলা, মাগধী অপভ্রংশ, সৌরসেনী অপভ্রংশের অনুরূপ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে । পরে এই মাগধী অপভ্রংশ থেকে পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে


 সুলতানি আমলে বাংলা ভাষা কেমন ছিল তা বলা সহজ নয় । তবে কিছু পুঁথি থেকে সেই সময় কালের কথা জানা যায় ।  বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন’ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ । এর ভাষা থেকে আমরা সুলতানি আমলে বাংলা ভাষা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করতে পারি । বাংলা ভাষার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন বাংলার মুসলিম শাসকগোষ্ঠী ।  খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে বাংলায় ইলিয়াস শাহি বংশের শাসন শুরু হলে সেই সময় বাংলা ভাষায় লেখার কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় । আজকের মত সেই সময় বাংলা ভাষার বিভিন্ন ভাগ ছিল । সেই সব সাহিত্যে বেশি দেবদেবীর মহিমা প্রচার করা হত ।

 শিবকে নিয়ে সেয় সময় কিছু সাহিত্য লেখা হয়েছিল, সেগুলিকে ‘শিবায়ন’ বলা হয় । পুরাণের শিব বিষয়ের কাহিনীর সাথে শিব ও দুর্গার ঘর সংসারের কাহিনী যুক্ত করে এই কাব্যগুলি লেখা হয়েছিল । ‘নাথযোগী’ সম্প্রদায়ের দেবতা ছিলেন শিব । তাদের ধর্ম-কর্ম, আচার-আচরণ নিয়ে সে সময় সাহিত্য লেখা হয় । সেই সব সাহিত্যকে বলে নাথ সাহিত্য । এখানে সন্ন্যাস জীবন যাপনের উপর জোর দেওয়া হত ।


 রামায়ণ, মহাভারত সেই সময় খুব জনপ্রিয় ছিল । এই দুই মহা কাব্যের বিভিন্ন অংশ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি কাব্য লিখেছিলেন । তাছাড়াও এগুলির অনুবাদ করা হত । ভাগবতের কিছুটা অংশ নিয়ে মালাধর বসু বাংলায় অনুবাদ করেন, সেই অংশের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ । বাংলায় রামায়ণ অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা, আর মহাভারত অনুবাদ করেন কাশীরাম দাশ । রামায়ণ ও মহাভারত প্রথমে সংস্কৃতে লেখা হয়েছিল । বাংলায় অনুবাদের সময় বেশ কিছু পরিবর্তন তার মধ্যে চলে আসে । এই অনুবাদ গুলিতে বাংলার ছবি দেখা যায় ।

 বাংলা সাহিত্যের আর একটি ধারা ছিল মঙ্গল কাব্য । চণ্ডী, ধর্ম, মনসা এইসব দেবদেবীর মহিমা গান গেয়ে শোনানো হত । গানের ভিতর একটা গল্প থাকত, সেই গল্প নিয়ে বেশ কিছু সাহিত্য লেখা হয় । সেগুলিকে বলে মঙ্গল কাব্য । দেবী মনসা কে নিয়ে মনসা মঙ্গল, চণ্ডী দেবীকে নিয়ে চণ্ডীমঙ্গল, ধর্ম ঠাকুরকে নিয়ে তৈরি হয় ধর্ম মঙ্গল । অনেক কবি মঙ্গল কাব্য লিখেছিলেন । এর মধ্যে মনসামঙ্গল ও চণ্ডীমঙ্গল এখনও প্রচুর জনপ্রিয় হয়ে আছে ।


 ভক্তি ধর্মের প্রভাব বাংলা সাহিত্যে বেশি বিস্তার করে । শ্রীচৈতন্য ও ও বৈষ্ণব-ভক্তিবাদ নিয়ে এই সময় অনেক কাব্য লেখা হয়েছিল । চৈতন্যের জীবনী নিয়ে জে কাব্য লেখা হয় তাকে ‘চৈতন্য জীবনী কাব্য’ বলে । এর পাশাপাশি রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে জে পদ বা কবিতা লেখা হত তাকে বলা হয় পদাবলি সাহিত্য । সেই সময় যা লেখা হত তার বেশিরভাগ সুর করে গাওয়া হত । এই সময়ের লেখাগুলিকে পাঁচালি বলা হয় ।  রামায়ণ, মহাভারত ও দেবদেবীর কাব্য গুলি সব প্রায় পাঁচালির মত গাওয়া হয় ।

 তখনকার সময়ে আরবি ও ফারসি ভাষার সাথে মিল রেখে লেখালেখি শুরু হয় । সুলতান আলাউদ্দিন খলজির চিতোর রাজ্য অভিযানের কাহিনী নিয়ে সৈয়দ আলাওয়াল পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন ।
 আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান । আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন । জানা অজানা বিষয়ে আরও পোস্ট পড়তে নিচে  জানা অজানা লেখাটির উপর ক্লিক করুন । পুরো পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ 


আমাদের আরও পোস্ট পড়ুন -

আপনারা দয়া করে এখানে থাকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে জিনিস কিনুন, তাহলে আমি কিছু কমিশন পাব।